শিশু মেলা আদর্শবান লোকদের বন্ধুর সংখ্যা কম থাকে। -ডগলাস জের।

ঘাতক রূপে মোবাইল বর্জ্য

প্রকাশিত হয়েছে: ৩১-০১-২০১৯ ইং ০০:৫৮:৩০ | সংবাদটি ৪৩ বার পঠিত

ইলেকট্রনিক বর্জ্য বিশ্বব্যাপী একটা আতঙ্কের বিষয়। বিশেষ করে পরিত্যক্ত মোবাইল ফোন এর মাধ্যমে সৃষ্ট ই-বর্জ্যরে ঝুঁকি বেড়ে চলেছে। এই বর্জ্য অচিরেই মারাত্মক ঘাতক হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মোবাইল ফোনের ই-বর্জ্য সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা না হওয়ায় তা বাড়াচ্ছে পরিবেশ দূষণ ও স্বাস্থ্য ঝুঁকি। একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত খবরে বলা হয় গৃহস্থালীর ও মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নীতিমালা থাকলেও ইলেকট্রনিক বর্জ্য (ই-বর্জ্য), ইমারত নির্মাণ বর্জ্য ও খাদ্যপণ্যের বর্জ্যরে ব্যবস্থাপনায় কোন নীতিমালা না থাকায় পরিবেশ দূষণ ও স্বাস্থ্য ঝুঁকির মাত্রা আরও বাড়তে পারে। জরিপের তথ্য হচ্ছে, দেশে ১৩ কোটির বেশি মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর মধ্যে মোবাইল ফোন পরিত্যক্ত বা নষ্ট হওয়ার হার বর্তমানে সাত দশমিক তিন, চার শতাংশ। যা আগামী বছর আট শতাংশে পৌঁছুবে। পরিত্যক্ত এসব মোবাইল ফোনের সঙ্গে থাকছে নিকেল ক্যাডমিয়াম ব্যাটারি; যার ছয় থেকে ১৮ শতাংশই ক্ষতিকর ভারী ধাতব ক্যাডমিয়াম। এই ক্যাডমিয়াম ব্যাটারি পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের জন্য ভয়াবহ ঝুঁকিপূর্ণ।
মোবাইল ফোন যোগাযোগের সহজতর মাধ্যম। বলা যায় প্রতিদিনই বেড়ে চলেছে এর ব্যবহার। [মোবাইল ফোন সারা বিশ্বকে নিয়ে এসেছে হাতের মুঠোয়। কিন্তু এতো যে উপকারী এই মোবাইল ফোন ্ এর ক্ষতির দিকটিও উপেক্ষা করার মতো নয়। বিশেষত মোবাইল ফোন ও এর টাওয়ার থেকে সৃষ্ট রেডিয়েশন মানবদেহে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। যা থেকে সৃষ্টি হতে পারে মারাত্মক রোগব্যাধি। আর সেই সঙ্গে মোবাইল ফোন থেকে সৃষ্ট ই-বর্জ্য জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি হিসেবেই দেখা দিচ্ছে।] এখানে উল্লেখ করা জরুরি যে, বিভিন্ন শহর নগরে গৃহস্থালী ও মেডিকেল বর্জ্য সংগ্রহ, অপসারণ, পরিশোধন ও ধ্বংস করার ব্যাপারে নীতিমালা থাকলেও ই-বর্জ্য, ইমারত নির্মাণ বর্জ্য এবং খাদ্যবর্জ্যরে ব্যাপারে কোন নীতিমালা নেই। তাই গৃহস্থালী বর্জ্যরে সঙ্গেই ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে উন্নত দেশে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার হচ্ছে। কিন্তু এসব অতি ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য সংগ্রহ, পরিশোধন বা ধ্বংস করার সক্ষমতা আমাদের নেই।
শুধু মোবাইল ফোন থেকে সৃষ্ট বর্জ্য নয়, অন্যান্য ইলেকট্রনিক পণ্য থেকেও সৃষ্টি হচ্ছে বর্জ্য। দেশে তৈরি হচ্ছে ইলেকট্রনিক পণ্য; আমদানী হচ্ছে বিদেশ থেকেও। প্রতিদিনই ফ্রিজ, টিভি, ট্রেনজিস্টার, কম্পিউটার ল্যাপটপ, বিভিন্ন বৈদ্যুতিক পণ্য অকেজো হচ্ছে, পরিত্যক্ত হচ্ছে। এগুলো বর্জ্য হিসেবে ফেলে দেয়া হচ্ছে যেখানে-সেখানে। অথচ এই সব বর্জ্য থেকে নিসৃত ক্ষতিকর পদার্থ পরিবেশ দূষিত করছে। যা মানবদেহের সর্বনাশ করছে। ব্যাপারটি নিয়ে সতর্ক হতে হবে এখন। না হলে অচিরেই মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনবে ই-বর্জ্য। এজন্য ই-বর্জ্যসহ ক্ষতিকর শিল্পবর্জ্য, কনস্টাকশন বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। সেই সঙ্গে জনসাধারণকেও এ ব্যাপারে হতে হবে সচেতন।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT