স্বাস্থ্য কুশল

লেবু ও শাকসবজির উপকারিতা

লোকমান হেকিম প্রকাশিত হয়েছে: ০৩-১২-২০১৮ ইং ০০:৪২:২৬ | সংবাদটি ১৯ বার পঠিত

ক্ষুদ্র ও গরিব বাংলাদেশের হাজারো সমস্যার মধ্যে অন্যতম মারাত্মক জাতীয় সমস্যা হলো অপুুষ্টি। গর্ভবতী ও প্রসূতি মহিলাদের বেশিরভাগই রক্তাল্পতায় ভোগে। আয়োডিন নামক খনিজ লবণের অভাবে ঘ্যাগ বা গলাফোলা রোগও দেখা যাচ্ছে। শিশুরা ম্যারাসমাস বা হাড্ডিসার, কোয়াশিয়রকর বা গা ফোলা ও রাতকানা রোগে আক্রান্ত হয়।
ভিটামিন ‘এ’র অভাবে এদেশে প্রতিবছর ৩০-৪০ হাজার শিশু একেবারে অন্ধ হয়ে যায়। অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, যে বয়সে বাচ্চারা খেলাধুলা করবে, স্কুলে পড়বে সে বয়সে তারা অন্ধত্ব বরণ করে পরিবার ও সমাজের বোঝা হচ্ছে। দারিদ্র ও খাদ্যাভাব অপুষ্টির মূল কারণ বলে অনেকে চালিয়ে দিতে চান। পুষ্টি সম্পর্কে আমাদের সামাজিক কুসংস্কার বা ভুল ধারণা জ্ঞানের অভাবও কম দায়ী না।
অনেকের ধারণা দামি মাছ, গোশত, দুধ, ডিম, বিদেশী ফল না খেলে স্বাস্থ্য ভাল থাকে না। আসলে তা সম্পূর্ণ ভুল। আমাদের আশপাশে বা নাগালের মধ্যে এমন অনেক সস্তা খাবার রয়েছে যা খেলে অনেক মারাত্মক রোগ থেকে বাঁচা যায়। উদাহরণস্বরূপ-কচু পাতা সবচেয়ে ক্যারোটিন সমৃদ্ধ যা ভিটামিন-‘এ’র উৎস। অথচ আমাদের দেশে সবচেয়ে অবহেলিত হলো কচুশাক। রোজ ভাতের সাথে সস্তা দামের শাকসবজি খেলে রাতকানা, ঠোঁটের কোনোয় ঘা এবং অনেক রোগ থেকে রেহাই পাওয়া যায়।
লেবু ও শাকসবজির কিছু বিস্ময়কর স্বাস্থ্য উপকারিতা হলো-লেবুর রস ২ চা চামচ এবং আদার রস ২ চা চামচ মিশিয়ে তাতে একটু চিনি খেলে বদ হজমজনিত সব রকমের পেট ব্যথা সারে। লেবু আর পেঁয়াজের রস ঠা-া পানিতে গুলে খেলে বদহজমের জন্যে যে পেটের অসুখ তাতে উপকার হয়, এমনকি কলেরায়ও উপকার পাওয়া যায়। শোয়ার সময় গরম পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে খেলে সর্দি সারে। কিছুদিন ধরে এভাবে খেলে পুরানো সর্দিও সেরে যায়। অল্প লেবুর রস মধুর সঙ্গে মিশিয়ে চেটে খেলে প্রবল কাশি সেরে যায়। হাঁপানির আক্রমণও তৎক্ষণাৎ আরাম পাওয়া যায়। লেবুর রস আঙ্গুলে লাগিয়ে দাঁতের মাড়িতে মালিশ করলে দাঁত থেকে রক্ত পড়া বন্ধ হয়। লেবুর রসে মধু মিশিয়ে বাচ্চাদের চাটিয়ে দিলে বাচ্চাদের দুধ তোলা বন্ধ হয়। লেবুর রসে চিনি ও পানি মিশিয়ে এক মাস ধরে রাতে শোয়ার আগে খেলে বহু পুরানো কোষ্ঠকাঠিন্য সেরে যায়। একটি পাকা পাতি লেবুর রসে সমপরিমাণ মধু দিয়ে অল্প অল্প গরম পানি মিশিয়ে আহারের পর সঙ্গে সঙ্গেই পান করে নিলে দু’এক মাসের মধ্যেই মেদ বৃদ্ধি কমে যায় এবং শরীরের বেড়ে যাওয়া মেদও ঝরে যায়। লেবুর রসে সর্ষের তেল মিশিয়ে ফুটিয়ে নিন। ঠা-া হলে ছেঁকে শিশিতে ভরে রাখুন। কানে দু’ফোঁটা করে দিলে পুঁজ পড়া, চুলকানি, কানের ব্যথা এমনকি বধিরতার উপশম হয়। লেবুর খোসা লেবুর রসে পিষে পুলটিস তৈরি করে গরম করে বাঁধলে বা লেবুর রস ঘষলে নানা কারণে ত্বকে যে দাগ পড়ে তা দূর হয়।
শাকসবজিতে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ : শাকসবজির গুণের কথা কে না জানে! প্রচুর ভিটামিন আর মিনারেল রয়েছে সবুজ শাকসবজিতে। শরীরে পুষ্টির জন্য এত প্রয়োজনীয় আর উপকারী খাবার আর নেই। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সবজি খুই নিরাপদ এবং পুষ্টিদায়ক। সবজির ক্যালরি নেই, ক্ষতিকর লিপিড নেই। শাকসবজির এসব গুণের সঙ্গে নতুন আরও একটি তথ্য যোগ হলো। ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা সম্প্রতি জানালেন, শাকসবজি নিয়মিত খেলে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি শতকরা ৮০ ভাগ কম থাকে। সুতরাং যাদের শরীরে ডায়াবেটিস এখনো বাসা বাঁধেনি তারা বেশি করে শাকসবজি খাওয়া শুরু করুন।
স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সমস্যা : বাংলাদেশের শতকরা ৬০টি পরিবার আমিষ, ৮১টি পরিবার ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ‘এ’ এবং ৯৩টি পরিবার ভিটামিন ‘সি’-এর অভাবে ভুগছে। প্রতি বছর ভিটামিন ‘এ’ এর অভাবে ১ লক্ষ শিশু রাতকানা হচ্ছে এবং ৩৬ হাজার শিশু অন্ধ হয়ে যাচ্ছে। পুষ্টির অভাবে লক্ষ লক্ষ লোক মারাত্মক রোগে ভুগছে। এই অপুষ্টিজনিত রোগ থেকে মানুষকে বাঁচানোর জন্য দরকার নিয়মিত সুষম খাদ্য। খাদ্যের বিভিন্ন উপাদান শুধুমাত্র দামী খাদ্যের মধ্যে থাকে না। অনেক সস্তা খাবারের মধ্যে এ সমস্ত উপাদান পাওয়া যায়। তাই দৈনিক একটি করে পেঁপে খাও-বাড়ির বাইরে ডাক্তার তাড়াও।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT