সম্পাদকীয় সত্যি মানুষ সালাত, রোজা, যাকাত, হজ্ব ও সকল সুকর্মের পুরস্কার পাবে। কেবল তার বোধশক্তির অনুপাতে। - আল হাদিস

একটি উষ্ণতম বর্ষ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৭-০১-২০১৯ ইং ০০:৩১:৩৭ | সংবাদটি ৩২ বার পঠিত

খৃষ্টীয় নববর্ষ উদযাপনের রেশ কাটেনি এখন। এরই মাঝে একটি দুঃসংবাদ বিশ্ববাসীর জন্য। সেটা হলো ইতিহাসের সম্ভাব্য উষ্ণতম বছর হতে পারে ২০১৯ সাল। এলনিনোর কারণে এ বছর বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে বেশি গরম বা উষ্ণ আবহাওয়া দেখা দিতে পারে বলে আবহাওয়া বিশেষজ্ঞগণ জানিয়েছেন। তারা বলেন, এলনিনো ঘটনা ঘটে যখন, তখন প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্বের উত্তপ্ত এবং মধ্যবর্তী দিক দিয়ে তাপমাত্রা বেড়ে যায়। আর এই উষ্ণ তাপমাত্রা বিশাল এলাকা নিয়ে ছড়িয়ে পড়ে। এই উষ্ণতা বিভিন্ন মহাসাগরসহ বিশাল এলাকা জুড়ে প্রভাব ফেলছে। এছাড়া, সমুদ্র থেকে বায়ুমন্ডলে বিশাল তাপমাত্রা স্থানান্তর হচ্ছে। যা ধীরে ধীরে সমগ্র পৃথিবীকে গ্রাস করছে। ইতোমধ্যেই উত্তপ্ত প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা বেড়েছে প্রায় দেড় ডিগ্রি। এর সঙ্গে ২০১৯ সালে ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি উষ্ণতা দেখা দিতে পারে। যখন এই সংবাদটি প্রচারিত হলো, তখন বিশ্বব্যাপী চলছে শীতকাল। বলা যায় আমাদের দেশ এখন তীব্র শীতে কাবু। জানা গেছে, পুরো জানুয়ারি মাস জুড়েই থাকবে শৈত্যপ্রবাহ। তবে শীতের পরে যে উষ্ণতম দিনগুলো অপেক্ষা করছে, তার জন্য আমাদের প্রস্তুতি থাকতে হবে।
বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়ছে। বিগত প্রায় দুই দশক ধরে এ নিয়ে উদ্বিগ্ন বিশ্ববাসী। উষ্ণতা বৃদ্ধির জন্য দায়ী কারণগুলোর অন্যতম হচ্ছে ‘এলনিনো’। এটা হচ্ছে প্রাকৃতিক বিপর্যয়। ‘এলনিনো’ শব্দটি স্প্যানিশ। এর অর্থ ‘বালক’। চার থেকে ১২ বছরের বিরতিতে প্রশান্ত মহাসাগরে সৃষ্টি হয় বিশেষ ধরনের তাপ প্রবাহ। এর নামই হচ্ছে ‘এলনিনো’। এর ফলে সারা বিশ্বের আবহাওয়ায় দেখা দেয় নেতিবাচক প্রভাব। এলনিনোর প্রভাবে প্রায় প্রতি বছরই বাংলাদেশসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বর্ষাকালে কাংখিত বৃষ্টি হয় না। আবার অতিবৃষ্টির কারণে বিশ্বের অন্যান্য অংশে সৃষ্টি হয় অতিবন্যার। এর প্রভাবে ভারতীয় উপমহাদেশে সৃষ্টি হতে পারে অনাবৃষ্টি ও খরা। বিশেষজ্ঞদের মতে বর্ষা মওসুমের শেষে এলনিনোর প্রভাব দেখা দিলে খুব একটা ক্ষতি হয় না; তবে বর্ষা মওসুমের শুরুতে কিংবা মাঝামাঝি সময়ে এর প্রভাব হতে পারে মারাত্মক। উপমহাদেশের বিগত একশ’ ৩০ বছরের ইতিহাসে দুই তৃতীয়াংশ খরা হয়েছে এলনিনোর প্রভাবে। আর চলতি বছর এলনিনোর প্রভাব প্রবল আকারে দেখা দেবে। বিশেষ করে তাপমাত্রা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এলনিনো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই তাপমাত্রা বৃদ্ধি জনজীবনকে যেমন দুর্বিষহ করে তুলবে, তেমনি বিভিন্ন দেশে ফসল উৎপাদন বিঘিœত হবে।
দুর্যোগ মানবজাতির জন্য অনাহুত এক বিপর্যয়। কখনও আমরা নিজেরাই দায়ী এই দুর্যোগের জন্য; আবার প্রকৃতি কখনও রুদ্রমূর্তি ধারণ করে নিয়ে আসে দুর্যোগ। আর দুর্যোগ মানে দুর্ভোগ। বাংলাদেশসহ তৃতীয় বিশ্বের অনেক দেশই এলনিনোর প্রভাবজনিত নানা দুর্যোগের কবলে রয়েছে। আর বাংলাদেশের মানুষতো বেঁচে আছে নানামুখী দুর্যোগের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। দিন দিন দুর্যোগের ভয়াবহতা বাড়ছে। ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও সংকটাপন্ন হতে পারে। দুর্যোগ প্রতিহত করা যাবে না। তবে যথাসময়ে যথাযথ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিলে যে কোন দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমানো যায়। উষ্ণায়নসহ সবধরনের দুর্যোগ মোকাবেলায় রাষ্ট্রীয়, সামাজিক ও ব্যক্তি উদ্যোগ থাকা জরুরি।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT