ধর্ম ও জীবন

শান্তি প্রতিষ্ঠায় মহানবী (সা.)

মুসলিমা বিনতে ছয়েফ মিম প্রকাশিত হয়েছে: ১৮-০১-২০১৯ ইং ০০:৩৮:০৭ | সংবাদটি ৮৮ বার পঠিত

হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা (সা.) ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে আরব দেশের মক্কা নগরীতে কুরাইশ বংশে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি সর্বশেষ নবী ও রাসুল। তিনি কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যায়ন করেন নাই। তাঁর শিক্ষক স্বয়ং আল্লাহ তা’আলা। তিনি ছিলেন উত্তম চরিত্রের অধিকারী।
হযরত ঈসা (আ.) কে আল্লাহ পাক প্রথম আসমানে নেওয়ার প্রায় ৫০০ বছর পর হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর জন্ম হয়। ঐ দীর্ঘ সময় আল্লাহ পাক আর কোন নবী-রাসুল ও আসমানী কিতাব পৃথিবীতে প্রেরণ করেন নাই। ফলে আল্লাহ পাকের গোলামী থেকে মানুষ দূরে সরে যায়। এক আল্লাহর পরিবর্তে বিভিন্ন দেব-দেবীর পূজা শুরু করে।
নবী করিম (সা.) এর জন্মের পূর্ব থেকে আরবের সমাজ ব্যবস্থা ভয়ঙ্কর ছিলো। লোকেরা নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ডে লিপ্ত ছিল। ঐ সময়কে বলা হয় আইয়্যামে জাহেলিয়াত বা অন্ধকার যুগ। চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, দুর্নীতি ইত্যাদির মাধ্যমে লোকেরা জীবিকা নির্বাহ করতো। ঝগড়া-বিবাদ, মারা-মারি ও যুদ্ধ বিগ্রহের মাধ্যমে লোকজন একে অপরকে হত্যা করত। নারী-পুরুষ উলঙ্গ হয়ে পবিত্র কাবা ঘর তওয়াফ করতো। জুয়া খেলার আসর বসতো। ক্রীতদাস প্রথার প্রচলন ছিল। হাট-বাজারে পণ্যের মতো ক্রীতদাস বিক্রি করা হতো। ক্রীতদাসদের মানুষ হিসেবে গণ্য করা হতো না। প্রভুদের ইচ্ছের উপর তাদের জীবন-মৃত্যু নির্ভর করতো। মনিবেরা ক্রীতদাসদের উপর নিষ্ঠুর আচরণ করতো। কতিপয় ব্যতিক্রম ছাড়া নারীদের অবস্থা ভালো ছিলো না। তাদের সামাজিক অধিকার ও মর্যাদা ছিলো না। মেয়ে শিশুদের জন্মের পরে জীবন্ত মাটিতে পুঁতে ফেলা হতো। সর্বোপরি বিভিন্ন গোত্রে প্রায়ই যুদ্ধ বিগ্রহ লেগে থাকতো। এমন পরিবেশে নবী করিম (সা.) জন্মগ্রহণ করেও তাঁর উত্তম চরিত্র ও সত্যবাদিতার জন্য সবাই তাঁকে আল-আমিন বলে ডাকতো। যার অর্থ বিশ্বাসী। তিনি পৃথিবীর সকল জীবের উপকারি বন্ধু। তাই তাঁকে রাহমাতুল্লিল আলামিন বলা হয়।
সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় মহানবী (সা.) অনন্য ভূমিকা পালন করেন। আইয়্যামে জাহেলিয়াত অর্থাৎ অন্ধকার যুগের সময়ের অবস্থা দেখে মহানবী (সা.) ব্যথিত হলেন। তৎকালীন আরবের ওকাজ মেলায় জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে কুরাইশ ও কায়েস বংশের মধ্যে দীর্ঘ পাঁচ বছর যুদ্ধ হয়। যার নাম ফিজার যুদ্ধ। এ দেখে নবী করিম (সা.) আরবে কিভাবে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা যায়, তা নিয়ে ভাবতে লাগলেন, অবশেষে তিনি শান্তিকামী কিছু যুবককে নিয়ে ‘হিলফুল ফুযুল’ নামে একটি শান্তি সংঘ গঠন করেন। তাঁর এ প্রচেষ্টার ফলে সমাজে কিছুটা শান্তি ফিরে আসে। ফলে সকল মানুষের মধ্যে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব সৃষ্টি হলো এবং তাঁর সুখ্যাতি চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ল। কাবা ঘরে হাজরে আস্ওয়াদ (কালো পাথর) স্থাপনকে কেন্দ্র করে আরবের বিভিন্ন গোত্রে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যেকেই এ পাথরটি কাবা ঘরে স্থাপন করতে চায়। অবশেষে সিদ্ধান্ত হলো, পরদিন সকালে কাবা গৃহে সবার আগে যিনি প্রবেশ করবেন, তিনিই ঐ বিবাদ মিমাংসা করবেন। পরদিন দেখা গেল সবার আগে মহানবী (সা.) কাবা গৃহে সর্ব প্রথম প্রবেশ করলেন। সবাই দেখে বলল, আল-আমিন এসেছেন। তিনি সঠিক সিদ্ধান্ত দিবেন। নবী করিম (সা.) একটি চাদর ভূ-পৃষ্ঠে রেখে পাথরটি নিজ হাতে চাদরের মধ্যখানে রাখলেন। সকল গোত্রের সর্দারদের ডেকে চাদরটি ধরতে বলেন। সর্দারগণ চাদরটি ধরে যথাস্থানে নিয়ে গেল এরপর মহানবী (সা.) নিজ হস্তে পাথরটি কাবা গৃহের দেয়ালে বসিয়ে দিলেন। ফলে একটি ভয়াবহ যুদ্ধ থেকে আরব সমাজ রক্ষা পেল।
মহানবী (সা.) আমাদের মধ্যে নেই। তিনি শুধু তাঁর সুন্নাহ ও কুরআন শরীফ আমাদের জন্যে দিয়ে গেছেন। তাঁর জীবনাদর্শ গ্রহণ করলে আমরা পথভ্রষ্ট হবো না। তাঁর মতো চললে আমাদের সামাজিক শান্তি ও সম্প্রীতি অক্ষুণœ থাকবে।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT