উপ সম্পাদকীয় দৃষ্টিপাত

হাওর উন্নয়নেই অর্থনৈতিক মুক্তি

মুহম্মদ আব্দুর রউফ প্রকাশিত হয়েছে: ১১-০১-২০১৯ ইং ০০:০৫:৪৬ | সংবাদটি ৭৩ বার পঠিত

হাওরের খাদ্য-মাছ উৎপাদনের কারণে অতীতে পর্যটকদের ভাষায় “বাংলাদেশ একটা স্বর্গ রাজ্য” ছিল। কালের প্রবাহে সব কিছুরই উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলছে। কিন্তু হাওর গুলো মৃত প্রায় হয়ে পড়ে আছে। প্রযুক্তির যুগে কলের লাঙ্গল এনে কৃষক শ্রমিকদের ফেলল বেকায়দায়। কৃষি জমির মালিকরা আনন্দে নেচে ওঠলেন কেউ কেউ। যারা দশজন কৃষি শ্রমিক রাখতেন, তারা একটি কলের লাঙ্গল এনে শুধু মাত্র একজন কৃষি শ্রমিক ছয় মাসের জন্য রাখলেন। সে কলের লাঙ্গল চালায় ধান রূপণসহ যাবতীয় কাজ টাকা দিয়ে সমাপন করেন। বৈশাখ যখন এলো তখন ধান কেটে ঘরে তুলার কাজটি কৃষি শ্রমিকের অভাব। একটু বৃষ্টি হলে হাটু পানি ও কাদা। তখন লোকবলের প্রয়োজন। কিন্তু কলের লাঙ্গল এসে সে লোকবল তাড়িয়ে দিয়েছে। কৃষির দক্ষ শ্রমিকেরা পেটের দায়ে অন্য পেশায় ঠাঁই করে নিয়েছে। অতিবৃষ্টি অথবা অকাল বন্যা আমাদের হাওরাঞ্চলে ফসলের মারাত্মক শত্রু। যারা ধান কাটার শ্রমিক পেল তাও উচ্চ মূল্যে। হয় ফসলের অর্ধেক দিয়ে ধান কাটাতে হয়। অদক্ষরা ধান কাটে ঠিকই কিন্তু অর্ধেক ধান থেকে যায় ঐ জমিতেই। ধান যা-ও কাটা হল আধাই হোক আর এ তৃতীয়াংশই হোক তা হাওরের তলা থেকে আনার কোন ব্যবস্থা নেই। যদি জাঙ্গাল বা রাস্তার ব্যবস্থা থাকতো অন্তত: ঠেলা গাড়ী চলার পথটা নির্মিত হত অথবা পাশে নালার ব্যবস্থা থাকত তা হলেও ফসল ঘরে ওঠার ব্যবস্থা হতো। আসি হাওর রক্ষা বাঁধের কথায়, যার বরাদ্দ আসে ফাগুন-চৈত্র মাসে। তখন বৃষ্টিও শুরু হয়ে যায়। নতুন মাটির বাঁধে বৃষ্টি যখন পড়তেই থাকে তখন বাঁধ আর বাঁধ থাকেন। বৃষ্টির পানিতে মিশে একাকার হয়ে নীচের মাটি দিকে চলে যায়। তেমনি অকাল বন্যার পানি এলে ঔ মাটিতে নতুন বাঁধ পানিতে মিশে ভেঙ্গে যায় এবং সহজেই হাওরে পানি ঢুকে ফসল তলিয়ে দেয়। এসব দেখার এসবের প্রতি যতœ নেবার কে? ডিজিটাল বাংলাদেশে “কার গোলায় কে দেয় ধুয়া”। সবাই নেতা একজন আরেক জনকে দোষারূপ করেই সব শেষ। ইত্যাদি ইত্যাদি নানা কারণে হাওর তথা হাওরাঞ্চলের সর্বনাশ ঠেকাতে এদেশে একটা পৃথক মন্ত্রণালয় গঠন করা দরকার। আমি দেখেছি আমাদের এখানে বড় বড় হাওর, যেমন টাঙ্গুয়ার হাওর, শনির হাওর, মাটিয়ার হাওর, হালির হাওর ইত্যাদি আরও ছোট বড় হাওর এবং হাওর পারের মানুষের বৈশাখে ধান কাটার সময় যে তাদের কত বিড়ম্বনা।
যদি হাওরাঞ্চলের বৈশাখী ফসলটা ঠিক ঠিক মত ওঠে তাহলে দেশে খাদ্য ঘাটতি তো থাকবেই না বরং খাদ্য উদ্বৃত্ত দেশে পরিণত হবে। আর ভাল খাদ্যের ওপর নির্ভর করে জাতির সু-স্বাস্থ্য।
অতএব সকল দিক চিন্তা-ভাবনা করে দেখা যায়, হাওরাঞ্চলের উন্নয়নের জন্য একটা মন্ত্রণালয় সৃষ্টি করলে উন্নয়নের দায়িত্বশীলতা নিয়ে হাওর উন্নয়নের কাজ এগিয়ে চলবে। সাথে সাথে জাতিও উন্নতির ধাপে এগিয়ে যাবে। এতেই জাতির অর্থনৈতিক মুক্তির কাজ তরান্বিত হবে। জাতির অর্থনৈতিক মুক্তির পথ সুগম করার মানসে হাওরাঞ্চলের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় গঠন করার আবেদন করছি। জনস্বার্থে উক্ত মন্ত্রণালয় গঠন খুবই প্রয়োজন।

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • ১৯৭১-এর সেই ভয়াল রাত
  • স্বাধীনতা ও দেশপ্রেম
  • মুক্তিযুদ্ধে পরদেশি বন্ধু সঙ্গীতশিল্পী
  • সড়ক দুর্ঘটনার দায় ও দায়িত্ব
  • সন্ত্রাসবাদের নির্মমতা ও বিশ্বব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ
  • একজন মারুফ জামানের ফিরে আসা
  • তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি
  • চোপড়া-জোলিরা কিসের বার্তা দিয়ে গেলেন?
  • জীবন থেকে নেওয়া
  • প্রাসঙ্গিক কথকতা
  • সিলেট বিভাগের শিল্পায়ন ও সম্ভাবনা
  • আমরা কি স্বাধীনতার অর্থ খুঁজি?
  • বৈশ্বিক শ্রমবাজার সম্প্রসারণে উদ্যোগ প্রয়োজন
  • হুমকির মুখে ভোলাগঞ্জ মহাসড়কের দশ নম্বর এলাকা
  • পাসপোর্ট ভোগান্তি
  • শিশুশিক্ষায় শাস্তি পরিহার বাঞ্ছনীয়
  • প্রাকৃতিক দুর্যোগ
  • ভোগবাদী বিশ্বায়ন বনাম লোকসংস্কৃতি
  • সমাবর্তনে শুভ কামনা
  • উন্নয়নে যুবসমাজের ভূমিকা
  • Developed by: Sparkle IT