শিশু মেলা

অ্যারিয়েন জু

জসীম আল ফাহিম প্রকাশিত হয়েছে: ২৪-০১-২০১৯ ইং ০০:০৯:৩০ | সংবাদটি ৬৩ বার পঠিত

ইশার বাবা একজন বিখ্যাত বিজ্ঞানী। ‘বিজ্ঞানী সালমান’ নামে সবাই তাকে চেনে। মাঝেমধ্যে তিনি গবেষণার কাজে দেশের বাইরে যান। বিদেশী বড়ো বড়ো বিজ্ঞানীদের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ করেন। বিদেশী বিজ্ঞানীদের ধারণাগুলো তিনি নিজের গবেষণা কাজের সাথে মিলিয়ে দেখেন। তাদের সাথে তিনি অভিজ্ঞতার আদান-প্রদান করেন। যখন তিনি দেশে থাকেন তখন পরিবার পরিজন নিয়ে দূরে কোথাও বেড়াতে বের হন। নিজের একটা মোটর গাড়ি আছে তার। গাড়িতে চড়ে দু’তিনদিন কোথাও বেড়িয়ে তবেই বাসায় ফিরেন।
সেদিনও তারা বেড়াতে যান। ফিরে এসে মোটর গাড়িটি বাসার সামনে থামাতেই গেটের ওপাশ থেকে অদ্ভুত এক প্রকার আওয়াজ ভেসে আসে। কীসের আওয়াজ ওটা? কেমন বিদঘুটে! মনে হচ্ছে কারও নাসিকার গর্জন। ভেতরে কেউ ঘুমাচ্ছে নাকি? অবাক হয়ে ভাবেন বিজ্ঞানী সালমান।
গেট খুলে দেয়ার জন্য তিনি গাড়ির হর্ন বাজান। একবার। দু’বার। তিনবার। কিন্তু দারোয়ান গেট খুলে না। বিষয় কী! আশপাশে কেউ নেই নাকি? গেল কোথায় সব? হর্ন বাজিয়ে কাজ হচ্ছে না দেখে বিজ্ঞানী সালমান গাড়ি থেকে নেমে আসেন। মনমেজাজ খারাপ করে তিনি এবার ডোরবেল চাপেন। একবার। দু’বার। তৃতীয় বার আর তাকে ডোরবেল চাপতে হয়নি। মনে হচ্ছে বেলের কর্কশ আওয়াজ শুনে গেটের ওপাশে কারও ঘুম ভেঙে গেছে। ঘুম থেকে লাফিয়ে উঠেছে কেউ। সেই সঙ্গে ঘুম জড়ানো কণ্ঠে জিজ্ঞেস করেÑকে? কে ওপাশে? বেল চেপেছে কে?
বিজ্ঞানী সালমান কণ্ঠটা চিনতে পারেন। দারোয়ান তখলিসের কণ্ঠ। ধমকের সুরে তিনি বলেন, চুপ কর গাধা। তাড়াতাড়ি গেট খোল। অনেকদূর থেকে আমরা জার্নি করে এসেছি। অনেক পেরেশানিতে আছি। জলদি গেট খোল।
অমনি হন্তদন্ত হয়ে খাকি পোষাক পরা লাঠি হাতে একজন দারোয়ান এসে গেট খুলে দেয়। বিজ্ঞানী সালমান বিরক্তিভরা মনে গাড়ি নিয়ে বাসার ভেতর প্রবেশ করেন। গাড়িটি গ্যারেজে ঢুকিয়ে চাবি নিয়ে তিনি রুমের তালা খুলতে যান। কিন্তু আশ্চর্য ব্যাপার! তালা তো খোলা। রুমের তালা খুলে রেখেছে কে? বাসায় চোর ঢুকেছে নাকি?
ভেবে বিজ্ঞানী সালমান দরজার কপাট সরিয়ে রুমের ভেতর প্রবেশ করেন। সাথে তার ছোট্ট মেয়ে ইশা এবং তার মাও ঢোকেন। ভেতরে প্রবেশ করে তারা দেখেন রুমের সবকিছু আগোছালো। মনে হচ্ছে কেউ একজন রুমে ঢুকে সবকিছু তছনছ করে দিয়ে গেছে। ইশার মা স্টিলের লকারটার দিকে তাকিয়ে জোরে চিৎকার দিয়ে উঠেনÑআমার সবকিছু নিয়ে গেছে রে! সোনাদানা টাকাপয়সা লকারে যা কিছু ছিল সব নিয়ে গেছে। এখন আমার কী হবে গো। বলে তিনি পাশে একটি সোফায় গা এলিয়ে দিয়ে মাতম শুরু করেন।
এমনি পরিস্থিতিতে ইশা কেমন যেন ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যায়। কী যে সে করবে কিছুই ভেবে পায় না। তাই সেও মায়ের পাশে সোফায় গিয়ে বসে পড়ে।
বিজ্ঞানী সালমান রাগে দাঁত কটমট করতে থাকেন। গলা ফাটিয়ে তিনি দারোয়ানকে ডাক দেনÑতখলিস! তখলিস! জলদি এদিকে আয়।
মালিকের কড়া কণ্ঠের ডাকে তখলিস ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। এসে শীতার্ত বুড়ো লোকের মতো সে থরথর করে কাঁপতে থাকে। সেটা ভয়ে নাকি রুমের বেহাল দশা দেখে ঠিক বোঝা যায়নি।
বিজ্ঞানী সালমান চোখ রাঙিয়ে জিজ্ঞেস করেন, এসব কে করেছে?
তখলিস নীচু গলায় বলে, আমি জানি না সাহেব।
বিজ্ঞানী সালমান বলেন, জানিস না বললেই তো পার পাবি না। বল রাতে ছিলি কোথায়?
তখলিস বলে, বাসাতেই তো ছিলাম সাহেব।
Ñবাসাতেই ছিলি মানে? তাহলে ঘরে চোর ঢুকেছে কেমন করে? বাসায় থেকে তুই করেছিসটা কি?
Ñআমি প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে ঘুমিয়ে পড়ি সাহেব। কীভাবে যে কী হয়ে গেছে আমি কিছু টের পাইনি।
Ñটের পাসনি, না? এখুনি টের পাবি। বলে তিনি থানায় ফোন করেন।
তার কিছুসময় পরই থানার ভারপ্রাপ্ত তদন্ত কর্মকর্তা গাড়ি হাঁকিয়ে বিজ্ঞানী সালমানের বাসায় ছুটে আসেন। এসে প্রথমে তিনি পুরো বাসা ভালো করে একবার দেখে নেন। তারপর কী কী জিনিস খোয়া গেছে সবকিছু একটি নোটবুকে লিপিবদ্ধ করেন। যাবার সময় ভারপ্রাপ্ত তদন্ত কর্মকর্তা তখলিসকে বেঁধে সঙ্গে করে নিয়ে যান। থানায় নিয়ে তখলিসকে আলাদা একটি রুমে রাখা হয়।
ঘণ্টাখানেক পর ওসি সাহেব মুখভরা পান চিবুতে চিবুতে আর হাতে একটি লাঠি ঘোরাতে ঘোরাতে তখলিসের রুমে ঢোকেন। প্রথমে শান্ত গলায় ওসি সাহেব বলেন, সত্যি করে বল জিনিসপত্র কোথায় নিয়ে রেখেছিস। মিথ্যা বলবি তো হাড়গুড় ভেঙে গুঁড়ো করে দেবো।
ওসি সাহেবের সামান্য ভয় দেখানোতেই কাজ হয়। তখলিস সব স্বীকার করে ফেলে। কাজটি সে-ই করেছে। তখলিসের স্বীকারোক্তি লিপিবদ্ধ করে ওসি সাহেব তাকে কোর্টে চালান করে দেন।
সেই থেকে দারোয়ানদের প্রতি বিজ্ঞানী সালমানের বিশ্বাস বলা যায় একেবারেই উঠে গেছে। তিনি এখন সব সময় গেটে তালা ঝুলিয়ে রাখেন। তালা দিয়ে বাসা থেকে বের হন। আবার তালা লাগিয়ে বাসায় ঢুকেন। কিন্তু এভাবে আর কতদিন চলে? একজন দারোয়ান যে বাসায় খুব দরকার।
সে বার বিজ্ঞানী সালমান জার্মান সফরে যান। জার্মানি একটি রোবট কোম্পানিতে তার তিনদিনের ওয়ার্কশপ রয়েছে। ওয়ার্কশপ শেষে দেশে ফেরার দিন তার মনে হয় বাসার দারোয়ান হিসেবে রোবটকে ব্যবহার করা যেতে পারে। যেই ভাবা সেই কাজ। পরে তিনি একটি কর্মী রোবট কিনে সাথে করে নিয়ে আসেন।
কর্মী রোবটটি দেখতে অবিকল মানুষের গড়ন। শুধু ওর চোখ দুটোতে দুটো ক্যামেরা বসানো। ক্যামেরা থেকে টর্চের মতো আলো নির্গত হয়। আর সবকিছুতে সে যেন অবিকল মানুষ। বিজ্ঞানী সালমান রোবটটির একটা নাম দেনÑঅ্যারিয়েন জু। ইশা অবশ্য ওকে শুধু জু বলে ডাকে। নাম ধরে ডাক দিলে সে মানুষের মতোই সাড়া দেয়।
যন্ত্র হওয়ার কারণে কাজকর্মে জু’র কোনো ক্লান্তিবোধ নেই। সারাক্ষণ সে ইশাদের গেটের পাশে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। কী দিন কী রাত রীতিমতো চব্বিশ ঘণ্টা ডিউটি করে সে। জু সারাদিন রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে। তবু বিশ্বস্ততার সাথে তার দায়িত্ব পালন করে যায়। জু’র চোখ ফাঁকি দিয়ে ইশাদের বাসায় কোনো কাকপক্ষিরও যেন প্রবেশ অসম্ভব। ইশার বাবা ভাবেনÑ এইবার হয়েছে। দারোয়ান হিসেবে জু দারুণ দায়িত্ব পালন করছে।
দারোয়ানগিরির পাশাপাশি জু অনেক সময় বাড়িঘরের টুকটাক কাজকর্মও করে দেয়। এই যেমন বাজার-হাট করা। আত্মীয়-স্বজনদের বাড়ি এটা ওটা পৌঁছে দেয়া। ইশার বাবা ব্যস্ত থাকলে ইশাকে স্কুলে পৌঁছে দেয়া। স্কুল থেকে ওকে বাড়ি নিয়ে আসা। এভাবে দিন যত যেতে থাকে জু’র সাথে ইশার একপ্রকার বন্ধুত্ব ভাব তৈরি হতে থাকে। মাঝেমধ্যে বিকেলে সে জুকে সাথে নিয়ে খেলতে বের হয়। দূরে নয়Ñবাসার কাছেই। ইশাদের ছোট্ট ফুলবাগানে দু’জন ইচ্ছেমতো খেলাধুলা করে। ঘোরাঘুরি করে।
ইশাদের ফুলবাগানের কোণে একটি গর্ত রয়েছে। গর্তটা যে কীসের ঠিক বোঝা যায় না। গর্তের আশপাশে শ্যাওলা আর ছোটো ছোটো ঘাস জন্মেছে। গর্তের আশাপাশে গেলেই কেমন যেন ফোঁস ফোঁস আওয়াজ শোনা যায়। সেদিন বিকেলে ইশা আনমনে ওই গর্তের কাছে যায়। অমনি গর্ত থেকে একটি কুচকুচে কালো গোখরো সাপ বেরিয়ে ফণা তোলে দাঁড়ায়। ইশার কাছেই দাঁড়ানো ছিল জু। সাপ দেখে জু বুঝতে পারে ওটা ক্ষতিকারক প্রাণী। অমনি সে এগিয়ে গিয়ে ছোঁ মেরে সাপটির ফণা চেপে শূন্যে তুলে ধরে। জু’র হাতে আটকা পড়ে সাপটি ওর হাতের সাথে নিজেকে পেঁচাতে শুরু করে, অনেকক্ষণ ধরে সে নিজেকে পেঁচায়। তারপর একসময় নিথর হয়ে যায়।
গোখরো সাপটি নিথর হয়ে গেলে গর্ত থেকে ফোঁস ফোঁস আওয়াজ তোলে আরও একটি সাপ বেরিয়ে আসে। এ সাপটিও আগেরটির মতোই ফণা তোলে দাঁড়ায়। অমনি জু এসে এটাকেও ফণা চেপে ধরে। কিছুসময় পর এটিও আগেরটির মতো নেতিয়ে পড়ে। দু’দুটো সাপ খতম করার পর ইশার মা-বাবা ঘটনাস্থলে এসে হাজির হন। জু’র কা- দেখে মা-বাবা আশ্চর্য হয়ে পড়েন। নিজেদের বাসায় বিষধর সাপের বসবাস। তা এতদিন তারা বুঝতেই পারেননি। এ সময় জু উপস্থিত না থাকলে কী অঘটনটাই না ঘটে যেত। জুকে তারা অনেক ধন্যবাদ দেন। পরদিনই বাবা শহর থেকে ফেনল কিনে এনে বাসার আশপাশে ছিটিয়ে দেন। কারণ ফেনল একপ্রকার রাসায়নিক পদার্থ। যা সাপের শরীরে লাগলে ক্ষতি হয়। ফেনল ছিটালে সাপ কখনো ধারেকাছে আসে না।
তার কিছুদিন পরই একরাতে ইশাদের বাসায় হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায়। আশপাশে প্রায় সবকটি বাসাতেই বিদ্যুৎ রয়েছে। অথচ ইশাদের বাসায় নেই। ব্যাপারটা জু’র কাছে কেমন যেন রহস্য মনে হয়। ওদের গেটের পাশে সে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে। জু তার দু’চোখের টর্চ মেলে পুরো বাড়িতে একবার চোখ বুলায়। সন্দেহজনক কোনো কিছু তার নজরে পড়েনি। পরে টর্চ নিভিয়ে ঘন অন্ধকারে সে ঘাপটি মেরে থাকে। কোনো কিছু ঘটে কি না দেখার জন্য সে ওত পেতে থাকে।
প্রায় আধা ঘণ্টা পর জু খেয়াল করে, বাসার পেছন দিক থেকে দু’জন লোক দেয়াল টপকে ভেতরে ঢুকেছে। লোক দু’জন ধীর পায়ে ইশার বাবার ল্যাবরেটরির দিকে ছুটে যায়। তারপর কিছু একটা যন্ত্র দিয়ে রুমের তালাটা ভেঙে ফেলে। তালা ভাঙার একপ্রকার ধাতব শব্দ শুনতে পায় জু। তালা ভেঙে লোক দু’জন ইশার বাবার ল্যাবরেটরির ভেতর ঢুকে পড়ে।
দৃশ্য দেখে জু ভাবে, বিষয় কি? এতরাতে এরা ল্যাবরেটরির ভেতর ঢুকেছে কেন? নিশ্চয়ই এরা মন্দলোক। এদের উদ্দেশ্য খারাপ। নইলে অন্ধকারে তালা ভেঙে এরা ল্যাবরেটরিতে ঢুকতে যাবে কেন? ভেবে সেও মনে মনে প্রস্তুতি নিতে থাকে। অন্ধকারে নিজেকে লুকিয়ে ল্যাবরেটরি ঘরের দিকে এগোতে থাকে জু।
এদিকে লোক দু’জন মিনিট কয়েক পরই ল্যাবরেটরি ঘর থেকে বেরোবার জন্য উঁকি দেয়। ততক্ষণে জু ল্যাবরেটরি ঘরের দরজার কাছে অবস্থান নিয়ে নেয়। লোক দু’জন মাথাটা বের করতেই জু রুমের দরজাটা চেপে ধরে। ফলে লোক দু’জন ঘর থেকে আর বেরুতে পারেনি। তাদের দেহের অর্ধেকটা রুমের ভেতরে, আর বাকি অর্ধেকটা বাইরে এমনি অবস্থায় থাকে। দু’জনেরই মাথা বাইরে। কোমরের নীচের অংশ রুমের ভেতরে। জু শক্ত করে দরজাটা চেপে ধরায় তাদের খুব লাগছে বোঝা যায়। যন্ত্রণায় তারা আর্তচিৎকার করে ওঠে। জু তবু দরজা থেকে তার হাত সরায় না। আরও শক্ত করে সে দরজার পাট চেপে ধরে। লোক দু’জন গলা ফাটিয়ে চিৎকার করতে থাকেÑ কে কোথায় আছো। আমাদের বাঁচাও। আমরা ভয়ানক বিপদে পড়ে গেছি।
এদিকে ততক্ষণে বিদ্যুৎ চলে আসে। আর ইশার মা-বাবাও লোক দু’জনের চিৎকার শুনে ঘুম থেকে জেগে উঠেন। ঘর থেকে বেরিয়ে তারা দেখতে পান ল্যাবরেটরি ঘরের দরজায় জু দাঁড়িয়ে রয়েছে। জ্বলজ্বল করে তার চোখের টর্চ দুটো জ্বলছে। সেই টর্চের আলোয় তারা তাকিয়ে দেখেন দু’জন লোক ল্যাবরেটরি ঘরের দরজায় কোমর পর্যন্ত বের করে আর্তচিৎকার করছে।
ইশার বাবা বিজ্ঞানী সালমান ল্যাবরেটরি ঘরের দিকে ছুটে যান। গিয়ে ল্যাবরেটরির বাইরের লাইটটি জ্বালিয়ে দেন। লাইট জ্বালিয়ে দৃশ্য দেখে তিনি অবাক হয়ে যান। তাড়াতাড়ি তিনি জুকে সরিয়ে নিয়ে আসেন। জু সরে যাওয়ার পর লোক দু’জন আধশোয়া অবস্থা থেকে উঠে দাঁড়ায়। দাঁড়িয়ে উঁহ আহ্ করতে থাকে। ইশার বাবা লোক দু’জনকে চিনতে পারেন। এদের একজন বিখ্যাত বিজ্ঞানী মাহফুজ। অন্যজন বিজ্ঞানী সুলেমান। বিখ্যাত বিজ্ঞানী হলে কী হবে? এদের স্বভাব ভালো না। বিজ্ঞানী দু’জন স্বাভাবিক হয়ে মাথা নীচু করে ইশার বাবার সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। ইশার বাবা জিজ্ঞেস করেন, কী ব্যাপার! এতরাতে আপনারা?
জবাবে বিজ্ঞানী মাহফুজ বলেন, সরি! আমরা আসলে আপনার সুপার রোবটের নকশাটা হাতিয়ে নিতে এসেছি। এটা করা আমাদের অন্যায় হয়েছে। আমাদের ভুল হয়ে গেছে। আমাদের ভুলের শাস্তি এতক্ষণ ধরে জু আমাদের দিয়েছে। আপনি আমাদের ক্ষমা করুন।
বিজ্ঞানী মাহফুজের সাথে কণ্ঠ মিলিয়ে বিজ্ঞানী সুলেমানও বলেন, হ্যাঁ। আমাদের ক্ষমা করুন।
ইশার বাবা তখন মৃদু হেসে বলেন, মানুষের ওপর আস্থা হারিয়ে আমি অ্যারিয়েন জুকে দারোয়ান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছি। এ কাজে দেখছি জু-ই আসলে সফল। আপনারা যখন নিজেদের ভুল বুঝতে পেরেছেন তো আর কী করা। কোনো সমস্যা নেই। আপনাদের ওপর অনেক ধকল গেছে। আসুন আমরা এবার কফি পান করি।
বিজ্ঞানী দু’জন সমস্বরে বলেন, ধন্যবাদ ওসব লাগবে না। আমরা এখন ফিরে যেতে চাই। বলে তারা মাথা নীচু করে ইশাদের বাসা থেকে বেরিয়ে আসেন।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT