ধর্ম ও জীবন

তাফসিরুল কুরআন

প্রকাশিত হয়েছে: ০৭-১২-২০১৮ ইং ০১:১৪:০৮ | সংবাদটি ২১ বার পঠিত

[পূর্ব প্রকাশের পর]
সূরা : বাক্বারাহ
‘এবং আমি আদম (আ.) কে সস্ত্রীক জান্নাতে অবস্থান করতে নির্দেশ দিলাম’। এটা আদম সৃষ্টি ও ফেরেশতাদের সেজদার পরবর্তী ঘটনা। কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ এ নির্দেশ থেকে এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, আদম সৃষ্টি ও সেজদার ঘটনা জান্নাতের বাইরে অন্য কোথাও ঘটেছিল। এর পরে তাদেরকে বেহেশতে প্রবেশ করানো হয়েছে। কিন্তু এ অর্থও সুনিশ্চিত নয়। বরং এমনও হতে পারে যে, সৃষ্টি ও সেজদা উভয় ঘটনা বেহেশতেই ঘটেছিল, কিন্তু তাদের বাসস্থান কোথায় হবে সে সম্পর্কে তাদেরকে কোন সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। তাদের বাসস্থান সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত এ ঘটনার পর শোনানো হলো।
‘রাগাদা’ আরবি অভিধান অনুযায়ী সেসব নেয়ামত ও আহার্যবস্তুকে বলা হয়, যা লাভ করতে কোন শ্রম সাধনার প্রয়োজন হয় না এবং এত পর্যাপ্ত ও ব্যাপক পরিমাণে লাভ হয় যে, তাতে হ্রাসপ্রাপ্তি বা নিঃশেষিত হয়ে যাওয়ার কোন আশঙ্কাই থাকে না। অর্থাৎ- আদম ও হাওয়া (আ.) কে বলা হলো যে, তোমরা জান্নাতের ফলমূল পর্যাপ্ত পরিমাণে ব্যবহার করতে থাক। ওগুলো লাভ করতে হবে না এবং তা হ্রাস পাবে কিংবা শেষ হয়ে যাবে, এমন কোনও চিন্তাও করতে হবে না।
কোনো বিশেষ গাছের প্রতি ইঙ্গিত করে বলা হয়েছিলো যে, এর ধারে কাছেও যেও না। প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিলো, সে গাছের ফল না খাওয়া। কিন্তু তাকীদের জন্য বলা হয়েছে, কাছেও যেও না। সেটি কি গাছ ছিলো, কুরআন করিমে তা উল্লেখ করা হয়নি। কোনো নির্ভরযোগ্য ও বিশুদ্ধ হাদিস দ্বারাও তা নির্দিষ্ট করা হয়নি। কোনো কোনো মুফাস্সির সেটিকে গমের গাছ বলেছেন, আবার কেউ কেউ আঙ্গুর গাছ বলেছেন। অনেকে বলেছেন, আঞ্জীরের গাছ। কিন্তু কুরআন ও হাদিসে যা অনির্দিষ্ট রেখে দেয়া হয়েছে, তা নির্দিষ্ট করার কোনো প্রয়োজন পড়ে না।
অর্থাৎ- যদি এই নিষিদ্ধ গাছের ফল খাও, তবে তোমরা উভয়েই যালিমদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।
‘যালাহ’ শব্দের অর্থ বিচ্যুতি বা পদস্খলন। অর্থাৎ, শয়তান আদম ও হাওয়াকে পদস্খলিত করেছিলো বা তাদের বিচ্যুতি ঘটিয়েছিলো। কুরআনের এ সব শব্দে পরিষ্কার এ কথা বোঝা যায় যে, আদম ও হাওয়া কর্তৃক আল্লাহ পাকের হুকুম লঙ্ঘন সাধারণ পাপীদের মতো ছিলো না, বরং শয়তানের প্রতারণায় প্রতারিত হয়েই তারা এ ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। পরিণামে যে গাছের ফল নিষিদ্ধ ছিলো, তা খেয়ে বসলেন।
মাধ্যমসমূহ নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয় :
অর্থাৎ- ‘এ গাছের ধারে কাছেও যেও না’। এ নিষেধাজ্ঞার ফলে একথা সুস্পষ্ট বোঝা যায় যে, সে বৃক্ষের ফল না খাওয়া ছিলো এই নিষেধাজ্ঞার প্রকৃত উদ্দেশ্য। কিন্তু সাবধানতা সূচক নির্দেশ ছিলো এই যে, সে গাছের কাছেও যেও না। এর দ্বারাই ফিকাহ্ শাস্ত্রের কারণ উপকরণের নিষিদ্ধতার মাসআলাটি প্রমাণিত হয়। অর্থাৎ, কোনো বস্তু নিজস্বভাবে অবৈধ বা নিষিদ্ধ না হলেও যখন তাতে এমন আশঙ্কা থাকে যে, ঐ বস্তু গ্রহণ করলে অন্য কোনো হারাম ও অবৈধ কাজে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে, তখন ঐ বৈধ বস্তুও নিষিদ্ধ করে দেয়া হয়। যেমন, গাছের কাছে যাওয়া তার ফল-ফসল খাওয়ার কারণও হতে পারতো। সেজন্য তাও নিষিদ্ধ করে দেয়া হয়েছে। একে ফিকাহ্ শাস্ত্রের পরিভাষায় উপকরণের নিষিদ্ধতা বলা হয়। [চলবে]

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT