সম্পাদকীয়

গ্রামে কৃষক সেবা কেন্দ্র

প্রকাশিত হয়েছে: ২৯-১১-২০১৮ ইং ০০:২০:৩৩ | সংবাদটি ৪৫ বার পঠিত

কৃষিসেবা এখন গ্রামে। গ্রামীণ জনপদে নির্মিত হচ্ছে কৃষক সেবা কেন্দ্র। কৃষকদের এখন কৃষি বিষয়ক সেবা নিতে উপজেলা সদরে যেতে হবে না। গ্রাম থেকে উপজেলা সদরে আসা-যাওয়া করে কৃষিসেবার জন্য আর তাদেরকে দুর্ভোগ পোহাতে হবে না। তারা এখন হাতের নাগালে পাবেন কৃষিসেবা এতে কৃষকদের সময় ও আর্থিক সাশ্রয় হবে। সচ্ছলতা আসবে কৃষক পরিবারগুলোর। একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, সরকার কৃষিকাজে কারিগরী শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রান্তিক পর্যায়ে কৃষকদের দক্ষ করে তুলতে দেশের বিভিন্ন ইউনিয়নে স্থাপন করেছে কৃষক সেবাকেন্দ্র। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ইউনিয়ন পর্যায়ে কৃষকসেবা কেন্দ্র স্থাপন ও প্রযুক্তি হস্তান্তর প্রকল্পের মাধ্যমে এই কেন্দ্রগুলো স্থাপন করছে। প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ২১ টি জেলার ২৪ টি উপজেলার ২৪টি ইউনিয়নে এই ধরণের কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে। আরও ২০টি ইউনিয়নের প্রতিটিতে একটি করে কৃষকসেবা কেন্দ্র স্থাপন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নেই স্থাপন করা হবে কৃষকসেবা কেন্দ্র। সরকার বলছে, এই কৃষকসেবা কেন্দ্র ইউনিয়নে কৃষিসেবার ‘ওয়ানস্টপ সেন্টার’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।
বলা যায়, কৃষির উন্নয়নে সরকারের একটি যুগান্তকারী প্রকল্প। ইউনিয়ন পর্যায়ে কৃষকসেবা কেন্দ্র নামে একটি সুরম্য ভবন নির্মিত হবে। এতে আবাসন সুবিধেসহ থাকবে দাপ্তরিক কাজকর্ম সম্পাদনের সুযোগ। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, যেহেতু উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে কৃষককে সম্প্রসারণ সেবা দিয়ে থাকেন সেহেতু ইউনিয়ন পর্যায়ে তাদের দাপ্তরিক সেবা প্রদান ও সপরিবারে বসবাসের কোন সুযোগ না থাকায় কৃষক প্রয়োজনের সময় অনেক ক্ষেত্রেই উপসহকারী কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সেবা পেতে কষ্ট করতে হচ্ছে। কৃষকসেবা কেন্দ্র চালু হলে কৃষকের আধুনিক কৃষি তথ্যসেবা সহজলভ্য হবে। আধুনিক ও উন্নতমানের এইসব সেবাকেন্দ্র হবে তিন তলা বিশিষ্ট। সুসজ্জিত এই ভবনের নীচতলায় রয়েছে কৃষক প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ কেন্দ্র। দ্বিতীয় তলায় তিনজন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার অফিস ও বাসস্থান এবং তৃতীয় তলায় থাকবে দু’জন উপসহকারী কর্মকর্তার বাসস্থান। ভবনে রয়েছে সৌর প্যানেল, বৃষ্টির পানি সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও ব্যবহারের সুবিধা, ফসল সংগ্রহোত্তর নিরাপদ বাজারজাতকরণ কৌশল বিষয়ে প্রশিক্ষণ সুবিধা এবং কৃষি তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিতকরণের জন্য কম্পিউটার, প্রজেক্টার, ইন্টারনেট, ফটোকপিয়ার, স্ক্যানারসহ আধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে ইউনিয়নের কৃষির ডাটাবেজ সংরক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কৃষক সেবাকেন্দ্র ও সংলগ্ন খালি জমিতে আধুনিক এবং উদ্ভাবিত নতুন প্রযুক্তির ও স্থানীয় জাতের ফসলের বীজ সংরক্ষণের জন্য মাতৃবা গান স্থাপন করা হবে। এছাড়া মিনি নার্সারী প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মাতৃবাগান হতে বছরব্যাপী চারা, কলম উৎপাদন ও হাতে কলমে প্রশিক্ষণের সুবিধা রাখা হয়েছে।
কৃষিক্ষেত্রে দেশে একটা বিপ্লব সাধিত হয়েছে। ফসলি জমি হ্রাস পাওয়ার পরও ফসল উৎপাদন বাড়ছে । বাড়ছে শাকসব্জি ও মৎস্য উৎপাদন। মূলত কৃষকদের অক্লান্ত পরিশ্রমই এই সাফল্যের চাবিকাঠি। এতে কৃষি বিজ্ঞানীদের ফসলের উন্নতজাত উদ্ভাবনের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। সর্বোপরি সরকারের সময়োপযোগী নানা পদক্ষেপ কৃষি উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সরকারের সর্বশেষ কৃষকসেবা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কৃষিকবিপ্লব যেটা শুরু হয়েছে দেশে, তা আরও এগিয়ে যাবে। তবে একটা বিষয়ে না বললেই নয়। তাহলো, প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক কৃষক এখনও কৃষি উৎপাদনের আধুনিক কলাকৌশল সম্বন্ধে সেভাবে অবগত নয়। তাদেরকে এ ব্যাপারে সচেতন করে তোলার দায়িত্ব যাদের সেই কৃষি বিভাগের মাঠকর্মীদের রয়েছে দায়িত্বপালনে চরম অবহেলা। পরামর্শসহ অন্যান্য কাজে তাদেরকে খুঁজে পাওয়াই মুশকিল হয়ে পড়ে অনেক সময়। তারা বেশিরভাগ সময়ই কর্মস্থলে থাকে না। এই ব্যাপারটি তদারকি করা দরকার কৃষিক্ষেত্রে সাফল্য ধরে রাখার জন্য।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT