উপ সম্পাদকীয়

আশা তুমি কুহকীনী

ইনাম চৌধুরী প্রকাশিত হয়েছে: ০৩-১২-২০১৮ ইং ০০:৩০:৩০ | সংবাদটি ১৯ বার পঠিত

প্রতিটি মানুষ আশা নিয়ে বাঁচতে চায়। সামনে তাকাতে চায় যদিও সে জানে সবকিছুতেই রয়েছে অনিশ্চয়তা। আগামী মুহূর্তটি কেমনতরো কাটবে সেটাও অনিশ্চিত তারপরেও আশা তুমি কুহকীনী ধরে নিয়ে জীবনটা কাটিয়ে দিতে চায়। সহমর্মীতা আর পারস্পরিক আত্মিক সম্পর্ককে গুরুত্ব দিয়ে বাঁচার চেষ্টা করাটা একটি সহজাত প্রবৃত্তি। এ জাতীয় প্রবৃত্তির বিকাশ আর লালন করা মানবিক গুণাবলীর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। আমরা সকলেই সেটি কামনা করি। উদ্দিষ্ট লক্ষ্য হাসিলে আন্তরিক প্রচেষ্টা সবারই রয়েছে বলে আমার বিশ্বাস। আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় অশান্তি, অস্থিরতা সৃষ্টি হোক কেউই সেটা কামনা করেন না কারণ আমরা শান্তিপ্রিয় একটি ঐতিহ্যবাহী জাতি। তারপরেও কেন এতো অশান্তি, অসহিষ্ণুতা এটাই একটি রহস্য। বাস্তবতার নিরিখে সবকিছুকেই বিবেচনায় নিতে হয়। ভাবতে হয় আপন কল্যাণার্থে।
রাজনীতি, অর্থনীতি আর জাতীয়ভাবে সম্পৃক্ত বিষয়াবলী মানুষকে ভাবিত করে, এটিই স্বাভাবিক। রাজনীতিকে বলা হতো রাজার নীতি আর আজকে বলা হয় জনগণের মনের অবস্থা, চাওয়া পাওয়ার প্রতিফলনের একটি বিকাশ। রাজনীতি যেন মানুষকে তাড়িয়ে বেড়ায় অর্থাৎ কোন রাজনীতি গ্রহণযোগ্য আর কোনটা নয় সেটা নিয়ে ভাবিত হয় সকলে। তারপরেও একদল দাঁড়িয়ে যান জনকল্যাণে সূচিত রাজনীতিকে নিজ স্বার্থে ব্যবহারার্থে। রাজনীতিকে করে তুলেন পেশার একটি প্রতিরূপ হিসাবে। তারা শুধুমাত্র বুলি আওড়িয়ে মাঠ গরম রাখেন। তারা নেক নজর কাড়েন ক্ষমতাবানদের। ভোজবাজির মতো এ সকল পরজীবিরা আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে যান। এরাই সেকেন্ড হোম বানান বিদেশ বিভুইয়ে। তারা বেশুমার অর্থ পাচার করেন বিদেশী ব্যাংকে। সন্তান সন্ততিদের আর দেশের মাটিতে পড়াশোনা করতে দেন না বরং বিদেশে নামিদামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠান এন্তার বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করে। তাদের জন্য কিছুই আটকায় না। আমি এতোকিছু লিখতে পারছি সম্প্রতি প্রকাশিত বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তথ্য, তত্ত্ব আর উপাত্ত সম্বলিত প্রতিবেদন পাঠ করে। এ জাতীয় সূত্রসমূহ বিস্ময় প্রকাশ করে বলেছে কিভাবে এতো দ্রুত এ সকল হাতেগোনা ব্যক্তিবর্গ এতো টাকার, এতো বিত্তের মালিক বনে গেলো এবং কোন রহস্য এর পেছনে কাজ করছে সেটি নিয়েও বিস্ময় প্রকাশ করা হয়েছে প্রতিবেদনটিতে। গা ছমছমে অভিজ্ঞতাটি বলছে কিভাবে সরকার নিয়ন্ত্রিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকটি থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ লোপাট হয়েছে আবার সেটি বিদেশে প্রচার হয়েছে। দুঃখজনক হলেও সত্যি, এতো দরিদ্র একটি দেশের লুণ্ঠিত বা তছরূপকৃত অর্থ বিদেশে ব্যয়িত হয়েছে বড় ধরনের জুয়াখেলার আসরে। এ জাতীয় রাহাজানীর খবর প্রকাশিত হওয়া মাত্র কর্তৃপক্ষীয় মহল থেকে বলা হলো এটি একটি অসম্ভব কান্ড এবং তারপরে আবার সেটি স্বীকার করে নেয়া হলো। বলা হলো সরকার লুণ্ঠিত অর্থরাশি উদ্ধারে সচেষ্ট হয়েছে এবং বেশ কিছু পরিমাণ অর্থ দেশে ফেরতও আনা হয়েছে আর বাকি অর্থ উদ্ধার এর আশা ছেড়েই দেয়া হয়েছে। যদিও বলা হচ্ছে বিদেশের বেশ কয়েকটি আমানতদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে হবে। সেই পথে কর্তৃপক্ষ মহল কতোটুকু অগ্রসর হয়েছেন জানা নাই।
বর্তমানে দেশে নির্বাচনী হাওয়া বইছে। মানুষকে দিশেহারা করে তোলার জন্য অতি দ্রত লয়ে প্রার্থীরা যেন মাঠে নেমে পড়েছেন। তারা জনসংযোগ করছেন আবার প্রচার প্রচারণায় অতি ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন প্রার্থীরা। কালো টাকার প্রভাব নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন। কেউ কেউ ভাবছেন না জানি কতো হাজার কোটি টাকা ব্যয়িত হয় আসন্ন নির্বাচনকে উপলক্ষ বানিয়ে। কেউ কেউ বলেন এতো টাকা আসবে কোথা হতে। উত্তর দেওয়ার লোকও রয়েছেন। তারা বলছেন কয়েক বছর আগে শেয়ার বাজার লুণ্ঠন কেলেঙ্কারী, ব্যাংক লুট জাতীয় ঘটনাবলী ফলে এতো টাকার আমদানী ঘটেছে কিছু মানুষের তহবিলে। সুষ্ঠু তদন্ত, উদ্ধার তৎপরতা এবং ত্বরিত পদক্ষেপ গৃহীত হলে এতোদিনে এ জাতীয় লুণ্ঠনকৃত অর্থকড়ি সরকারি বা ব্যক্তি মালিকানায় আইনী পন্থায় ফেরত পাওয়া যেতো। কোন কিছুই যখন হলোনা তাই হা হতোষ্মি।
এখন সময় এসেছে দেশের মানুষের কথা ভাবার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তার উন্নয়ন কর্মসূচিকে দ্বারে দ্বারে পৌঁছে দেয়ার আশা ব্যক্ত করছেন। সাধারণ মানুষও তাইই চায়। সরকারী কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধা অনেক বৃদ্ধি করা হয়েছে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পদমর্যাদা, সুযোগ-সুবিধা অনেক গুণ বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। বর্তমানে এই বাহিনীটি অতি উৎসাহী বাহিনী রূপে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে। যাকে ইচ্ছা তাকেই ধরছে। যেকোন মামলায় অজ্ঞাতনামা তালিকায় ঢুকিয়ে দিচ্ছে। রিমান্ডের নামে করছে অহেতুক লাঞ্চনা। গ্রেফতার বাণিজ্য, মামলা থেকে রেহাই দেয়া, মামলার ধারাকে হালকা করে দেয়া জাতীয় আশ্বাস বাণী শুনিয়ে মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ কোটি টাকা। কেউ যেন দেখার নেই। এ জাতীয় কর্মকান্ড যে শুধু বাহিনীটির মর্যাদা ক্ষুন্ন করছে তা নয় বরং মারাত্মক ক্ষতি করছে ক্ষমতাসীন দলটির ভাবমূর্তির। এদিকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি আশা করছি। আমাদের সিলেট মহানগরীর মীরের ময়দানস্থিত পুলিশ দফতরটির চতুষ্পার্শ্বের দেয়ালে লিখিত রয়েছে অনেকগুলি উপদেশবাণী। অতি মূল্যবান বাণীগুলি লিখিত হয়েছে পুলিশ কর্তৃপক্ষ প্রণোদিত হয়ে। আশা করবো সেগুলি সুফল বয়ে আনবে। এটি সুফলদায়িনী হবে খোদ পুলিশ বাহিনীর কাছে যদি তারা এই বাণীগুলির মর্মার্থ পুরোপুরি উপলব্ধি করেন আর আপন কর্মতৎপরতায় সেগুলি অনুসরণ করেন। অবশ্যই সেই তৎপরতাটি হবে যথোপযুক্ত আর সর্বজন গ্রাহ্য। দুষ্টুলোকেরা বলেন পুলিশ বাহিনী নানা পরিস্থিতিতে পড়ে দুষ্টের দমন না করে বরং প্রতিপালনে মনোযোগী হয়ে উঠেছে আর শিষ্টের পালনের পথে না গিয়ে বারবার হয়রানীতে ফেলে শিষ্টকে দুষ্টে রূপান্তরিত করতে বেশি উৎসাহী হয়ে পড়েছে। আমার জানামতে অতি নিরীহ একজন মেধাবী তরুণকে সেদিন রাতের বেলা উঠিয়ে নিয়ে গেছে তার ফাজিলচিস্তস্থিত বাসগৃহ থেকে। বলে গেছে কোন মামলা জাতীয় কিছু নেই। একজন বড়কর্তা শুধু কথাবার্তা বলবেন এবং ঘন্টা খানেকের মধ্যে তাকে বাসায় পৌঁছে দেয়া হবে। সারারাত, পরের দিন অপেক্ষা করেও যখন সে ফেরত আসলো না তখন খবর নিয়ে দেখা গেলো তাকে ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে পূর্বে কথিত অজ্ঞাতনামাদের দলে একটি মামলায়। বর্ণিত ছেলেটি নিরীহ, মেধাবী এবং এ জাতীয় পরিবেশে সে বেড়েও উঠে নাই। সে একজন উচ্চবংশীয় পরিবার এর সন্তান। তার বাবা শারীরিক ও মানসিকভাবে গুরুতর অসুস্থ এবং মায়ের অবস্থা তথৈবচ। সে মা বাবার খেদমত এবং সাথে সাথে আসন্ন বিসিএস পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নেয়ায় ছিলো ব্যস্ত। মেধাবীদের উপর হামলা, মামলা আর নির্যাতন চালিয়ে মেধাশুন্য জাতি বানাবার একটি চক্রান্ত কিনা এ জাতীয় তৎপরতা সেটার ব্যাপারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে সজাগ দৃষ্টিদানের অনুরোধ জানাই। উল্লেখিত ছেলেটির অসুস্থ মা বাবাকে এখন কে দেখবে যেখানে সে নিজে সবকিছু দেখভাল করতো, অন্যদিকে তার বিসিএস পরীক্ষা প্রস্তুতির কি হবে সেটির দায় দায়িত্বটাই বা কে নেবে। সে তো কোন রাজনীতির সাথে জড়িত নয়। কোন নির্বাচন নিয়েও ব্যস্ত নয়। কোন ধর্মীয় গোষ্ঠীর কর্মকান্ডেও জড়িত নয় বরং এ ব্যাপারে তার আচার আচরণ বিপরীত মেরুতে অবস্থানের মতো।
প্রারম্ভিক আলোচনায় ফেরত এসে বলতে চাই। যে বা যারা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তাদের বিষয় সম্পত্তি সহ সবকিছু পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধানের আওতায় নিয়ে আসার অনুরোধ জানাতে চাই। রাশি রাশি অর্থকড়ি ব্যয় করার প্রবণতা আর সক্ষমতা লাভের রসহ্যটুকু উদঘাটন করা যেমন জরুরি তেমনি প্রার্থীদের আপন আপন ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠায়ও সেটি হবে একটি সহায়ক পন্থা।
শেষাংশে এসে কয়েকটি নাগরিক বিড়ম্বনার কথা উল্লেখ করতে চাই। সিলেট মহানগরীতে লোকসংখ্যা বেড়েই চলেছে। সাথে সাথে বাড়ছে অবাঞ্চিত লোকের সংখ্যা। নেশাখোরদের আড্ডা কোথায় আছে এখন সেটি সর্বজনবিদিত। এমনকি মিরের ময়দানস্থিত পুলিশ দফতরটির উল্টোদিকের ফুটপাতে বিছানা পেতে বসে, শুয়ে আলস্য ভঙ্গিতে মাদকসেবীরা আসর গুলজার করছে। কেউই সেদিকে দৃকপাত করছেনা। পুলিশ দফতরের দেয়ালে লিখা আপ্ত বাক্যগুলির মাহাত্ম্য অনুধাবন এবং বাস্তবায়ন করার মধ্যেই রয়েছে পুলিশ বাহিনীর কর্মের যথার্থতা। কথায় আছে আপনি আচরি পরেরে শেখাও।
সিলেট মহানগরীতে বর্তমানে চলাচল করছে অজ¯্র নয় বরং সংখ্যাতিরিক্ত অটোরিক্সা। আইনী বা বেআইনীভাবে সেগুলি চলাচল করছে জানিনা কিন্তু সাধারণ পথচারীদের জন্য সেগুলি সৃষ্টি করেছে বিপদসংকুল অবস্থা। বারবার মানুষের গায়ের উপর তুলে দিচ্ছে। কটুবাক্য ছুড়ে দিচ্ছে পথচারীদের উদ্দেশ্যে আবার যাত্রীরূপে তস্কররা উঠে পড়ে সর্বস্বান্ত করছে নিরীহ যাত্রিদের। অবিলম্বে নগরীতে সিটি বাস সার্ভিস চালুকরণের দাবি জানাই। অনাহুত ত্রিচক্রযানগুলি অপসারণ চাই। অহেতুক হামলা মামলা থেকেও নিরীহ মানুষের মুক্তি চাই। শান্তির সুবাতাস বইতে থাকুক। দের আয়দ, দুরস্ত আয়দ।
লেখক : অধ্যক্ষ, কলামিস্ট।

 

 

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • মুক্তিযুদ্ধে জাতীয় চার নেতা
  • বিজয়ের ৪৭ বছর
  • প্রত্যাশা ও বাস্তবতা : বিজয়ের সাতচল্লিশ বছর
  • মুশকিল আসানের এক সৈনিক আব্দুল মঈদ চৌধুরী
  • রপ্তানিতে সুবাতাস, ইতিবাচক বাংলাদেশ
  • রপ্তানিতে সুবাতাস, ইতিবাচক বাংলাদেশ
  • ডিসেম্বর আমাদের অহংকারের মাস
  • পোশাক শিল্পের অগ্রগতি
  • উন্নয়ন, আদর্শ ও মনস্তাত্ত্বিক প্রেক্ষিত
  • প্রসঙ্গ : রিকসা ভাড়া
  • পেছন ফিরে দেখা-ক্ষণিকের তরে
  • অবাধ ও সুষ্ঠু নিবার্চনের প্রত্যশা
  • শিক্ষাক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তির প্রসার
  • বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার
  • বাংলাদেশের উৎসব
  • ‘শান্তি জিতলে জিতবে দেশ’
  • মানবাধিকার মুক্তি পাক
  • অদম্য বাংলাদেশ
  • নারী আন্দোলনে বেগম রোকেয়া
  • আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জনমানস
  • Developed by: Sparkle IT