বিশেষ সংখ্যা

বর্ষ গণনা ও ক্যালেন্ডারের ইতিকথা

লোকমান হেকিম প্রকাশিত হয়েছে: ৩১-১২-২০১৮ ইং ০১:১১:২৯ | সংবাদটি ৭০ বার পঠিত

সময় পরিমাপের একক হিসেবে মানুষ সেকেন্ড, মিনিট, ঘন্টা, দিন, মাস এবং বছরের সংজ্ঞা নিরূপণ করেছে। দিন, মাস ও বছরকে সুনির্দিষ্টভাবে নিরূপণ করে সেই অনুযায়ী বিভিনড়ব অনুষ্ঠানাদি পালনের জন্য মানুষ ‘ক্যালেন্ডার’ বা ‘পুঞ্জিকা’ পদ্ধতি গড়ে তুলেছে। তখন থেকেই মাস, তিথি, পূর্ণিমা, অমাবস্যা, সূর্যগ্রহণ, জোয়ার ভাটা, ধর্মীয় উৎসব, বিভিনড়ব সামাজিক অনুষ্ঠান, লে․কিক আচার, ছুটির দিন প্রভৃতি এই ক্যালেন্ডার অনুযায়ী পালনের প্রচলন শুরু হয়। ক্যালেন্ডারের সময় নির্দেশ অনুসারেই আজকের মানুষের দৈনন্দিন কার্যক্রম, সামাজিক, লে․কিক ও ধর্মীয় জীবন নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে।
ক্যালেন্ডার প্রচলনের আদি পর্ব : সঠিক সময়ে চাষবাসের তাগিদে প্রাচীন মিশরে ও ব্যাবিলনে সর্বপ্রথম ক্যালেন্ডারের প্রচলন শুরু হয়। চান্দ্র মাসের ওপর নির্ভর করে এই দুই দেশের ক্যালেন্ডার ক্সতরী হয়েছিল। তবে ব্যাবিলনদের ক্যালেন্ডার মিশরীয় ক্যালেন্ডারের চেয়ে একটু আলাদা ছিল। ব্যাবিলনীয়রা প্রত্যেক মাসকে চার সপ্তাহে এবং প্রতি সপ্তাহকে সাত ভাগে বা সাতদিনে ভাগ করেছিল-যা মিশরীয়রা করেনি। এখানেই শেষ নয়। ব্যাবিলনীয়রা প্রতিদিনকে ঘন্টা, মিনিট ও সেকেন্ডে ভাগ করতে সক্ষম হয়েছিল যা খোদ ইউরোপেই হয়েছে চতুর্দশ শতাব্দীতে। শুধু মিশর বা ব্যাবিলনই নয় মধ্য আমেরিকা, গ্রীস, ফ্রান্স, রোম, প্যালেস্টাইন, চীন, জাপান, ভারতবর্ষ প্রভৃতি দেশের নিজস্ব ক্যালেন্ডার ছিল।
ক্যালেন্ডারের ক্রমবিকাশ : আজকের সার্বজনীন ক্যালেন্ডার পদ্ধতির মূলে রয়েছে ‘আদি রোমান ক্যালেন্ডার’। খ্রীস্টপূর্ব সপ্তম শতকে রোমে এই ক্যালেন্ডার চালু হয়। তখন দশ মাসের বছর মার্চে শুরু হয়ে ডিসেম্বরে শেষ হত। ৩১ দিন দীর্ঘ মাসের চার মাস এবং ৩০ দিনের মাসের ছয় মাস নিয়ে বছরে দশ মাসে মোট ৩০৪ দিন গণনা করা হত। পরে রোমের দ্বিতীয় সম্রাট নুমা পম্পিলিয়াস জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারী এই দুই মাস যোগ করেন এবং বছরে দিনের সংখ্যা বাড়িয়ে ৩৫৫ করেন। এরপরে আসে ‘রোমান রিপাবলিকান ক্যালেন্ডার’। পঞ্চম রোমান স¤্রাট এট্রুস্কান টার্কুইনিস প্রিসিয়াস (খ্রীস্টপূর্ব ১১৬-৫৭৯ অব্দ) প্রবর্তিত এ ক্যালেন্ডারেও ১২ মাস এবং ৩৫৫ দিনের বছর ব্যবহা করা হয়। মাসগুলোতে দিনের সংখ্যা ছিল এরকম : ফেব্রুয়ারি ২৮ দিনে; মার্চ, মে, কুইন্টাইলিস (জুলাই) ও অক্টোবর প্রতিটি ৩১ দিনে এবং জানুয়ারি, এপ্রিল, জুন, সেক্সাটাইলিস (আগস্ট), সেপ্টেম্বর ও ডিসেম্বর প্রতিটি ২৯ দিনে। জানুয়ারীতে বছর শুরু হত এবং ডিসেম্বরে বছর শেষ হত।
জুলিয়াস ক্যালেন্ডারের ইতিকথা : প্রাচীন ক্যালেন্ডারকে ত্রুটিমুক্ত ও বিজ্ঞানসম্মত করতে সর্বপ্রথম আগ্রহ দেখিয়েছিলেন রোমান স¤্রাট জুলিয়াস সিজার (১০২-৪৪ খ্রীস্টপূর্ব)। জুলিয়াস সিজারই সর্বপ্রথম সৌর বছর ব্যবহার করে ক্যালেন্ডার প্রণয়নে উদ্যোগী হন। তিনি এই কাজের ভার দিয়েছিলেন বিখ্যাত গ্রীক জ্যোতির্বিদ সোসিজেনিসকে। সোসিজেনিস চান্দ্রমাস প্রথা বাদ দিলেন। তিনি ক্যালেন্ডার তৈরী করলেন সম্পূর্ণ সৌর বছর ধরে। ১২ মাসের মধ্যে সাতটিতে দিলেন ৩১ দিন, চারটিতে ৩০ দিন এবং একটিতে ২৮ দিন। তিনি দেখিয়েছিলেন সৌর বছর ৩৬৫ দিনে নয়-৩৬৫ দিন ও ৬ ঘন্টায়। তাই তিনি লীপ ইয়ার বা অধিবর্ষ ব্যাপারটি চালু করেন। চার বছর অন্তর ফেব্রুয়ারী মাসে ১ দিন বাড়িয়ে ২৯ দিন করেন। সোসিজেনিসের এই ক্যালেন্ডারের নাম হলো ‘জুলিয়াস ক্যালেন্ডার’ (জুলিয়াস সিজারের নামে)। এই ক্যালেন্ডার খ্রীস্টপূর্ব ৪৫ সালে স¤্রাট ১ জানুয়ারীতে প্রচলন করলেন রোমে। আজ আমরা যে ইংরেজী ক্যালেন্ডার ব্যবহার করি তার পূর্ব পুরুষ এই জুলিয়াস ক্যালেন্ডার।
গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের ইতিহাস : দিন, সপ্তাহ, মাস ও বছর গণনার নানা রীতিই পৃথিবীতে প্রচলিত রয়েছে। এরমধ্যে ‘গ্রেগারিয়ান ক্যালেন্ডার’ই সবচেয়ে জনপ্রিয় রীতি। অন্যসব ক্যালেন্ডারের মতো পৃথিবী, চন্দ্র ও সূর্যের নানা আবর্তন চন্দ্রের হিসাবের ভিত্তিতেই এই ক্যালেন্ডার গড়ে উঠেছে। পৃথিবীর নিজের অক্ষের ওপর এক আবর্তনের গড়পড়তা হিসাবকে একটি দিন গণনা করা হয়। সূর্যের চারপাশে পৃথিবীর এক পূর্ণ আবর্তনকে বর্ষ ধরা হয়। ৩৬৫ দিন ৫ ঘন্টা সাড়ে ৪৫ সেকেন্ডে এক বছর হয়। আদিকাল থেকেই মাসের হিসাব করা হতো চাঁদের হিসাবে অর্থাৎ পূর্ণিমা ও অমাবস্যা দেখে। কিন্তু চাঁদের হিসাবে মাস গণনা করতে গেলে সৌর আবর্তন অনুযায়ী বছরের হিসেবে গোলমাল দেখা দেয়। পৃথিবীকে চন্দ্রের প্রদক্ষিণ করতে লাগে সাড়ে ২৯ দিন। চাঁদের এই হিসাবে সৌর মাস হয় ৩৫৪ দিনে অর্থাৎ ১১ দিন কম গড়ে। আধুনিককালে মাসের হিসাব তাই চাঁদের হিসাবে হয় না। ২৮ থেকে ৩১ দিনের মধ্যে ইংরেজি ক্যালেন্ডার বা গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারে মাস পূর্ণ হয়। সপ্তাহগুলো চন্দ্র বা সূর্যের হিসাবে নির্ধারণ করা হয়নি। প্রতি সাতদিনে খ্রিস্টান সম্প্রদায় বিশ্রাম দিবস পালন করে। এই বিশ্রাম দিবসের হিসাব রাখতেই সাত দিনে এক সপ্তাহ গণনা করা হয়। রোমানরা চন্দ্র, সূর্য এবং অন্যান্য গ্রহের নামে দিনগুলোর নাম রেখেছে। প্রাচীন ব্যাবেলীয়নদের ক্যালেন্ডারে ৩০ দিনে মাস হতো এবং ১২ মাসে ১ বছর এবং যখনই এতে সমস্যা দেখা দিত তারা বছরের হিসাব ঠিক রাখতে এক মাস বাড়িয়ে দিত। প্রাচীন মিশরীয়রাই প্রথম চাঁদের হিসাবে নয়, সূর্যের আবর্তন হিসাব করে ক্যালেন্ডার তৈরী করে। তারা ৩৬৫ দিনে বছর ধরতেন। তাদের ১২ মাসও ৩০ দিনে বিভক্ত ছিল, কিন্তু বছরের শেষে বাড়তি ৫ দিন যোগ করে নিয়েছেন তারা।
খ্রীস্টপূর্ব ২৩৮ সালে রাজা তৃতীয় টলেমি চার বছর অন্তর এক দিন বাড়তি ধরার আদেশ দেন, যা বর্তমান লীপ ইয়ারের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। খ্রী. পূ. ৪৫ সালে জুলিয়াস সিজার জ্যোতির্বিদ সোসিজেনেসের পরামর্শে ৩৬৫ দিনের যথার্থ সে․র ক্যালেন্ডার প্রবর্তন করেন। তার ক্যালেন্ডারকে বলা হয় ‘জুলিয়াস ক্যালেন্ডার’। তার ক্যালেন্ডারে লীপ ইয়ার অন্তর্ভুক্ত ছিল। তিনি তার নাম অনুযায়ী জুলাই মাস এবং স¤্রাট অগাস্টাসের সম্মানে আগস্ট মাসের নামকরণ করেন।
জুলিয়াস ক্যালেন্ডার যথাথ সৌর বছর থেকে ১১ মিনিট ১৪ সেকেন্ড দীর্ঘ ছিল। এর ফলে ১৫৮২ সালে খ্রীস্টানদের এক উৎসবের তারিখ চার্চের হিসাবের ১০ দিন আগেই চলে আসে। এ সমস্যা মেটাতে ত্রয়োদশ পোপ গ্রেগরিপূরনো ক্যালেন্ডার থেকে ১০ দিন বাদ দিয়ে নতুন ক্যালেন্ডার প্রবর্তন করেন। এটিই গ্রেগারিয়ান ক্যালেন্ডার নামে পরিচিত। ক্রমশ ইউরোপে এই ক্যালেন্ডার জনপ্রিয় হতে থাকে। বর্তমানে সারা বিশ্বে এই ক্যালেন্ডারই সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। ১৭৫২ সালে ব্রিটেনে এই ক্যালেন্ডার গ্রহণ করার সময় ১১ দিনের হিসাব সংশোধন করতে হয়। এই বছরের দুই সেপ্টেম্বরের পর ১৪ সেপ্টেম্বর গণনা করা হয়। ১৯১৮ সালে রাশিয়া, ১৯২৩ সালে গ্রিকরা এ ক্যালেন্ডার গ্রহণ করে।
গ্রেগারিয়ান ক্যালেন্ডারের ১২টি মাসের কথা :
জানুয়ারী : গ্রেগারিয়ান ক্যালেন্ডারের প্রথম মাস ৩১ দিনে গণনা করা হয়। রোমান দেবতা জানুসের নাম অনুযায়ী এ মাসের নাম রাখা হয়েছে। দুয়ার বা প্রবেশদ্বার বা যে কোন কিছুর সূচনা বোঝাতে দেবতা জানুসকে বোঝানো হয়। প্রাচীন রোমে খ্রি.পূ. দ্বিতীয় শতক পর্যন্ত জানুয়ারি ছিল বছরের ১১ মাস। জানুস দু’দিকে তাকিয়ে থাকা দুমুখো এক দেবতা। তার সম্মানেই জানুয়ারীকে প্রথম মাস হিসাবে গণনা করা হয়।
ফেব্রুয়ারি : ল্যাটিন শব্দ ফেব্রুয়া থেকে এ মাসের নামকরণ করা হয়েছে । এ মাসে প্রাচীন রোমে ফেব্রুয়া নামে এক ধরনের উৎসব হতো, এই উৎসবকে শুদ্ধি উৎসব মনে করা হতো। এ শুদ্ধি উৎসবকে স্মরণীয় করতেই এ মাসের নাম রাখা হয় ফেব্রুয়ারি। প্রবাদ অনুযায়ী রোমান স¤্রাট নুমা পম্পিলাস বছরের শুরুতে জানুয়ারী মাস এবং শেষে ফেব্রুয়ারী মাস রাখেন। ৪৫২ খ্রিঃ পূঃ-এ ফেব্রুয়ারীকে বছরের দ্বিতীয় মাস হিসাবে ঠাঁই দেয়া হয়। শুরুতে ফেব্রুয়ারি ২৯ দিন ছিল এবং এর বাকি একদিন তখনকার বছরের শেষ মাস আগস্টে যোগ হতো। বর্তমানে প্রতি চার বছরে একবার ফেব্রুয়ারি ২৯ দিন, বাকি তিন বছর ২৮ দিন।
মার্চ : প্রথমে রোমান ক্যালেন্ডারে মার্চ মাস ছিল সবার আগে। যুদ্ধ দেবতা মার্সের নামানুসারে এ মাসের নাম রাখা হয়। ব্রিটেনেও গ্রেগারিয়ান ক্যালেন্ডার চালু হওয়ার আগ পর্যন্ত মার্চ মাস ছিল বছরের প্রথম মাস। তারা ২৫ মার্চ থেকে বছর গুনত। গ্রেগারিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বর্তমানে ৩১ দিনে মার্চ মাস গণনা করা হয়।
এপ্রিল : গ্রেগারিয়ান ক্যালেন্ডারের চতুর্থ মাস এপ্রিল ৩০ দিনে গণনা করা হয়। রোমান ‘এপ্রিলিস’ শব্দ থেকে এ মাসের নামকরণ করা হয়। ‘এপ্রিলিস’ অর্থ উন্মেষ। এ মাসে অঙ্কুরোদগম হয় বলেই এ রকম নাম রাখা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। ইউরোপীয়দের মধ্যে মানুষকে এ মাসে বোকা বাবানো হয়। মাসের প্রথম তারিখে এপ্রিল ফুল দিবস গণনা করা হয়। ফ্রান্সে এপ্রিল ফুলকে বলা হয় এপ্রিল ফিস, স্কটল্যান্ডে বলা হয় কাক্কু।
মে : রোমান বসন্ত দেবী মাইয়ার নাম অনুযায়ী এ মাসের নামকরণ করা হয়। মে মাসের ১ তারিখে রোমানদের ফুলের দেবীর সম্মানে ফ্লোরা উৎসব চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে । ইউরোপে মে মাসের ১ তারিখে মে-ফ্লাওয়ার দিয়ে সাজানো হয়। রাশিয়ায় ১ মে-কে মে দিবস বা শ্রম দিবস হিসেবে পালিত হয়। যা সারা বিশ্বেই এখন স্বীকৃত।
জুন : গ্রেগারিয়ান ক্যালেন্ডারের ৬ষ্ঠ মাস ৩০ দিনে গণনা করা হয়। এর নামকরণ সম্পর্কে নিশ্চিত কিছু জানা যায়নি। কেউ বলেন, রেমান দেবী জুনোর নাম অনুযায়ী এর নাম হয়েছে। কারও মতে, রোমান জুনিয়াস বংশ বা ল্যাটিন শব্দ জুনোরেস (তরুণ) থেকে এর নামকরণ হয়েছে।
জুলাই : এ মাসে জুলিয়াস সিজারের জন্ম হয়েছিল। প্রাচীন রোমে এটা ছিল বছরের পঞ্চম মাস। জুলিয়াসের সম্মানেই এ মাসের নাম জুলাই রাখা হয়। গ্রেগারিয়ান ক্যালেন্ডারে ৭ম মাস জুলাই ৩১ দিনে গণনা করা হয়।
আগস্ট : প্রাচীন রোমান ক্যালেন্ডারে এ মাসের নাম ছিল শেক্সাটিলিস (ষষ্ঠ মাস) । প্রথম রোমান স¤্রাট অগাস্টাসের সম্মানে এ মাসের নাম রাখা হয় আগস্ট মাস। গ্রেগারিয়ান ক্যালেন্ডারে এ মাস ৩১ দিনে বছরের অষ্টম মাস হিসেবে গণনা করা হয়। প্রাচীন কালে ফেব্রুয়ারী মাস থেকে একদিন নিয়ে এ মাসে যোগ করা হতো।
সেপ্টেম্বর : ল্যাটিন শব্দ সেপ্টেম্বর থেকে এ মাসের নাম করা হয়। সেপ্টেম্বর শব্দের অর্থ সপ্তম মাস। প্রাচীন রোমে এ মাস ছিল বছরের সপ্তম মাস। গ্রেগারিয়ান ক্যালেন্ডারের নবম মাস সেপ্টেম্বর ৩০ দিনে গণনা করা হয়।
অক্টোবর : ল্যাটিন অক্টো শব্দের অর্থ আট। প্রাচীন রোমান ক্যালেন্ডারে বছরের অষ্টম মাস হিসেবে অক্টোবর মাস গণনা করা হতো বলেই এ রকম নামকরণ হয়, পরবর্তী সময়ে গ্রেগারিয়ান ক্যালেন্ডারে ৩১ দিনে বছরের ১০ম এ মাস গণনা করা হয়।
নভেম্বর : নভেম্বর ল্যাটিন ভাষার নবম। প্রাচীন রোমান ক্যালেন্ডারে নবম মাস নভেম্বর গ্রেগারিয়ান ক্যালেন্ডারে ১১তম মাস হয়ে যায়। অগাস্টাসের আগ পর্যন্ত নভেম্বর মাস ছিল ২৯ দিনের। অগাস্টস-এ মাসকে ৩০ দিনে রূপান্তরিত করেন।
ডিসেম্বর : গ্রেগারিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বছরের শেষ মাস ডিসেম্বর । ল্যাটিন ডিসেম (দশ) শব্দ থেকে এর নামকরণ হয়েছিল।
‘জুলিয়াস ক্যালেন্ডার’ ও ‘গ্রেগারিয়ান ক্যালেন্ডারের’ পাশাপাশি আরেকটি বহুল ব্যবহৃত ক্যালেন্ডার হচ্ছে ‘হিজরী ক্যালেন্ডার’। ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সঃ) ৬২২ খ্রীস্টাব্দে মক্কার কুরাইশদের অত্যাচার থেকে রক্ষা পাবার জন্য মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করেন। মহানবী (সঃ) এর ঐতিহাসিক হিজরতের ঘটনাকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য ৬২২ খ্রীস্টাব্দের ১৬ জুলাই থেকে ‘হিজরী শব্দ’ চালু হয়। মুসলিম বিশ্ব জুড়ে ‘হিজরী শব্দের ক্যালেন্ডারের’ ব্যাপক প্রচলন আজও বিদ্যমান।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT