ইতিহাস ও ঐতিহ্য

সিলেট অঞ্চলের ইংরেজি সংবাদপত্র

সেলিম আউয়াল প্রকাশিত হয়েছে: ৩০-০১-২০১৯ ইং ০১:২৪:৩৬ | সংবাদটি ৩৮০ বার পঠিত

সাহিত্য সংস্কৃতি চর্চায় সিলেট অঞ্চলের মানুষের রয়েছে গৌরবজনক অবদান। বিশেষ করে সফলভাবে বিভিন্ন ভাষা চর্চার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হয়। দেবনাগরী, সিলেটী নাগরী, সংস্কৃত, বাংলা লিপির পাশাপাশি রোমান লিপি, আরবি লিপি, ফারসি লিপি, উর্দূ লিপি সিলেটে প্রচলিত ছিলো। আরবি-ফারসি চর্চা এর বিশেষ দিক। বর্তমানে বাংলা ও ইংরেজি প্রধানত চালু রয়েছে।
উপমহাদেশে রাজকার্য পরিচালনার স্বার্থে রাজকর্মচারীরা ফারসি ভাষা চর্চা করতেন। বিশেষ করে ফারসির বিশাল সাহিত্য ভান্ডার শিক্ষিতজনকে এই ভাষা শিক্ষায় উৎসাহিত করে। এজন্যে দেখা গেছে ফারসি শেখার ব্যাপারে হিন্দু মুসলমান বাছ বিচার ছিলো না। সবাই-ই ফারসি শিখতেন। ১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দে ইংরেজিকে সরকারি ভাষা হিসেবে গ্রহণ করা হয়। ১৮৩৭ খ্রিস্টাব্দে ইংরেজ শাসকরা ফারসির রাজভাষার মর্যাদা বাতিল করে। তবে রাজকার্যে ফারসির ব্যবহার বাতিল হলেও জ্ঞানচর্চার জন্যে ফারসি চর্চা অব্যাহত ছিলো। কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরিবারে ফারসির চর্চা ছিলো। রাজা রামমোহন রায়ের ‘মিরাৎ-উল-আখবার’ ছিলো উপমহাদেশের প্রথম ফারসি ভাষায় প্রকাশিত সংবাদপত্র।
১৮৩৭ খ্রিস্টাব্দে অফিস আদালতের ভাষা হিসেবে ফারসি ভাষার বিলুপ্তি ঘটলেও দীর্ঘদিন ইংরেজি ভাষা সিলেট অঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত হতে পারেনি। সিপাহি বিপ্লবের পটভূমিতে ইংরেজি শিক্ষার প্রতি সিলেটের জনসাধারণের বিরাগ ও উদাসীনতার জন্যে সিলেট ‘জিলা স্কুল’ বন্ধ হয়ে যায়। এই স্কুলটির প্রতি অনীহার আরেকটি বড়ো কারণ ছিলো ইংরেজি শিখে হিন্দু ছাত্ররা খ্রিষ্ট ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ত। এই স্কুলটি ১৮৪০-৪১ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো। ১৮৫৭ খ্রিষ্টাব্দে সিলেট জিলা স্কুল (প্রবেশনারি) বন্ধ হয়ে যাবার পর সিলেটে ইংরেজি শিক্ষা প্রসারে এগিয়ে আসেন ওয়েলস মিশনের রেভারেন্ড প্রাইজ। তাকে এদেশে আনা হয়েছিলো খ্রিষ্ট ধর্ম প্রচারের জন্যে। কিন্তু তিনি নেটিভদের পাপ মোচনের চেয়ে অশিক্ষা মোচনের দিকে বেশী ঝুকে পড়েন। শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে তিনি অর্থ সামর্থ্য নিয়োজিত করেন। কর্তৃপক্ষের সাথে তার বিরোধ বাধে। বাধ্য হয়ে তিনি খ্রিষ্টান মিশনের সাথে সম্পর্ক ত্যাগ করেন। রেভারেন্ড প্রাইজের প্রচেষ্টায় নয়াসড়ক ও শেখঘাটে দুটো মিশনারি স্কুল স্থাপিত হয়। এই স্কুল থেকে ১৮৫৯ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে মেট্রিক পরীক্ষায় ৪ জন ছাত্র অংশ নিয়েছিলেন। এর মধ্যে পাশ করেছিলেন শুধুমাত্র নবকিশোর সেন। তিনিই সিলেটের প্রথম মেট্রিকুলেট। পরের বছর জয়গোবিন্দ সোম ও তার বড় ভাই সনাতন সোম প্রবেশিকা পাশ করেন। কিন্তু এই দুই ভাইও খ্রিষ্ট ধর্মে দীক্ষিত হয়ে যান।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৫৭ সালের (সিপাহি বিপ্লবের বছর) ২৪ জানুয়ারি। ২২৪ জন প্রবেশিকা শিক্ষার্থী নিয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পথচলা শুরু। এটিই ব্রিটিশ ভারতের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠার মাত্র ক’বছর পর ১৮৬৫ সালে সিলেটের দু’জন কৃতী সন্তান কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্র্যাজুয়েশন ডিগ্রি লাভ করেন। এরা হচ্ছেন সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার জালালপুর গ্রামের মোহাম্মদ দাইম (১৮৪২-১৯২৪) ও নগরীর আখালিয়ার জয় গোবিন্দ সোম (১৮৪১-১৯০০)। দুজনই বিএ পাশ করেছিলেন। বিএ পাশের বছরই জয়গোবিন্দ সোম দর্শন শাস্ত্রে এম এ পাশ করেন। সেই যুগে একই বছরে বি.এ. এবং এম.এ. পরীক্ষা দেয়া যেতো। মোহাম্মদ দাইম ভারতের দ্বিতীয় ও সিলেটের প্রথম মুসলিম গ্রাজুয়েট। সিলেটের দ্বিতীয় মুসলিম গ্র্যাজুয়েট ছিলেন নগরীর পাঠানটোলার মৌলভি আবদুল করিম। তিনি ১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দে ইংরেজিতে অনার্সসহ বিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। এ প্রসংগে ছোট একটি তথ্য ১৮৬১ সালে হুগলির দিলওয়ার হোসেন আহমদ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভারতের প্রথম মুসলিম গ্র্যাজুয়েট হবার গৌরব অর্জন করেছিলেন।
সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার গজনফর আলী খান ১৮৯৭ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ ভারতের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক ক্যাডার আইসিএস পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করেন। এ বছর তিনিই ছিলেন একমাত্র ভারতীয় আইসিএস। এর আগে ১৮৬২ খ্রিস্টাব্দে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বড় ভাই সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন প্রথম ভারতীয় আইসিএস। সিলেটের মানুষ এইভাবে ধীরে ধীরে ইংরেজি ভাষা চর্চায় মনোনিবেশ করেন। এরই ফলশ্রুতিতে ইংরেজি সংবাদপত্রের সাথেও সম্পৃক্ত হন।
সিলেটি কোন ব্যক্তির দ্বারা সম্পাদিত প্রথম ইংরেজি পত্রিকার নাম ‘ইন্ডিয়ান খ্রিষ্টিয়ান হ্যারাল্ড’। সম্পাদক ছিলেন সিলেটের প্রথম গ্রাজুয়েট জয়গোবিন্দ সোম। ১৮৭৫ খ্রিষ্টাব্দে তার পরিবার আনুষ্ঠানিকভাবে খ্রিষ্ট ধর্ম গ্রহণ করে। জয় গোবিন্দ কলকাতায় একজন আইনজীবী ছিলেন। তিনি কলকাতায় ‘ইন্ডিয়ান খ্রিষ্টান সোসাইটি’ প্রতিষ্ঠা করেন এবং এই সোসাইটির মুখপত্র ছিলো ‘ইন্ডিয়ান খ্রিষ্টিয়ান হ্যারাল্ড’। বাগ্মী বিপিন পাল বেশ কয়েকটি ইংরেজি ও বাংলা সংবাদপত্র সম্পাদনা করেছেন। এগুলো হচ্ছেÑ১. সাপ্তাহিক ইধহমষধ ঢ়ঁনষরপ ড়ঢ়রহরড়হ কলকাতা ১৮৮৩, সহকারী সম্পাদক, ২.সাপ্তাহিক উবসড়পৎধঃ, এলাহাবাদ, ৩.মাসিক ঋৎববফড়স ধহফ ঋবষষড়ংিযরঢ় কলকাতা, ৪.মাসিক ঐরহফঁ জবারবি কলকাতা ১৯১২, ৫. দৈনিক ওহফবঢ়বহফবহঃ এলাহাবাদ, ৬. সাপ্তাহিক ঘবি ওহফরধ কলকাতা ১৯০১, ৭. পাক্ষিক ঝধিৎধল লন্ডন ১৯০৮, ৮.সাপ্তাহিক ঞৎরনঁহব লাহোর। পাটনা থেকে প্রকাশিত গড়ৎহরহম ঝঃধৎ সম্পাদক ছিলেন স্বামী অব্যক্তানন্দ, কলকাতা থেকে প্রকাশিত ওহফরধহ গবংংবহমবৎ-এর সম্পাদক প্রতুল চন্দ্র সোম, ১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দের ৬ অক্টোবর বুধবার শিলং থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক ঞযব ঘবি ঊৎধ-এর সম্পাদক ছিলেন সুনামগঞ্জের বেহেলির অমিয় সিন্ধু রায়। শিলং থেকে ১৯৪৫ খ্রিষ্টাব্দের ১০ আগস্ট বের হওয়া ট্যাবলয়েড সাইজের সাপ্তাহিক শিলং টাইমস-এর সম্পাদক ছিলেন সিলেটের সুধীন্দ্রনাথ চৌধুরী, কুলাউড়ার আলতাফ হোসেন (১৯০০-১৯৬৮) ১৯৪৫ খ্রিষ্টাব্দে বিখ্যাত উধহি পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। তিনি ১৯৬৪ খ্রিষ্টাব্দে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভার শিল্প ও প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রী থাকা কালে ইবহমধষর বিবশষু পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। তার ছেলে সৈয়দ আজমল হোসেন ওষষঁংঃৎধঃবফ বিবশষু ড়ভ চধশরংঃধহ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। তার কনিষ্ঠ ভ্রাতা আনোয়ার হোসেন ঝঃধৎ ড়ভ ওহফরধ পত্রিকার সহ-সম্পাদক ছিলেন। হবিগঞ্জের বাহুবল থানার সাতকাপন গ্রামের রণজিৎ নাগ (১৯০৯-১৯৮৮) শিলং থেকে ১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত দৈনিক ঘড়ৎঃয ঊধংঃ গরৎৎড়ৎ- পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। মৌলভিবাজারের এস.এম. আলী (সৈয়দ মোহাম্মদ আলী খসরু) চধশরংঃধহ ঙনংবৎাবৎ, ঘবংি ঈযৎড়হরপষব ড়ভ খড়হফড়হ, ইইঈ-তে কাজ করেছেন। ১৯৬০ খ্রিষ্টাব্দে তিনি চধশরংঃধহ ঞরসবং পত্রিকার সহকারী সম্পাদক, ১৯৬৬ থেকে ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত চার বছর থাইল্যান্ডের প্রধান ইংরেজ দৈনিক ইধহমশড়শ চড়ংঃ-এর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক, ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে সিঙ্গাপুরের সান্ধ্যকালীন দৈনিক ঘবি ঘধঃরড়হ- এর ভ্রাম্যমান আন্তর্জাতিক সম্পাদক ছিলেন। এস.এম. আলী ১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দে দেশে ফিরে ইধহমষধফবংয ঙনংবৎাবৎ-এর সম্পাদক পদে যোগ দেন। ১৯৯১ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ঞযব উধরষু ঝঃধৎ-এর সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। কমনওয়েলথ জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের এমিরেটাস প্রেসিডেন্ট হাসান শাহরিয়ার ইংরেজি দৈনিক ডন, ইভিনিং স্টার, যুক্তরাজ্যের ইংরেজি সাপ্তাহিক নিউজ উইক, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, দুবাই খালিজ, ডেমোক্রেট, দৈনিক মর্নিং নিউজ, ইলাস্ট্রেড উইকলি, হ্যারাল্ড ম্যাগাজিনে বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করেছেন। বাসস’র ব্যবস্থাপনা সম্পাদক জগলুল আহমদ চৌধুরী দৈনিক অবজারভার, সাপ্তাহিক পিপল, ভারতের টাইমস অব ইন্ডিয়া, আমেরিকার টাইম ম্যাগাজিনে বিভিন্ন অবস্থানে কাজ করেছেন। মানব জমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী লন্ডনের ডেইলি মেইল, হবিগঞ্জের মোখলেছুর রহমান চৌধুরী শ্রীলংকা থেকে প্রকাশিত দি আইল্যান্ডার ও দি ডিবাইনারের সংবাদদাতা হিসেবে দায়িত্ব পালণ করেন। গোলাপগঞ্জের রিয়াজ আহমদ দি ডেইলি স্টারের স্টার, দি মনিং পোস্ট, দি নিউ নেশন, দি ডেইলি সান পত্রিকায় কাজ করেন। নওবেলাল সম্পাদক মাহমুদ আলীর সম্পাদনায় পাকিস্তান থেকে ঈড়হপবঢ়ঃ নামে একটি ইংরেজি সাপ্তাহিক প্রকাশিত হয়।
ডববশষু পযৎড়হরপবষব
শশীন্দ্র কুমার সিংহ ও হরেন্দ্র মোহন সিংহ তারা ছিলেন দু’ভাই। শশীন্দ্র কুমার সিংহ করিমগঞ্জ স্টিমার অফিসে চাকরি করতেন , এক সময় চাকরি ছেড়ে তার ছোট ভাই হরেন্দ্র মোহন সিংহের সাথে ১৯০০ খ্রিষ্টাব্দের ৮ ফেব্রুয়ারি বের করেন সিলেট থেকে প্রকাশিত প্রথম ইংরেজী সাপ্তাহিক ডববশষু পযৎড়হরপবষব. শশীন্দ্র সিংহ করিমগঞ্জ থেকে ঞযব ঊধংঃবৎহ ঈযৎড়হরপষব নামে অন্য একটি সাপ্তাহিকীও সম্পাদনা করতেন। ঞযব ডববশষু ঈযৎড়হরপষব সপ্তাহের প্রতি মঙ্গলবার বের হতো। মূল্য ছিলো এক আনা। বার্ষিক গ্রাহক চাঁদা ছিল চার টাকা। শশীন্দ্র কুমার সিংহ ১৯১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মৃত্যুবরণ করেন। শশীন্দ্র মোহন সিংহ সম্পাদিত সিলেট ক্রনিকল পত্রিকায় প্রকাশিত একটি রাজদ্রোহমুলক রচনার জন্য বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ সাংবাদিক আব্দুল মতিন চৌধুরী (কলা মিয়া) এক বছরের কারাদন্ডে দন্ডিত হন।
ঋজওঊঘউঝ ঙঋ ঝণখঐঊঞ
১৯০০ খ্রিষ্টাব্দে সিলেট থেকে প্রকাশিত হয় ঋজওঊঘউঝ ঙঋ ঝণখঐঊঞ পত্রিকা। এটি ছিলো খ্রিষ্টান মিশনারি পত্রিকা। সিলেটের স্থানীয় খ্রিষ্টানরা ঋৎরবহফং ড়ভ ঝুষযবঃ বের করতেন।
ঞযব ঝুষযবঃ ঈযৎড়হরপষব
সিলেটের ধর্মধা গ্রামের যোগেন্দ্র চন্দ্র চৌধুরী ছিলেন ইংরেজি সাপ্তাহিক ঞযব ঝুষযবঃ ঈযৎড়হরপষব পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক। ১৯২১ খ্রিষ্টাব্দের ৪ এপ্রিল পত্রিকার প্রথম সংখ্যা বের হয়। প্রতি সোমবার পত্রিকাটি বের হতো এবং প্রতি সংখ্যার মূল্য ছিলো দুই আনা। ১৯৪২ খ্রিষ্টাব্দের সেপ্টেম্বর থেকে পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন দুলালী সিলেট নিবাসী নবীন কুমার গুপ্ত এবং এপ্রিল ১৯৪২ থেকে পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন সিলেটে লক্ষীপাশা নিবাসী কালী কৃষ্ণ দেব ক্রোরি।
ঔঅঘঅঝঅকঞও
১৯২৮ খ্রিষ্টাব্দের ২৮ ফেব্রুয়ারি জনশক্তি পত্রিকার ইংরেজি সংস্করণ ঔঅঘঅঝঅকঞও প্রকাশিত হয়। পত্রিকার ইংরেজি সংস্করণের সম্পাদক ছিলেন সুনামগঞ্জের পাইলগাঁওয়ের অধিবাসী ব্রজেন্দ্র নারায়ন চৌধুরী। প্রায় বছর খানেক ঔঅঘঅঝঅকঞও বের হয়েছিলো। করেন চন্দ্রকুমার দে, এমএ বিএল (মেওতিয়ার পাড়া, সুনামগঞ্জ)। পত্রিকাটি মাত্র কয়েক বছর চলেছিল। এটা ইংরেজি ও বাংলা উভয় ভাষাতেই প্রকাশ হতো।
ঝঅঘএঝঅকঞও
১৯২৯ খ্রিষ্টাব্দে ঝঅঘএঝঅকঞও প্রকাশিত হয়। পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন চন্দ্রকুমার দে, এমএ বিএল (মেওতিয়ার পাড়া, সুনামগঞ্জ)। পত্রিকাটি মাত্র কয়েক বছর চলেছিল। এটা ইংরেজি ও বাংলা উভয় ভাষাতেই প্রকাশ হতো।
ঞযব গবংংবহমবৎ
১৯৩৩ খ্রিষ্টাব্দের জানুয়ারি মাসে মাসিক ঞযব গবংংবহমবৎ বের হয়। মাসিক আল ইসলাহে ঞযব গবংংবহমবৎ সম্পর্কে বলা হয়েছেÑ‘ঞযব গবংংবহমবৎ (শিলং ইছলাম মিশনের মাসিক মুখপত্র) সম্পাদক, বিখ্যাত ইছলাম মিশনারী মৌ: আবদুছ ছমদ, বি,এ। শিলং ইছলাম মিশন হাউস হইতে সম্পাদক কর্তৃক প্রকাশিত। বার্ষিক মূল্য সডাক ১।. টাকা। প্রথম বর্ষ প্রথম সংখ্যা জুলাই ও আগস্ট) প্রথমার্ধ ইংরেজি ভাষায় ও শেষার্ধ খাসিয়া ভাষায় লিখিত। (সূত্র: আল্-ইসলাহ্ প্রথম বর্ষ, ১০ম, ১১শ সংখ্যা ভাদ্র, আশ্বিন-১৩৪০ সন)
ঞযব অংংধস ঐবৎধষফ
ঞযব অংংধস ঐবৎধষফ ১৯৩৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হয়। সিলেট থেকে খুব বেশী ইংরেজি পত্রিকা বের হয়নি। কলকাতার দৈনিক ফরওয়ার্ড ও বোম্বের বোম্বে ক্রনিকল-এর এক সময়ের সহকারী সম্পাদক আব্দুল মতিন চৌধুরী আসাম হ্যারাল্ড প্রকাশ করেন। এই সাপ্তাহিকীটির মূল্য ছিলো দুই আনা এবং বার্ষিক গ্রাহক চাঁদা ছিলো পাঁচ টাকা। আবদুল মতিন চৌধুরী ঞযব ঝুষযবঃ ঈযৎড়হরপষব-এ রাজদ্রোহী প্রবন্ধ লেখার কারনে একবার জেল খাটেন। এ ছাড়াও তিনি অফাধহপব, ইড়সনধু পযড়ৎড়হরপষব ও মাসিক মোহাম্মদীতে সহ-সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ঞযব অংংধস ঐবৎধষফ পরবর্তীতে ঞযব ঊধংঃবৎহ ঐবৎধষফ নামে প্রকাশিত হয়। ঞযব অংংধস ঐবৎধষফ-এর নাম পরিবর্তন কওে ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে নাম রাখা হয় ঞযব ঊধংঃবৎহ ঐবৎধষফ. ১৯৫৯ খ্রিষ্টাব্দে যুগভেরীর সাথে আমীনূর রশীদ চৌধুরীর কাছে বিক্রি করে দেয়া হয়। এর আগ পর্যন্ত আবদুল মতিন চৌধুরীই সম্পাদনার দায়িত্বে ছিলেন। পত্রিকাটি কেনার পর পরই আমীনূর রশীদ চৌধুরী পত্রিকাটির সম্পাদনারও দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার সম্পাদনায় ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের মার্চ মাসে মুক্তিযুদ্ধেও পূর্ব পর্যন্ত সাপ্তাহিক ঞযব ঊধংঃবৎহ ঐবৎধষফ নিয়মিত চালু ছিলো। এরপর পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যায়। বিভিন্ন সময় সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন মোহাম্মদ ইদ্রিস, আব্দুল মুগনী চৌধুরী ও রজিউর রহমান। ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন এমএ রাজ্জাক, এমএ সামাদ, মোহাম্মদ আব্দুল হক, সৈয়দ ইসলাহ উদ্দিন, মোহাম্মদ আফতাবুন্নবী প্রমুখ। পত্রিকায় লেখা থাকতো, ম্যানেজড বাই দেওয়ান আব্দুল বাসিত এম.এন.এ। ‘ওলডেস্ট উইকলি নিউজ পেপার ইন ইস্ট পাকিস্তান’-এ বাক্যটিও প্রথম পৃষ্ঠায় ছাপা হতো। এটি আসামের হ্যারাল্ড প্রেস, সিলেট থেকে প্রকাশিত হতো। প্রকাশক আব্দুল জব্বার চৌধুরী।
ঞযব অধিশবহরহম:
পত্রিকাটি ছিলো নিখিল ভারত মুসলিম ছাত্র ফেডারেশনের ত্রৈমাসিক মুখপত্র। প্রথম প্রকাশকাল জানা যায়নি। তবে দ্বিতীয় বর্ষের চতূর্থ সংখ্যা বের হয়েছিলো পয়লা নভেম্বর ১৯৪১ খ্রিষ্টাব্দে। এই হিসেব থেকে গণনা করলে ১৯৪০ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসে পত্রিকাটির প্রথম সংখ্যা বের হয়েছিলো ধরা যায়। পত্রিকাটির সম্পাদক ছিলেন এম.এ. ওসমানী। প্রতি সংখ্যার মূল্য ছিলো আট আনা এবং বার্ষিক গ্রাহক চাঁদা ছিলো দ্’ুটাকা।
উদয়কাল
১৩৪১ সালে হবিগঞ্জ থেকে আত্মপ্রকাশ করে। সম্পাদক ছিলেন সুনামগঞ্জের রহিমাপুর নিবাসী উদয় চাঁদ রায় বিএ। উদয়কাল-এর কার্যালয় হবিগঞ্জ থেকে পরে সিলেটে নিয়ে আসা হয়। পত্রিকাটি ইংরেজি ও বাংলা দুটো ভাষায়ই বের হতো।
ঠঅখঅকঅ ইঅঘকওঘএ ঝচঊঈওঅখ
ব্যাংকিং বিষয়ক এই মাসিক পত্রিকাটি মাত্র দুটো সংখ্যা বের হয়েছিল। প্রথম সংখ্যা ১৯৩৮ খ্রিষ্টাব্দের জুলাই মাসে এবং আরো একটি সংখ্যা ১৯৪১ খ্রিষ্টাব্দের সেপ্টেম্বর মাসে প্রকাশিত হয়। এই ইংরেজি মাসিকটি সম্পাদনা করতেন নরেশ চন্দ্র দত্ত ও কেবি সেনগুপ্ত।
ঞঐঊ অঝঝঅগ খঙঈঅখ ঝঊখঋ এঙঠঞ. জঊঠওঊড
সাপ্তাহিক অভিযান সম্পাদক দ্বিজেন্দ্র মোহন দাসগুপ্ত ১৯৩৯ খ্রিষ্টাব্দের অক্টোবর মাসে ঞঐঊ অঝঝঅগ খঙঈঅখ ঝঊখঋ এঙঠঞ.জঊঠওঊড নামের দ্বিমাসিক পত্রিকাটি বের করেন। প্রথম সংখ্যার পর এটি আর বের হয়নি।
সেবক
জে ই চৌধুরী সম্পাদিত পাক্ষিক সেবক ইংরেজি ও বাংলা ভাষায় বের হতো। খ্রিষ্টান মিশনারিদের এই পত্রিকাটি ১৯৪০ খ্রিষ্টাব্দের ১লা অক্টোবর প্রকাশিত হয়। মাত্র তিন সংখ্যা বের হবার পর পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যায়।
চঅখখও-ইঅঘও
ইংরেজি পাক্ষিক ছিলো চঅখখও-ইঅঘও পত্রিকাটি। ১৯৪১ খ্রিষ্টাব্দের মার্চ মাসে পত্রিকাটির আত্মপ্রকাশ। সম্পাদক ছিলেন হবিগঞ্জের বেঙ্গা ডুবার সুবোধ কুমার রায়। চঅখখওইঅঘও বাংলা ভাষায়ও প্রকাশিত হয়।
ঠঅখঅকঅ ওঘঝটজঅঘঈঊ ঝচঊঈওঅখ
বীমা বিষয়ক ঠঅখঅকঅ ওঘঝটজঅঘঈঊ ঝচঊঈওঅখ নামের এই মাসিকটি মাত্র একটি সংখ্যা বের হয়েছিল। এর সম্পাদক ছিলেন হবিগঞ্জের লাখাই নিবাসী সুবিনয় দত্ত, বিকম।
অজঅইটউউঐঅ ইঐঅজঞঅ
অজঅইটউউঐঅ ইঐঅজঞঅ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন হবিগঞ্জের দুর্গাপুর নিবাসী

শেয়ার করুন
ইতিহাস ও ঐতিহ্য এর আরো সংবাদ
  • বাঙালির ইতিহাসে দুঃখের দিন
  • ঐতিহ্যবাহী নকশিকাঁথা
  • সাংবাদিকদের কল্যাণে সিলেট প্রেসক্লাব
  • প্রাকৃতিক মমিতে নির্মমতার ইতিহাস
  • গৌড়-বঙ্গে মুসলিম বিজয় ও সুফি-সাধকদের কথা
  • ঐতিহ্যের তাঁত শিল্প
  • সিলেট প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠাকাল নিয়ে ভাবনা
  • খাপড়া ওয়ার্ড ট্রাজেডি
  • জাদুঘরে হরফের ফোয়ারা
  • ইতিহাস গড়া সাত শক্তিমান
  • ভেজাল খাবার প্রতিরোধের ইতিহাস
  • বর্ষাযাপন : শহর বনাম গ্রামগঞ্জ
  • বর্ষা এলো বর্ষা
  • পার্বত্য সংকটের মূল্যায়ন
  • নবীদের স্মৃতিচিহ্নে ধন্য যে জাদুঘর
  • দর্শনীয় স্থান ও পর্যটন কেন্দ্র
  • ঐতিহ্যে অম্লান গোবিন্দগঞ্জ বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়
  • বিলুপ্তির পথে গরীবের ‘শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত’ মাটির ঘর
  • হারিয়ে যাচ্ছে হিজল গাছ
  • তালের পাখা প্রাণের সখা
  • Developed by: Sparkle IT