স্বাস্থ্য কুশল

চিরতার যত গুণ

মুন্সি আব্দুল কাদির প্রকাশিত হয়েছে: ০৭-০১-২০১৯ ইং ০০:৫১:৫০ | সংবাদটি ১৯৬ বার পঠিত

চিরতার নাম সবাই জানে। কোন তিক্ততাকে তুলনা করতে চিরতার মত তিতা এরূপ শব্দ ব্যবহার করতে শোনা যায়। চিরতাকে যেন আল্লাহ শুধু তিক্ত স্বাদ দিয়েই সৃষ্টি করেছেন, তা কিন্তু নয়। চিরতার মধ্যে অনেক রোগের উপশম রয়েছে। আল্লাহ তায়ালা কোন জিনিসকেই অনর্থক সৃষ্টি সৃষ্টি করেননি। চিরতা সাধারণত হিমালয়ের উষ্ণ মন্ডলীয় অঞ্চলে বেশী জন্মে। কাশ্মীর নেপাল ও ভুটানের পাহাড়ী এলাকায় সবচেয়ে বেশী পাওয়া যায়। চিরতা ইউনানী ও আয়ৃর্বেদিক অনেক ঔষধ তৈরীতে কাচামাল হিসাবে চিরতা ব্যবহার করা হয়। আমাদের দেশে চিরতা জন্মে না। চিরতা ও কালমেঘ দুটোই তিক্ত। তাই অনেকে কালমেঘ গাছকেই চিরতা বলে চালিয়ে দেয়। এক পলকে আমরা চিরতার গুনাগুন জেনে নিতে পারি :
শ্বাস কষ্ট : চিরতা চূর্ণ ৩ গ্রাম ৩ ঘন্টা পরপর মধুসহ খেলে শ্বাসের প্রবল টান কমে যাবে। শ্বাস টান কমে গেলে দৈনিক ৩ বার নিয়মিত কিছুদিন খেলে ঠান্ডা এলার্জি জনিত হাঁপানি ভাল হয়ে যায়।
গর্ভকালীন বমন : গর্ভকালীন অনেক মহিলার বমন হয়। এ অবস্থায় ১ গ্রাম চিরতা চূর্ণ মধু বা চিনির পানিসহ খেলে বমি বন্ধ হয়ে যায়।
চুল পড়া : চুল পড়া নিয়ে কত দুশ্চিন্তা যে টাকো হয়ে যায় কি না। এই চুল পড়া বন্ধ করার জন্য চিরতা ভিজানো পানি দিয়ে ১ দিন পরপর ৫-৭ দিন মাথা ধৌত করলে চুল পড়া বন্ধ হয়ে যায়।
দূষিত ক্ষত/ পচা ঘা : যে সমস্ত ক্ষত বা পচা ঘা সহজে সহজে সারছেনা সেসমস্ত ঘা এর ক্ষেত্রে ১০ গ্রাম চিরতা রাতে ১ কাপ/গ্লাস গরম পানিতে ভিজিয়ে রেখে পরের দিন এই চিরতা ভিজানো পানি দিয়ে দূষিত ক্ষত, পচা ঘা ধুয়ে দিলে ২-৩ দিনের মধ্যে পচা ঘা বা ক্ষত ভাল হয়ে যাবে।
ডায়াবেটিস : ডায়াবেটিস নানা ধরণের হতে পারে। তবে যে কোন ধরণের ডায়াবেটিস রোগে চিরতা চূর্ণ ৫০০ মিলি এবং গোক্ষর চূর্ণ ২ গ্রাম মাত্রায় মিশিয়ে সকাল বিকাল দুবার পানিসহ খেলে রোগ ভাল হয়।
নতুন প্রসূতির রোগে : নতুন প্রসূতির স্তন্যদুষ্টির কারণে শিশুর পেট ফাঁপা, বমি, সবুজ মল, টক গন্ধযুক্ত মল। এই অবস্থায় মাকে চিরতা ৪-৫ গ্রাম চিরতা ২ কাপ পানিতে ৩-৪ ঘন্টা ভিজিয়ে পান করালে মায়ের অম্লদুষ্টি ও আমরসের পরিপাক হয়ে স্তন্য স্বাভাবিক হবে এবং শিশুর রোগ ভাল হয়ে যাবে।
শোথ : শোথ রোগে এমনকি এলার্জির কারণে শরীর চুলকে ফুলে উঠলে রাতে ৪-৫ গ্রাম চিরতা ২৫০ মিলি গরম পানিতে ভিজিয়ে রেখে পরের দিন ছেকে ২-৩ বারে ঐ পানি পান করলে রোগ ভাল হয়।
ইনফ্লুয়েঞ্জা : ৫-১০ গ্রাম চিরতা ৪ কাপ পানিতে সিদ্ধ করে ২ কাপ থাকতে নামিয়ে ছেকে সকালের দিকে অর্ধেক এবং বিকালের দিকে অর্ধেক খেতে হবে।
রক্তপিত্ত : রক্তপিত্ত সমস্যায় ৪-৫ গ্রাম চিরতা দেড় বা দুই কাপ ঠান্ডা পানির মধ্যে ঘন্টা খানিক ভিজিয়ে রেথে এই পানি ৩-৪ বারে খেতে হবে।
কৃমির উপদ্রবে : পেটের উপরের অংশে মোচড়স দিয়ে ব্যাথা সাধারণত ২-৮ বছরের বাচ্চাদের এই সমস্যা দেখা দেয়। এক্ষেত্রে ২৫০ মিঃলিঃ থেকে ৫০০ মিঃলিঃ চিরতা ভিজানো পানি অল্প মধু বা চিনি মিশিয়ে খাওয়ালে ক্রিমির উপদ্রব কমে যাবে এবং পেট ব্যাথা ভাল হয়ে যাবে।
চুলকানি : যে কোন ধরণের চুলকানি রোগে ২০ গ্রাম চিরতাকে অল্প পানিতে ছেঁচে লোহার কড়াইয়ে সরষের তেল গরম করে তাতে ভাজতে হবে যেন পুড়ে না যায়। এরপর এই তেলটাকে নামিয়ে ছেঁকে অল্প অল্প করে নিয়ে চুলকানিতে ঘষে লাগালে ২-৩ দিনের মধ্যে ভাল ফল পাওয়া যায়।
প্রচন্ড বমি : পিত্তজ্বর বা ঘন ঘন বমি হচ্ছে গায়ে হালকা জ্বর আছে। পেটে কোন কিছুই থাকছেনা সেক্ষেত্রে ২ কাপ গরম পানিতে ৫ গ্রাম চিরতা একটু থেতো করে ভিজিয়ে রাখতে হবে। ২-৩ ঘন্টা ভিজিয়ে রেখে ওটা ছেঁকে অল্প অল্প করে খেলে এই সমস্যা দুর হয়ে যাবে।

 

শেয়ার করুন
স্বাস্থ্য কুশল এর আরো সংবাদ
  • মলদ্বারের রোগে পেটের সমস্যা
  • ব্যথার ওষুধ খাবেন সাবধানে
  • অতিরিক্ত ওজন ও স্থুলদেহী প্রসঙ্গ
  • স্বাস্থ্য রক্ষায় খতনা
  • আপনিই সুস্থ রাখতে পারেন আপনার কিডনি
  • এ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে সতর্কতা
  • মুখের আলসার ও টুথপেস্টের রসায়ন
  • গলার স্বর বসে গেলে
  • মেছতার আধুনিক চিকিৎসা ডাঃ দিদারুল আহসান
  • স্ক্রিনে দীর্ঘসময় শিশুর মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলে
  • প্রকৃতির মহৌষধ মধু
  • তাফসিরুল কুরআন
  • প্রসব পরবর্তী থায়রয়েড গ্রন্থির প্রদাহ
  • শ্বাসকষ্ট কোনো রোগ নয়!
  • নাক দিয়ে পানি পড়া
  • শীতে বয়স্কদের সমস্যা
  • শিশু কিশোরদের মানসিক সমস্যা
  • এইচআইভি সংক্রমণ ছোঁয়াচে নয়
  • গর্ভবতীর পাইলস চিকিৎসা
  • কান পাকা : সচেতনতা জরুরি অধ্যাপক
  • Developed by: Sparkle IT