স্বাস্থ্য কুশল

ডিম কি নিশ্চিন্তে খেতে পারবেন?

আফতাব চৌধুরী প্রকাশিত হয়েছে: ১৯-১১-২০১৮ ইং ০১:১৩:০৬ | সংবাদটি ২২ বার পঠিত

ভিয়েতনামে ১৯৯৬ সালে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে জনসাধারণকে ডিম খাওয়ার ব্যাপারে সচেতন করার লক্ষ্যে প্রতিবছর অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় শুক্রবার ‘বিশ্ব ডিম দিবস’ পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় বিশেষ করে প্রাতরাশে সবাই ডিম খেতে পছন্দ করেন। সময়- স্বল্পতার জন্য ভাতের সঙ্গে তরকারির বিকল্প হিসাবে ডিম ভাজা করেও অনেককে খেতে দেখা হয়। প্রশ্নটা হলো, প্রতিদিন বা নিয়মিত ডিম খাওয়া যাবে, কি যাবে না? এ নিয়ে ডাক্তার, রোগী এমনকী সুস্থ মানুষের মধ্যেও বিভ্রান্তি বা দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছিল এবং এখনও আছে। বিশেষ করে যাদের বয়স একটু বেশি, যারা ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোক বা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন, এমন রোগী অথবা যাদের রক্তে কোলেস্টরাল বা অন্যান্য চর্বির পরিমাণ বেশি, তাদের ডিম খেতে নিষেধ বা সম্পূর্ণ বর্জন করতে বলা হয়। অনেকেই আবার ডিমের কুসুম বাদ দিয়ে শুধু সাদা অংশটুকুই খেতে বলেন। এর কারণ একটাই, তা হলো ডিম খেলে কোলেস্টরাল বাড়ে, তাতে উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোক এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে। এতদিনের ধারণাটা আসলে সত্যি নয়। ডিম খেলে রক্তের কোলেস্টরালের মাত্রা ততটা বৃদ্ধি পায় না। একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ মানুষ দৈনিক গড়ে ৩০০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত কোলেস্টরাল গ্রহণ করতে পারেন। আর একটি ডিমে রয়েছে মাত্র ২০০ মিলিগ্রাম কোলেস্টরাল। তাই বিশেষজ্ঞরা এমনকী আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন এখন আর তাদের খাদ্যের গাইডলাইনে ডিম খাওয়াকে নিরুৎসাহিত করছেন না। যে কোনও ব্যক্তি ডিমের সাদা অংশ খেলে কোনও সমস্যা তো হবেই না, এমনকী কুসুমসহ সম্পূর্ণ ডিম খেলেও উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টরাল হৃদরোগের ঝুঁকি থাকে না। একটি বড় গবেষণায় প্রতীয়মান হয়েছে, প্রতি সপ্তাহে ৫-৬ টি ডিম খেলেও হৃদরোগ, স্ট্রোক বা অন্যান্য ধরনের হৃদয়রোগের কোনও ঝুঁকি নেই। ব্রিটিশ মেডিক্যাল জার্নালে বলা হয়, দিনে একটি ডিম হার্টের জন্য ক্ষতিকর নয়। প্রাতরাশে একটি ডিম কোলেস্টরাল প্রোফাইলের ওপর তেমন কোনও প্রভাব ফেলে না, যতটা প্রভাব ফেলে প্রাতরাশে মিষ্টি বা চর্বি জাতীয় খাবারে।
ডিমে আছে ভিটামিন এ. ই, বি৬, বি১২, ফলেট, ফসফরাস, ক্যালসিয়াম, আয়রন, জিঙ্ক, ম্যাঙ্গানিজ, সেলেনিয়াম, অ্যামাইনো অ্যাসিড ইত্যাদি। ডিম খেলে এগুলো সহজলভ্য এবং দামে সাশ্রয়ী। ডিমের মধ্যে প্রোটিন, ভিটামিন বি১২, রাইবোফ্লেবিন, ফলেট ও ভিটামিন ডি রয়েছে, তা কোলেস্টরাল বৃদ্ধির ক্ষতিকর প্রভাব কমিয়ে দেয়। এমনকী অনেকদিন সংরক্ষিত বা প্রক্রিয়াজাত মাংস খাওয়ার চেয়ে ডিম ভাল বিকল্প খাদ্য হতে পারে। অনেকে হাঁস বা মুরগির ডিম, এমনকী সাদা বা লালচে ডিম খাওয়া নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগেন। আসলে সবধরনের ডিমের পুষ্টিগুণ একই রকম। কেউ কেউ আবার কাঁচা ডিম খেতে পছন্দ করেন, এমনকী কাঁচা ডিমের পুষ্টিগুণ বেশি বলে মনে করেন, এ ধারণাটাও সত্যি নয়। বরং কাঁচা ডিম খেলে সালমোনেলা জাতীয় ব্যাক্টেরিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
তরুণরা এবং যারা বেশি কায়িক পরিশ্রম করেন, তারা নিয়মিত ডিম খেতে পারেন। এমনকী বয়স্করা সপ্তাহে কয়েকটি ডিম খেতে পারবেন, যারা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে দুর্বল হয়ে পড়েছেন, তাদের সুস্বাস্থ্যের জন্য নিয়মিত ডিম খাওয়া উচিত। তবে কিডনি অকেজো বা রেনাল ফেলিয়রের রোগী ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ডিম খাবেন। কারণ, কিডনি ফেলিয়রে প্রোটিন কম খাওয়া উচিত। কারও কারও বেলায় ডিম খেতে অ্যালার্জি জাতীয় সমস্যা হতে পারে। সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। উপসংহারে বলা যায়, ডিম অবশ্যই একটি প্রাকৃতিক পুষ্টিকর খাদ্য, যার মধ্যে খাদ্যের সব উপাদানই বিদ্যমান। সব বয়সের মানুষের পুষ্টি-চাহিদা পূরণে ডিম অত্যন্ত কার্যকর। শিশুর দৈহিক বৃদ্ধি, মানসিক দক্ষতা এবং মহিলাদের শারীরিক চাহিদা পূরণে ডিম অত্যন্ত জরুরি।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT