ইতিহাস ও ঐতিহ্য

ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়

মাজেদা বেগম মাজু প্রকাশিত হয়েছে: ১৬-০১-২০১৯ ইং ০০:২৯:৫৪ | সংবাদটি ৯৫ বার পঠিত

একটি ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ হিসেবে পরিচিত নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম প্রতিষ্ঠিত হয় ৪১৩ খ্রিস্টাব্দে। অক্সফোর্ড, কেমব্রিজ এমনকি ইতালির বোলনিয়ায় যখন ইউরোপের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়, নালন্দার বয়স তখনই ৬৫০ বছর। ইতিহাসবিদদের মতে ৪২৭-১১৯৭ খ্রিস্টাব্দে নালন্দা ছিল একটি প্রসিদ্ধ বৌদ্ধ শিক্ষাক্ষেত্র। এখানকার কয়েকটি সৌধ মৌর্য স¤্রাট প্রথম অশোক নির্মাণ করেছিলেন। গুপ্ত স¤্রাটরাও এখানকার কয়েকটি মঠের পৃষ্ঠপোষকতায় ছিলেন। এরপর গুপ্ত স¤্রাট প্রথম কুমারগুপ্তের (৪১৫-৪৫৫) রাজত্বকালে নালন্দা মহাবিহারের বিকাশ লাভ করে। খ্যাতির মধ্যগগণে থাকাকালীন চীন, গ্রীস ও পারস্য থেকেও শিক্ষার্থীরা এখানে পড়াশোনা করতে আসতেন। ১১৯৩ সালে বখতিয়ার খলজি বাহিনীর দ্বারা এই খ্যাতনামা শিক্ষায়তনটি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়ে নিছকই একটি প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শনে পরিণত হয়।
তবে আশার কথা হলো, ঐতিহাসিক এ প্রতœ নিদর্শনকে আবারও একটি আন্তর্জাতিক শিক্ষানিকেতনে রূপান্তরের কাজ শুরু হয়েছে। নোবেল বিজয়ী বাঙালি অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিদ্যানুরাগী ও পন্ডিতদের একটি দল এ কাজে হাত দিয়েছেন। প্রায় ৮০০ বছরেরও বেশি সময় পর ১ সেপ্টেম্বর ২০১৪ সাল থেকে পাঠদানের মাধ্যমে আবারো চালু হয় ভারতের বিহার রাজ্যের নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়।

এক সময় যেভাবে সারা বিশ্বের শিক্ষার্থীরা নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছুটে আসতেন সেই ইতিহাসকে সাক্ষী রাখার প্রত্যয়ে ৫ ছাত্রীসহ মোট ১৫ জন শিক্ষার্থী ও ১১ জন শিক্ষক নিয়ে ইকোলজি, পরিবেশবিদ্য্য এবং ইতিহাস বিভাগের ক্লাশ শুরুর মধ্য দিয়ে পুনরায় চালু হয় এর শিক্ষা কার্যক্রম।
অমর্ত্য সেনের মতে, প্রাচীন নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় পূর্ণমাত্রায় বিকশিত হতে সময় লেগেছিল ২০০ বছর। নতুন এ বিশ্ববিদ্যালয় বিকশিত হতে তত সময় না লাগলেও অন্ততপক্ষে কয়েক দশক লাগবে।
বিহারের রাজধানী পাটনা থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত রাজগির শহরে একটি অস্থায়ী ক্যাম্পাসে এ শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। বিশ্ববিদ্যালয়টির নতুন যাত্রা ভারত সরকার ও পূর্ব এশিয়া সম্মেলনভুক্ত (ইএএস) ১৮টি দেশের একটি উদ্যোগের ফসল। ২০১৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ব্রুনাই সফরকালে অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুরসহ ইএএস ভুক্ত সাতটি দেশের সাথে চুক্তিবদ্ধ হন। ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি এপিজে আবদুল কালামেরও এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রয়েছে।
২৮ মার্চ ২০০৬ তিনিই প্রথম নালন্দাকে পুনর্জন্ম দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। আর তারই ধারাবাহিকতায় ২০১০ সালে ভারতীয় পার্লামেন্টে পাস করা হয় নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় বিল, যা কার্যকর হয় ২১ সেপ্টেম্বর ২০১০। এতে প্রস্তাব রাখা হয় নতুন আকারে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে তাতে পড়ানো হবে ভাষাতত্ব, ইতিহাস, পররাষ্ট্রনীতি, পরিবেশ বিদ্যা ও বৌদ্ধ দর্শনের মতো নির্বাচিত কয়েকটি বিষয়। সেই সাথে জোর দেয়া হবে টেকসই উন্নয়ন ও প্রাচ্যের ভাষার ওপর।
উদ্যোক্তারা বলেছেন, তারা বিশ্বমানের এমন একটি আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে চান, যেখানে সারা পৃথিবী থেকে শীর্ষ মেধাবী শিক্ষার্থী ও গবেষকরা জ্ঞানসাধন করতে আসবেন।
প্রফেসর সুনায়না সিং বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টির চ্যান্সেলর হলেও অমর্ত্য সেন পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ও চ্যান্সেলর থাকাকালীন তার পরামর্শ অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল ইউনিভার্সিটির ফরেস্ট্রি স্টাডিজ, ব্যাংককের চুলালংকর্ণ ইউনিভার্সিটির ইতিহাস বিভাগ, দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল ইউনিভার্সিটি ও চীনের পিকিং ইউনিভার্সিটির সঙ্গে তাদের প্রত্যক্ষ যোগাযোগ থাকবে।
শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই নয় বলতে গেলে মানব সভ্যতার অগ্রযাত্রায় আরেক নাম নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় যা বিশ্বের প্রথম পূর্ণাঙ্গ একটি আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমেই বিশ্বের বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠির মধ্যে গড়ে ওঠেছিল সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক।

শেয়ার করুন
ইতিহাস ও ঐতিহ্য এর আরো সংবাদ
  • মুদ্রায় ভাষা আন্দোলনের চেতনা
  • হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ খেলাধুলা
  • প্রথম ছাপানো বই
  • বিলুপ্তির পথে ঐতিহ্যের শিলপাটা
  • গ্রন্থাগার আন্দোলনের ইতিহাস ও মুসলিম সাহিত্য সংসদ
  • প্রাচীন মালয় রাষ্ট্র ব্রুনাই
  • সিলেটের ঐতিহ্য সুরমা
  • সিলেট অঞ্চলের ইংরেজি সংবাদপত্র
  • পার্বত্য সংকটের মূল্যায়ন
  • সেকালে সিলেটের কেনাকাটা
  • লোকসংস্কৃতি ও আমাদের সাহিত্য
  • শীতের ঐতিহ্যবাহী খেজুরের রস
  • বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা অতীত ও বর্তমান
  • নাটোরের জমিদার রানী ভবানী
  • ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়
  • সাহিত্য সাময়িকী নিশানা
  • জলসার একাল-সেকাল
  • স্তম্ভবিহীন মসজিদ
  • বাংলার ঐতিহ্যবাহী পিঠা
  • হারিয়ে যাচ্ছে খেজুর গাছ
  • Developed by: Sparkle IT