ইতিহাস ও ঐতিহ্য

মুক্তিযুদ্ধকালীন সিলেট অঞ্চলের পত্রপত্রিকা

সেলিম আউয়াল প্রকাশিত হয়েছে: ২৬-১২-২০১৮ ইং ০০:৫৫:৫৮ | সংবাদটি ১২৬ বার পঠিত

স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন মুক্তিযুদ্ধের খবর, রণাঙ্গনের খবর, মুক্তিযুদ্ধে উৎসাহ প্রদান, জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে গোপনে মুক্তাঞ্চল থেকে প্রচুর পত্রপত্রিকা প্রকাশিত হয়েছিল। এ সময় সিলেটের সাংবাদিক সম্পাদিত পত্রিকা হচ্ছে মোস্তফা আল্লামা সম্পাদিত সাপ্তাহিক জন্মভূমি, এ এইচ সাদত খান সম্পাদিত মুক্তবাংলা (প্রথম প্রকাশ ২০/৭/৭১), শাহ মোদাব্বির আলী সম্পাদিত সাপ্তাহিক সোনার বাংলা, আব্দুল মতিন চৌধুরী সম্পাদিত সাপ্তাহিক বাংলাদেশ (প্রথম প্রকাশ ১/৭/১৯৭১), তুষার কান্তি কর সম্পাদিত দুর্জয় বাংলা (প্রথম প্রকাশ জুলাই ১৯৭১), বিজয় কুমার দত্ত সম্পাদিত বাংলার কথা, আব্দুল বাছিত সম্পাদিত জয় বাংলা, সুশীল সেন গুপ্ত সম্পাদিত বাংলার ডাক, নিকুঞ্জ বিহারী চৌধুরী সম্পাদত শ্রীভূমি।
মুক্তিসংগ্রামে সিলেটের বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকা, মুক্তিযুদ্ধকালীন পত্রিকা নিয়ে স্মৃতিচারণ করেছেন সাংবাদিক মোহাম্মদ আবদুল বাসিতÑ‘করিমগঞ্জ দৃষ্টিপাত পত্রিকার প্রেস থেকে জয়বাংলা নামক একখানা সাপ্তাহিক পত্রিকা বের করা হয়েছিল। আমি করিমগঞ্জ যাওয়ার পর পরই আমাকে এই পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক নিযুক্ত করা হয়। কয়েকদিন পর সাংবাদিক বিজয়দত্ত মুজিবনগর থেকে সাপ্তাহিক বাংলা বের করেন। বিয়ানীবাজার থানার দেউলগ্রামের মি. মোস্তফা আল্লামা মুজিব নগর থেকে প্রকাশ করেন সাপ্তাহিক জন্মভূমি। আব্দুল মতিন চৌধুরীর সম্পাদনায় শিলচর থেকে পাক্ষিক বাংলাদেশ, সুনীল সেন গুপ্তের সম্পাদনায় ধর্মনগর থেকে সাপ্তাহিক বাংলার ডাক, আকাদ্দাস সিরাজুল ইসলাম ও এ.এইচ. সাআদাত খানের সম্পাদনায় সাপ্তাহিক মুক্তবাংলা প্রকাশিত হয়। ইতিমধ্যে কয়েকটি কারনে সাপ্তাহিক জয়বাংলা বন্ধ হয়ে গেলে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক শাহ মুদাব্বীর আলী এডভোকেট ও আমি সাপ্তাহিক সোনার বাংলা প্রকাশ করি।
আর্থিক অনটন, সীমিত সুযোগ সুবিধা এবং সর্বোপরি প্রবাসে পলাতক অবস্থায় থেকেও বুদ্ধিজীবী হিসেবে সিলেটের সাংবাদিকরা যা করেছেন তা দেশমাতৃকার জন্য যথেষ্ট কিনা তা নিরূপন করা দুরূহ। কিন্তু এ কথা সত্য যে, পরিস্থিতি অনুযায়ী মুক্তিযুদ্ধের বার্তা ছড়িয়ে দিয়ে এটাকে সুসংহত ও জনগণকে উদ্বুদ্ধ করে তাদের মনোবল অক্ষুন্ন রাখার জন্য তারা যা পেরেছেন সাধ্যেও মধ্যে তাই করেছেন।’ (মোহাম্মদ আব্দুল বাসিত, সহ¯্র বিস্মৃতিরাশি, প্রকাশনায় বিয়ানীবাজার প্রেসক্লাব, সিলেট, আগস্ট ২০০৬)
প্রবাসে পত্রিকা প্রকাশের ব্যাপারে ভারতে অবস্থানকারী শরণার্থীরাও নিজেদের সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সহযোগিতা করেছেন, তার বর্ণনা দিয়েছেন সাংবাদিক আকাদ্দাস সিরাজুল ইসলামÑ‘আমাদেও পত্রিকা সাপ্তাহিক ‘মুক্তবাংলা’র আপিসে প্রায়ই আসেন প্রিয় নাতি ডাক্তার শফিক উদ্দীন। বিয়ানীবাজার থানার পাতন গ্রামে বাড়ী। আওয়ামী লীগ করার অপরাধে পালিয়ে এসেছেন মাতৃভূমি থেকে সপরিবাওে প্রতিবেশী রাষ্ট্রে। ডাক্তার শফিক ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ জনাব সাইদ আলী ‘মুক্তবাংলা’র আপিসে এলে কিছু খরচ-টরচ করেন। চা-বিস্কুট ও পান সিগারেট আমাকে না-খাওয়ালে যেন ওঁরা শান্তি পাননা। কথা না মানলে ওঁদের যুদ্ধংদেহী মনোভাব দেখতে পাই। তাই বলি, জী, জী! মেনে নিলাম। মেনে নিলাম।’
মোহাম্মদ আব্দুল বাসিত মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ভারতের করিমগঞ্জ থেকে প্রকাশিত জয়বাংলা পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও সোনার বাংলার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দের ৩১ ডিসেম্বর বিয়ানীবাজার উপজেলার ছোটদেশ (টাইটিকর)-এ জন্মগ্রহণ করেন। বিভিন্ন সময়ে সাপ্তাহিক যুগভেরী, ইত্তেফাক, দৈনিক পূর্বদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাপ্তাহিক ঠিকানা, সাপ্তাহিক বাঙ্গালী ও সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকার সহকারী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
কথাসাহিত্যিক আকাদ্দাস সিরাজুল ইসলাম ‘উনিশশো একাত্তরের যন্ত্রণাবিদ্ধ দিনগুলো’ গ্রন্থে মুক্তিযুদ্ধকালীন সিলেটিদেও সম্পাদিত পত্রিকা নিয়ে বিচ্ছিন্নভাবে স্মৃতিচারণ করেছেনÑ‘সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের তরফ থেকে এখন একখানা সাপ্তাহিক সংবাদপত্র বের করা হচ্ছে করিমগঞ্জ শহর থেকে। নাম ঃ জয়বাংলা। সেই ‘জয়বাংলার’ আপিসে গেলাম। দেখা হলো আমাদের জেলা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারী জনাব শাহ মোছাব্বীর (মুদাব্বির) আলী, সাংবাদিক-রাজনীতিবিদ জনাব সাঅদত খান ও সাংবাদিক ¯েœহভাজন বাসিতের সংগে। জনাব সিরাজ উদ্দিন আহমদের সংগে।
কিন্তু সময় যে কাটতে চায়না।... রোজ বেলা বারো ঘটিকায় ফকিরের বাজার থেকে করিমগঞ্জ শহরে যেয়ে পৌছি। অতঃপর ওখানে-সেখানে যাই। বসি। কথা বলি। মাঝে-মাঝে সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের পত্রিকা ‘জয়বাংলা’র আপিসেও যাই। এবং প্রায়ই দেখা হয় শাহ মোদাব্বির আলী, সাআদত খান, বাসিত ভাই ও সিরাজ উদ্দীন প্রমুখদের সাথে। ডাক্তার নূরুল হোসেন চঞ্চল, ছাত্রনেতা আখতার আহমদ এবং এম.পি. আব্দুর রহিমের সংগেও দেখা হয়। একদিন ফরিদ গাজী সাবের সাথেও দেখা হলো।’
মুক্তিযুদ্ধের সময় বের হওয়া সবগুলো পত্রিকা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এক্ষেত্রে আমরা হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধÑদলিলপত্র’ গ্রন্থের সহায়তা নিয়েছি। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয় গ্রন্থটি বের করেছে। ষোল খন্ডে বের হওয়া গ্রন্থটির ষষ্ঠ খন্ডে (প্রকাশকাল নভেম্বর ১৯৮২) মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মুজিবনগরসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থান এবং দেশের বাইরে ব্রিটেন, আমেরিকা ও কানাডাসহ বিভিন্ন দেশ থেকে প্রকাশিত সংবাদপত্রসমুহে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে পরিবেশিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এই খন্ডে শুধু প্রিন্ট মিডিয়ার বিভিন্ন প্রামাণ্য তথ্য পরিবেশন করা হয়েছে। পঞ্চম খন্ডে বেতার মাধ্যমের তথ্য পরিবেশিত হয়েছে।
তবে সবগুলো পত্রিকার তথ্য পরিবেশন করা সম্ভব হয়নি। এসম্পর্কে সংকলনের সম্পাদক উল্লেখ করেছেনÑইতিহাসের তথ্য সংরক্ষণে অসচেতনতাই প্রধান কারন। বিভিন্ন ইতিহাসে সিলেটীদেও সম্পাদিত বিভিন্ন পত্রিকা সম্পর্কে উল্লেখ করা হলেও গ্রন্থটিতে শুধু মাত্র জন্মভূমি, মুক্তবাংলা, সাপ্তাহিক বাংলা ও দুর্জয় বাংলার কিছু প্রামাণ্য দলিল তুলে ধরা হয়েছে।
জন্মভূমি :
জন্মভূমি: সাপ্তাহিক। বাংলাদেশের সংগ্রামী জনগনের বিপ্লবী মুখপত্র। সম্পাদকঃ মোস্তফা আল্লামা। জন্মভূমি প্রেস এন্ড পাবলিকেশনের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক রবীন্দ্র এভিনিউ, মুজিব নগর, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। বিদেশস্থ প্রধান যোগাযোগ অফিস: ৩৩/২ শশীভূষণ দে ষ্ট্রীট, কলিকাতা-১২।
মোস্তফা আল্লামা মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম.এ. জি. ওসমানীর প্রেস সেক্রেটারি ছিলেন। তিনি একজন বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠকও ছিলেন। তিনি তার নিজ উপজেলা বিয়ানীবাজাওে ‘ মোস্তফা আল্লামা গোল্ড কাপ’ এক ফুটবল টুর্নামেন্ট প্রবর্তন করেছিলেন। গ্রামে গোল্ডকাপের প্রবর্তন সারা দেশে খুব সাড়া জাগিয়েছিলো। কয়েক বছর চলার পর টুর্নামেন্টটি বন্ধ হয়ে যায়।
মুক্তবাংলা :
মুক্তবাংলা : সাপ্তাহিক। বাংলাদেশ মুক্তি সংগ্রাম সিলেট জেলার নির্ভীক স্বাধীন মুখপত্র। সম্পাদক পরিষদেও সভাপতি: আবুল হাসনাত সাআদত খান। ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: আকাদ্দাস সিরাজুল ইসলাম। আবুল হাসনাত কর্তৃক মুক্তবাংলা প্রেস থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত। ভারতীয় ঠিকানা: প্রযতেœ এ.এম. চৌধুরী, করিমগঞ্জ, আসাম।
আবুল হাসনাত সাআদত খান এ.এইচ. সাআদত খান নামেই পরিচিত ছিলেন। তিনি কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সভাপতিরও দায়িত্ব পালন করেন। আকাদ্দাস সিরাজুল ইসলাম এক প্রখ্যাত কথা সাহিত্যিক। তার বেশ কয়েকটি গল্প ও উপন্যাস বেরিয়েছে। তিনি ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দের ২২ নভেম্বর সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার মাথিউরা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি ১৯৪০ খ্রিষ্টাব্দে ম্যাট্রিকুলেশনের পর লর্ড রিপন কলেজ থেকে ¯œাতক ডিগ্রি লাভ করেন। মৃত্যু ২ আগস্ট ২০০০।
মুক্তবাংলা পত্রিকা বের করার প্রেক্ষাপট নিয়ে আকাদ্দাস সিরাজুল ইসলাম তার ‘উনিশশো একাত্তরের যন্ত্রণাবিদ্ধ দিনগুলো’-তে স্মৃতিচারণ করেছেনÑ‘দিনকয়েক ধরে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের মুখপত্র সাপ্তাহিক ‘জয়বাংলা’ পত্রিকার পরিচালক ও সাংবাদিকবৃন্দের মধ্যে মন- মেজাজের কেমন যেন ঠেসাঠেসি চলছে। মেজাজ-মতলব যেন ভিন্ন ভিন্ন হয়ে গেছে। ভ্রাতৃত্বেও পরিবেশটা ঘোলাটে। কেমন যেন শয্যাশায়ী হয়ে পড়েছে বিবেক বিবেচনা।
সেদিন বন্ধু সাআদত খান বলেন, ‘ তোমার সংগে আমার দরকারী আলাপ আছে।’
Ñদরকারী আলাপ?
Ñআচ্ছা কইনতো? কইন?
অতঃপর বেশ কিছু সময় দু’জনের মধ্যে আলাপ-আলোচনা হলো। একান্তে। নিরিবিলি। মাঝেমধ্যে তর্ক-বিতর্ক হলো। এবং অবশেষে দু’জন একমত হই। একখানা সাপ্তাহিক পত্রিকা বের করবো। পত্রিকার নামকরণও হয়ে গেলো।Ñ‘মুক্তবাংলা’।
এুক্তবাংলার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম। এবং পরিচালক মন্ডলীর সভাপতি আবুল হাস্নাত। আমাদের পুরো নাম দেওয়া হলো না। কারন আমাদের মাতৃভূমিতে চলছে মুক্তিযুদ্ধ। বাড়িঘর তো পুড়িয়ে দিয়েছে হানাদার পাকিস্তানী বাহিনীগুলো। আর এখন পত্রিকার খবর জানতে পারলে আত্মীয়-স্বজন কেউ রেহাই পাবে না সেই হিং¯্র পশুদের হামলা থেকে। ঠিক হলো ‘সাপ্তাহিক মুক্তবাংলা’ মুদ্রিত হবে শ্রী ভূপেন্দ্র কুমার সিংহ মশায়ের ‘করিমগঞ্জ প্রিন্টিং পাবলিশিং কোঅপারেটিভ লিমিটেড’ নামক ছাপাখানা থেকে। ভূপেন্দ্র বাবুর ডাক নাম মনি সিং।
অত:পর শুরু হলো ‘সাপ্তাহিক মুক্তবাংলা’র কাজকর্ম। তার প্রথম-সংখ্যাটি বের হলো তিস্রা আশি^ন ১৩৭৮ বাংলা-সাল। বিশে সেপ্টেম্বর ১৯৭১ ইংরেজি সাল। রোজ সোমবার। পত্রিকাখানার ভারতের ঠিকানা দেয়া হলো: প্রযতেœ মজুমদার হোমিও হল; মেইনরোড, করিমগঞ্জ। কাছাড়। আসাম। ভারত। সাপ্তাহিক মুক্তবাংলার প্রথম সংখ্যার সম্পাদকীয় নিবন্ধটির শিরোনাম দিই ঃ ‘অভ্যূদয়’। নিবন্ধটি শেষ করি ‘জয়বাংলা’ দিয়ে।...
সেদিন ‘মুক্তবাংলা’র আপিস থেকে বেরিয়েছি। দেহে একটুখানি ক্লান্তি। কিন্তু মনে আনন্দেও ঝাঁপতাল। এখন শুয়ে-বসে দিন কাটাতে হচ্ছে না। মাতৃভূমির জন্যে একটু কাজ করছি তো।’
সাপ্তাহিক বাংলা :
সাপ্তাহিক বাংলা: গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের কন্ঠস্বর। সম্পাদক মাইকেল দত্ত। ‘রূপসী বাংলা প্রেস এন্ড পাবলিকেশনস’-এর পক্ষে বিজয় কুমার দত্ত কতৃক মুদ্রিত এবং মুজিব নগর ও সিলেট থেকে একযোগে প্রকাশিত।
সাপ্তাহিক বাংলা’র প্রথম বর্ষের দ্বিতীয় সংখ্যায় (২৬ সেপ্টেম্বর ১৯৭১) ‘সাঙ্গ হোক এই কীর্তনের পালা’ শীর্ষক সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছেÑ‘সাড়ে সাত কোটি বাঙালী এবং বাঙলাদেশের অকৃত্রিম মিত্র বিশ্বের বিভিন্ন গণতন্ত্রমনা দেশ ও জনসমষ্টির সুতীব্র্র ঘৃণা এই ষড়যন্ত্রের নায়কদের পাপ অন্তঃকরণে সাড়া জাগাতে পারছে না। জাতিসংঘ তাই আজো মূক, বধির। কেবল লোক দেখানো তৎপরতা আসল সমস্যাকে পাশ কাটিয়েÑকর্ত্তার ইচ্ছায় কীর্তন। মানবতার দূষমনদের বিরুদ্ধে দাঁড়াবার কোন শক্তিই যদি না থাকে এই বিশ্বসরকারেরÑ ভিয়েৎনাম, কঙ্গো, বিয়াফ্রা, ফিলিস্তান, লাতিন আমেরিকা সহ সারা বিশ্বের সর্বত্র পশুশক্তির বর্বর হামলায় ক্ষতবিক্ষত স্বাধীনতাকামী জাতিসমূহের মত বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও যদি জাতিসংঘ কেবল নির্লিপ্ত দর্শকের ভূমিকাই গ্রহণ করে চলেÑতবে আজ নিশ্চতরূপে বিশ্বমানবতার কন্ঠে উচ্চারিত হবে চূড়ান্ত ঘোষণাÑএমনি কাঠের পুতুল জতিসংঘের কোনই প্রয়োজন নেই। অতএব সাঙ্গ হোক এই কীর্তনের পালা।’
দুর্জয় বাংলা :
দূর্জয় বাংলা : সংগ্রামী বাংলার কন্ঠস্বর। সম্পাদক তুষার কান্তি কর। সিলেট সুরমা প্রকাশনীর পক্ষ হতে তুষার কান্তি কর কর্তৃক মুদ্রিত ও প্রকাশিত। বিদেশস্থ যোগাযোগের ঠিকানাঃ রফিকুর রহমান, পুরাতন স্টেশন রোড, করিমগঞ্জ।
তুষার কর একজন প্রখ্যাত ছড়াকার। কর্মজীবনে তিনি একজন ব্যাংকার ছিলেন।
দূর্জয় বাংলা’র প্রথম বর্ষের প্রথম সংখ্যায় (৪ নভেম্বও ১৯৭১) ‘জয় আমাদের হবেই’ শীর্ষক সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছেÑ‘সাতকোটি মানুষের আবাসভুমি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ষষ্ট মাসে স¦াধীনতা সংগ্রামকে এগিয়ে নিয়ে জয়যুক্ত করার শপথ নিয়ে ‘দুর্জয় বাংলা’ আত্মপ্রকাশ করলো। বাংলাদেশের পবিত্র মাটি থেকে খুনি সর্দার ইয়াহিয়ার পশু সৈন্য দলকে নিশ্চিহ্ন করে মাতৃভূমিকে মুক্ত করার মহৎও কঠিন কাজের ব্রত ঘোষণা করছে।
‘দুর্জয় বাংলা’ মনে করে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও চীনের সাহায্যপুষ্ট ইয়াহিয়ার বর্বর বাহিনীকে খতম করার জন্য সব চেয়ে বড় প্রয়োজন হলো বাংলাদেশের সমস্ত জনগণ এবং সংগ্রামী ও গণতান্ত্রিক শক্তির একতা। একতার শক্তি দিয়েই আমরা শত্রুকে নিশ্চিহ্ন করবো।
আমাদের বীর তরুণ মুক্তিযোদ্ধারা দুর্জয় সংকল্প নিয়ে শত্রুর বিরুদ্ধে লড়ে যাচ্ছেন। প্রতিবেশি ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং সমাজতান্ত্রিক দেশগুলি সহ বিশ্বের প্রগতিশীল জনগণও খুনি ইয়াহিয়ার গণহত্যা ও নির্যাতনের প্রতিবাদে সোচ্চার।
এ মুহুর্তে আমাদের সুষ্পষ্ট ধারণা রাখতে হবে কে আমাদের শত্রু ও কে আমাদের মিত্র। মিত্রদের এক হয়ে শত্রুদের আঘাত হানতে হবে, রুখতে হবে ইয়াহিয়ার সকল দুরভিসন্ধি ও ছল চাতুরী।
জয় আমাদের হবেই। আমরা সুনিশ্চিত।
[সিলেট প্রেসক্লাবের ফেলোশিপ প্রবন্ধ]

 

শেয়ার করুন
ইতিহাস ও ঐতিহ্য এর আরো সংবাদ
  • মুদ্রায় ভাষা আন্দোলনের চেতনা
  • হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ খেলাধুলা
  • প্রথম ছাপানো বই
  • বিলুপ্তির পথে ঐতিহ্যের শিলপাটা
  • গ্রন্থাগার আন্দোলনের ইতিহাস ও মুসলিম সাহিত্য সংসদ
  • প্রাচীন মালয় রাষ্ট্র ব্রুনাই
  • সিলেটের ঐতিহ্য সুরমা
  • সিলেট অঞ্চলের ইংরেজি সংবাদপত্র
  • পার্বত্য সংকটের মূল্যায়ন
  • সেকালে সিলেটের কেনাকাটা
  • লোকসংস্কৃতি ও আমাদের সাহিত্য
  • শীতের ঐতিহ্যবাহী খেজুরের রস
  • বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা অতীত ও বর্তমান
  • নাটোরের জমিদার রানী ভবানী
  • ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়
  • সাহিত্য সাময়িকী নিশানা
  • জলসার একাল-সেকাল
  • স্তম্ভবিহীন মসজিদ
  • বাংলার ঐতিহ্যবাহী পিঠা
  • হারিয়ে যাচ্ছে খেজুর গাছ
  • Developed by: Sparkle IT