সম্পাদকীয়

বাড়ছে আয়-বৈষম্য

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯-০১-২০১৯ ইং ০০:৪৭:২৯ | সংবাদটি ৩৮ বার পঠিত

প্রবৃদ্ধি ও মাথাপিছু আয় বাড়ছে; কিন্তু ক্রমেই আয় বৈষম্যের অর্থনীতিতে পরিণত হচ্ছে বাংলাদেশ। ধনী-গরীব, গ্রাম-শহর এবং আঞ্চলিক বৈষম্য প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে। আর এই আয় বৈষম্যের কারণে দারিদ্র্যের বিচারে দেশ এখন দুভাগে বিভক্ত। তাই মাথাপিছু আয় বাড়ানোই সব নয়। আগে দূর করতে হবে আয় বৈষম্য। বিশ্বব্যাংক বলেছে, বাংলাদেশে দারিদ্র্য বিমোচনের হার ভালো। এদেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে। তবে দেশের পূর্ব ও পশ্চিম অঞ্চলের মধ্যে ব্যাপক বৈষম্য আছে। পূর্ব অঞ্চলে অবস্থিত ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা কম। অন্যদিকে পশ্চিম অঞ্চলে অবস্থিত বরিশাল, খুলনা ও রাজশাহী বিভাগে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বেশি। বলা যায় আমাদের জন্য একটা অভিশাপ হচ্ছে দারিদ্র্য। দারিদ্র্য দূরীকরণ নিয়ে এদেশে অনেক কথাই হয় সারা বছর। এ নিয়ে সারা বছর নানা উদ্যোগ আয়োজনের কথাও শোনা যায়। এর ফল আসতেও শুরু করেছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জরিপে দারিদ্র্য হ্রাস পাওয়ার তথ্যও বেরিয়ে এসেছে। তবে বাড়ছে আয় বৈষম্য।
বলা যায়, দারিদ্র্য এই জাতির জন্য একটা স্থায়ী অভিশাপ। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে অন্যান্য জাতীয় সমস্যাবলীর মধ্যে দারিদ্র্যই একটা বৃহৎ সমস্যা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। দারিদ্র্যের কষাঘাতে নিষ্পেষিত এই জাতি দিনের পর দিন, বছরের পর বছর। এর পাশাপাশি দেশের এক অঞ্চলের সঙ্গে অন্য অঞ্চলের এবং বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষের মধ্যে বৈষম্য বাড়ছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দারিদ্র্য হ্রাস পাচ্ছে বলে দাবী করছে সরকার। বিভিন্ন সংস্থার জরিপেও এই ধরনের কথা বলা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, দেশে এক থেকে দুই তৃতীয়াংশ হারে দারিদ্র্য হ্রাস পাচ্ছে। সরকারি হিসেবে দেশে দারিদ্র্যসীমার নীচে বসবাসকারীর সংখ্যা ৪০ শতাংশের নীচে নেমে এসেছে এবং তা দ্রুত কমছে। কিন্তু সবচেয়ে দুঃখজনক হচ্ছে, দারিদ্র্য হ্রাস পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে আয় বৈষম্য। যে বৈষম্যটা ছিলো অতীতেও। সমাজের একটা শ্রেণির মানুষের আয় বাড়ছে। উচ্চবিত্ত কিংবা মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষের আয় যেভাবে বাড়ছে, নি¤œবিত্ত বা স্বল্প আয়ের মানুষ, দিন মজুরের আয় সেই হারে বাড়ছে না। বরং তুলনামূলকভাবে তাদের আয় কমছে। বিশেষ করে ঘুষ, দুর্নীতি আর লুটপাটের মাধ্যমে সরকারি চাকরিজীবীসহ তাদের সহযোগী দালাল চক্র দিনে দিনে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলছে। সরকারও তাদের শতভাগ বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করে তাদের মধ্যে দুর্নীতি-লুটপাটের আগ্রাসী মনোবৃত্তিকে বাড়িয়ে দিয়েছে। তাই লাখ কয়েক দুর্নীতিবাজের খপ্পরে পড়েছে নিরীহ কোটি কোটি মানুষ। যে কারণে আয় বৈষম্য বেড়ে চলেছে।
দারিদ্র্য হ্রাস পাচ্ছে বাড়ছে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা। অর্থনীতিবিদদের মতে দারিদ্র্য কমলেও ক্রমেই বৈষম্যপূর্ণ অর্থনীতিতে পরিণত হচ্ছে বাংলাদেশ। ধনী-দরিদ্র, গ্রাম-শহর এবং পূর্ব ও পশ্চিম অঞ্চলের মধ্যে বৈষম্য বেড়ে চলেছে। সুতরাং আমাদের দারিদ্র্য বিমোচনের পাশাপাশি এই আঞ্চলিক বৈষম্য দূর করতে হবে। এ জন্য সরকারের অর্থনৈতিক কর্মকা-ে দেশের সব অঞ্চলকে সম্পৃক্ত করতে হবে সমানভাবে। দুর্নীতিবাজ-লুটপাটকারীদের জব্দ করতে হবে। আরও গতিশীল করতে হবে গ্রামীণ অর্থনীতিকে। গ্রামে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে আয় বৈষম্য অনেকটাই দূর করা সম্ভব। আমরা আশা করি নতুন সরকার সেদিকেই নজর দেবে।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT