সম্পাদকীয়

শিক্ষার্থীদের ঝরেপড়া

প্রকাশিত হয়েছে: ১০-০১-২০১৯ ইং ০০:০৯:০৩ | সংবাদটি ১০৯ বার পঠিত

প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে ৫৫ ভাগ শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে। গত দশ বছরে এস.এস.সি পর্যন্ত এই পরিমাণ শিক্ষার্থী ঝড়ে পড়েছে। এইসব শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় ৩২ ভাগ প্রথম পাঁচ বছরে বা পঞ্চম শ্রেণিতে উন্নীত হওয়ার আগেই ঝরে পড়ে। বাকিরা পরের পাঁচ বছরে বা এস.এস.সি পর্যন্ত উন্নীত হওয়ার আগেই ঝরে পড়ে। অথচ শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে নিয়ে আসা এবং ধরে রাখার লক্ষে সরকার ব্যয় করছে কোটি কোটি টাকা। বই দেয়া হচ্ছে বিনামূল্যে। বিদ্যালয়ে তাদের ধরে রাখার জন্য উপবৃত্তির নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হচ্ছে। বর্তমানে প্রাথমিক স্তরে শতভাগ শিক্ষার্থী এসেছে উপবৃত্তির আওতায়। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দেয়া হচ্ছে দুপুরের খাবার। এই সব কিছুর পরেও প্রশ্ন ওঠেছে এস.এস.সি পর্যন্ত অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে কেন?
একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত খবরে বলা হয়- চলতি বছর এস.এস.সি ও সমমান পরীক্ষায় পাস করেছে প্রায় ১৬ লাখ শিক্ষার্থী। এরা প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হয় ২০০৮ সালে এবং তখন প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির মোট সংখ্যা ছিলো ৩৫ লাখের ওপরে। সেই হিসেবে এস.এস.সি পর্যন্ত আসতে মাঝপথে ঝরে পড়েছে ৫৫ ভাগ শিক্ষার্থী। যদিও সরকারি হিসেবে এই ঝরে পড়ার হার কিছুটা কম। কিন্তু সরকারি বেসরকারি যেকোন পরিসংখ্যানেই শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার যে চিত্র ওঠে এসেছে, তা সত্যি উদ্বেগজনক। এই ঝরে পড়ার প্রধান একটি কারণ দারিদ্র্যকে উল্লেখ করেছেন বিশেষজ্ঞগণ। বছর কয়েক আগে বিশ্বব্যাংক এক প্রতিবেদনে বলে, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে দরিদ্র ও অ-দরিদ্রদের মধ্যে এখনও বড় ফারাক রয়েছে। এখন বাংলাদেশে মাধ্যমিক শিক্ষায় দরিদ্রদের অবস্থান অ-দরিদ্রদের চেয়ে ৩১ ভাগ নীচে। তবে প্রাথমিক স্তরে এই অর্জন কিছুটা হলেও নজর কেড়েছে। কিন্তু মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে এই ফারাক ব্যাপক। এতে বিদ্যালয়গুলোতে ধনী-দরিদ্র শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈষম্য এবং ভালো ফলাফলের ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে বৈষম্য রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয় বিশ্বব্যাংকের এই প্রতিবেদনে। এতে আরও বলা হয়, বিদ্যালয়ে যাওয়ার উপযুক্ত শিক্ষার্থীরা মূলত দারিদ্র্যের কারণেই বিদ্যালয়ের বাইরে থেকে যাচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার জন্য দারিদ্র্যই যে একমাত্র কারণ, তা নয়। যেমন- অভিভাবকদের অনীহা, মেয়ে শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ইভটিজিং, যাতায়াত সমস্যা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভাব, পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া ইত্যাদি কারণেও শিক্ষার্থীরা ঝরে পড়ছে। তবে দারিদ্রই হচ্ছে শিক্ষার্থীদের ব্যাপকভাবে ঝরে পড়ার প্রধান কারণ। বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গেছে, দিন দিন শিক্ষা ব্যয় বেড়ে চলেছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে পিইসি-জেএসসি পরীক্ষার কারণে কোচিং বাণিজ্য ও নোট গাইডের দৌরাত্ম্য বেড়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও রয়েছে নানা ধরনের ব্যয়। এতোসব ব্যয় বহন করা সম্ভব হয় না দরিদ্র অভিভাবকের পক্ষে। যার পরিণতি মাঝপথে সন্তানের লেখাপড়া বন্ধ করে দেয়া। এস.এস.সি উত্তীর্ণ হওয়ার আগেই অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থীর ঝরে পড়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের ভাবতে হবে গুরুত্বের সঙ্গে।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT