সম্পাদকীয় একটি মাত্র কাজ দিয়ে কাউকে ভালো বা খারাপ বলা যায় না। -টমাস ফুলার

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ পাচ্ছে হিসাব রক্ষক

প্রকাশিত হয়েছে: ০৮-০১-২০১৯ ইং ০০:৩৩:৪৭ | সংবাদটি ৯১ বার পঠিত

এবার নিয়োগ দেয়া হচ্ছে হিসাব রক্ষক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একজন করে হিসাব রক্ষকের পদ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এই ব্যাপারে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন পদসৃজন, জনপ্রশাসন ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কর্মকা- সম্পন্ন করা হবে। জানা গেছে, বর্তমানে বিদ্যালয়ের সব ধরনের হিসাব সংরক্ষণ ও পরিচালনাসহ বিদ্যালয়ের দাপ্তরিক সব কর্মকা- এককভাবে প্রধান শিক্ষককেই করতে হয়। এছাড়া, সরকারের নানা ধরনের নির্দেশনামূলক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত থাকায় প্রধান শিক্ষকেরা বিদ্যালয়ের পাঠদান পরিচালনা-তত্ত্বাবধান-সমন্বয় সঠিকভাবে করতে পারছেন না। তাই প্রধান শিক্ষককে পাঠদানে আরও মনোনিবেশ করাতে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন ব্যক্তিবর্গের মতে, চলতি অর্থ বছরেই এই প্রক্রিয়া শুরু হবে।
প্রাথমিক বিদ্যালয়েই প্রতিটি মানুষের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শুরু হয়। আমাদের দেশে সরকারি ছাড়াও বেসরকারি পর্যায়ে বিপুল সংখ্যক প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। তবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোই বেশিরভাগ শিশুকে শিক্ষা প্রদানের দায়িত্বটি পালন করে চলেছে। বর্তমানে দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫ হাজার ৯৯টি। এর মধ্যে নতুন জাতীয়করণকৃত বিদ্যালয় হচ্ছে ২৬ হাজার একশ’ ৫৯টি। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে একজন করে হিসাব রক্ষক নিয়োগ করা হবে। এতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আয় ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে। এতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ওপর চাপ কমবে। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ মহল। তাদের মতে, হিসাব রক্ষক নিয়োগ করা হলে বিদ্যালয়গুলোতে পাঠদান কার্যক্রম আরও সাবলীল হবে। তবে প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে এই হিসাব রক্ষক নিয়োগের পাশাপাশি আরও কিছু পদক্ষেপ নেয়া দরকার। বিশেষ করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে বিরাজ করছে নানা ধরনের সমস্যা। শিক্ষক সংকট এর মধ্যে অন্যতম। বিশেষ করে দক্ষ ও দায়িত্বশীল শিক্ষকের অভাব রয়েছে। বিদ্যালয়ে পারিপার্শ্বিক পরিবেশও লেখাপড়ার জন্য অনুকূল নয়। অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে, যেগুলোর ভবন জরাজীর্ণ এবং আসবাবপত্রসহ পর্যাপ্ত শিক্ষাসামগ্রী নেই। সব মিলিয়ে অসংখ্য প্রাথমিক বিদ্যালয় শিশু মনকে আকৃষ্ট করতে পারছে না। তাই প্রাথমিক শিক্ষা শেষ না করেই ঝরে পড়ছে অনেক শিশু।
সর্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষে শতভাগ শিশুকে বিদ্যালয়ে নিয়ে আসতে হবে। সেই সঙ্গে ঝরে পড়া রোধ করতে হবে। সরকার শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে বই দিচ্ছে, চালু হয়েছে উপবৃত্তি, মিড ডে মিল কার্যক্রম। এতে বিদ্যালয়ে ভর্তির হার বাড়লেও শতভাগ ভর্তি নিশ্চিত হয়নি। আর তাই সবার জন্য বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা কর্মসূচি সফলতা পায়নি প্রায় তিন দশকেও। হিসাব রক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়ার গতি বাড়বে বলেই আমরা আশা করছি। আর এই নিয়োগ কার্যক্রমের মাধ্যমে বেশ কিছু শিক্ষিত তরুণের কর্মসংস্থান হবে, এটাও একটা ইতিবাচক দিক। আমাদের বিশ্বাস এই প্রকল্প ফাইলচাপা পড়বে না; পাশাপাশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একজন করে সঙ্গীতের শিক্ষক নিয়োগের যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল ইতোপূর্বে, সেটাও যেন বাস্তবায়িত হয়।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT