উপ সম্পাদকীয় খোলা জানালা

কারিগরি শিক্ষার প্রতি নেতিবাচক মনোভাব দূর করতে হবে

মো. তারিকুল ইসলাম প্রকাশিত হয়েছে: ০৪-১২-২০১৮ ইং ০৩:১৬:৩৪ | সংবাদটি ১১৬ বার পঠিত

বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। বিশ্বের অধিকাংশ দেশ উন্নতির শিখরে আরোহন করেছে কারিগরি শিক্ষার ওপর ভর করে। তাদের কৃষি, শিল্প ও স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি যুগোপযোগী মানসম্মত কারিগরি শিক্ষাব্যবস্থা। অথচ আমাদের দেশের ক্ষেত্রে চিত্রটা ভিন্ন। এখানে কারিগরি শিক্ষার প্রতি সমাজের অনেকেরই এক ধরনের নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করে। সামাজিকভাবে ধরে নেওয়া হয় যারা পড়াশোনায় ভালো নয় তারা টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল এডুকেশনে শিক্ষা নিতে আসে। এর ফলে অধিকাংশ ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবক সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি বেশি আগ্রহী হয়ে থাকে। অথচ কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষা গ্রহণ করলে দেশের হাজার হাজার শিক্ষার্থী বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্ত হতে পারত।
এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, দেশের দক্ষ জনশক্তির অর্ধেকেরও বেশি আসে কোরিয়া, চীন, ভারতসহ বাইরের দেশ থেকে, যারা আমাদের দেশের গার্মেন্টস, সিরামিক, ঔষধ, ভৌত-অবকাঠামোসহ বিভিন্ন শিল্পে কাজ করে থাকে। এক সূত্র থেকে জানা যায়, প্রতি বছর প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা এ সকল বিদেশি দক্ষ জনশক্তির পেছনে ব্যয় করতে হচ্ছে। অথচ কারিগরি শিক্ষাব্যবস্থা উন্নত করা গেলে দেশের মধ্যেই দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা সম্ভব হতো এবং এ বিশাল অঙ্কের ব্যয় বরাদ্দের প্রয়োজন হতো না।
যদিও সরকার কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব উপলব্ধি করে সম্প্রতি শিক্ষার মানোন্নয়নে ৪০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি থেকে অনুমোদন করেছে। সেখানে ১০০টি উপজেলায় একটি করে কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ নির্মাণ করা হবে বলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়, যা সত্যিই প্রশংসনীয়। এ ছাড়া বর্তমানে সরকার আলাদাভাবে কারিগরি শিক্ষাবোর্ড গঠন করে নতুন নতুন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। মেয়েদের কারিগরি শিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত ও আকৃষ্ট করতে মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। সরকারের যুব ও ক্রীড়া এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বেকার যবুক ও মহিলাদের বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে কয়েক হাজার কারিগরি প্রতিষ্ঠান ও অনেক এনজিও মেয়েদের ও বেকার যুবকদের সেলাই, ড্রাইভিং ও হস্তশিল্পসহ নানা ধরনের কারিগরি প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে।
কারিগরি শিক্ষার ক্ষেত্রে এসব সরকারি বেসরকারি পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তবে এ-সকল প্রতিষ্ঠান কি যুগোপযোগী শিক্ষা দিতে পারছে? তাদের কোর্স-কারিকুলাম কি মানসম্মত? শিক্ষাগ্রহণের উপযুক্ত পরিবেশ কি বিদ্যমান? ব্যবহারিক শিক্ষার সকল সুযোগ সুবিধা কি পর্যাপ্ত? এই বিষয়গুলো এখনই ভেবে দেখা দরকার। এজন্য কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে। প্রথমত, কারিগরি শিক্ষায় গুণগতমান উন্নয়নে এই শিক্ষাব্যবস্থায় একটি কোয়ালিটি অ্যাস্যুয়েরেন্স সেল গঠন করতে হবে। দ্বিতীয়ত, এই শিক্ষার প্রতি সামাজিক নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি দূর করতে হবে। এ শিক্ষার গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরতে হবে। তৃতীয়ত, কারিগরি শিক্ষার মানোন্নায়নে পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ রাখতে হবে। এছাড়া, মেয়েদের এই কারিগরি শিক্ষার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে হবে এবং পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা দিতে হবে।
এখন সময় এসব নিয়ে চিন্তাভাবনা করার। অন্যথায় দেশকে বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্ত করা সত্যিই কঠিন হয়ে পড়বে।

 

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মজিদ
  • বাজারে ভেজাল : ভোক্তারা অসহায়
  • শিশু নির্যাতনের ভয়াবহতা
  • আমেরিকা-ইরান যুদ্ধ কি আসন্ন?
  • বাংলাদেশের স্বাস্থ্য বাজেট
  • পাকা ধানে আগুন নিভিয়ে দিতেই হবে
  • রমজানের সাধনা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাংলাদেশ
  • আমাদের নজরুল
  • বালিশাচার
  • পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষ রোপণ
  • নিরাপদ পানির বিকল্প নেই
  • মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ফারুক আহমদ চেয়ারম্যান
  • আমাদের জীববৈচিত্র্য, খাদ্য ও স্বাস্থ্য
  • এবার বোরো ধানে চাল নেই
  • পারমাণবিক বর্জ্যের ক্ষতিকর প্রভাব
  • মায়েদের ভালো থাকা
  • দুধেও ক্ষতিকর রাসায়নিক!
  • ইরান-আমেরিকা সম্পর্ক : যুদ্ধ কি অনিবার্য
  • নগরীর দৃশ্যমান সমস্যা ও প্রতিকার প্রসঙ্গে
  • যুদ্ধে যেতে হবে ভেজালের বিরুদ্ধে
  • Developed by: Sparkle IT