সম্পাদকীয়

বিশেষ নির্বাচনী প্রকল্প!

প্রকাশিত হয়েছে: ২০-১১-২০১৮ ইং ০১:৪২:০৫ | সংবাদটি ৫০ বার পঠিত


‘নির্বাচনী প্রকল্প’ নিয়ে ইদানিং বেশ লেখালেখি হচ্ছে। সরকার তাড়াহুড়ো করে ৪০ দিনের মধ্যে একশ’ ৬৪টি বৃহৎ প্রকল্প অনুমোদন করেছে। জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এই প্রকল্পগুলো অনুমোদন করা হয়েছে বলে অনেকে অভিমত দিয়েছেন। বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে বলা হয়, একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দ্রুত গতিতে প্রকল্প পাশের হিড়িক পড়ে যায়। গত অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৪০ দিনে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ একনেক অনুমোদন দিয়েছে একশ ৪৬টি প্রকল্প। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে দুই লাখ ২১ হাজার তিনশ’ ৮৪ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে যোগান দেয়া হবে এক লাখ ৬৩ হাজার একশ ৬১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে দেয়া হবে ৪১ হাজার নয়শ’ আট কোটি ৪৩ লাখ টাকা। অথচ বাস্তবে এসব প্রকল্পের বিপরীতে কোন অর্থের সংস্থান রাখা হয়নি। অবশ্য সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থায়ন কোন সমস্যা হবে না। তাছাড়া, বেসরকারি বিনিয়োগকে উৎসাহ দিতে বাড়ছে সরকারি বিনিয়োগ। যে কারণে অর্থের কোন সমস্যা হবে না বলেই সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের ধারণা।
কালচারটি পুরনো। অতীতেও দেখা গেছে, জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে ক্ষমতাসীন দল নির্বাচনের বৈতরণী পার হবার জন্য নানান পরিকল্পনা করে থাকে। এর মধ্যে রয়েছে এমপিদের নামে বিশেষ আর্থিক বরাদ্দ, বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ ইত্যাদি। সেই ধারাবাহিকতায় এবার অনুমোদিত হলো রেকর্ডসংখ্যক প্রকল্প। এর মধ্যে বেশির ভাগ প্রকল্প হচ্ছে যোগাযোগ ও শিক্ষা খাতের। এছাড়াও সামাজিক নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থানমূলক প্রকল্পও রয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা, এইসব প্রকল্পের বেশির ভাগই সংসদ সদস্যদের সুপারিশের ভিত্তিতে অনুমোদন করা হয়েছে। এতে ব্যাপারটি কিছুটা হলেও প্রমাণিত হচ্ছে যে, সংসদ সদস্যগণ নিজ নিজ এলাকার মানুষের দাবী পূরণ করতেই প্রকল্পগুলো তৈরি করেছেন এবং সরকার তা অনুমোদন করেছে। এখানে প্রচ্ছন্নভাবে ভোটারদের ‘খুশি’ করে তাদের ভোট আদায়ের বিষয়টি রয়েছে। তাছাড়া প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী কোন প্রকল্প অনুমোদনের পূর্বে মাঠ পর্যায়ে এর একটি সুষ্ঠু সমীক্ষা করা জরুরি। কিন্তু উল্লিখিত প্রকল্পগুলোর ক্ষেত্রে সেই রকম সমীক্ষা করা হয়েছে কি-না এ নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। কারণ এগুলো বেশ তাড়াহুড়োর মধ্যেই পাস করা হয়েছে। তাছাড়া, অর্থের সংস্থান না করেই অনুমোদিত হয়েছে এসব প্রকল্প। যে কারণে প্রকল্পগুলোকে ‘নির্বাচনী প্রকল্প হিসেবেই বিবেচনা করছেন বিশেষজ্ঞগণ।
যেকোন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নে কারও আপত্তি থাকার কথা নয়। তবে সেটা যদি হয় উদ্দেশ্যমূলক তাহলে সেখানে আপত্তি থাকাটা স্বাভাবিক। গণপ্রতিনিধিরা যদি প্রকল্পের মুলো ঝুলিয়ে রেখে জনগণকে ধোকা দিয়ে ভোট আদায় করার প্রচেষ্টা চালান তাহলে সেটা খুবই দুঃখজনক। যে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই হয় নি, নেই অর্থের সংস্থান, সেই ধরনের প্রকল্প তো শুধু কাগজ পত্রেই সীমাবদ্ধ: আর এই কাগুজে প্রকল্পই ভোটারদের ‘কাবু’ করার মোক্ষম অস্ত্র হিসেবে বেছে নিয়েছেন সংসদ সদস্যরা। তারপরও রয়েছে দুর্নীতি-লুটপাট। সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে লুটপাট হবে না সেটা তো হতে পারে না। উল্লিখিত প্রকল্পের মধ্যে যেগুলোর অর্থ বরাদ্দ করা হবে, সেই অর্থের একটা বড় অংশই লুটপাট হবে। এই লুটপাটে ঠিকাদার, আমলা, গণপ্রতিনিধি জড়িত অর্থাৎ এইসব ‘নির্বাচনী প্রকল্পে’ রয়েছে বহুমুখী সুবিধা। কিন্তু সেখানে লাভবান হচ্ছে না জনগণ। আমরা চাই যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হোক, বন্ধ হোক সরকারি অর্থের লুটপাট।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT