সম্পাদকীয় মানবজাতির মধ্যে তিনিই উত্তম, যার দ্বারা মানবজাতির কল্যাণ সাধিত হয়। -আল হাদিস

পরিবার কল্যাণ প্রচার সপ্তাহ

প্রকাশিত হয়েছে: ২৬-১১-২০১৮ ইং ০১:৫০:২২ | সংবাদটি ৩৬ বার পঠিত

শুরু হয়েছে পরিবার কল্যাণ সেবা ও প্রচার সপ্তাহ। পরিবার পরিকল্পনার কার্যক্রমকে গতিশীল করতে সারাদেশব্যাপী এই সপ্তাহ পালন শুরু হয়েছে গত শনিবার। চলবে আগামী বুধবার পর্যন্ত। সপ্তাহের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘প্রাতিষ্ঠানিক ডেলিভারি বৃদ্ধি করি- প্রসব পরবর্তী পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি নিশ্চিত করি।’ এই উপলক্ষে জনসচেতনতামূলক নানা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে বিভিন্ন স্থানে। প্রতি মিনিটে এখানে জনসংখ্যা বাড়ছে চারজন। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে যখন জনসংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশের চিত্র ভিন্ন। সে হিসেবে বিশ্বের অনেক দেশে জনসংখ্যা আশীর্বাদ; কিন্তু আমাদের দেশে জনসংখ্যা ‘অভিশাপ’। শুধু তা-ই নয়, এটাকে ‘জনবিস্ফোরণ’ও বলা যায়। পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার ৬০ দশমিক সাত শতাংশ বসবাস করে শুধু এশিয়া মহাদেশে। এক লাখ ৪৭ হাজার পাঁচশ’ ৭০ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এই বাংলাদেশে প্রায় ১৬ কোটি মানুষের বসবাস। ১৯৬১ সালে যেখানে জনসংখ্যা ছিলো তিন কোটির ওপরে; সেই জনসংখ্যা এখন পাঁচ গুণ বেড়েছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে জনসংখ্যা ২০ কোটিতে পৌঁছুবে কয়েক বছরের মধ্যেই। এই প্রেক্ষাপটেই দেশে পরিচালিত হচ্ছে পরিবার কল্যাণ সেবা ও প্রচার সপ্তাহ।
জনসংখ্যা সমস্যা হচ্ছে আমাদের জাতীয় সমস্যাবলীর অন্যতম একটি। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার অনেক বেশি। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম এদেশে শুরু হয় স্বাধীনতার পূর্ব থেকেই। কিন্তু সাম্প্রতিককালে এই কার্যক্রম চলছে ঢিমেতালে। মাঠ পর্যায়ে সাধারণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে এ ব্যাপারে সচেতনতা নেই বললেই চলে। সেই সঙ্গে রয়েছে ধর্মীয় গোঁড়ামি। অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষিত সচেতন দম্পতিও অধিক সন্তান নিচ্ছেন। অনেক দম্পতি অনাকাংখিত শিশুরও জন্ম দিচ্ছেন। এর কারণ হচ্ছে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মাঠ কর্মীরা সচেতন করে তুলছেন না দম্পতিদের। বিশেষ করে অনগ্রসর দরিদ্র জনগোষ্ঠী এ ব্যাপারে বলা যায় অন্ধকারেই। সেই সঙ্গে রয়েছে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর দুষ্প্রাপ্যতা। বর্তমানে দেশে জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ছেড়ে দেয়ার হার যেমন বেশি, সক্ষম দম্পতির সংখ্যাও তেমনি বেশি। দেশে ২৭ দশমিক ছয় শতাংশ দম্পতির পরিবার পরিকল্পনার চাহিদা থাকা সত্ত্বেও তাদেরকে সেই সেবা দেয়া হচ্ছে না। জরিপের তথ্য হচ্ছে, ১৯৯৩-৯৪ সালে ৩৮ শতাংশ বিবাহিত নারীর কাছে পরিবার পরিকল্পনা সেবা পৌঁছানো হতো, বর্তমানে এই হার নেমে এসেছে ২০ শতাংশে।
জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে এই যে ব্যর্থতা, এ থেকে উত্তরণের উপায় বের করতে হবে। এর জন্য জরুরি হচ্ছে ধর্মীয় অপব্যাখ্যা থেকে মানুষকে দূরে রাখা এবং যথাযথ প্রচারণা ও উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমে সকল স্তরের মানুষকে এই ব্যাপারে সচেতন করে তোলা। সেই সঙ্গে ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হবে। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন পদ্ধতি এবং জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ সামগ্রী যাতে সহজলভ্য হয়, সেদিকে নজর দিতে হবে। আমাদের রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক জীবনের সর্বক্ষেত্রে বর্ধিত জনসংখ্যা নানামুখী সমস্যা সৃষ্টি করছে। একে নিয়ন্ত্রণ করার বিকল্প নেই। আমরা আশা করছি, চলতি সেবা সপ্তাহে পরিবার কল্যাণ অধিদপ্তরকে কর্মতৎপর করে তোলার মাধ্যমে পরিবার পরিকল্পনা সেবা জোরদার করা হবে।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT