ধর্ম ও জীবন

তাফসিরুল কুরআন

প্রকাশিত হয়েছে: ৩০-১১-২০১৮ ইং ০১:৩২:৫৮ | সংবাদটি ২৯ বার পঠিত

[পূর্ব প্রকাশের পর]
সূরা : বাক্বারাহ
অনুরূপভাবে সম্মান প্রদর্শনের উদ্দেশে সেজদা করা পূর্ববর্তী শরীয়তসমূহে বৈধ ছিলো, কিন্তু পরবর্তী কালে মানুষের অজ্ঞানতার ফলে এ সব বিষয়ই শিরক ও পৌত্তলিকতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ পথেই নবিগণের দ্বীন ও শরীয়তে বিকৃতি ও মূল্যচুতি ঘটেছে। পরবর্তী নবি ও শরীয়ত এসে তা একেবারে বিলুপ্ত করে দিয়েছে। শরীয়তে মুহাম্মদী যেহেতু অবিনশ্বর ও চিরন্তন শরীয়তÑ রাসুলে করিম (সা.) এর মাধ্যমে যেহেতু নবুওয়ত ও রিসালতের পরিসমাপ্তি ঘটেছে এবং তাঁর শরীয়তই যেহেতু সর্বশেষ শরীয়ত, সেহেতু একে বিকৃতি ও মূল্যচ্যুতি থেকে বাঁচাবার জন্য এমন প্রতিটি ছিদ্রপথই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যাতে শিরক ও পৌত্তলিকতা প্রবেশ করতে পারে। এ পরিপ্রেক্ষিতে সেসব বিষয়ই এ শরীয়তে হারাম করে দেয়া হয়েছে, যা পূর্ববর্তী কোনো যুগে শিরক ও মুর্তি পূজার উৎস বা কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ছবি ও চিত্রাঙ্কন এবং তার ব্যবহারও এজন্যই হারাম করা হয়েছে। সম্মানসূচক সেজদা একই কারণে হারাম হয়েছে। আর এমন সব সময়ে নামায পড়াও নিষিদ্ধ করে দেয়া হয়েছে, যে সব সময়ে মুশরিক ও কাফিরগণ নিজেদের তথাকথিত উপাস্যদের পূজা ও উপাসনা করত। কারণ, এ বাহ্যিক সাদৃশ্য পরিণামে যেন শিরকের কারণ না হয়ে দাঁড়ায়।
কোনো কোনো আলেম বলেছেন, এবাদতের মূল যে নামায, তাতে চার রকমের কাজ রয়েছে। যথাÑ দাঁড়ানো, বসা, রুকু ও সেজদা করা। তন্মধ্যে প্রথম দু’টি মানুষ অভ্যাসগতভাবে নিজস্ব প্রয়োজনেও করে এবং নামাযের মধ্যে এবাদত হিসাবেও করে। কিন্তু রুকু সেজদা এমন কাজ, যা মানুষ কখনো অভ্যাসগতভাবে করে না, বরং তা শুধু এবাদতের জন্যই নির্দিষ্ট। এ জন্য এ দু’টিকে শরীয়তে মুহাম্মদীতে এবাদতের পর্যায়ভুক্ত করে আল্লাহপাক ব্যতিত অন্য কারো উদ্দেশ্যে তা করা নিষিদ্ধ করে দেয়া হয়েছে।
এখানে প্রশ্ন থেকে যায়, সেজদায়ে তা’জিমী বা সম্মানসূচক সেজদার বৈধতার প্রমাণ তো কুরআন পাকের উল্লেখিত আয়াতসমূহে পাওয়া যায়, কিন্তু তা রহিত হওয়ার দলিল কি?
উত্তর এই যে, রসুল করিম (সা.) এর অনেক ‘মোতাওয়াতির’ ও মশহুর হাদিস দ্বারা সেজদায়ে তা’জিমী হারাম বলে প্রমাণিত হয়েছে। হুযুর (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘যদি আমি আল্লাহপাক ব্যতিত অন্য কারো প্রতি সেজদায়ে তা’জিমী করা জায়েয মনে করতাম, তবে স্বামীকে সেজদা করার জন্য স্ত্রীকে নির্দেশ দিতাম, কিন্তু এই শরীয়তে সেজদায়ে তা’জিমী সম্পূর্ণ হারাম বলে কাউকে সেজদা করা কারো পক্ষে জায়েয নয়।’
এই হাদিসটি বিশ জন সাহাবির রেওয়ায়েত থেকে প্রমাণিত। প্রসিদ্ধ গ্রন্থ তাদরীবুররাবী তে বর্ণনা করা হয়েছে, যে রেওয়ায়েত দশ জন সাহাবি নকল করে থাকেন, সেটি হাদিসে মোতাওয়াতোরের পর্যায়ভুক্ত হয়ে যায় যা (হাদিসে মোতাওয়াতির) কুরআন পাকের ন্যায়ই অকাট্য ও নির্ভরযোগ্য।
এটা আদম (আ.) এর ঘটনার সমাপ্তিপর্ব। এখানে বর্ণনা করা হয়েছে যে, ফেরেশতাদের উপর হযরত আদম (আ.) এর শ্রেষ্ঠত্ব ও বিশ্ব খিলাফতের যোগ্যতা যখন স্পষ্ট করে বলে দেয়া হলো এবং ফেরেশতাগণও তা মেনে নিলেন আর ইবলিস যখন অত্মম্ভরিতা ও হঠকারিতার দরুণ কাফির হয়ে বেরিয়ে গেল, তখন হযরত আদম (আ.) এবং তাঁর সহধর্মিনী হাওয়া (আ.) এর নির্দেশ প্রাপ্ত হলেন যে, তোমরা জান্নাতে বসবাস করতে থাক এবং সেখানকার নেয়ামত পরিতৃপ্তিসহ ভোগ করতে থাক। কিন্তু একটি নির্দিষ্ট গাছ সম্পর্কে নির্দেশ দেয়া হলো যে, এর ধারে কাছেও যেও না। অর্থাৎ, সেটির ভোগ পূর্ণভাবে পরিহার করবে। শয়তান আদম (আ.) এর কারণে ধিকৃত ও অভিশপ্ত হয়েছিল, সুতরাং সে কোন প্রকারে সুযোগ পেয়ে এবং এ গাছের উপকারাদি বর্ণনা করে তাদের উভয়কে সে গাছের ফল খেতে প্ররোচিত করল। নিজেদের বিচ্যুতির দরুণ তাঁদেরকেও পৃথিবীতে নেমে যেতে নির্দেশ দেয়া হলো। তাঁদেরকে বলে দেয়া হলো যে, পৃথিবীতে বসবাস জান্নাতের মতো নির্ঝঞ্চাট ও শান্তিপূর্ণ হবে না, বরং সেখানে মতানৈক্য ও শত্রুতার উম্মেষ ঘটবে। ফলে বেঁচে থাকার স্বাদ পূর্ণভাবে লাভ করতে পারবে না।
[চলবে]

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT