সম্পাদকীয়

শীতের অতিথি পাখি

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪-১২-২০১৮ ইং ০৩:১১:৩৯ | সংবাদটি ৪০ বার পঠিত

শুরু হয়েছে অতিথিদের আনাগোনা। অতিথিরা আসে হাজার হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে এরা। নির্দিষ্ট একটা সময় পরে চলে যায় এরা নিজ নিজ দেশে। কিন্তু তার আগে অতিথিরা এদেশের নির্দয় মানুষদের নির্মমতার শিকার হচ্ছে। তারপরেও আসছে এরা প্রতি বছর। এই অতিথি হচ্ছে আমাদের প্রতি বছরের শীতকালীন অতিথি পাখী। বিশ্বের শীত প্রধান দেশগুলোতে শীতের তীব্রতা সহ্য করতে না পেরে হরেক রকমের হরেক প্রজাতির হাজার হাজার পাখী চলে আসে আমাদের দেশে। তারা আশ্রয় নেয় দেশের হাওর-বাওর, বনজঙ্গলে। শীতপ্রধান দেশগুলোর তুলনায় এখানে শীতের প্রকোপ কম থাকায় অতিথি পাখীরা নিরাপদ মনে করেই আসে এ দেশে। এখানে তারা প্রচন্ড শীতের কবল থেকে রেহাই পেয়ে যায় ঠিকই, কিন্তু শিকারীদের হাত থেকে বাচতে পারে না। সৌখিন ও পেশাদার শিকারীরা নির্বিঘেœ নিধন করছে দেশী-বিদেশী সব ধরনের পাখী। আর এই পাখী বিক্রি হচ্ছে প্রকাশ্যে হাটবাজারে। ভোজন রসিকেরা এই অতিথি পাখী দিয়েই মেটাচ্ছে রসনা।
এই সুন্দর পৃথিবীতে পাখী হচ্ছে আল্লাহর অপূর্ব একটি সৃষ্টি। পাখী হচ্ছে সুন্দরের প্রতীক। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পাখীর ভূমিকা অনন্য। আর পাখীর গানে ঘুম ভাঙা এবং পাখীর গানে ঘুমিয়ে পড়া তো বাঙালির একটা চিরায়ত সংস্কৃতি বলা যায়। আমাদের সাহিত্য সংস্কৃতির অনেকটা জুড়েই রয়েছে নানা বর্ণ আর নানা জাতের পাখীর উপস্থিতি। বিজ্ঞানীদের মতে পৃথিবীতে প্রায় দশ হাজার প্রজাতির পাখী রয়েছে। এর মধ্যে বিশাল অংশ পরিযায়ী পাখী। অর্থাৎ এসব পাখি বছরের বেশির ভাগ সময় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ঘুরে বেড়ায়। আর এই ঘুরে বেড়ানো পাখীদের সুন্দর আবাসস্থল হচ্ছে অপরূপ সৌন্দর্য মন্ডিত বাংলাদেশ। এখানে সবুজ শ্যামল মাঠ, হাওর বাওর, পাহাড়, গ্রাম-জনপদ পাখীদের আশ্রয়স্থল। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ঝাকে ঝাকে পাখিরা আসে এদেশে। তারা সাইবেরিয়াসহ হিমালয়ের পাদদেশ, ইউরোপ, দূরপ্রাচ্যের শীতপ্রধান দেশগুলো থেকে আসে বাংলাদেশে। শুধু বাংলাদেশ নয়, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে শীতের তীব্রতা কম থাকায় সেইসব দেশে পাখীরা এসে আশ্রয় নেয়। জানা যায় কমপক্ষে দেড়শ’ প্রজাতির পাখী আসে বাংলাদেশে। কিন্তু এইসব পাখী এখানে মোটেই নিরাপদ থাকে না। শিকারীদের খপ্পরে পড়ে এরা ধ্বংস হচ্ছে। তাছাড়া দিন দিন পাখীদের আবাসস্থলও সংকুচিত হচ্ছে। ফলে প্রতি বছরই কমছে অতিথি পাখীর সংখ্যা।
সুদূর অতীত থেকে বাংলার সমতল ও সুন্দরবনকে লক্ষ করে প্রায় আটটি পথে এদেশে আসে পাখীরা। যদিও এই সব পাখীকে বলা হয় ‘অতিথি পাখী’ কিন্তু আক্ষরিক অর্থে, এরা কোন দেশেরই অতিথি নয়। বিজ্ঞানীরা বলেন, পাখীদের বাসভূমি সারা পৃথিবী; তারা কোথাও অতিথি নয়। আমাদের অতিথি হোক বা না হোক, এই পাখীদের নিধন করার অধিকার কারও নেই। শুধু অতিথি নয়, যেকোন পাখী শিকারই আইনত নিষিদ্ধ। কিন্তু সেই আইন কেউ মানছে না। যাদের ওপর এই আইন প্রয়োগ করার দায়িত্ব তারা এ ব্যাপারে নীরব। আমরা চাই পাখী নিধন বন্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হবে এবং দেশী বিদেশী সব ধরনের পাখীর কলকাকলিতে মুখরিত থাকবে গ্রাম বাংলার হাওর-বিল, বন-বনানী, সবুজ জনপদ। এই দৃশ্য যেন হারিয়ে না যায়।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT