সম্পাদকীয়

বেকার যুবশক্তি বাড়ছে

প্রকাশিত হয়েছে: ২৪-১১-২০১৮ ইং ০২:১১:৩৩ | সংবাদটি ৪৩ বার পঠিত

বেকারত্বের অভিশাপে জর্জরিত দেশের বিপুল জনগোষ্ঠী। এর মধ্যে যুব বেকারত্বের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, দেশের মোট জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিভিন্ন বয়সী কমপক্ষে ছয় কোটি বেকার রয়েছে। এর মধ্যে ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী জনগোষ্ঠীর নয় দশমিক এক শতাংশই বেকার। অপরদিকে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর দেয়া তথ্য মতে, দেশে ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে বেকারের সংখ্যা ২৬ লাখ ৭৭ হাজার; যা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ৮৭ হাজার বেশী। এর মধ্যে ৭৪ শতাংশ যুবক যুবতী। এই পরিসংখ্যানে ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের যুব শ্রমশক্তি হিসেবে ধরা হয়েছে। সে অনুযায়ী প্রায় ২০ লাখের বেশী তরুণ-তরুণী বেকার। তারা সপ্তাহে এক ঘন্টা কাজও করার সুযোগ পায় না। অথচ তারা সবসময়ই কাজের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত থাকে।
তারুণ্যের শক্তিকে অবহেলা করে কোনো জাতি সামনে এগুতে পারে না। তরুণদের প্রাণশক্তিকে কাজে লাগিয়েই আমরা একাত্তরের বিজয় অর্জন করেছি। যে কোনো সংকটে-দুর্যোগে তারুণ্যই হচ্ছে উত্তরণের অন্যতম উৎস। বিশ্ব দরবারে দেশের নাম উজ্জ্বল করতে পারে তরুণরাই বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের সাফল্য দিয়ে। আমাদের তরুণ সমাজের একটা অংশ দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়, এমনি অনেক কৃতিত্বপূর্ণ কাজ করে যাচ্ছে। পাশাপাশি অনেকে ন্যাক্কারজনক কর্মকান্ডেও লিপ্ত হচ্ছে; যা গোটা জাতিরই লজ্জার কারণ হয়ে দাড়াচ্ছে। যুবসমাজের বড় একটা অংশ বেকার। এরা নিগৃহীত পরিবারে সমাজে। সবচেয়ে দুঃখজনক হচ্ছে, বেকার তরুণদের একটা বড় অংশ বিপথে পরিচালিত হচ্ছে। তারা মাদকাসক্ত হচ্ছে; জড়িয়ে পড়ছে নানা অপরাধ-অপকর্মে। অথচ যুব বেকারত্ব নিরসনে সরকার উদ্যোগ নিলেও তার উল্লেখযোগ্য সাফল্য আসছে না। যুব বেকারত্ব বিশ্বের অনেক দেশেই অন্যতম জাতীয় সমস্যা। বিশ্বব্যাংকের মতে, যুব বেকারত্ব বাংলাদেশের চেয়ে বেশি রয়েছে এমন দেশের সংখ্যা অনেক। যেমন ভারতে তরুণ সমাজের দশ দশমিক চার শতাংশ বেকার। আফগানিস্তানে যুবকদের ২০ দশমিক আট শতাংশ বেকার। আর শ্রীলঙ্কায় ১৯ শতাংশ যুব শক্তি বেকার। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে ভালো পরিস্থিতি নেপালে। এখানে মাত্র চার শতাংশ তরুণ-তরুণী বেকার। আর পাকিস্তানে যুব বেকারত্ব আট দশমিক ছয় শতাংশ, ভূটানে দশ শতাংশ। ধনী দেশগুলোতেই যুব বেকারত্বের হার বেশি। বিশ্বের সর্বোচ্চ ৫৭ দশমিক নয় শতাংশ বেকার স্পেনে। গ্রীসে এই হার ৫৪ শতাংশ। বিশ্বব্যাংক বলেছে, সারা বিশ্বে প্রায় একশ ৮০ কোটি যুবক-যুবতী কোনো কাজ করে না। তারা পড়াশোনা বা কোনো বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণও নিচ্ছে না।
যুবসমাজকে কর্মক্ষম করে বেকারত্ব নিরসন, আর বিপথগামী তরুণ সমাজকে সুপথে ফিরিয়ে আনাই হচ্ছে এই সমাজের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ। সেই লক্ষে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ যথাযথভাবে বাস্তবায়নের পাশাপাশি এ ব্যাপারে সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে হবে। উল্লেখ করা যেতে পারে, দেশের কর্মক্ষম যুবসমাজকে কাজে লাগাতে জাতীয় যুব নীতি প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এটি বাস্তবায়িত হলে যুব বেকারত্ব নিরসনে আশানুরূপ সাফল্য আসবে বলেই আমরা মনে করছি। বিশেষজ্ঞদের মতে, শ্রমবাজারে যে ধরনের দক্ষতা ও শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন কর্মী প্রয়োজন, সেই অনুযায়ী কর্মীর চাহিদা পূরণ করতে পারছে না আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা। তাদের মতে, কর্মমুখী শিক্ষা তথা সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে তরুণ সমাজকে যেকোনো ধরনের কাজে নিয়োজিত করার উপযোগী করে তুলতে হবে। এতে সরকারি বেসরকারি ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে তারা। আত্মকর্মসংস্থানেও এগিয়ে আসবে।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT