সম্পাদকীয় মানুষের মধ্যে কেউ কেউ আল্লাহ সম্বন্ধে বিত-া করে। তাহাদিগের না আছে জ্ঞান, না আছে পথ নির্দেশক, না আছে কোন দীপ্তিমান কিতাব। -আল কুরআন

লাউড়ের গড় দুর্গ পুনরুদ্ধারে

প্রকাশিত হয়েছে: ১৯-১১-২০১৮ ইং ০১:০৩:৩৫ | সংবাদটি ৫৩ বার পঠিত

ইতিহাস-সচেতন জাতিই বিশ্বে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হয়। উন্নত বিশ্বের দিকে তাকালে এর নজির চোখে পড়বে। ব্যতিক্রম বাংলাদেশ। এখানে অনেক ঐতিহাসিক স্থান, স্থাপনা যথাযথ কদর পাচ্ছে না। যতেœর অভাবে অনেক প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শন হারিয়ে যাচ্ছে, বিলুপ্ত হচ্ছে। অবশ্য এর বিপরীত দৃশ্যও চোখে পড়ে। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রচেষ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে বিলুপ্ত প্রাচীন ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো উদ্ধারের উদ্যোগ নেয়া হয় মাঝে মধ্যে। তেমনি একটি উদ্যোগ হচ্ছে প্রাচীন লাউড়ের গড় রাজ্যের দুর্গ উদ্ধারে মাটি খনন। সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার ঐতিহাসিক লাউড় রাজ্যের রাজধানী ‘হলহলিয়া’ দুর্গ এবং পার্শ্ববর্তী ব্রাহ্মণগাঁওয়ের গৌড়গোবিন্দ রাজবাড়ি পুনরুদ্ধারে খনন কাজ শুরু হয়েছে সম্প্রতি। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এই উদ্যোগ নিয়েছে। এই পত্রিকায় খবরটি প্রকাশিত হয় গত বৃহস্পতিবার।
চূড়ান্তভাবে খনন কাজ শুরুর মাস খানেক আগে থেকেই এখানে শুরু হয় প্রাথমিক জরিপ কাজ। টাঙ্গুয়ার হাওরের নিকটতম স্থানে এমনি একটি প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শন আবিষ্কৃত হলে এই অঞ্চলের পর্যটন শিল্পে নতুন মাত্রা যোগ হবে। ঐতিহাসিকদের মতে, উল্লিখিত অঞ্চলে ছিলো প্রাচীন লাউড় রাজ্যের রাজধানী। লাউড় ছিলো একটি স্বাধীন রাজ্য। এখানে নির্মিত হয়েছিল দুর্গ। প্রাচীনকাল থেকে শ্রীহট্ট (সিলেট) কয়েকটি খ-রাজ্যে বিভক্ত ছিলো। এর মধ্যে ছিলো গৌড়, লাউড় ও জৈয়ন্তিয়া। এই তিন রাজ্যের নৃপতির অধীন ছিলেন আরও ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ভূমি মালিক। লাউড় রাজ্য ছিলো সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ এবং ময়মনসিংহ জেলার কিছু অংশ পর্যন্ত বিস্তৃত। তাহিরপুরের সীমান্ত এলাকায় হলহলিয়া গ্রামে এই রাজ্যের ধংসাবশেষ বিদ্যমান। এই রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন কেশব মিশ্র। রাজ্যের রাজধানী লাউড় ছাড়াও জগন্নাথপুর ও বানিয়াচংয়ে তার দুটি উপরাজধানী ছিলো। আর এই রাজ্যের রাজা ভগদত্ত মহাভারতের যুদ্ধে অর্জুনকে সৈন্য পাঠিয়ে সাহায্য করেছিলেন বলেও ইতিহাসবিদদের ধারণা। মহাভারত প্রথমে বাংলায় অনুবাদকারী মহাকবি সঞ্জয়ের নিবাসও এই এলাকায়। হযরত শাহজালাল (র:) এর অন্যতম সঙ্গী শাহ আরেফিন (র:) এবং মহাগ্রন্থ শ্রীচৈতন্যের সহচর অদ্বৈতাচার্য্যরে স্মৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত এই এলাকা। লাউড় রাজ্যের স্বাধীনতা খর্ব হয় ১৫৫৬ খৃষ্টাব্দে।
বিশেষজ্ঞগণ বলছেন, এই অঞ্চলে বিপুল পরিমাণ প্রতœতত্ত্ব নিদর্শন পাওয়া যাবে। মহাভারত, রামায়ণ, পাল, সেন, হযরত শাহজালাল (র.), সুলতানি আমল, মোঘল এবং শ্রীচৈতন্যের স্মৃতি রয়েছে এই অঞ্চলে। এখানকার ইতিহাসের সঙ্গে তারা যুক্ত রয়েছেন। অথচ শত শত বছর ধরে এই ঐতিহ্যের কোন খোঁজ খবর রাখা হয়নি। দেরীতে হলেও সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এই ইতিহাস পুনরুদ্ধারে হাত দিয়েছে। ইতিহাসবিদদের মতে, লাউড়ের গড়ে বিস্ময়কর তথ্য ভা-ারের খোঁজ পাওয়া গেছে। সত্যি বলতে কি, দেশের অন্যান্য অঞ্চলে প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শন ও পুরাকীর্তি নিয়ে যেভাবে গবেষণা হচ্ছে, সিলেট অঞ্চলে সেভাবে হয়নি। গৌড় দুর্গ পুনরুদ্ধারের মাধ্যমেই সিলেটসহ অন্যান্য অঞ্চলের ইতিহাস ঐতিহ্য নিয়ে গবেষণার দ্বার উন্মোচিত হবে।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT