সম্পাদকীয়

নববর্ষে নতুন সরকার

প্রকাশিত হয়েছে: ০৬-০১-২০১৯ ইং ০০:০৬:৩০ | সংবাদটি ৩৪ বার পঠিত

বেশ উৎসবমুখর পরিবেশেই শুরু হলো খৃস্টীয় নববর্ষ ২০১৯। এবারের বর্ষবরণের উৎসবের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নতুন একটি অনুসঙ্গ। তা হলো একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। বিদায়ী বছর শেষ হওয়ার একদিন আগেই অনুষ্ঠিত হলো নির্বাচন। এই নির্বাচন নিয়ে নানা ধরণের ‘তর্কবিতর্ক’ থাকলেও মানুষ উৎসাহ উদ্দীপনার সঙ্গেই ভোট প্রদান করেছে। নির্বাচন পূর্ব সপ্তা কয়েক ভোটের প্রচারণা হয়েছে উৎসবের আমেজে। এই প্রচারণায়ও সারা দেশে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটেছে। এর বাইরে মোটামোটি শান্তিপূর্ণই ছিলো নির্বাচনী প্রচারণা। নির্বাচনে বিজয়ী বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব¡াধীন মহাজোট টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যেই নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যগণ শপথ গ্রহণ করেছেন। তাই নতুন একটি পঞ্জিকাবর্ষের যাত্রা শুরুর সঙ্গে সঙ্গে দেশে একটি নতুন সরকারও যাত্রা শুরু করলো। আবার পয়লা জানুয়ারী বরাবরের মতোই অনুষ্ঠিত হলো বই উৎসব। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা এদিন নতুন বই হাতে নিয়ে নবউদ্দীপনায় নতুন বছরকে বরণ করলো। এতোসব উৎসবের রং যেন সারা বছরই ছড়িয়ে থাকে সবার মনে, এই প্রত্যাশাই আমাদের।
এই মুহূর্তে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হচ্ছে নতুন সরকার গঠন। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট সরকারের এটা হচ্ছে টানা তৃতীয় মেয়াদের সরকার। ১৯৭৫ সালের পর দীর্ঘ ২১ বছর ক্ষমতার বাইরে ছিলো মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব প্রদানকারী দল আওয়ামী লীগ। ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। পরবর্তীতে ২০০১ সালের নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর ২০০৮ সালে আবার ক্ষমতায় আসীন হয় আওয়ামী লীগ তথা মহাজোট। এই পর্যায়ে ক্ষমতায় এসে তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান বাতিল করে। এর প্রতিবাদে আন্দোলন করে বিরোধী দল। এই অবস্থায়ই বিএনপির নেতৃত্বে সংগঠিত বিরোধী দলগুলোকে বাইরে রেখে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন করে। ক্ষমতাসীনদের ভাষায় ‘সংবিধানের ধারাবাহিকতা রক্ষায়’ দলীয় সরকারের অধীনে সেই নির্বাচনে ৫০ ভাগের বেশী সংসদ সদস্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। বিরোধী দল একে ভোটার বিহীন নির্বাচন বলেই আখ্যায়িত করে। টানা দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। এবারও দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না বললেও শেষ মূহূর্তে নির্বাচনে অংশ নেয় বিএনপি ও শরীক দলগুলো। আর সব দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এতে বিশাল বিজয় অর্জন করে ক্ষমতাসীন দল। বিরোধী দল এই ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে পুনরায় নির্বাচন দাবী করছে। তারা নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ করেছে। এই ধরণের নানান খবরাখবর মিডিয়ায়ও এসেছে। যা সরকারের এই বিশাল বিজয়কে সামান্য হলেও কালিমালিপ্ত করেছে বলেই বুদ্ধিজীবী মহলের ধারণা।
তারপরেও নতুন সরকারকে আমরা অভিনন্দন জানাচ্ছি। বিগত দুই মেয়াদে সরকার পরিচালনায় সফলতা-ব্যর্থতা দুই ই ছিলো আওয়ামী লীগের। ব্যর্থতা যা ছিলো তা থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন উদ্দমে যাত্রা শুরু করতে হবে। এটাই কল্যাণকামী সরকারের দায়িত্ব। আর সফলতা যা আছে সেগুলোর ভিত্তিতে হোক আগামীর পরিকল্পনা। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, বর্তমান সরকারের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে সব সাফল্য রয়েছে তা দেশে বিদেশে প্রশংসিত হচ্ছে। এবারের নির্বাচনী ইশতেহারেও যুগান্তকারী অনেক পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশ এখন একটি মধ্যম আয়ের দেশ। সরকারসহ দেশবাসীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় আমরা একটি উন্নয়নশীল দেশ-এ পরিণত হবে এবং বিপুল ভোটে টানা তৃতীয়বারের মতো জয়ের ফলে সরকারের মধ্যেও যাতে কোন ধরণের অহমিকা, স্বেচ্ছাচারীতার জন্ম না হয়, সেই প্রত্যাশাই আমাদের।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT