পাঁচ মিশালী

কিছু দেখা, কিছু শোনা

এম এ মালেক চৌধুরী প্রকাশিত হয়েছে: ০৫-০১-২০১৯ ইং ০০:০৯:৫৮ | সংবাদটি ১০১ বার পঠিত

পৃথিবীর প্রতিটি সৃষ্টিতে মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের বৈচিত্র্যময় নিদর্শন রয়েছে। তাঁর অন্যান্য সৃষ্টির কথা বাদ দিয়ে আশরাফুল মকলুকাত মানুষ, মানুষের ভাষা ও মানুষের বসবাসস্থল পৃথিবী নিয়ে চিন্তা করলে কোন কুলকিনারা মিলে না। মানুষ তথা বিজ্ঞানীদের জ্ঞান তো আল্লাহ প্রদত্ত নিয়ামত। কাজেই বিজ্ঞানীদের চিন্তাভাবনা সীমাবদ্ধ। পৃথিবীতে হাজার হাজার বছর থেকে মানুষের বসবাস। এ পর্যন্ত যত মানুষ মারা গেছেন, যত মানুষ এখন জীবিত আছেন এবং কিয়ামতের পূর্ব পর্যন্ত যত মানুষের জন্ম হবে তাদের দু’জনের অবয়ব মুখের গঠন প্রণালী এক নয়। ভিন্ন আকৃতির ডাইস দিয়ে বানানো সবাই। কালো, সাদা আর বাদামী- এই তিন রং এর মানুষ। মানুষের মুখের জবানও ভিন্ন। পৃথিবীতে নাকি সাড়ে চার হাজারের মতো ভাষা রয়েছে। একেক জাতি অঞ্চলের মানুষের ভাষাও ভিন্ন। পৃথিবীর উপরিভাগও একই রকমের নয়। কোন অঞ্চল সমতল কোন অঞ্চল শুধু মরুভূমি, কোনটিতে পাহাড়-পর্বত, কোনটি এঁটেল মাটির, কোনটি বেলে, দোঁআশ মাটি, কোন কোন দেশের পাহাড় পর্বত মাটির আবার কোনটি পাথরের। অভিনব বৈচিত্র্যময় আল্লাহর সৃষ্টিগুলো। মধ্যপ্রাচ্যের সব দেশ সহ আফ্রিকার কয়েকটি দেশের সমতল ভূমি বালিতে ঢাকা এবং পাহাড়গুলো পাথরের। বিশাল বিশাল পাহাড়গুলো দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন তিন চার বা তার বেশি লম্বা শুধু একটি পাথর। এ অঞ্চলের আবহাওয়াও উষ্ণ। পঞ্চাশ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড এর মতো আবহাওয়া গ্রীষ্মকালে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় সব নবী-রসুলগণকে আল্লাহ এ ভুখন্ডে পাঠিয়েছেন। শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (স.) এর জন্মও পাথরের পাহাড় মরুভূমির দেশ মক্কা নগরীতে। মক্কা নগরীতে আল্লাহতায়ালা উন্মুল কুরা তথা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ পবিত্র নগরী বলে মহাগ্রন্থ কোরআনে ঘোষণা করেছেন।
আরব দেশগুলোতে না গেলে বুঝা যায় না গরমের মাত্রা। দুপুরে সূর্য মাথার উপরে গেলে মরুভূমির বালি আগুনের ফুলকীর রং ধরে, পাথরের পাহাড়গুলো হাজার হাজার বছর থেকে পুড়তে পুড়তে লোহার রং এর মত দেখায়। এ সময় বিনা পাদুকায় মাটি স্পর্শ করা কামাদের পক্ষেও সম্ভব নয়। তা পর্যবেক্ষণে অনেকে বলে থাকেন এসব উষ্ণমন্ডলীয় অঞ্চলে জুতার ব্যবহার জুতা আবিষ্কারের পর থেকে আরম্ব হয়েছে। অথচ এসব অঞ্চলে হাজারো বছর থেকেই মানুষের বসবাস। পাথরের বা খেজুর পাতা দিয়ে বানানো ঘরে মানুষ কিভাব গরমকে জয় করে বাস করতো তা আজকের বিদ্যুৎ ও এয়ার কন্ডিশনারের যুগে অকল্পনীয়। সমগ্র সৌদি আরবই পাথরের পাহাড় ও মরুভূমির দেশ। আল্লাহর ঘর তথা বায়তুল্লাহ এর চতুর্দিক বেষ্টিত ছিল পাথরের পাহাড়ে। একশত বছর আগেও এরকম ছিল। এখন এসব পাহাড় কেটে-বায়তুল্লাহর আঙ্গিনা প্রশস্ত করা হয়েছে। সাফা-মারওয়া পাহাড়দ্বয়ের কিছুটা চিহ্ন হাজীদের দেখার জন্য রাখা হয়েছে। সাফা মারওয়ার কুল ঘেষে এবং হরম শরীফের কাছে রয়েছে জমজম কুয়া। হাজার বছর আগে মক্কা থেকে মিনা গমনে উঠের চলাচলের ও পায়ে হাঁটার পথ নিশ্চয়ই ছিল পাহাড় বেয়ে বা পাহাড়ের কুলঘেষে। তিন চারটি মধ্যম উঁচু পাহাড়। অর্ধ শতাব্দি আগে এ সমস্ত পাথরের পাহাড়ের নীচ দিয়ে টানেল বানানোয় হাজীদের মক্কা থেকে মিনায় যাওয়া আসা (পায়ে হেঁটে) সহজ করা হয়েছে। মক্কা-মিনা-আরাফাত ময়দানে পায়ে হেঁটে বা যানবাহনে যাওয়ারও রাস্তা প্রশস্ত করে তৈরি করায় হাজীদের হজের কষ্ট নব্বই শতাংশ লাঘব হয়েছে। শত শত বছর আগে হাজীগণ কত কষ্ট স্বীকার করে মক্কা-মিনা এবং আরাফাত ময়দানে যাওয়া আসা করেছেন এখন ভাবতেও কষ্ট হয়। তদ্রুপ সীমাহীন কষ্ট স্বীকার করে শত বছর আগে হাজীগণ পায়ে হেঁটে বা উটের পিটে চড়ে মদিনাতুন নবীতে গিয়ে মহানবী (স.) এর রওজা শরীফে জিয়ারত করেছেন।
সৌদি আরবে একটি ব্যাপার বিশেষভাবে লক্ষণীয়। কোন কোন বাড়ি বা বাসায় সার্বক্ষণিক সৌদি পতাকা উড়ে। অনেক বাসায় তিন চারটি পতাকাও উড়ে। বিবাহযোগ্য সাবালিকা মেয়ে যে ঘরে বা বাসায় যতজন রয়েছে সে আবাসস্থলে ততটি পতাকা টানানো হয়ে থাকে। একজন থাকলে একটি, দুজন থাকলে দুটি পতাকা এরকম উড়ানো হয় বিবাহের পাত্রদেরকে বা অভিভাবকগণকে জানান দেয়ার জন্য। সৌদি আরব ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশে বর বা পাত্রদেরকে মোহরানা নগদ পরিশোধ করতে হয় যা বাধ্যতামূলক। মোহরানা (ক্যাশ অথবা কাইন্ডস) পরিশোধের পর পাত্রীর স্বীকারোক্তি (কবুল) নেয়া হয়। যার জন্য সে সমস্ত দেশে অনেকে টাকার অভাবে বুড়ো হয় আবার অনেক ধনী বুড়ো ব্যক্তি (সত্তর আশি বছরের) তিন চারটি কুমারী মেয়ে বিয়ে করছে। অবশ্য গত কয়েক দশক থেকে জিসিসি (এঁষভ পড়-ড়ঢ়বৎধঃরড়হ পড়ঁহপরষ) দেশ সমূহ সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার ও ওমানের রাজা, বাদশাহ, আমীর, সুলতানদের সরকার বিবাহ ঋণ দিয়ে থাকে তাদের প্রজাদের। বিবাহ ঋণ ছাড়াও ঘর বানানো, গাড়ি ক্রয়, ব্যবসাপাতি, শিল্প কারখানা স্থাপনের জন্য সে সমস্ত দেশের সরকার ঋণ মঞ্জুর করে থাকে। এ জাতীয় কারণ দেখিয়ে অনেকে তিন চারবারও ঋণ নিয়ে থাকে। খুব কম সংখ্যক প্রজা নাগরিক আছে যারা সরকার থেকে ঋণ নেয়নি। এ সমস্ত ঋণ শোধ করার কোন বালাই নেই। এক দুই কিস্তি পরিশোধের পর সরকার থেকে তা মাফ করে দেয়া হয়। বছরে তিন চারবার ঋণ মওকুফের ঘোষণা আসে। সরকার তেলের টাকা ঋণের নামে প্রজাদের দিয়ে থাকে। সে জন্য এসব দেশের নাগরিকরা ধনী। ছেলে, মেয়ে, পিতা, ভাই, বোন সবাই ঋণ পায়। এখন অবশ্য কোন কোন ক্ষেত্রে সরকারি ঋণ পরিশোধ করার আদেশ করা হয়েছে। তবে সে জন্য ঘরবাড়ী, জায়গা জমিন, কারখানা নীলামে তোলা হয় না।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT