ধর্ম ও জীবন

তাফসিরুল কুরআন

প্রকাশিত হয়েছে: ২৩-১১-২০১৮ ইং ০১:৩১:২৮ | সংবাদটি ২৮ বার পঠিত

[পূর্ব প্রকাশের পর]
সূরা : বাক্বারাহ
যেহেতু হযরত আদম (আ.) এর মাঝে ফেরেশতা ও জ্বিন উভয় সম্প্রদায়ের যাবতীয় জ্ঞানের সমাহার ঘটেছে, সুতরাং উভয় সম্প্রদায়ের উপর তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও উচ্চ পদমর্যাদা একেবারে সুষ্পষ্ট। এখন আল্লাহ পাক এ বিষয়টি কার্যকরভাবে প্রকাশ করতে ইচ্ছা করলেন যে, ফেরেশতা ও জ্বিনদের দ্বারা হযরত আদম (আ.) এর প্রতি এমন বিশেষ ধরণের সম্মান প্রদর্শন করানো হোক, যাদ্বারা কার্যতঃ স্পষ্ট হয়ে যায় যে, তিনি তাদের উভয়ের চাইতে উত্তম ও পূর্ণতার। এ জন্য যে সম্মান প্রদর্শনমূলক কাজের প্রস্তাব করা হয়েছে, তারই বর্ণনা প্রসঙ্গে আল্লাহ পাক বলেন, ‘আমি ফেরেশতাদেরকে হুকুম করলাম, তোমার আদমকে সেজদা কর। সমস্ত ফেরেশতা সেজদায় পতিত হলো, কিন্তু ইবলিস সেজদা করতে অস্বীকার করলো এবং অহঙ্কারে স্ফীত হয়ে উঠলো।
সেজদার নির্দেশ কি জ্বিনদের প্রতিও ছিল?
এ আয়াতে বাহ্যতঃ যে কথা বর্ণনা করা হয়েছে, তা এই যে, আদম (আ.) কে সেজদা করার হুকুম ফেরেশতাদেরকে দেয়া হয়েছিলো। কিন্তু পরে যখন একথা বলা হলো যে, ইবলিস ব্যতিত সব ফেরেশতাই সেজদা করলেন, তখন তাতে প্রমাণিত হলো যে, সেজদার নির্দেশ সকল বিবেক সম্পন্ন সৃষ্টির প্রতিই ছিলো। ফেরেশতা ও জ্বিন সবাই এর অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু নির্দেশ প্রদান করতে গিয়ে শুধু ফেরেশতাগণের উল্লেখ এজন্য করা হলো যে, তারাই ছিলো সর্বোত্তম ও সর্বশ্রেষ্ঠ। যখন তাদেরকে হযরত আদম (আ.) এর প্রতি সম্মান প্রদর্শনের নির্দেশ দেয়া হলো, তাতে জ্বিন জাতি অতি উত্তম রূপে এ নির্দেশের অন্তর্ভুক্ত বলে জানা গেল।
সম্মানসূচক সেজদা ইসলামে নিষিদ্ধ :
এ আয়াতে হযরত আদম (আ.) কে সেজদা করতে ফেরেশতাদের প্রতি নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সুরা ইউসুফে হযরত ইউসুফ (আ.) এর পিতা-মাতা ও ভাইগণ মিশর পৌঁছার পর হযরত ইউসুফকে সেজদা করেছিলেন বলে উল্লেখ রয়েছে। এটা সুস্পষ্ট যে, এ সেজদা এবাদতের উদ্দেশে হতে পারে না। কেননা, আল্লাহ ব্যতিত অপরের উপাসনা শিরক ও কুফরী। কোন কালে কোন শরীয়তে এরূপ কাজের বৈধতার কোন সম্ভাবনাই থাকতে পারে না। সুতরাং এর অর্থ এছাড়া অন্য কোন কিছুই হতে পারে না যে, প্রাচীন কালের সেজদা আমাদের কালের সালাম, মুসাফাহা, মাআনাকা, হাতে চুমো খাওয়া এবং সম্মান প্রদর্শনার্থ দাঁড়িয়ে যাওয়ার সমর্থক ও সমতুল্য ছিল। ইমাম জাসসাস আহকামুল কুরআন গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন যে, পূর্ববর্তী নবিগণের শরীয়তে বড়দের প্রতি সম্মানসূচক সেজদা করা বৈধ ছিলো। শরীয়তে মুহাম্মদীতে তা রহিত হয়ে গেছে। বড়দের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের পদ্ধতি হিসাবে এখন শুধু সালাম ও মুসাফাহার অনুমতি রয়েছে। রুকু-সেজদা এবং নামাযের মতো করে হাত বেঁধে দাঁড়ানোকে অবৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে।
এর বিশ্লেষণ এই যে, শিরক, কুফর এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো এবাদত করা কোন শরীয়তেই বৈধ ছিলো না। কিন্তু কিছু কিছু কাজ এমনও রয়েছে, যা মূলতঃ শিরক বা কুফর নয়। কিন্তু মানুষের অজ্ঞানতা ও অসাবধানতার দরুণ যে সমস্ত কার্যাবলী শিরক ও কুফরের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এসব কার্যাবলী পূর্ববর্তী নবিগণের শরীয়তে আদৌ নিষিদ্ধ ছিলো না। বরং সেগুলোকে শিরকরূপে প্রতিপন্ন করা থেকে মানুষকে বিরত রাখা হতো মাত্র। যেমন, প্রাণীদের ছবি আঁকা ও ব্যবহার করা মূলতঃ কুফর বা শিরক নয়। এজন্য পূর্ববর্তী শরীয়তে তা বৈধ ছিলো। যেমন, হযরত সুলায়মান (আ.) এর কাহিনী বর্ণনা প্রসঙ্গে বলা হয়েছে ‘এবং জ্বিনেরা তার জন্য বড় বড় মিহরাব তৈরি করতো এবং ছবি অঙ্কন করতো’।
[চলবে]

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT