উপ সম্পাদকীয়

ফাঁসির মঞ্চ থেকে ফিরে এলেন বঙ্গবন্ধু

এ এইচ এম ফিরোজ আলী প্রকাশিত হয়েছে: ১০-০১-২০১৯ ইং ০০:০২:৩৭ | সংবাদটি ১৯৬ বার পঠিত

১৯৭১ সালে ১৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও বঙ্গবন্ধু ছিলেন পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি। তিনি ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি ফাঁসির মঞ্চ থেকে ফিরে আসেন তাঁর স্বাধীন বাংলাদেশে। যে কারণে এদিনটি বাঙালির জাতীয় জীবনে আরেকটি ঐতিহাসিক দিন। আমাদের বিজয়ের পূর্ণতা অর্জনের দিন। স্বাধীনতা সংগ্রামের দীর্ঘ ইতিহাসের শেষ অধ্যায়টি ছিল বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস। তিনি ফিরে না আসলে স্বাধীনতার ইতিহাস হয়ত অসম্পূর্ণ থেকে যেত। জাতি আজ যথাযোগ্য মর্যাদা ও আনন্দ উল্লাসে দিনটি উদযাপন করবে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়া হয় পাকিস্তানে। দীর্ঘ নয় মাস চৌদ্দ দিন পাকিস্তানের কারাগারে অন্ধকার প্রকোষ্ঠের নারকীয় বন্দিদশা থেকে ৮ জানুয়ারি মুক্তি পেয়ে লন্ডন হয়ে স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে আসেন বঙ্গবন্ধু।
কারাবাসকালে বঙ্গবন্ধু দেখে ছিলেন তাঁর বিচারের প্রহসন মৃত্যুদন্ড। মিয়াওয়ালী কারাগার থেকে তাঁর কবর খোঁড়ার ঘটনাও প্রত্যক্ষ করেছিলেন। বহু বছর কারাবাসের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন শেখ মুজিব জেলে বসেই প্রথম চ্যালেঞ্জ ছিল ভূট্টোর কবল থেকে বিনা শর্তে মুক্তি লাভ করা। জেল থেকেই জেলের ডিআইজি শেখ আব্দুর রশিদের সঙ্গে হৃদত্যাপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পাকিস্তানের পরাজিত জেনারেল নিয়াজির বাড়িও ছিল, মিয়াওয়ালীতে। পাকিস্তানের পরাজয়ের কোন হিংসাত্মক প্রতিক্রিয়া মিয়াওয়ালী জেলে যদি ঘটে, সেই ভয়ে শেখ রশিদ বঙ্গবন্ধুকে সরিয়ে নিয়ে যান তাঁর বাসস্থানে। কিছুদিন পর ইয়াহিয়াকে সরিয়ে পাকিস্তানের ক্ষমতার আসনে বসলেন জুলফিকার আলী ভূট্টো। তাঁর আদেশেই বঙ্গবন্ধু অন্তরীন অবস্থায় স্থানান্তরিত হলেন রাওয়াল পিন্ডির অদূরে সিহালা অতিথি ভবনে। ২৭ ডিসেম্বর সেখানে সাক্ষাত করেন জুলফিকার আলী ভূট্টো। ভূট্টোর জেলে বন্দী বঙ্গবন্ধু। সিহাল অতিথি ভবনে ছিল বেতার যন্ত্র। রেডিওতে বঙ্গবন্ধু আগেই শুনেছেন পাকিস্তানি ৯৩ হাজার যুদ্ধ বন্দীর কথা। বঙ্গবন্ধু বুঝতে পেরেছেন তিনি বন্দী হলেও তাঁর বাঙালি বিজয়ী। জনগণ বিজয় উল্লাস করছে। তাই ভূট্টোর কাছে তাঁর মুক্তি দাবি করলেন। ভূট্টোর উত্তর, আরও কিছুদিন আমাকে সময় দিন। তখন বঙ্গবন্ধু বুঝতে পারলেন ভূট্টো তাঁকে মুক্তি দিতে বাধ্য। ৭ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে নিকটবর্তী অতিথিশালায় নৈশভোজের আমন্ত্রণ জানান বঙ্গবন্ধুকে এবং তাঁকে মুক্তিদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেও জানালেন ভূট্টো। পরদিন পাকিস্তান শহরে আসছেন ইরানের শাহা। তিনি নাকি বঙ্গবন্ধুর দর্শনাগ্রহী। বঙ্গবন্ধুর আশংকা দুইজন মিলে তাঁর মুক্তির শর্তারোপ করতে পারেন। তাই কোন সুযোগ ভূট্টোকে দেয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। বঙ্গবন্ধু ভূট্টোকে জানালেন, না আমাকে যেতেই হবে, আমার জনগণ অপেক্ষা করছে। আমার আর থাকার উপায় নেই। আমার বাঙালির কাছে আমি ফিরে যেতে চাই।
নিরোপায় ভূট্টো পাকিস্তান আর বাংলাদেশ মিলে একটি কনফেডারেশনের কথা জানালেন। যার রাষ্ট্রপতি হবেন বঙ্গবন্ধু। বঙ্গবন্ধ দৃঢ়তার সঙ্গে বললেন, আমার জনগণের সাথে দেখা করতে হবে, আমার সময়ের প্রয়োজন, দেশে ফিরেই আপনাকে জানাবো। ভূট্টো বঙ্গবন্ধুর কথামালার কাছে হেরে যান। জনগণের সাথে কথা বলার প্রয়োজনীয়তা খন্ডন করতে পারলেন না। তার পর হাত খরচের জন্য ৫০ হাজার ডলার বঙ্গবন্ধুকে দিতে চাইলেন ভূট্টো। সবিনয়ে প্রত্যাখ্যান করলেন বঙ্গবন্ধু। কারণ কারও ফাঁদে পাঁ দেয়ার পাত্র নন তিনি। ধন্যবাদ, এ খরচ আমার যাত্রার খরচের জন্য রেখে দিন। বঙ্গবন্ধু সরাসরি ঢাকায় ফিরতে চান। বঙ্গবন্ধুকে দেশে পাঠানোর দায়িত্বে ছিলেন তৎকালিন পাকিস্তানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আজিজ আহমদ। রেডক্রস কিংবা জাতিসংঘের বিমানে সরাসরি দেশে আসার ইচ্ছার কথা জানালে ব্রিটেনকে বেছে নেওয়া হয় এবং রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা বজায় রেখে ১৯৭২সালে ৮ জানুয়ারি লন্ডন পৌছে দেওয়া হয় বঙ্গবন্ধুকে। বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসে বঙ্গবন্ধুর আগমনের খবর জানিয়ে দেয়া হলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড, দেশের বাইরে থাকলেও সকল কর্মসূচী বাতিল করে দেশে ফিরেন এবং বঙ্গবন্ধুকে রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে বরণ করেন। বঙ্গবন্ধু লন্ডনের সবচেয়ে দামী হোটেল ক্ল্যারিজে থাকার কথা শুনে নাখোশ হয়ে বলেন, আমি এত দামী হোটেলে যাবনা। তারপরও অনিচ্ছা থাকা সত্বেও সেই হোটেলে যেতে হয় বঙ্গবন্ধুকে।
হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি আবেগঘন ভাষায় প্রবল আত্মবিশ্বাসী সুরে বলেন “আমি কনডেম সেলে ফাঁসির অপেক্ষায় ছিলাম, বাঁচব কি মরব কিছুই জানতাম না, তবে জানতাম আমার বাংলাদেশ স্বাধীন হবেই। তখন হোটেলের বাইরে হাজার হাজার বাঙালি জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান দিয়ে সেখানকার আকাশ বাতাস প্রকম্পিত করে তুলছে। হোটেল কর্তৃপক্ষ হতবাক। বিশ্বের প্রায় সব দেশের রাজা-বাদশা, প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, বড় বড় রাজনৈতিক নেতা এ হোটেলে আতিথেয়তা নিয়েছেন, এমন ঘটনা তো কেউ কোনদিন দেখেনি। বঙ্গবন্ধুকে একনজর না দেখা পর্যন্ত কারো শান্তি নেই। মানুষের ভীড় দেখে ড. কামাল হোসেন নেমে আসেন হোটেলের বাইরের গেইটে। কিন্ত কার কথা কে শুনে। বঙ্গবন্ধুকে না দেখলে কেউ এক চুলও নড়বেন না। বাইরের খবর শুনেই বঙ্গবন্ধু হোটেল ব্যালকনিতে এসে হাত নাড়েন হাঁসি মুখে। এসময় স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয় অভিজাত মেফেয়ার এলাকা। বঙ্গবন্ধুকে দেখে হাজার হাজার বাঙালি হাউমাউ করে কেঁদে ছিলেন। বাঙালির চোখে পানি দেখে বঙ্গবন্ধুর চোখও থেমে থাকেনি। বিকেল ৫টায় প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হিথ বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বৈঠকে বসেন। বৈঠক শেষে ঘটে যায় এক অকল্পনীয় ঘটনা। বঙ্গবন্ধু যখন তাঁর গাড়িতে উঠবেন তখন প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হিথ নিজেই গাড়ির দরজা খুলে দিলেন এবং দরজা ধরে বঙ্গবন্ধু সিটে না বসা পর্যন্ত দাঁড়িয়ে রইলেন। কোন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এমন সম্মান অন্য কোন রাষ্ট্র প্রধানকে কোন দিন দেখাননি। এ ঘটনায় তাঁর অনেক সমালোচনা হলেও তিনি বলেছিলেন, “আমি যাকে সম্মান করেছি তিনি হচ্ছেন, একটি জাতির মুক্তিদাতা মহান বীর। তাঁকে সম্মান প্রদর্শন করে আমরা সম্মানিত হয়েছি। তারপর লেবার পার্টির লিডার হ্যারন্ড উইলসন বঙ্গবন্ধুর সাথে দেখা করে সর্ব প্রথম থাকে বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট বলে সম্বোধন করেন। তখন থেকেই ব্রিটিশ লেবার পার্টি সাথে বাংলাদেশে আওয়ামীলীগের গভীর সু-সম্পর্ক সৃষ্টি হয়ে ছিল।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে রাজকীয় কমেট জেট বিমান ৯ জানাুয়ারি সকাল ৭টায় জাতীর পিতাকে নিয়ে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে ১০ জানুয়ারি দিল্লী বিমানবন্দরে পৌছে। সেখানে ২০টি দেশের রাষ্ট্রদূত অথবা কুটনিতিক প্রতিনিধি বঙ্গবন্ধুকে সম্বর্ধনা জানানোর জন্য উপস্থিত ছিলেন। তদানীন্তন সোভিয়েত ব্লকের রাষ্ট্রদূত, বৃটেন, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, ইতালি, পশ্চিম জার্মান (সে সময়কার বিভক্ত জার্মানির সোভিয়েত বক্লকযুক্ত পূর্ব জার্মানির রাষ্ট্রদুত) নরওয়ে এবং ডেনমার্কের প্রতিনিধিরা। আব্দুস সামাদ আজাদ আগে থেকেই সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
ভারতের দিল্লী পালাম বিমান বন্দরেও হাজার হাজার মানুষের মিছিল। দিল্লীর জনসাধারণ বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিকে এক অভূতপূর্ব রাষ্ট্রীয় সম্বর্ধনা প্রদান করেন। রাষ্ট্রপতি ভিভি গিরি এবং প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী ২১বার তোপধ্বণি দিয়ে বঙ্গবন্ধুকে রাজকীয় সম্মান জানান। শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধী বলেছিলেন, আপনার জন্য আমরা গর্বিত। আপনি আপনার জনগণকে নতুন জীবন দান করেছেন। আপনার স্বাধীনতার স্বপ্ন আজ সার্থক। বিমান বন্দরে লাখ লাখ মানুষের সমাবেশে বঙ্গবন্ধু বলেন, দেশে যাওয়ার পথে আমি আপনাদের মহতি দেশের ঐতিহাসিক রাজধানিতে বিরতির সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমাদের জনগণের সবচেয়ে বড় বন্ধুূ ভারতের জনগণ। আপনাদের মহীয়সী প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী যিনি, কেবল মানুষ নন, মানবতারও নেতা। তাঁর নেতৃত্বাধীন ভারত সরকার বীরোচিৎ ত্যাগ স্বীকার করেছেন।
১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের স্বীকৃতির পথ সুগম হয়। ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর ভারত, ৭ ডিসেম্বর ভূটান, স্বীকৃতি দানের পর ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত স্বীকৃতির খাতা ছিল শূন্য। বঙ্গবন্ধু ঢাকা প্রত্যাবর্তনের পর পরই শুরু হলো বিশ্ব স্বীকৃতির পালা। ১১ জানুয়ারি জার্মানী, মঙ্গোলিয়া, ১২ জানুয়ারি বুলগেরিয়া, পোলান্ড, ১৩ জানুয়ারি প্রতিবেশী দেশ বার্মা বর্তমানে মায়ানমার। জানুয়ারি মাসেই সোভিয়েত ইউনিয়ন, অষ্ট্রেলিয়া, নিউজল্যান্ড সহ ১৭টি দেশ আমাদের স্বীকৃতি দেয়। আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশকে সর্বাগ্রে ১লা ফেব্রুয়ারি স্বীকৃতি দেয় সেনেগাল। ক্রমাগতভাবে ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, সুইডেন, নরওয়ে, পশ্চিম জার্মানী, যুক্তরাজ্য এবং আইসল্যান্ড। ইসরাইলের স্বীকৃতি বার্তা পেলেও সে সময় আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে স্বীকৃতি গ্রহণ করা ছিল অসম্ভব। এশিয়ার মুসলিম দুটি রাষ্ট্র মালেশিয়া, ইন্দোনেশিয়াও স্বীকৃতি দেয়। ৪ এপ্রিল ১৯৭২ সালে স্বীকৃতি দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এ বছর ৮ জুলাই স্বীকৃতি দেয় ইরাক। ১৯৭৩ সালের ১৩ জুলাই মরক্কো, আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, মৌরিতানিয়া স্বীকৃতি দেয়। তার পর ১৯৭৪ সালের ফ্রেরুয়ারিতে লাহোরের ইসলামি শীর্ষ সম্মেলনের প্রাক্কালে স্বীকৃতি দেয় পাকিস্তান।
এদিকে ক্ষত-বিক্ষত ধ্বংস লিলার স্তুপে দাড়িয়ে আনন্দের বন্যা যেমন ভেসে যাচ্ছে তেমনি বঙ্গবন্ধু বিহীন স্বাধীন বাংলাদেশ হাহাকার করছে। আবেগ আপ্লুত বাঙালির হৃদয়ে রক্তকরণ হচ্ছে। কখন ইতিহাসের মহানায়ক, প্রিয় নেতা স্বদেশের মাটিতে পা রাখবেন। ঢাকার আকাশে বাতাসে সর্বত্র সাজসাজ রব। তারপর ১০ জানুয়ারি সোমবার ১.৫১ মিনিটে ঢাকার আকাশ সীমায় ব্রিটিশ রাজকীয় বিমানটি দেখা মাত্রই অপেক্ষামান জনসমুদ্র উদ্বেলিত হয়ে উঠে। বিমানের সিঁড়ি স্থাপনের সাথে সাথে সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমদ, মুজিব বাহিনীর ৪ প্রধান, কেন্দ্রীয় স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতারা মুখে হাঁসি আর চোঁখে জল নিয়ে মহান নেতাকে হৃদয় নিংড়ানো ভালবাসা ও অভ্যর্থনা জানান। ডাকসুর সাবেক ভিপি তৎকালীন ছাত্রনেতা তোফায়েল আহমদ ফুল দিয়ে জাতির জনককে বরণ করেন। এসময় বঙ্গবন্ধুর সংযমের সব বাধ ভেঙ্গে যায়। তিনি কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। সে ছিল এক অবিস্মরনীয় অভুতপূর্ব মুহূর্ত। ইতিহাসের ইতিহাস। হাঁসি কান্নার সংমিশ্রনে বঙ্গবন্ধুর জীবন সাধনার স্বপ্নের একটি ইতিরেখা। তাঁর চোঁখে তখন স্বজন হারনোর বেদনা। ভারাক্রান্ত অশ্রুর নদী আর জ্যোতির্ময় দ্যুতি ছড়ানো চেহারায় বিজয়ী বীরের পরিতৃপ্ত হাসি। ৩১ বার তোপধ্বনি দিয়ে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে যাওয়া হয় মঞ্চের দিকে। স্বভাব সুলভ ভঙ্গিতে জনসমুদ্রে ঐতিহাসিক ভাষণে বললেন, “ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার সময় আমি বলব, আমি বাঙালি, বাংলা আমার দেশ বাংলা আমার ভাষা ---। বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম রাষ্ট্র এখন বাংলাদেশ। পরিশেষে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা থেকে উদ্ধৃত করে বলেন, “সাত কোটি সন্তানেরে হে মুগ্ধ জননী, রেখেছো বাঙালি করে, মানুষ করোনি”। কবিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, কবি গুরু তুমি এসে দেখে যাও, তোমার বাঙালি আজ মানুষ হয়েছে। তারপর ১২ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করে আবু সাইদ চৌধুরীকে রাষ্ট্রপ্রতি বানালেন। তাঁর ৫৪ বছরের জীবনে ৪ হাজার ৬৮২ দিন কারাগারে ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর গোটা জীবন কেটেছে আন্দোলন-সংগ্রামে। জীবন দিয়ে তিনি বাঙালির ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছেন। বাঙালি-বাংলাদেশ-বঙ্গবন্ধু এক সুতায় গাঁথা। নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জেনে হৃদয় দিয়ে লালন করে স্বাধীনতা যুদ্ধে ত্রিশ লাখ শহীদের ঋণ শোধ করবে আমাদের প্রজন্মের পর প্রজন্ম। সেটাই হোক তরুণ প্রজন্মের অঙ্গিঁকার।
লেখক : কলামিস্ট।

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • ছাত্রজীবনে ব্যর্থতা নিয়ে কথা
  • ফেসবুকের অপব্যবহার : আইন ও নৈতিকতা
  • এ বিবাদ মেটাতেই হবে
  • গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি ও গরিবের সরল গণিত
  • বন্যার্তদের সাহায্যে এগিয়ে আসতে হবে
  • দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও চীন-আমেরিকার রাজনীতি
  • সম্ভাবনার ক্ষেত্র এবং নতুন প্রযুক্তি
  • গণমানুষের মুখপত্র
  • জাহালম কি আরো আছে!
  • নারী নির্যাতন ও আমাদের বাস্তবতা
  • সিলেটের ডাক : কিছু স্মৃতি কিছু কথা
  • বর্ষাঋতুতে শিশুদের যত্ম
  • কোটি মানুষের মুখপত্র
  • ৩৬ বছরে সিলেটের ডাক
  • প্রত্যয়ে দীপ্ত ‘সিলেটের ডাক’
  • পাঠকের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি
  • এরশাদ : এক আলোচিত পুরুষের প্রস্থান
  • প্রাসঙ্গিক ভাবনায় ২০১৯-২০ অর্থ বছরের বাজেট
  • মেঘালয়ের মেঘমালা
  • পরিবেশ সংরক্ষণে সামষ্টিক উদ্যোগ
  • Developed by: Sparkle IT