ধর্ম ও জীবন

শীতকাল মুমিনের বসন্তকাল

আব্দুল্লাহ আল রাশেদ প্রকাশিত হয়েছে: ১১-০১-২০১৯ ইং ০০:০২:৫৫ | সংবাদটি ২৪৭ বার পঠিত

ভোরের শিরশির বাতাসে দেহ-মন শিউরে উঠে। সূর্য্যিমামার সোনালি কিরণে চিকচিক করে কুয়াশাভেজা সবুজ ঘাস। এ সকল নিদর্শন জানান দেয় শীতকালের। আল্লাহর অশেষ নেয়ামতরাজির মধ্যে ঋতুবদল অন্যতম নেয়ামত। ঋতুরাজ বসন্তকাল কার না প্রিয়! বসন্তকালে বাংলাদেশের প্রকৃতি রাজকীয় রূপে সাজে। তেমনি মুমিন বান্দাদের জন্য শীতকাল বসন্তকালস্বরূপ। শীতকালকে মুমিন বান্দারা সুবর্ণকাল হিসেবে গ্রহণ করে। এসময় রাত্রি দীর্ঘ এবং দিন ছোট হওয়ায় মাবুদের সান্নিধ্যের সুযোগ তৈরী হয়। মুমিনরা এই সুযোগকে কোনোভাবে হাতছাড়া করেনা। এজন্য শীতকালের রয়েছে বিশেষত্ব। আল্লাহ বলেন, ‘আর তিনি দিবারাত্রিকে পরস্পরের অনুগামী করেছেন, যে উপদেশ গ্রহণ করতে চায় অথবা কৃতজ্ঞ হতে চায় তার জন্য।’ (সূরা- ফোরকান, আয়াত : ৬২)
মহান আল্লাহ অন্যত্র বলেন, ‘আল্লাহ দিন ও রাতের আবর্তন ঘটান, নিশ্চয়ই এতে জ্ঞানীদের জন্য শিক্ষা রয়েছে’ (সূরা-২৪ নূর, আয়াত: ৪৪)। প্রখ্যাত সাহাবী আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, মহানবী (সা.) বলেন, ‘শীতকাল হচ্ছে মুমিনের বসন্তকাল’ (মুসনাদে আহমাদ : ১১৬৫৬)। হযরত ওমর ইবনে খাত্তাব (রা.) বলেন, শীতকাল ইবাদতকারীদের জন্য (ইবাদত করার) চমৎকার মৌসুম।
অন্য বর্ণনায় রয়েছে, ‘শীতের রাত দীর্ঘ হওয়ায় মুমিন রাত্রিকালীন নফল নামাজ আদায় করতে পারে এবং দিন ছোট হওয়ায় রোজা রাখতে পারে’ (সুনানে বায়হাকি)। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমের (রা.) বর্ণনা করেন, শীতল গনিমত হচ্ছে শীতকালে রোজা রাখা’ (তিরমিজি: ৭৯৫)। হাদিসটির ব্যাখ্যায় বর্ণনা করা হয়েছে শীতল গনিমত হচ্ছে সহজলভ্য গনিমত। যেহেতু শীতের রোজায় রোজাদার গরমের তৃষ্ণা অনুভব করে না। দিনের আকার ছোট হওয়ায় রোজায় ক্লান্তি আসে না। এজন্য অন্যান্য সময় থেকে এসময় রোজা রাখা তুলনামূলক সহজ হয়ে থাকে।
অপর এক বর্ণনায় আছে শীতকাল এলে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলতেন, ‘হে শীতকাল! তোমাকে স্বাগত! শীতকালে বরকত নাযিল হয়; শীতকালে রাত দীর্ঘ হওয়ায় নামাজ আদায় করা যায় এবং দিন ছোট হওয়ায় রোজা রাখা যায়। বিশিষ্ট রাবী আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, ‘আমি কি তোমাদের শীতল গনিমত কী সেটা বলে দেব না?’ শ্রোতারা বললেন, অবশ্যই। তিনি বললেন ‘সেটা হচ্ছে শীতকালে দিনে রোজা রাখা ও রাতে নামাজ আদায় করা।’ তাছাড়া কিছু আমলে শীতকালে অত্যাধিক সওয়াব হাসিল করা যায় এবং গুনাহ মাফ করানো যায়। এ বিষয়ে রাসুল (সা.) বলেন, ‘তিনটি আমল পাপ মোচন করেÑসংকটকালীন দান, গ্রীষ্মের রোজা ও শীতের অজু।’ শীতকালের এত সকল ফযিলত এবং তাৎপর্যের কারণে সাহাবায়ে কেরাম এবং পরবর্তীরা এই সময়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে আমলে ব্রত হতেন।
পূর্ববর্তীদের মধ্যে যারা রাত্রিতে তাহাজ্জুদ পড়তে পারতেন না এবং দিনে সিয়াম পালন করতে পারতেন না তারা ক্রন্দন করতেন এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতেন। আমাদের মাঝে শীতকাল এসেছে আল্লাহর নৈকট্য লাভের সুবর্ণ সুযোগ নিয়ে। আমাদের উচিত এই সময়ের যথার্থ মূল্যায়ন করা এবং ইহকালীন কল্যাণ ও পরকালীন শান্তি নিশ্চিতে ব্রত হওয়া। কেননা পরকালে কঠিন সময়ে আমাদের সৎকর্মগুলোই মুক্তির উপায় হবে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের এই ঋতুতে বেশি বেশি ইবাদত করে পরকালের চিরস্থায়ী জীবনের সম্বল উপার্জন করে রাখার তাওফিক দান করুন। আমীন!

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT