সম্পাদকীয়

বাড়ছে মাছের উৎপাদন

প্রকাশিত হয়েছে: ১৪-১১-২০১৮ ইং ০০:৩১:২৬ | সংবাদটি ৩৮ বার পঠিত

‘ভাতে মাছে বাঙালি’র ঐতিহ্য ফিরে এসেছে। চাল উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার পর দেশ এখন মাছ উৎপাদনেও স্বয়ংসম্পূর্ণ। প্রথম বারের মতো মাছ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা এসেছে। গত বছর দেশে মাছ উৎপাদন ছিলো চাহিদার চেয়ে বেশি। সরকারী সূত্রে জানা গেছে, ১৬ কোটি মানুষের দৈনিক মাথাপিছু মাছের চাহিদা ৬০ গ্রাম হিসেবে গত অর্থ বছরে মাছ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ৪০ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিকটন। আর উৎপাদন হয়েছে ৪১ লাখ মেট্রিকটনের বেশি। এর ফলে দেশে গ্রামীণ কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগও সৃষ্টি হয়েছে। মাছ উৎপাদনে এই সাফল্যে বিশেষ অবদান রয়েছে মৎস্য গবেষকসহ মৎস্যচাষীদের। সরকারের মৎস্য গবেষণা ইন্সটিটিউট এই পর্যন্ত ৫৭টি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে। এর মধ্যে ৪৬টি মাছের প্রজনন, সংরক্ষণ, জাত উন্নয়ন ও চাষাবাদ বিষয়ক এবং ১১টি প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক। মাঠ পর্যায়ে এসব প্রযুক্তি সম্প্রসারণের ফলে বৃদ্ধি পাচ্ছে মাছের উৎপাদন। মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন।
মাছের উৎপাদন বাড়ছে বিগত বছর কয়েক ধরে। অথচ এর আগে এমন ছিলো না। মাছের উৎপাদন কমতে কমতে এক পর্যায়ে বিশেষ করে দেশীয় প্রজাতির মাছের অস্তিত্ব বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছিলো। এই অবস্থা ছিলো দীর্ঘ দিন। বাজারে মাছ যা-ও পাওয়া যেতো, তার সিংহ ভাগই ছিলো বিদেশী প্রজাতির। মিঠা পানির মাছ বিলুপ্ত হয়ে গেছে অনেকগুলোই। এই পরিস্থিতিতেই মৎস্য উৎপাদনে কর্মযজ্ঞ শুরু হয় দেশে। বিগত প্রায় এক দশক ধরেই প্রতি বছরই ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে মাছের উৎপাদন। দেশীয় মিঠা পানির মাছ সহ খামারেও মাছের উৎপাদন বাড়তে থাকে। আর [বিগত সময়ে মিঠাপানির দু’শ ৬০টি প্রজাতির মধ্যে ৬৪টি প্রজাতি হারিয়ে যায়। বর্তমানে হারিয়ে যাওয়া ১৬টি প্রজাতি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তাছাড়া পুনরুদ্ধারকৃত মাছের চাষাবাদ সম্প্রসারিত হওয়ায় বাজারে এর প্রাপ্যতাও বৃদ্ধি পেয়েছে। উল্লেখ করা যেতে পারে জেনেটিক গবেষণার মাধ্যমে রুই মাছের নতুন উন্নত জাত উদ্ভাবন করতে সক্ষম হয়েছেন বিজ্ঞানীরা।] এই উন্নতমানের রুই বিদ্যমান জাত হতে ১৬ গুণ বেশি উৎপাদনশীল। এই জাতের রুই ব্যাপকভাবে উৎপাদিত হলে দেশে অতিরিক্ত ৩০ থেকে ৩৫ হাজার মেট্রিকটন মাছ পাওয়া সম্ভব। সরকার আশা করছে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি অব্যাহত রেখে বিদেশে এর রপ্তানীর মাত্রাও বাড়ানো সম্ভব হবে।
কোন ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করা যতোটুকু কষ্টের সাফল্য ধরে রাখা তার চেয়ে বেশি কষ্টদায়ক। মৎস্য উৎপাদনে সাফল্য অর্জিত হয়েছে। আগামীতে এই অর্জনকে ধরে রাখা রীতিমতো একটা চ্যালেঞ্জ হিসেবেই ধরে নিতে হবে। কারণ আমাদের মাছের অভয়াশ্রমগুলো প্রতিনিয়ত কমে যাচ্ছে। নদী-নালা, হাওর-বিল ভরাট হচ্ছে। রাস্তাঘাট, আবাসনসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে বিল-ডোবা-জলাশয় ভরাট করে। এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকলে মৎস্য উৎপাদনের সাফল্য ধরে রাখা যাবে না। এটাই স্বাভাবিক। সুতরাং যেভাবেই হোক মৎস্য উৎপাদনের ক্ষেত্রগুলো ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT