সম্পাদকীয়

সরকারি বনের বৃক্ষ চুরি

প্রকাশিত হয়েছে: ১১-০১-২০১৯ ইং ০০:০১:৪৯ | সংবাদটি ১১২ বার পঠিত


বৃক্ষ চুরির সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে সম্প্রতি এই পত্রিকায়। হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সরকারি বনাঞ্চল থেকে চুরি হচ্ছে মূল্যবান বৃক্ষ। প্রকাশিত খবরে বলা হয়-সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের শত শত গাছ চুরি হয়ে যাচ্ছে রাতের আঁধারে। বনের কর্মকর্তাদের যোগসাজসে দুর্বৃত্তরা এই অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বনাঞ্চল সংলগ্ন এলাকায় গড়ে ওঠেছে অবৈধ করাত কল। চুরি হওয়া গাছ প্রথমে এইসব করাত কলে মজুদ করা হয়। পরে তা পাচার হয় অন্যত্র। ফলে উজাড় হচ্ছে বনাঞ্চল। সাতছড়ি ও কালেঙ্গা রেঞ্জের অধীন তেলমাছড়া, শাহপুর, শালটিলা, রেমা এর ছনবাড়ি বনভূমির মূল্যবান বৃক্ষ চুরির ঘটনা ঘটছে প্রায় প্রতিদিনই। এই ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ বলা যায় নির্বিকার ভূমিকা পালন করছে।
সিলেটের অঞ্চলের সরকারি বনভূমি থেকে কাঠ চুরির ঘটনা ঘটে থাকে সারা বছরই। এটা শুরু হয়েছে অতীত থেকে। সরকারি বনাঞ্চলের কাঠ চুরি রীতিমতো রুটিন মাফিক কাজে পরিণত হয়েছে সংশ্লিষ্টদের কাছে। বন বিভাগের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারী, বনরক্ষী আর বনদস্যুরা মিলে মিশে ‘সমঝোতার’ মাধ্যমে সরকারী বনাঞ্চল উজাড় করে চলেছে। অপরদিকে বর্ধিত জনসংখ্যার আবাসন সুবিধা মেটাতে প্রতিনিয়ত অবাদি জমি ধ্বংস করা হচ্ছে। আবাদি জমিতে তৈরি হচ্ছে ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, বাজার, মার্কেট ইত্যাদি। আবার বনাঞ্চল কেটেও তৈরি করা হচ্ছে ঘরবাড়ি। বনাঞ্চল উজাড় হওয়ায় পরিবেশে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। দেখা দিয়েছে পরিবেশ বিপর্যয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি দেশের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় আয়তনের ২৫ শতাংশ বন বা গাছপালায় আচ্ছাদিত থাকার কথা। জনগণের জীবন যাত্রা ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় জলবায়ুর স্থিতিশীলতা এবং পানি ও মাটি ব্যবস্থাপনা স্বাভাবিক রক্ষার জন্যই ২৫ ভাগ জমিতে গাছপালা থাকা দরকার। কিন্তু বাংলাদেশের পরিস্থিতি অন্য রকম। বর্তমানে দেশে প্রায় সাত লাখ ৭০ হাজার হেক্টর বা আয়তনের মাত্র ছয় শতাংশ এলাকা বন যা গাছপালায় আচ্ছাদিত। তবে সরকারি হিসেবে এই পরিমাণ আরও একটু বেশি। হিসেবের এই গরমিল থাকলেও বাস্তব চিত্র হচ্ছে, বাংলাদেশের বনাঞ্চল ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে। দেশের ৫০ ভাগ বনাঞ্চল ধ্বংস হয়েছে গত দুই দশকে।
যে হারে জনসংখ্যা বেড়ে চলেছে এবং যে হারে ধ্বংস হচ্ছে বনাঞ্চল, সেই ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী দুই দশক পরে দেশে কতোটুকু আবাদি জমি কিংবা কতোটুকু বনভূমি অবশিষ্ট থাকবে, সেটা বলা মুশকিল। সুতরাং বৃক্ষসম্পদ ধ্বংসের মহোৎসব বন্ধ করতে হবে। সরকারি বনাঞ্চল ধংস করে বনদস্যুরা। এটা ঘটছে অনেক সময় প্রকাশ্যেই। দুর্নীতিবাজ বনরক্ষী কিংবা বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে ‘চুক্তির’ মাধ্যমেই চুরি হচ্ছে বৃক্ষ সম্পদ। সংরক্ষিত বনাঞ্চলের আশেপাশের অধিবাসীরা সচেতন হলে কাঠ পাচার রোধ করা সম্ভব। বন বিভাগের ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত বেশির ভাগ কর্মকর্তা-কর্মচারীই দুর্নীতিবাজ। এদের অপসারণ না করলে সরকারি বনাঞ্চল রক্ষা করা যাবে না।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT