সম্পাদকীয়

পরিবেশ বিপর্যয়ে ই-বর্জ্য

প্রকাশিত হয়েছে: ১৮-১১-২০১৮ ইং ০০:২৮:১৬ | সংবাদটি ৪১ বার পঠিত


পরিবেশের ওপর নানা ধরনের বর্জ্যরে আগ্রাসন দিন দিন বেড়ে চলেছে। এর মধ্যে ইলেকট্রনিক ও প্লাস্টিক বর্জ্যরে কথা ধরা যায় সবার আগে। বছরের পর বছর নদী ও সমুদ্রে ফেলা হচ্ছে ইলেকট্রনিক ও প্লাস্টিক বর্জ্য। এই বর্জ্য বছরের পর বছর অক্ষত থেকে যায়। জানা গেছে, ইলেকট্রনিক ও প্লাস্টিক সামগ্রী ক্ষয় হতে হাজার বছরের বেশি সময় লেগে যায়। এই সব বর্জ্য ফেলা হয় যেখানে সেখানে। এতে মাটি দূষিত হয়। পানিতে ফেললে দূষিত হয় পানিও। আর এই প্লাস্টিকের মধ্যে থাকা সিসা, ক্যাডমিয়াম ও পারদ জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম ক্ষতিকর। এসব পদার্থ সরাসরি বিষক্রিয়ার সৃষ্টি করে। কিছুকিছু প্লাস্টিকে ডিইএইচপি নামক রাসায়নিক পদার্থ থাকে। যা থেকে ক্যান্সার রোগের সৃষ্টি হতে পারে। অর্থাৎ প্লাস্টিক ও ই-বর্জ্যরে ক্ষতিকর পদার্থ জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। সুতরাং প্লাস্টিক ও ই-বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ করতেই হবে।
ই-বর্জ্য ও প্লাস্টিক বর্জ্যরে পরিমাণ দিন দিন বেড়ে চলেছে। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মানুষের মধ্যে ইলেকট্রনিক পণ্য ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে ইলেকট্রনিক বর্জ্য। এটা যে শুধু আমাদের জন্যই সমস্যা তা নয়, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এই সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করছে। সেসব দেশে ই-বর্জ্যরে নিয়মনীতিহীন ব্যবহার ও প্রক্রিয়াকরণ হচ্ছে। এতে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর পড়ছে বিরূপ প্রভাব। সবচেয়ে বড় কথা, আমাদের দেশে ই-বর্জ্য ও প্লাস্টিক বর্জ্য একটি বিশাল সমস্যারূপে আবির্ভূত হচ্ছে। যা আগামীতে আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে; এতে সন্দেহ নেই। একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের দেয়া তথ্য- মতে, বিশ্বে প্রতি বছর চার কোটি টনের বেশি ইলেকট্রনিক বর্জ্য উৎপাদিত হয়। আর এই বর্জ্যরে এক তৃতীয়াংশ উৎপাদন করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। ই-বর্জ্য উৎপাদনে ভারত রয়েছে পঞ্চম স্থানে। আর বিশ্বে বছরে ই-বর্জ্য বৃদ্ধি পাচ্ছে দশ শতাংশ হারে।
ই-বর্জ্য বা প্লাস্টিক বর্জ্য যেটাই হোক, আমাদের জন্য তা ক্ষতিকর। বিশেষজ্ঞদের মতে পুনর্ব্যবহারের ক্ষেত্রে যথাযথ প্রক্রিয়া অবলম্বন না করলে এগুলো পুনর্ব্যবহারও ঝুঁকিপূর্ণ। অর্থাৎ প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে উৎপাদিত নতুন সামগ্রী পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এজন্য ইলেকট্রনিকপণ্য ব্যবহারে যেমন সতর্কতা অবলম্বন জরুরি, তেমনি অকেজো পণ্যের যথাযথ ব্যবহারে সতর্ক হতে হবে। আর পলিথিনের ব্যাপারে তো নতুন করে বলার কিছু নেই। পরিত্যক্ত পলিথিন আমাদের পরিবেশের সর্বনাশ করছে। কিন্তু এ ব্যাপারে অনেক চেষ্টা সত্ত্বেও সচেতনতা গড়ে তোলা সম্ভব হয় নি। বলা যায়, পলিথিনের ব্যবহার দ্রুত বেড়ে চলেছে। তারপরেও প্লাস্টিক ও ইলেকট্রনিক বর্জ্যরে ব্যবস্থাপনার ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। না হলে পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘনীভূত হবে।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT