সম্পাদকীয়

দাসপ্রথা বিলোপ দিবস

প্রকাশিত হয়েছে: ০২-১২-২০১৮ ইং ০০:০৮:৪২ | সংবাদটি ৫৯ বার পঠিত

আন্তর্জাতিক দাসপ্রথা বিলোপ দিবস আজ। দাসপ্রথার বিরুদ্ধে সর্বাত্মক সচেতনতা গড়ে তোলার লক্ষে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি আজ পালিত হচ্ছে। ১৯৪৯ সালের আজকের এই দিনে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে ব্যক্তি বেচাকেনা এবং শোষণ দমনের বিষয়ে কনভেনশন গৃহীত হয়। এই দিনটি স্মরণে প্রতি বছর পালিত হয় আন্তর্জাতিক দাসত্ব বিলোপ দিবস। এই কনভেনশন গৃহীত হওয়ার প্রায় আশি বছর চলে গেলেও দাসপ্রথা একেবারেই বিলুপ্ত হয়ে গেছে সারা বিশ্বে এমনটি বলা যায় না। বরং নতুন রূপে নতুন আঙ্গিকে দাসত্ব বা ক্রীতদাস প্রথাকে জিইয়ে রাখা হয়েছে। উন্নত অনুন্নত সব দেশেই দৃষ্টির আড়ালে দেখা যায় আজও ক্রীতদাস; বিশেষ করে আমাদের এই দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া, আরব ও আফ্রিকা অঞ্চলে। আর তাই আজকের এই দিনটি পালনের প্রাসঙ্গিকতা এখনও বিদ্যমান।
আন্তর্জাতিক দাসপ্রথা বিলোপ দিবসের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে- মানবপাচার, যৌনদাস, জবরদস্তিমূলক শিশুশ্রম, বলপ্রয়োগে বিয়ে ও যুদ্ধে শিশুদের ব্যবহার বন্ধে সচেতনতা বাড়ানো। সবচেয়ে বড় কথা, মানবপাচার হয়ে গেছে এখন আধুনিক বিশ্বে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। একে ক্রীতদাস প্রথার নতুন রূপ বলেই অভিহিত করেছেন বিশেষজ্ঞগণ। ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, ১৭৯১ সালে বর্তমান হাইতি ও ডমিনিকান রিপাবলিকান অঞ্চলে প্রথমে দাসপ্রথার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরবর্তীতে বৃটেন ১৮০৭ সালে এবং যুক্তরাষ্ট্র ১৮০৮ সালে তাদের আফ্রিকান দাসদের মুক্তি দেয়। পরবর্তীতে যুক্তরাজ্য ১৮৩৩ সালে, ফ্রান্স ১৮৪৮ সালে এবং যুক্তরাষ্ট্র ১৮৬৫ সালে আইন করে দাসপ্রথা নিষিদ্ধ করে। তারপরেও এখনও বিশ্বের এক কোটি ২০ লাখ মানুষ জোর পূর্বক শ্রম, দাসত্ব ও দাসত্ব সংশ্লিষ্ট প্রথার কাছে বন্দী রয়েছে। সমাজবিজ্ঞানীদের অভিমত হচ্ছে- দাসপ্রথার ভয়াবহতা এখন না থাকলেও এর রূপান্তর ঘটেছে, কিন্তু সমাজে তা এখনও বিদ্যমান। তাদের মতে, প্রত্যেকের ঘরে ঘরে দাস রয়েছে। তারা হচ্ছে, আমরা যাদের কাজের লোক বলি। তাছাড়া, সম্পদশালী ভূমি মালিকের জমি চাষে ‘কৃষক ক্রীতদাস’ এখনও খুঁজে পাওয়া যায়। রয়েছে শিশুশ্রম বিশ্বের অনেক দেশেই। বাংলাদেশে ১৪ বছর বয়সী শিশু শ্রমিকের সংখ্যা ৬৩ লাখের ওপরে। ৮০ লাখ ১৭ বছরের নীচে শিশু শ্রমিক। আছে পতিতাবৃত্তি ও জোরপূর্বক বিয়ের প্রবণতা। এগুলো দাসত্ব প্রথার আওতায় পড়ে।
দাসত্ব বলতে বোঝায় কোন মানুষকে জোর করে শ্রম দিতে বাধ্য করা এবং এক্ষেত্রে কোন মানুষকে অন্য মানুষের ‘অস্থাবর সম্পত্তি’ হিসেবে গণ্য করা। এই দাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ ব্যক্তিদের ইচ্ছার বিরুদ্ধেই স্থান বা মালিকানা পরিবর্তন হয়ে যায়। তাদের শ্রমের কোন মজুরীও নেই। অতীতে কোন কোন সমাজে নিজের দাসকে হত্যা করাও আইনসঙ্গত ছিলো। সেইসব বর্বরতা থেকে আমরা বেরিয়ে এসেছি, এটা ঠিক। তবে ক্রীতদাস প্রথার যে আধুনিক রূপান্তর, তার থেকে মুক্তির উপায় বের করতে হবে। মানব-সভ্যতা এগিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বের ‘তথাকথিত’ সুসভ্য জাতিগুলোর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোও সেই অগ্রযাত্রায় পিছিয়ে নেই। এই প্রেক্ষাপটে যেকোন ধরনের দাসপ্রথাই যাতে আমাদের সেই অগ্রযাত্রার পথকে কলংকিত না করে সেটাই প্রত্যাশা।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT