ধর্ম ও জীবন

মসজিদ কেন্দ্রিক শিক্ষা

জাওয়াদুর রহমান প্রকাশিত হয়েছে: ০১-০২-২০১৯ ইং ০১:১৫:১৭ | সংবাদটি ১০৪ বার পঠিত

‘দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত শিক্ষা অর্জন কর। কুরআন মজীদের প্রথম যে শব্দ নাযিল হয়েছে তা হলো ‘পড়’। জ্ঞান অর্জনের জন্য প্রয়োজনে চীন দেশে যাও। মুসলিম সৈন্যদের জন্য প্রথম নৌবহর নির্মাণকারী সবাই জান্নাতি হবে।’ এই সব কথাগুলো কারো বানানো কথা নয়। এসব বলেছেন আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.)। এসব বাক্যের মাধ্যমে এই বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, জ্ঞান অর্জন কর। বিজ্ঞানে অগ্রসর হও এবং জ্ঞান অর্জনে বয়স কোনো বাধা নয়। আজ আমরা লক্ষ্য করি এর সম্পূর্ণ বিপরীত কর্মকান্ড।
আজ বৃদ্ধদের জ্ঞান অর্জন যেনো হাসির খুরাক হয়েছে। বিজ্ঞানকে মনে করা হয় ধর্মের সাথে সাংঘর্ষিক। বিদেশ ভ্রমণকে মনে করা হয় ধর্ম ধ্বংস হিসেবে। সমরের কথা মুখে আনা মানেই জঙ্গিবাদ।
এই অবস্থা থেকে উত্তোরণের উপায় কি? কিভাবে সকল বয়সের ও শ্রেণির লোককে জ্ঞান বিজ্ঞান শিক্ষা দেওয়া যায়? মাওলানা ভাসানী চীন সফর থেকে এসে বলেছেন চীন দেশে ১৯৫৮ সালে কয়েকটি পাড়া নিয়ে এক একটি কম্যুন গড়ে তোলা হয়। এই কম্যুন ভূক্ত পরিবারকে টাকা জমা করতে হয়। তাদের নিজস্ব সেলাই কল গড়ে তোলা হয়েছে। আছে ৩০ শয্যা বিশিষ্ট একটি হাসপাতাল ও পর্যাপ্ত চিকিৎসক। এই ফর্মুলা বাংলাদেশে প্রয়োগ করলে কেমন হয়। চীনাদের আছে কম্যুন আর আমাদের আছে মসজিদ।
আমরা প্রতিদিন পাঁচবার মসজিদে গিয়ে সবাই একসাথে নামায পড়ি, সেখানে সকল বয়সের সকল শ্রেণির লোক সৌহার্দপূর্ণভাবে অবস্থান করেন এবং ইবাদত করেন। মসজিদে সবাই শ্রদ্ধার সাথে কথা বলেন, মসজিদের আদব বজায় রাখেন। তাহলে এই মসজিদকে জ্ঞান অর্জনের মাধ্যম হিসেবে নিলে তো ভালই হয়।
পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের পর পাঁচটি বিষয়ে শিক্ষা অর্জন করলে কেমন হয়? কেমন হয় ফজরের নামাজের পর শারীরিক শিক্ষা, চিকিৎসা শাস্ত্র অধ্যয়ন ও দুর্যোগ মোকাবেলা প্রশিক্ষণ নিলে? যোহরের পর পদার্থ, রসায়ন বিষয়ে আলোচনা। আসরের নামাজের পর ধর্মীয় বিষয়ে গবেষণাধর্মী আলোচনা, মাগরিবের নামায শেষে বিভিন্ন দেশের ভাষা নিয়ে বিশদ আলোচনা এবং এশার নামায শেষে সমগ্রদিনে যা যা আলোচনা হয়েছে তা রিভিউশন দেওয়া এবং পরের দিনের জন্য রুটিন তৈরি করা।
প্রতি শুক্রবার ব্যবহারিক কাজ করা এবং সমগ্র সপ্তাহে যা আলোচনা হয়েছে তার একটি পরীক্ষা নেওয়া এবং ভালো ফলাফলকারীকে পুরস্কৃত করা। তাহলে ২০ বছর পর এই দেশের চিত্র পাল্টে যাবে। মসজিদ কেন্দ্রিক এই রকম শিক্ষা কার্যক্রমে এলাকার জ্ঞানী ও শিক্ষিত লোক শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করলে সমাজে জ্ঞানী ব্যক্তির কদরও বাড়বে। ফলে জ্ঞানী লোকের সংখ্যাও বৃদ্ধি পাবে, কারণ যে সমাজে জ্ঞানী লোককে সম্মান দেওয়া হয়, সেই সমাজে জ্ঞানী লোকের সৃষ্টি হয়।
আমি লিখাটা সংক্ষিপ্ত করে শেষে বলতে চাই, ‘চীনা জাতি এগিয়ে গেছে কম্যুন গড়ে/ মুসলিম জাতি উন্নত হবে মসজিদে গিয়ে।’

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT