সম্পাদকীয় টাকার ক্ষমতা বর্তমানে বেশি, টাকা যখন কথা বলে সত্য তখন চুপ থাকে। -সাইরাস

জামালগঞ্জে নদী ভাঙ্গন

প্রকাশিত হয়েছে: ১৬-১১-২০১৮ ইং ০১:২২:২৩ | সংবাদটি ৪১ বার পঠিত

নদী ভাঙ্গন একটি অতি পরিচিত সমস্যা আমাদের দেশে। সম্প্রতি এই পত্রিকায় নদী ভাঙ্গন সংক্রান্ত একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। খবরটির মূল বিষয় হচ্ছে সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার নদী ভাঙ্গনের কবলে ২৭টি জেলে পরিবার। সুরমা নদীর তীরবর্তী আমানীপুর বর্মনপাড়া এলাকায় সুরমা নদীর তীরবর্তী এই পরিবারগুলো আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরেই এরা নদী ভাঙ্গনের কবলে রয়েছে। প্রতি বছরই এদেরকে নদী ভাঙ্গনের জন্য বসতবাড়ি স্থানান্তর করতে হয়। অবশ্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নদী ভাঙ্গন কবলিত পরিবারগুলোকে আশ্রায়ন প্রকল্পে পুনর্বাসিত করার আশ্বাস দেয়া হয়েছে। সুরমা, কুশিয়ারাসহ সিলেট অঞ্চলের প্রায় সবগুলো নদীতেই ভাঙ্গন হচ্ছে। একদিকে তীর ভাঙ্গছে, আবার অন্যদিকে গড়ে উঠছে-এটা যেন নদীর চিরাচরিত ধর্ম। কিন্তু এই ভাঙ্গাগড়ার খেলায় প্রতি বছর দেশের লাখ লাখ মানুষের জীবন হচ্ছে বিপন্ন। তারা ঘরবাড়ি সহায়সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে।
নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের এই দেশে নদী ভাঙ্গন একটি অতি প্রাচীন ও ভয়াবহ সমস্যা। এটাকে একটা প্রাকৃতিক দুর্যোগও বলা যায়। যদিও এই দুর্যোগকে সেভাবে গুরুত্ব দেয়া হয় না, যেভাবে বন্যা-ঘূর্ণিঝড়ের মতো দুর্যোগকে গুরুত্ব দেয়া হয়। বন্যা-ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ সংঘটিত হয় বছরের একটা নির্দিষ্ট সময়ে। আর নদী ভাঙ্গন ঘটে থাকে প্রায় সারা বছরই। এটাকে এক নম্বর প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবেই আখ্যায়িত করেছেন বিশেষজ্ঞগণ। নদী ভাঙ্গনের শিকার হচ্ছে সারা দেশের প্রায় পাঁচ শতাংশ মানুষ। আর ক্ষতির পরিমাণ প্রায় তিন হাজার নয়শ’ কোটি টাকা। বিগত পাঁচ বছরে নদী ভাঙ্গনে ভূমি বিলীন হয়েছে সারাদেশে সাত লাখ একর। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এক কোটি ১৯ লাখ মানুষ। এই সময়ে অর্থনৈতিকভাবে দেশের ক্ষতি হয়েছে সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা। ক্ষতিগ্রস্ত এই বিশাল জনগোষ্ঠীর একটা উল্লেখযোগ্য অংশ বেঁচে থাকার একমাত্র সম্বল বসতভিটা হারিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। অনেকের ফসলি জমি বিলীন হয়েছে নদীতে। ফলে এক সময়ের সচ্ছল পরিবারগুলো বর্তমানে নিঃস্বে পরিণত হয়েছে। নদী ভাঙ্গনের শিকার পরিবারগুলোর বেশিরভাগই আশ্রয় নিয়েছে বিভিন্ন শহরের বস্তিতে। সবচেয়ে দুঃখজনক হচ্ছে, নদী ভাঙ্গন রোধে কার্যকর ও দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে না। অথচ এই খাতে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ করছে সরকার। কিন্তু তার প্রায় পুরোটাই লুটপাট হচ্ছে।
দেশের আয়তনের প্রায় ৮০ ভাগই নদ-নদী অববাহিকার অন্তর্গত। আর দেশে ছোট বড় নদ-নদীর সংখ্যা প্রায় তিনশ’। এসব নদ-নদীর তটরেখার দৈর্ঘ্য প্রায় ২৪ হাজার কিলোমিটার। এর মধ্যে অর্ধেক তটরেখাই নদী ভাঙ্গনপ্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত। এছাড়া, দেশের ৮৫টি শহর ও বন্দরসহ দু’শ ৮৩টি স্থানে প্রতি বছর মারাত্মকভাবে নদী ভাঙ্গন দেখা দেয়। নদীর ¯্রােতের বেগ যতো বেশি হবে এবং যতো বেশি কৌণিকভাবে আঘাত করবে, ততো বেশি করে নদীর কূল ভাঙবে। নদী ভাঙ্গন রোধে দরকার কার্যকর পদক্ষেপ। সরকার এই খাতে বরাদ্দ করছে কাড়ি কাড়ি টাকা। অথচ সমস্যা সমাধানে সাফল্য আসছেনা। কারণ হচ্ছে, ব্যাপকভাবে অনিয়ম দুর্নীতিতে নিমজ্জিত এই প্রকল্প। সুতরাং দীর্ঘদিন ধরে নদী ভাঙন রোধ তথা তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের নামে বরাদ্দ সরকারি অর্থ যারা আত্মসাৎ করছে, সেই চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT