ইতিহাস ও ঐতিহ্য

গ্রামের কথা

মো. ফজলুর রহমান ফজলু প্রকাশিত হয়েছে: ০২-০১-২০১৯ ইং ০১:০৫:৫০ | সংবাদটি ১৪২ বার পঠিত

জন্মে ছিলাম সিলেট জেলার জকিগঞ্জ উপজেলার মাজবন গ্রামে। কত সালে তার কোনো সঠিক তারিখ জানিনি। দাদী নানী ও পিতা মাতার কাছ থেকে যতটুকু জানতে পেরেছি তাতে আমি যে দিন জন্ম নেই সে দিনটি ছিল ২৭ শে রমজান শনি কিংবা বুধবার। কারণ শনি ও বুধবারে আমাদের স্থানীয় হাট বসে। নাতির জন্মের সুবাদে নানী হাটের সে প্রচন্ড ভিড় ঠেলে আমাদের বাড়িতে আসেন। অন্যদিকে সাত পানির বছরে অর্থাৎ ১৯৬৬ সালেও আমার জন্ম হয় নি। কারণ ওই বছর আমার এক বোন এবং পরবর্তী বছর এক ভাই জন্ম নিয়ে অল্প দিন পরেই মারা যান। আবার ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় আমি নাকি ঘর থেকে উঠানে দৌড়াতে পারি। অর্থাৎ আমার অনুমান বয়স তখন ৩ বছর। এসব তথ্য উপাত্ত মিলিয়ে আমার প্রকৃত জন্ম তারিখ দাড়ায় ১৯৬৮ সালের ১৮ ডিসেম্বর, ৪ পৌষ ১৩৭৫ বাংলা মোতাবেক ২৭ রমজান ১৩৮৮ হিজরী রোজ বুধবার। দাদী আমাকে জমদুত আজরাইলের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য গলায় জাত বেজাতের তাবিজ কবজ আর কানে তামার আংটা পরিয়ে দেন। দাদীর দেয়া সেই তাবিজের জোরে এখনো বেঁচে আছি তবে মাটির জগতে আছি না ভুতের জগতে তা বলতে পারব না।
দাদীর হাত ধরে পাঠশালায় গিয়েছি তবে কত তারিখে তা মনে নেই। সম্ভবত ১৯৭৮ সাল। তখন আমি ২য় শ্রেণির ছাত্র। রোজ একটা করে বই ছিড়ি সপ্তায় একটা করে শ্লে¬ট ভাঙ্গি। গ্রামের সহপাঠিদের সাথে রোজ দশবার ঝগড়া করি চৌদ্দ বার স্যারের কাছে নালিশ জানাই আর সাালিশ ছাড়াই নিস্পত্তি হয়। ঠাকুর বাড়ির বদ্ধ পুকুরে লুঙ্গি খুলে রোজ দশ বার গোসল করি। হাঁসের বিষ্ঠা মিশ্রিত পানিতে তালের বিচির অনুসন্ধ্যান করি ভাগ্যে জুটলে মজাকরে খাই নতুবা পালাই। স্কুল শিক্ষিকা চারুবালা দাশের কাছে টুনাটুনির গল্প পড়ি আর দল বেঁধে শতকিয়া মুখস্ত করি। পরীক্ষার দিন যত কালি পেপারে লেপ্টাই তার চৌদ্দ গুণ কালি নাকে মুখে লাগিয়ে বাড়িতে আসি। ফলাফল বেরোলে বরাবরই প্রথম হই। তখন স্কুলে আমরা হা-ডু-ডু কানামাছি, গোল্লাছোট, ফুটবল খেলতাম। জাম্বুরাই ছিল আমাদের তখনকার দিনের ফুটবল। সম্ভবত ১৯৮০ সালের কোনো এক শুক্রবারে আমার স্নেহময়ী দাদী মাহমুদা খাতুন মারা যান। রাতে উনাকে কবর দিয়েছি এতটুকু মনে আছে। ১৯৮২ সালে ব্রাহ্মণগ্রাম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৫ম শ্রেণি পাশ করি। প্রধান শিক্ষক মুদরিছ আলী সাহেব আমার জন্মের তারিখ লিখে দেন ১৬ই ডিসেম্বর ১৯৭২ সাল। এটাই আমার সার্টিফিকেট বয়স। আমার লিখা আত্মপরিচয় শীর্ষক কবিতাটি পরিচিতির জন্য তুলে ধরছি-/ বাহাত্তরে জন্ম আমার ফজলুর রহমান নাম/ জকিগঞ্জের অন্তর্গত মাজবন হয় আমার গ্রাম।/ দাদার নাম আব্দুর রহমান পিতা আব্দুন নুর/ মাতার নাম করিমুননেছা ভরণ সুলতানুর।/ নানার নাম মোতাহির আলী নানী আলফাতুন/ দাদী নানী সহোদরা নাম মাহমুদা খাতুন।/ পিতা মাতা কবরবাসী চাচা ফুফু নাই/ এক ভগ্নি তিন ভ্রাতা আমি জৈষ্ঠ ভাই।/ স্নেহময়ী দাদী আমার বিদ্যাশিক্ষার গুরু/ পাঠশালাতে প্রথম পাঠ যার উছিলায় শুরু।/ দাদীর দেয়া বিদ্যার জোরে এমএ করে পাশ/ চিত্ত সুখে কাব্য লিখি কুঁড়ে ঘরে মোর বাস।
১৯৮২ সাল। তখন আমি পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র। সাত সকালে ঘুম থেকে উঠে পান্তা ভাত খেয়ে লাঙ্গল, জুয়াল, মই, দরা, কোদাল, হেউতি, ছই, দাতা, কাঁচি, ডরি ও গরু নিয়ে বাবার সাথে হালচাষ করতে মাঠে যেতাম। সমস্ত মাঠ ভর্তি হয়ে কৃষকরা হালচাষ করতো। কেউ হাল বাইছে কেউ পানি সেচ করছে কেহ ধানের চারা তুলছে কেহ রোপন করছে কেহ মাছ ধরছে। কেউ ধান কাটছে। কাজের কোন শেষ নেই। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ আর কাজ। শ্রাবণ মাস বৃষ্টি আর বৃষ্টি। সকালে বৃষ্টি ছিলনা মাঠে যাবার পর বৃষ্টি শুরু। এমন বৃষ্টি থামার কোন অবকাশ নেই। আকাশ যেন ছিদ্র হয়ে গেছে। মাঠে থাকতে থাকতে পানিয়ে তলিয়ে গেল মাঠ। কৃষকরা কাজ ফেলে জাল নিয়ে ছুটে গেল মাছ ধরতে।
গ্রামের খাল নালাতে প্রচন্ড স্রোতের মধ্যে জাল দিয়ে মাছ ধরা যে কত আনন্দের তা যারা ধরেছেন তারাই জানেন। বাড়ীতে মা বোনরাও কাজে ব্যস্ত। ঘরে চাল নেই। পাকা ধান আঙ্গিনায় রাখা। বৃষ্টির কারণে মাড়াই করা যাচ্ছে না। কৃষকরা পায়ে ধান মাড়াই করছে। মাড়াই করা ভিজে ধান চুলায় শুকিয়ে মহিলারা ঢেঁকি দিয়ে ধান কুটে চাল বানিয়ে তা দিয়ে ভাত রান্না করেছে। আউশ ফসলের মধ্যে মুরালী ধান সবার চেনা। লাল রঙ্গের শক্ত ভাত-গাভীর দুধের সাথে যারা খেয়েছেন তারাই বুঝতে পারবেন এ ভাতের স্বাদ যে কত। বয়স্ক লোকেরা বৃষ্টির দিনে জড়ো হয়ে গল্প করতো। তাদের মুখে পূর্বেকার দিনের বর্ষার চিত্র। মানুষের রীতি নীতি আচার অনুষ্ঠান ইত্যাদির চমৎকার কাহিনী শুনতাম। বাড়ীতে তখন জাত বেজাতের পিঠা সন্দেশ তৈরী হতো। বৃষ্টি শুরু হলে লাগাতার বহুদিন বৃষ্টি হতো। নদী নালা খাল বিল সব দিকে পানি আর পানি। এর মধ্যে নদীও থাকত উত্তাল। ডাইক ভেঙে নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করতো। তখন রোজা রাখার মত বয়স আমার হয়নি। তাই বলে সেহরী আর ইফতার কাজা করিনি। বয়স্ক লোকেরা ঝিঙ্গে ফুল ফুটলে আসরের সময় হয়েছে ধরে নিত। আমি ছিলাম ভারী দুষ্ট সন্ধ্যার অল্পকিছু পূর্বে গাছে চড়ে উচ্চ আওয়াজে আজান দিতাম। আমার ধারনা ছিল আজান দিলেই ইফতার করা যাবে। রাতে দাদীর বিছানায় ঘুমাতাম। সেহরী যাতে কাজা না হয় তার জন্য দাদীর শাড়ীর আচলের সাথে আমার লাল চেক লুঙ্গিটা গিট দিয়ে রাখতাম। উনি উঠা মাত্র আমার লুঙ্গিতে টান পড়ত আমি ফ্যাল ফ্যাল করে হেসে উনার সাথে উঠতাম-আর মজা করে সেহরী খেতাম। সে দিনে দাদীর সাথে সেহরী খেয়ে যে স্বাদ পেয়েছি আজো তা ভুলতে পারিনি। সন্ধ্যায় মাদুর পাতা আসনে বয়স্কদের পাশে বসে দেও দানব রাক্ষস আর পরীদের গল্প শুনে রাতে ভয়ে বিছানায় প্রস্রাব করতাম। দাদী বিছানায় প্রস্রাব না করার জন্য আমাকে একটা মন্ত্র শিখিয়েছিলেন। মন্ত্রটি আজো মনে আছে- ইজা জা আজাজিল দুর যা দুর হও আল¬াহ দমে দমে জাগাইও। দাদীর শেখানো মন্ত্রের সাথে প্রস্রাব এর সম্পর্কের আজোও কোন মিল খোঁজে পাইনি।
সে যুগে রাতে হুতোম পেঁচায় ডাকলে মানুষরা কু-লক্ষণ মনে করতো। কলেরা বসন্ত ইত্যাদি রোগের প্রাদুর্ভাব ছিল। মানুষ তাবিজ দোয়া পানি পড়া নুন পড়া মন্ত্র মাধুলি ঝাঁড় ফুঁক এ বিশ্বাস করতো। জবেদ আলী ফকির আর কুটু মুন্সি তাবিজ দিত। অনেকে মরকীর বলা খেদাইত। মানুষ দলবদ্ধ হয়ে রাতে পুঁথি পাঠ করত। উল্লেখযোগ্য পুঁথি ছিল হালতুন্নবী, জঙ্গনামা, গাজীকালু, আমির সওদাগর, বেহুলা লক্ষিন্দর ইত্যাদি। কিচ্ছা কাহিনীর মধ্যে ছিল গফুর বাদশা ও আপন দুলাল। বয়স্ক লোকদের মধ্যে পাঠাদার হাজী রশিম আলী, জমসেদ আলী, ইব্রাহিম আলী প্রমুখের নাম আজো মনে আছে। ইব্রাহিম আলী পুঁথি পড়া জানতেন। তখন ঘড়ি, চশমা আর ফাউন্টেন পেন ছিল জ্ঞানী লোকের ভুষণ। গ্রামের রাস্তা সরু ও কর্দমাক্ত। নীচু রাস্তাকে গোপাট বলা হত। খাঁলের উপরে বাঁশের তৈরী সাঁকো ছিল। এটি পার হবার সময় মনে হত আমি যেন পুলছিরাতের পুল পাড়ি দিচ্ছি। এখনো চক্ষু বন্ধ করলে সেই ছোট বেলার শৈশব চিত্রগুলো স্মৃতিতে ভেসে উঠে। মনে হয় গ্রামের সেই মুরব্বি লোকদের কথা। যাদের চিত্র আজো হৃদয় ক্যামেরায় ভেসে উঠে।
তখন সেলুনের প্রচলন ছিলনা। নরসুন্দররা বাড়ীতে এসে চুল কাটত। চুল কাটার ভয়ে পালাবার চেষ্টা করতাম। কিন্তু কামিনী বাবুর হাটুর চাপে প্রাণপন চেষ্ঠা করেও পালাতে পারতাম না। বাড়ীতে নবজাতকের জন্ম হলে দাদী নানীরা মিলে আগুনের ধুপ জ্বালাতেন। নবজাতকের গলায় জাত বেজাতের তাবিজ-কবজ, চেলার কাটি, নজরের কাটি, শরীষার দাঁনা, মরা মাকড় সহ ডাকিনী যোগিনীর হাত (এক প্রকার গাছের ডাল) বেঁধে দেয়া হত। গানের ভাষায় :
দেও দানব আর ভূত পরীরা কোথায় গেল জানিনা/ তাগা পড়া তাবিজ কবজ গ্রামে এখন চলেনা।/ কেপাছ মোল্লা ভূত তাড়াত কুটু মুন্মি তাবিজ দিত/ জবেদ ফকির আর্জি নিত ফুঁ দিয়া ভূত করত কানা।/ বদহজমে পেট ফুলিত-ময়নার মা নজর পোড়ত-/ পেমই বিবি মানত করত-যাইত পীরের আস্তানা।/ সষ্য দিয়া ভূত তাড়াত-তাবিজ কবজ গলায় দিত/ হুক্কার পানি বান নাশিত যাদু টোনা মন্ত্রণা।/ জন্ম নিলে ছোট্ট মণি-মিলিয়া সব দাদী নানী/ জ্বালাইত আগুনের খনি ডাক্তার বাবু লাগত না।/ ঔষধ ছিল গাছের কস-মাথায় দিতাম ভাটির রস/ খাদ্য ছিল কত সরস ফজলু করে ভাবনা।
তখন রথের আড্ডা আর বারুণী মেলা বসত। সমাজে হিন্দু মুসলিম উভয় শ্রেণীর লোকেরা মিলে মিশে থাকত। কলের গানের প্রচলন ছিল বেশী। রেডিও আর টেপ রেকর্ডার খুব কম ছিল। জকিগঞ্জের পল্লীতে শীতালঙ্গী রাগ বয়স্করা গাইতেন। মানুষ মাজারে শিরনী দিত। বছরে রোজই শিন্নী হত। মানুষের মধ্যে হিংসা বিদ্ধেষ ছিলনা। রাতে প্রচন্ড কাল বৈশাখী ঝড় হতো। ঝড়ের সময় বয়স্করা সোলায়মান নবীর দোহাই দিত। ভয়ে অনেকে আজান দিত। কিন্তু ছালাহ আর ফালাহ বলতো না। দাদী বলতেন খাগ নালার ঘর-খোদায় রক্ষা কর। তখন ঢেঁকি দিয়ে মানুষ ধান কুঁটত। দল বেঁধে গ্রামের মেয়েরা কাঁথা সেলাই করতো। সে যুগের একটি কাঁথার ভিতরে পূর্বতন চৌদ্দ পুরুষের শাড়ী লুঙ্গির চিহ্ন পাওয়া যেত। অগ্রায়নে ধান কাটার পর শুরু হতো ন্যাড়া কাটার মহাধুম। গ্রামের বেশীর ভাগ বাড়ীতেই ন্যাড়া বা ছনের ঘর ছিল। মাঝে মধ্যে মাটির ঘরও ছিল। মাটির বাসন পত্র মানুষ ব্যবহার করতো। সে যুগের চিত্রটা আজো চোখের সামনে বিদ্যমান। কবিতার ভাষায় :
আগের দিনে গ্রামের হাটে বিক্রি হত কবিতা-/ লাইলী মজনু শিরি ফরহাদ পয়ারে ছন্দ গাঁথা।/ বাবার সাথে হাটে যাইতাম কিনে দিতেন চানাচুর-/ বালুসাই আর বস্তার মিটাই স্বাদে ছিল ভরপুর।/ হিন্দু মুসলিম জুয়ান বুড়া সবে পরত ধুতি-/ সওদাগরে বিক্রি করত গহুর বাদশার পুঁথি।/ মন মাঝি তোর বৈঠা নেরে মাঝি গাইত গান-/ গরু লয়ে ফিরত রাখাল উঠান ভরা ধান।/ ভাদ্র মাসে তালের পিঠা চৈত্র মাসে দই-/ অগ্রায়নে চোঙ্গা পোড়া বিরনী ধানের খই।/ শীতের দিনে খড়ের গাঁধায় সকলে বসিয়া-/ পান চিবুতো হুক্কা টানত গল্পেতে মজিয়া।/ ঢেঁকি দিয়া ধান ভানিত পাশের গ্রামের সখিনা-/ দল বাঁধিয়া কাঁথা সেলাই গ্রামে এখন দেখি না।/ চেলার কাঠি, নজরের কাঠি ঘুঙ্গুর দিয়া পায়-/ তাগা পড়া তাবিজ কবজ গলায় দিতা মায়।/ আগের দিনের গ্রামের চিত্র বদলে গেছে ভাই-/ মজর মামুর ভূতের গল্প এ যুগে আর নাই।

শেয়ার করুন
ইতিহাস ও ঐতিহ্য এর আরো সংবাদ
  • যুগে যুগে সিলেটের নির্যাতিত সাংবাদিক
  • মুক্তিযুদ্ধে ছাতক
  • একটি বিলুপ্ত বিদ্যালয় ও শিক্ষাবিদ দেওয়ান ছনুবুর রাজা চৌধুরী
  • গড় যেভাবে গৌড় হলো
  • আমাদের জাতীয় পতাকা তৈরির কথকতা
  • ‘কান আই ঘাট’ থেকে কানাইঘাট
  • বেদে জীবনের চালচিত্র
  • ইয়ারানা ও বইনারী
  • আমেরিকা আবিস্কার ও রেড ইন্ডিয়ান
  • বাংলার জন্য প্রাণ দিলেন যারা
  • মুদ্রায় ভাষা আন্দোলনের চেতনা
  • হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ খেলাধুলা
  • প্রথম ছাপানো বই
  • বিলুপ্তির পথে ঐতিহ্যের শিলপাটা
  • গ্রন্থাগার আন্দোলনের ইতিহাস ও মুসলিম সাহিত্য সংসদ
  • প্রাচীন মালয় রাষ্ট্র ব্রুনাই
  • সিলেটের ঐতিহ্য সুরমা
  • সিলেট অঞ্চলের ইংরেজি সংবাদপত্র
  • পার্বত্য সংকটের মূল্যায়ন
  • সেকালে সিলেটের কেনাকাটা
  • Developed by: Sparkle IT