ইতিহাস ও ঐতিহ্য

৮৭ বছরের গৌরব নিয়ে দাঁড়িয়ে সরকারি কিন্ডারগার্টেন প্রাথমিক বিদ্যালয় জিন্দাবাজার

আহমাদ সেলিম প্রকাশিত হয়েছে: ২১-১১-২০১৮ ইং ০১:৪৮:২৫ | সংবাদটি ৪৩ বার পঠিত

সিলেটের একটি সুপ্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জিন্দাবাজার কিন্ডারগার্টেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই হয়তো জানেন না এই বিদ্যালয়ের গৌরবময় সোনালী অতীত। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, একদিন এই বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতো দুই বাংলার প্রথম শ্রেনীর কর্মকর্তাদের সন্তানরা। শুরুতে বিদ্যালয়টি ছিলো ইংরেজি মাধ্যমের। সেই বিদ্যাপীঠটি প্রতিষ্ঠিত হয় ৮৭ বছর পূর্বে, ছোট্ট একটি কক্ষ নিয়ে। আর প্রতিষ্ঠার পেছনের গল্পটার জন্ম দিয়েছেন এই সিলেটের কিছু সুশিক্ষিত উদ্যমী নারী। তার মধ্যে অন্যতম ছিলেন খ্যাতনামা কূটনীতিবিদ, জাতীয় সংসদের সাবেক স্পীকার হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী ও বাংলাদেশের সফল অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সাহেবের পরিবার।
সুপ্রাচীন বিদ্যালয়টির অনেক প্রাক্তন শিক্ষার্থী আজ খ্যাতির শীর্ষে রয়েছেন। বিজ্ঞানের জগতে প্রবেশের পাশাপাশি সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন শাখায় গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা রাখতে সক্ষম হচ্ছে তারা। অনেকেই রয়েছেন রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন। বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার ফলে নির্দিষ্ট করে দেয়া এলাকার ধনী-গরিব নির্বিশেষে লেখাপড়া করার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছে। প্রতিষ্ঠার ৮৬ বছর পর বিদ্যালয়টি সিলেট বিভাগের মধ্যে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা লাভ করতেও সক্ষম হয়েছে।
জানা যায়, বর্তমানে জিন্দাবাজারে অগ্রগামী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ যেখানে রয়েছে সেটি তৎকালীন সময়ে রাজকীয় ইংরেজি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় নামে সুপরিচিত ছিলো। সেই স্কুলে তখন তৃতীয় শ্রেনী থেকে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হতো। ফলে সেখানে শিশু, প্রথম অথবা দ্বিতীয় শ্রেনীতে পড়ার সুযোগ ছিলোনা। সে সময় শিশুদের সুবিধার কথা চিন্তা করে এগিয়ে আসেন সিলেটের কিছু অগ্রসর নারী। যারা সুসংগঠিত হয়ে সিলেটের জন্য গণমুখী নানা কাজ করে প্রশংসিত হয়েছেন। সেই সম্ভান্ত পরিবারগুলো ধর্মীয় অনুশাসন, অবরোধ প্রথার করাল নিষ্পেশন, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কঠিন শৃঙ্খলকে অতিক্রম করে স্কুল প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসেন। তার মধ্যে অন্যতম ছিলেন, সাবেক স্পীকার হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী ও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত পরিবারের সদস্যরা। সেই প্রজ্ঞাদীপ্ত মানুষগুলোর কল্যাণেই একসময় প্রতিষ্ঠা লাভ করে আজকের জিন্দাবাজার কিন্ডারগার্টেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এজন্য অবশ্য তাদেরকে দীর্ঘসময় পার করতে হয়েছে। তখন নাম ছিলো শিশু বিদ্যালয়। যতদূর জানা যায়, এই বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে সিলেটে ইংরেজি মিডিয়াম শিক্ষার গোড়া পত্তন হয়। যা শিশুদের ইংরেজি শিক্ষার নিমিত্তে তৎকালীন সময়ে সেটি নারীদের একটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ছিল। সেই শিশু স্কুলে পড়ানো হতো ‘এ’ এবং ‘বি’ থেকে দ্বিতীয় শ্রেনী পর্যন্ত। অর্থাৎ ‘এ’ ছিলো বর্তমানের নার্সারী ওয়ান সমমানের, একইভাবে নার্সারী টু সমমানের ছিলো ‘বি’। এ এবং বি শেষ করে উঠতে হতো দ্বিতীয় শ্রেনীতে। তারপর দ্বিতীয় শেষ করে তৃতীয় শ্রেনীর ভর্তি হতে হতো পাশের রাজকীয় ইংরেজি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে। তখন মাত্র ১৬ জন শিশু শিক্ষার্থী নিয়ে শিশু স্কুলের যাত্রা শুরু হয়। প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে এই শিশু বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন আশালতা খাস্তগীর নামে উচ্চ শিক্ষিত এক খ্রিস্টান নারী। সে সময় এই শিশু বিদ্যালয়ের সুনাম এবং সুখ্যাতি ছিলো দুই বাংলায়। তখন আসাম প্রদেশের প্রথম শ্রেনীর অনেক অফিসারের সন্তানরাও এই বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করতো। মহান মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ সরকার বিদ্যালয়টি সরকারিকরণ করে। নাম দেয় জিন্দাবাজার কিন্ডার গার্টেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বর্তমানে বিদ্যালয়ে ৫৮৪ জন শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষক রয়েছেন ৮জন। কর্মচারী এবং নৈশপ্রহরী আছেন দুইজন।
ইতিহাসের সোপান বেয়ে মাত্র ১৬ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করা সেই বিদ্যাপীঠটি আজো তার অতীত ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। বর্তমানে বিদ্যালয়ে সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি বেড়েছে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক। প্রত্যহ সকালবেলা শিশুদের কলকাকলীতে মুখর হয়ে উঠে বিদ্যালয়ের সবুজ পরিপাটি প্রাঙ্গন। কোমলমতি শিশুদের দেশপ্রেমে উজ্জীবিত করতে সকালবেলা পাঠদানের আগে শুরু হয় জাতীয় সংগীত। যা আমাদের অস্তিত্বের সাথে মিশে থাকা অমর এক মহাকাব্য। শিশুদের নিষ্পাপ কন্ঠে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথের ১০ লাইনের গাওয়া জাতীয় সঙ্গীতটি পুরো এলাকায় অন্যরকম আমেজ তৈরী করে।
চলতি বছরের ২০ আগস্ট কালের নিরব স্বাক্ষী গৌরবগাথা সেই বিদ্যালয়ে নতুন প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন শিক্ষানুরাগী নাসিমা আক্তার চৌধুরী। যোগদানের পর কিছুদিনের মধ্যে তিনি পুরো বিদ্যালয়কে শিশুবান্ধব করে তুলতে নিয়েছেন নানা ইতিবাচক পদক্ষেপ। এর পেছনে বিদ্যালয়ের সোনালী অতীত তাকে তুমুলভাবে আন্দোলিত করেছে। তাঁর হাত ধরে সুসজ্জিত শ্রেনীকক্ষ, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, সিসি ক্যামেরা দ্বারা মনিটরিং, বায়োমেট্রিক হাজিরাসহ শিশুর মেধা বিকাশে সহায়ক-এমন বেশ কিছু উদ্যোগ সকল মহলে প্রশংসিত হচ্ছে। একইভাবে শিশুদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বিদ্যালয়ের বিমল আনন্দঘন পরিবেশ মুগ্ধ করছে অভিভাবকদের। তিনি আসার পর বিদ্যালয়ের সর্বত্র লেগেছে নতুনত্বের ছোঁয়া। বিদ্যালয়ের প্রতি শিশুদের আকৃষ্ট করতে শ্রেনীকক্ষে যুক্ত হয়েছে নানা ধরণের খেলার সামগ্রী। ফলে বিদ্যালয়ে বেড়েছে উপস্থিতির হার। সিলেটে কোনো প্রাথমিক পর্যায়ের সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন উদ্যোগ আমার জানামতে দ্বিতীয়টি সম্ভবত নেই।
গুণগত শিক্ষার পাশাপাশি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে সততারও শিক্ষা দেয়া হয় এই বিদ্যালয়ে। শিক্ষার্থীদের সততা ও জ্ঞান অর্জনের উপর অনুপ্রাণিত করতে বিদ্যালয়ের পুরনো একটি কক্ষের বারান্দায় ‘সততার মেলা’ নামে একটি দোকান উম্মূক্ত করা হয়েছে। এই দোকানে শিক্ষার্থীদের জন্য লেখাপড়ার সকল শিক্ষা উপকরণ ও খাদ্য সামগ্রী রাখা হয়েছে। অংকুরে শিশুদের ভেতর সততার বীজ বুনে দিতে উদ্যোগটি সবার নজর কাড়ছে। সবচেয়ে বড় সাফল্য হচ্ছে- ১৯৩১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যাপীঠ গত ১৭ অক্টোবর সিলেট বিভাগের মধ্যে শ্রেষ্ট বিদ্যালয়ের গৌরব অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। প্রধান শিক্ষক নাসিমা আক্তার চৌধুরী দায়িত্ব গ্রহণের পর এই সাফল্য যেমন উজ্জ্বল করেছে বিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি তেমনি উজ্জ্বল করেছেন সিলেটের মুখ। প্রতিষ্ঠার ৮৬ বছর পর এই প্রাপ্তি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দায়িত্ব এবং কর্তব্য আরো বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মনে করছেন সুশীল সমাজ।
নির্মল আনন্দঘন পরিবেশে শিশুর শিক্ষা লাভ একটি জন্মগত অধিকার। কোনো ধরণের রূঢ় আচরণ কিংবা ভয়ভীতি দিয়ে আর যাই হোক অন্তত শিক্ষাদান করা যায় না। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে পৃথিবীর সর্বত্র শিশুদের শিক্ষায় আনন্দঘন পরিবেশ তৈরিতে শিক্ষকদের ভূমিকা ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এখানে শাস্তির কোনো সুযোগ নেই। শিক্ষার্থীদের শাস্তির বিরুদ্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশও জারি করেছে। কিন্তু এরপরও থেমে নেই শিক্ষার্থী প্রহার। স্থানীয় প্রশাসনের তদারকি না থাকায় শুধু প্রহার নয় নৃশংসতার মতো ঘটনাও ঘটছে বাংলাদেশে। এদিক দিয়ে এই বিদ্যাপীঠ সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। শাসনের জন্য কোনো শিক্ষকের হাতে কখনো নিতে হয়নি বেত কিম্বা স্কেল। শিশুদের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসাই তাদের হাতিয়ার। এ ক্ষেত্রে প্রতিটি শিক্ষকের রয়েছে আলাদা সুনাম।
আমরা জানি শিশুরা বিদ্যালয়ের প্রাণ। শিশুর মানবিক বিকাশের সাথে সৃজনশীল এবং নান্দনিকতার বিকাশও ঘটে শৈশবের স্কুল থেকে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে বিদ্যালয়কে একটি আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে আন্তরিক রয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসিমা আক্তার চৌধুরী। তিনি জানান, সবার সহযোগিতা নিয়ে আমি সরকারি এই প্রতিষ্ঠানকে শুধু সিলেটে নয়, বাংলাদেশের মধ্যে একটি মডেল প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। তিনি বলেন, শিশুকে শিশুর মতো পরিবেশ তৈরী করে না দিলে তাদের মেধার পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটবে না। বিদ্যালয়টির অতীতের গর্ব ও অহংকার আমাদের কাছে যেন শুধু ইতিহাস হয়েই না থাকে। প্রাক্তন ছাত্রসহ সুধি সমাজের প্রত্যাশা সম্মিলিত প্রয়াসে অটুট রাখতে হবে বিদ্যালয়ের সোনালী ঐতিহ্য। একই সাথে মনে রাখা দরকার, শৈশব-কৈশর হচ্ছে শিক্ষার ভিত্তিকাল। শিশুকালে তারা মেধা ও মনোযোগের কারণে সহজেই সবকিছু আয়ত্ত করতে পারে। এজন্য শুধু শিক্ষক নয়, শিশুর পরিপূর্ণ মেধা বিকাশে অভিভাবকদেরও আরো আন্তরিক হতে হবে। সম্পর্ক রাখতে হবে স্কুলের প্রতি। বিদ্যালয়ের সুনামের সাথে শিক্ষার্থীর মতো অভিভাবকেরও সুনাম জড়িয়ে আছে। আমাদের সবার সম্মিলিত প্রয়াসে ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয়টি একদিন সিলেটের গন্ডী পেরিয়ে জাতীয় পর্যায়েও সাফল্য বয়ে আনবে। শিশুর মানবিক তথা সার্বিক বিকাশে প্রাথমিক বিদ্যালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এজন্য সরকারও আন্তরিকভাবে কাজ করছে। স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে বাংলাদেশে প্রায় ৬৩ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্টিত হয়েছে। নিয়োগ দেয়া হয়েছে অগণিত শিক্ষক। নতুন এবং আকর্ষণীয় ভবন পেয়েছে দেশের বিদ্যালয়গুলো। সবকিছু হয়েছে দেশের স্বার্থে। শিশুর সুন্দর বেড়ে ওঠার পেছনে সরকারের এই প্রচেষ্ঠা প্রশংসনীয়। আসুন আমরা সরকারের মহৎ উদ্যোগের পাশে দাড়াই। একইসাথে সুপ্রাচীন জিন্দাবাজার কিন্ডার গার্টেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে আমরা সচেষ্ট হই। কোনোভাবেই যেন বিদ্যালয়ের অতীত ঐতিহ্য ম্লান হয়ে না যায়। বিশেষ করে যেসকল অভিভাবক রয়েছেন তারা সেই দায় এড়াতে পারবেন না। কারণ বিদ্যালয়ের সুনামের সাথে শিক্ষকদের মতো অভিভাবকদেরও সুনাম জড়িয়ে আছে।

শেয়ার করুন
ইতিহাস ও ঐতিহ্য এর আরো সংবাদ
  • সাত মার্চের কবিতা ও সিলেট বেতার কেন্দ্র
  • পার্বত্য তথ্য সংকটের মূল্যায়ন
  • সিলেটের প্রাচীন ‘গড়’ কিভাবে ‘গৌড়’ হলো
  • ৮৭ বছরের গৌরব নিয়ে দাঁড়িয়ে সরকারি কিন্ডারগার্টেন প্রাথমিক বিদ্যালয় জিন্দাবাজার
  • খেলাফত বিল্ডিং : ইতিহাসের জ্যোতির্ময় অধ্যায়
  • এক ডিমের মসজিদ
  • মুক্তিযুদ্ধে জামালপুরের কিছু ঘটনা
  • খাদিমনগরে বুনো পরিবেশে একটি দিন
  • ফিরে দেখা ৭ নভেম্বর
  • শ্রীরামসি গণহত্যা
  • প্রাচীন সভ্যতা ও ঐতিহ্যের ধারক মৃৎশিল্প
  • বিপ্লবী লীলা নাগ ও সিলেটের কয়েকজন সম্পাদিকা
  • গ্রামের নাম আনোয়ারপুর
  • পার্বত্য তথ্য কোষ
  • বিবি রহিমার মাজার
  • তিন সন্তানের বিনিময়ে বঙ্গবন্ধুর স্বীকৃতি
  • হারিয়ে যাচ্ছে পুকুর ও দীঘি
  • শিক্ষা বিস্তারে গহরপুরের ছমিরুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয়
  • পার্বত্য সংকটের মূল্যায়ন
  • বিলুপ্তির পথে সার্কাস
  • Developed by: Sparkle IT