সম্পাদকীয়

বইছে নির্বাচনী হাওয়া

প্রকাশিত হয়েছে: ১৭-১১-২০১৮ ইং ০০:৩৯:৩০ | সংবাদটি ৫৫ বার পঠিত

বইতে শুরু করেছে নির্বাচনী হাওয়া; এবং তা বেশ জোরেশোরেই। ঘোষিত হয়েছে নির্বাচনী তফসিল। আর তা একদফা পেছানোও হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর অনুরোধে পরিবর্তন করা হয়েছে এই তফসিল। এর আগে সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপে বসেছেন প্রধানমন্ত্রী। শেষ পর্যন্ত সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ভোট গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৩০ এ ডিসেম্বর। ইতোমধ্যেই বেশ তোড়জোর শুরু হয়েছে গ্রামেগঞ্জে, শহরে-বন্দরে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনয়নপত্র কিনছেন এবং মনোনয়ন চূড়ান্ত করতে চালিয়ে যাচ্ছেন জোর লবিং। প্রার্থী-সমর্থকেরা এখন ভিড় জমিয়েছেন রাজধানীতে নিজ নিজ দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে। নির্বাচন কমিশন চলতি মাসের ২৮ তারিখ পর্যন্ত মনোনয়নপত্র গ্রহণ করবেন।
বিভিন্ন কারণে এবারের নির্বাচনটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত বর্তমান ক্ষমতাসীন দল একটানা দুই মেয়াদে ক্ষমতায় রয়েছে। তারা বলছে- এই দশ বছর ক্ষমতাসীন থাকাবস্থায় দেশ এগিয়ে গেছে অনেক দূর, নানা ক্ষেত্রে উন্নতি হয়েছে ব্যাপকভাবে, মানুষের জীবনযাত্রার মানও উন্নত হয়েছে, কমেছে দারিদ্র্য, স্বল্পোন্নত থেকে মধ্যম আয়ের দেশ-এ পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ। এই ধরণের নানান ফিরিস্তি তারা তুলে ধরছেন জনসমক্ষে। অপরদিকে ক্ষমতার বাইরে থাকা রাজনৈতিক দলগুলো সরকারের এই সব উন্নয়নের জয়গানকে ‘অন্তঃস্বারশূন্য’ বলেই অভিহিত করছেন। এই ধরণের পরস্পর বিরোধী অবস্থানে ভোটের ময়দানে নেমেছে সরকারী জোট এবং বিরোধী জোট। তবে এই দ্বন্দ্বের সমাধান জনগণের হাতে। ভোটেই তারা জানিয়ে দেবে কোন পক্ষের বক্তব্য সঠিক। তবে এক্ষেত্রে সবচেয়ে জরুরী হচ্ছে একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমূখর নির্বাচন নিশ্চিত করা। এখন চলছে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার প্রক্রিয়া। পরে বাছাই, প্রত্যাহার, প্রতিক বরাদ্দ, এরপরই শুরু হবে মূল প্রচারণা। এদেশের মানুষ উৎসব প্রিয় বরাবরই। যে কোন নির্বাচনকেই একটা ‘উৎসব’ হিসেবে মনে করে সাধারণ মানুষ। তবে এই ধরণের উৎসবকে কলুষিত করতে পারে এমন ঘটনাও ঘটেছে এখানে অতীতে। আমরা চাই এবার নির্বাচনী প্রচারনাসহ সব প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হোক।
সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা তথা গণতন্ত্রের স্থায়ী প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতি পাঁচ বছর অন্তর এই নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থাকলেও অতীতে এই ধারাবাহিকতায় ব্যত্যয় ঘটেছে। এবারের নির্বাচন যথাসময়েই অর্থাৎ বিগ নির্বাচনের ঠিক পাঁচ বছরের মাথায়ই অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে বিগত নির্বাচন নানা কারণে ছিলো ‘বিতর্কিত’। সেই নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দল অংশ নেয়নি। এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। সব দলের অংশগ্রহণে একটি জমজমাট নির্বাচনের প্রত্যাশায় রয়েছে জাতি। সেইসঙ্গে প্রত্যাশা এটাও রয়েছে যে, ভোটাররা নিজের ভোট নিজে দেবে এবং যোগ্যপ্রার্থীরাই নির্বাচিত হয়ে সংসদে যাবেন।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT