সাহিত্য

জল নিষ্কাশনের খেলা

সৈয়দ মবনু প্রকাশিত হয়েছে: ০৩-০২-২০১৯ ইং ০১:০৯:৪০ | সংবাদটি ২১৭ বার পঠিত


বিয়ের পর যে তার প্রেমের ইন্তেকাল ঘটেছে, সে সত্য মানতে সম্পূর্ণ নারাজ রনি। চোখের জল মুছতে মুছতে তার একটিই প্রশ্নÑ ছয় বছর আগে আমি সব ছেড়ে তার সঙ্গ নিলাম, সে এমন করছে কেন আজ? রনি ফুফিয়ে ফুফিয়ে কাঁদে। আমি জানতে চাইলামÑ তোমার বিয়ে কি প্রেমের? সে মুখ দিয়ে শুধু বলেÑ হ। বললামÑ বেশির ভাগ প্রেমই বিয়ের পর তেল-সাবানের পিচ্ছিল পথে ইন্তেকাল ফরমায়। বিয়ে জিনিসটাই প্রেমের প্রধান শত্রু। প্রেম হলো আত্মার জন্য আত্মার টান। বিয়ে হলো দুই দেহ মিলনের বৈধ মাধ্যম। দেহের মিলনকে প্রেম বলা যায় না, তা হলো আসক্তি। কারণ, দেহের মিলনে সরাসরি আত্মার সাথে আত্মার টান থাকে না, এতে আত্মা থাকে গৌণ। রনি এমন কথা মানতেই পারছে না। তার কথা হলো, আমাদের দুজনের বিয়ের আগেও আত্মায় আত্মার টান ছিলো। তখন সে আমার কথায় আকাশের চাঁদ আর জঙ্গলের বাঘ ধরে নিয়ে আসতো এবং প্রায়ই বলতো, বিয়ের পর সোনার পালঙ্কে রাখবো, দেবির মতো সাজিয়ে পূজা দেবো। এখন এসব গেল কোথায়?
আমি বললামÑ রনি, তখন সে-যে তা প্রেমের জন্য করতো, এর প্রমাণ কী? কোন প্রমাণ নেই, বরং এখন তোমরা দুজনই প্রমাণ দিচ্ছো তা ছিলো তোমাদের দেহাসক্তি।
রনি মাথা নেড়ে না বলে। আমি মাথা নেড়ে হ্যাঁ বলি। কিছু সময় যায় দু’জনের দু’জনকে দেখে, নীরবতার মধ্যে। আমি রনিকে বলি, এটাই বাস্তবতা। তোমাকে মেনে নিতে হবে; প্রেমের বিয়েতে বিয়ের পর আর প্রেম থাকে না, সে মারা যায়। আর যদি কোথাও প্রেমই থাকে না, শুধু থাকে আসক্তি, তবে সেখানে হয় করুণ অবস্থা। যেমন, তোমার আর রহিমের মধ্যে হচ্ছে। রনি তোমাকে মানতে হবে, তখন তোমাদের দুজনের দেহে ছিলো আষাঢ়ী নদীর জলের মতো ঢলভাঙা জলের খেলা আর দেহ থেকে এই জল নিষ্কাশনের আকুতি, তোমার সূর্য্যমূখী চেহরা, সুঠাম দেহ, কমলার মতো দেহের রঙ রহিমের দেহের জলকে আরও পাগলা ঘোড়া বানিয়ে দেয় বেরিয়ে আসার জন্য, তখন তুমি রহিমের মধ্যে যে পাগলামিভাব দেখেছো তা ছিলো নিজ দেহ থেকে যৌনজল নিষ্কাশনের জন্য। যাকে তুমি যৌন উত্তেজনাও বলতে পারো। আর তোমারও বয়স ছিলো তখন মাত্র কৈশোরে। তোমারও দেহ-নদীতে ছিলো তখন নতুন জলের খেলা। আর যখন রহিম তোমাকে তার দিকে ডাকলো তখন তুমিও এই জল নিষ্কাশনের খেলায় হয়ে উঠেছিলে পাগলপারা। অতঃপর তোমরা একে অন্যকে বিয়ে করলে জল নিষ্কাশনের উদ্দেশ্যে। তোমাদের উভয়ের জল নিষ্কাশন হতে থাকলো। সাথে সাথে দেহের প্রতি দেহের যে আকর্ষণ ছিলো তা হ্রাস পেতে শুরু হলো। বিয়ের আগে দেহে যে আষাঢ় মাসের ঢলভাঙা নতুন জলের খেলা ছিলো তা এখন আর নেই। তাই সে এখন অন্যের প্রতি আসক্ত। রহিম এখন তোমার স্বামী, প্রেমিক নয়। তোমাকে এই সত্য মেনে নিতেই হবে রনি।
রনি নীরবে আরও উত্তেজিত হয়ে জানতে চায়Ñ কেন এমন হবে? কেন? কেন সে আমার সাথে বেঈমানি করবে? আমি বললামÑ দেখ এখানে কোন বেঈমানি নেই। তোমাদের উভয়ের মধ্যেই তখন প্রেম ছিলো না, ছিলো আসক্তি। প্রেমের স্টিকার লাগিয়ে মূলত একে অন্যের প্রতি ছিলে আসক্ত। আসক্তি আর প্রেম সমার্থক নয় রনি। তোমার দেহের প্রতি তার যে আকর্ষণ ছিলো তা কমে যাচ্ছে, ফলে সে এখন আর তোমার দেহে স্বাদ পায় না। সে এখন অন্যের প্রতি আসক্ত হয়ে যাচ্ছে। পরকীয়ায় এক ধরনের স্বাদ আছে রনি, যুগ যুগের এই সত্য তোমাকে মানতেই হবে। রাধা-কৃষ্ণের কাহিনি পুরাটাই পরকীয়া, তুমি নিশ্চয় জান? এখানেও প্রেম ছিলো না, ছিলো আসক্তি। তুমি কি জান রনি, বাংলাসাহিত্যের প্রবাদপুরুষ প্রমথ চৌধুরী রাধা-কৃষ্ণের ঘটনাকে ধর্মীয় বিষয় মানতেই রাজি নয়, তিনি মনে করেন বিষয়টি পূর্ণাঙ্গ যৌন-রসের সাথে সম্পর্কিত?
রনি আমার কথার প্রতিবাদ করে। সে মানতেই পারছে না তার এটা যে প্রেম নয়, ছিলো আসক্তি। আমি বারবার তাকে বলি, রনি তোমাকে মানতেই হবে প্রেম আর আসক্তির মধ্যকার ব্যবধান। প্রেম হলো আত্মার জন্য আত্মার টান, আর আসক্তি হলো যৌন-জল নিষ্কাশনের খেলা। যদিও কারো বিয়ের আগে কিছুটা প্রেম থাকে, দেখা যায় বিয়ের পর তারা তা বিভিন্ন কারণে পূর্ণাঙ্গরূপে ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়। বিয়ের পর অনেকের মধ্যে সুসম্পর্ক দেখা যায়, তবে সেখানে থাকে বিভিন্ন সামাজিক কারণ। প্রেমের বিয়েতে সামাজিক অনেকগুলো কারণ সু-এর বদলে কু-তে রূপান্তরিত হয় বলে এখানে বিয়ের পর সমস্যা হয় বেশি। যা সত্য বলে তুমিও স্বীকার করবে রনি। তোমরা তো দু’ বোন, তুমি বিয়ে করেছো প্রেম করে, আর তোমার বড়বোন বিয়ে করেছে সামাজিক আলোচনার মাধ্যমে। বলো রনি, কার দাম্পত্য জীবন সুখি? রনি চোখের জল অনবরত মুছে আর বর্ণনা করে তার বড়বোনের সুখি দাম্পত্যের বিভিন্ন সুখ।
আজ থেকে ছয় বছর আগে রহিমকে রনি বিয়ে করে। রনির মা এই বিয়ে মানতে নারাজ ছিলো। মেনে নিতে পারেনি আত্মীয়স্বজনও। কিন্তু কারো করার কিছু নেই। রনি বাঁচবে না রহিম ছাড়া। রহিমও পাগল রনির জন্য। এমন চাঁদবদনির জন্য রহিম পাগল হবে না কেন? যেকোন রাজপুত্র রনিকে দেখলে পাগল হওয়ার সম্ভাবনা আছে। তাদের প্রেম দীর্ঘদিন চলে গোপনে। রহিমের বাবার সাথে রনির বাবার বন্ধুত্ব ছিলো। রাজনীতিতে তারা দু’জনই একদল করতেন। পারিবারিকভাবেও তাদের মধ্যে গভীর সম্পর্ক অনেকদিন থেকে। এই সূত্রে রনি আর রহিমের মধ্যে সম্পর্ক হয়। প্রথমে তো ছিলো এমনি এমনি পরিচয়। রহিম ধীরে ধীরে রনিকে কথার জালে আটকাতে থাকে। রনির দেহে তখন মাত্র কৈশোর, পাঠে তারও মন বসে না কাঠালচাঁপার গন্ধে। রহিম তখন কৈশোর ডিঙিয়ে পা দিয়েছে যৌবনে। সে ধীরে ধীরে রনির সামনে কৌশলে কাঠালচাঁপার গন্ধ বিলাতে থাকে। রনি কৈশোর থেকে যৌবনের দিকে হাঁটতে হাঁটতে শিকার হয় রহিমের কাঠালচাঁপার গন্ধের সুভাসে। আহারে কী সুগন্ধ!
রহিমের নাকেও তখন কাঁচা ফুলের গন্ধ। রনির মতো সুন্দরী তো এই সাতগ্রামে রহিম দেখে না। একেবারে লাল টুকটুকে একটি গোলাপ। রহিম মনের গভীরে রনির সোনালি দেহ দেখে আর জীবনানন্দের ‘বনলতা সেন’ কবিতার মতো বলতে থাকে, ‘চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা, মুখ তার শ্রাবস্তীর কারুকার্য; অতি দূর সমুদ্রের পর হাল ভেঙে যে নাবিক হারায়েছে দিশা। রহিম অনুভব করে সত্যই সে রনির দেহের সোনালি আভায় হারিয়েছে নিজের জীবনের সকল দিশা। রনির চোখ দুটি রহিমকে করে সারাক্ষণ পাগল। সে আবারও জীবনানন্দের মতো বলতে থাকে ‘চোখ তার পাখির নীড়ের মতো’। আহারে হরিণীর মতো কী চাওয়া তার। উভয়ের ভেতরে চলতে থাকে ভাঙ্গন। তারা হারিয়ে ফেলে মান-সম্মানের সকল বিবেক-বুদ্ধি। শয়নে-স্বপনে তারা শুধু দেখে একে অন্যের দেহ, আর দেহের কর্ষনে জল নিষ্কাশন। ভাবেÑ জল নিষ্কাশনে আর কতদিন বাকি?
সকলের আপত্তির পরও রনি-রহিমের বিয়ে হয়। আহারে কী সুখ? প্রেমের বিজয়। দু’জনের দিন যায়-রাত যায় ওজুদে মজুদের মধ্যে। এ যেন লাইলী-মজনু, শিরি-ফরহাদ, ইউসুফ-জুলেখা, রাধা-কৃষ্ণ সবই ফেইল। এমন অবস্থা যেন একে অন্যকে চিবিয়ে খাবে। যদি চিবিয়ে খাওয়া যেতো তবে কি আর কেউ কারো দেহ এভাবে রেখে দিতো? যার শরীরে যত শক্তি আছে সে তত শক্তি দিয়ে বুকের সাথে বুক জড়িয়ে রাখতে চেষ্টা করে। এভাবে জন্ম হয় তাদের প্রথম সন্তানের। আর ছিড়তে থাকে টানের সূতোগুলো। রনি অনুভব করে তার প্রতি রহিমের আকর্ষণ আগের মতো নেই। সে এখন আর ঘরে ফিরতে চায় না গভীর রাতেও। শুরু হয় উভয়ের মধ্যে দেরিতে ঘরে ফিরা নিয়ে কথাবার্তা, হালকা যুদ্ধ। সন্দেহের সকল দরজা-জানালা যেন ধীরে ধীরে খুলতে থাকে। যত সন্দেহ বাড়ে, ততই সংঘাত বাড়তে থাকে। সম্পর্কের এই ভাঙাগড়ার মধ্যে জন্ম হয় তাদের দ্বিতীয় সন্তান। প্রথম সন্তান ছিলো ছেলে, দ্বিতীয়টা মেয়ে। রহিম এখন রনিকে ঘর থেকে বেরুতে দেয় না, এমনকি বাপের বাড়িও তেমন যেতে দেয় না। মাঝেমধ্যে অমানুষের মতো মারামারিও করে।
ধীরে ধীরে রনি আবিষ্কার করে রহিমের অন্য এক মহিলার সাথে গোপন সম্পর্ক। ঐ মহিলা বিবাহিত এবং দুই সন্তানের মা। বিষয়টি ভাবতে রনির খুব ঘৃণা হয়। রনি বিষয়টি রহিমের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে সে সম্পূর্ণ এড়িয়ে যায়। কিন্তু দিনে দিনে এ সম্পর্ক যেন আরও সামনে আসতে থাকে। রনি প্রতিবাদ করে। চলে তাদের মধ্যে ঝগড়া। তিন বছর চলে যায় এই ঝগড়ার মধ্যে। এখন রনি স্বামীর বিষয়ে একেবারে অসহ্য প্রায়। স্বামী নামের ব্যক্তিকে দেখলেই তার মাথায় রাগ আসে এবং প্রচন্ড ব্যথা করে। মাঝেমধ্যে তার ইচ্ছে হয় মরে যেতে কিংবা সংসার ছেড়ে কোথাও চলে যেতে। যদি দুটি সন্তান না থাকতো তবে সে এতদিনে কিছু একটা করেই বসতো। রনি চোখের জল ফেলে আর ভাবে কী করার? বাবা নেই, নেই কোন বড়ভাই, কাকে বলবে সে তার সমস্যার কথা? মা তো বেচারি, নিজেই অসহায়। তা ছাড়া কারবারটা তো নিজেই করেছে, কে আসবে তার দুঃখ শুনতে? বরং এখন তারা বিষয়টি নিয়ে হাসি-তামশা করতেও পারে। রনি ভাবিত হয়, যে মানুষটাকে সে জীবন দিয়ে ভালোবাসলো, যে মানুষের জন্য সে কুল-মান সবই ছাড়লো, সেই মানুষটি আজ তার নিজের নয়, এই দুঃখ সে কাকে বলবে?
রনি যখন কাঁদতে কাঁদতে কথাগুলো বলে তখন আমি বলি, দেখ রনি, তুমি হাওয়ার জগত থেকে বাস্তবতায় এসো। তুমি যাকে প্রেম বলছো, সেটা প্রেম ছিলো না। ছিলো প্রেমের নামে দেহাসক্তি। মানুষ যখন স্বর্গের প্রত্যাশায় কিংবা জাহান্নামের ভয়ে আল্লাহর কাছে কাঁদে তা কিন্তু আল্লাহ প্রেম নয়। তা হলো লোভ বা ভয়। রনি, লোভ কিংবা ভয় আর প্রেম এক জিনিস নয়। স্বর্গের জন্য যে প্রত্যাশী হয়ে আল্লাহর ইবাদত করে, সে মূলত স্বর্গের নিয়ামতসমূহের লোভে তা করে। আর জাহান্নাম থেকে মুক্তির জন্য যে প্রার্থনা করে সে মূলত আল্লাহর গজবের ভয়ে করে। এ দুটোর কোনটাই প্রেম নয়। প্রেম হলো ‘স্বর্গ নরক চাই না আল্লাহ / চাই শুধু তোমাকে’ এই কথার মর্মের মধ্যে। দেখ রনি, যারা দেহের সাথে দেহের মিলনের প্রত্যাশাকে প্রেম বলে তারা মূলত জানে না প্রেম আর আসক্তির মধ্যে ব্যবধান কী। প্রেম হলো আত্মায় আত্মার টান। মটির দেহ প্রেমের জন্য প্রতিবন্ধক। তাই আল্লাহপ্রেমিকেরা মৃত্যুকে আশিক-মাসুকের মিলনের মধ্যম বলে মনে করেন। যদি কারো মধ্যে সত্যিকার প্রেম থাকে সে কখনও মাটির দেহের জন্য আসক্ত হয় না। আমাদের সমাজে প্রেমের নামে যা চলছে তা মোটেও প্রেম নয়। যদি প্রেম হতো তবে কেউ কারো দেহ ভোগের জন্য পাগল হতো না। কী আশ্চর্য্য দেহলোভীরা আজ প্রেমিকের স্বীকৃতি লাভ করে বসেছে। প্রেমিক নাকি ব্যর্থ হয়? ব্যর্থ প্রেমিক নাকি এসিড মারে, বিভিন্ন হুমকি দেয়, প্রেমিকার নগ্নছবি এন্টারনেটে পোস্ট করে, একে অন্যের ক্ষতি করে? রনি বিশ্বাস করো, প্রেমে ব্যর্থতা বলতে কিছু নেই। কোন প্রেমিক কিংবা প্রেমিকা কখনও ব্যর্থ হতে পারে না। তোমরা তো প্রেম করোনি, তোমরা ছিলে আসক্ত। তাই তোমাদের প্রেম ধীরে ধীরে ক্ষয় হয়েছে, লয় হয়েছে।
রনি এই বলে আমার কথার প্রতিবাদ করেÑআপনি বুঝতে পারছেন না। আমি তো তাকে এখনও ভালোবাসি। আমি তার জন্য মরতেও রাজি, কিন্তু সে ভালোবাসে না আমাকে। তাই সে অন্য মেয়ের সাথে পরকীয়া করে। আমি তাকে অনেক বুঝিয়েছি, বিভিন্নভাবে বারণ করেছি, তবু ফিরাতে পারিনি। সে এমন হলো কেন? আমার কী দোষ? আমি কি ঐ মেয়ে থেকে তাকে কম ভালোবাসি? আমি কি তার থেকে কম সুন্দর? আমি বললাম, রনি এখানে দোষ-নির্দোষ, প্রেম-ভালোবাসা, সুন্দর-অসুন্দরের কোন বিষয় নয়, এখানে বিষয় হলো দেহাসক্তি। সে দেহের জল নিষ্কাশনে ঐ মেয়ের দেহের প্রতি আসক্ত হয়েছে। তার আসক্তি হ্রাস না পাওয়া পর্যন্ত সে সেখান থেকে ফিরবে বলে মনে হয় না। তোমার সামনে এখন দুই পথ; হয়তো ধৈর্য্য নিয়ে অপেক্ষা করবে তার আসক্তি হ্রাস পর্যন্ত, নতুবা বিদ্রোহ করে সবকিছু থামিয়ে দিতে হবে। বিদ্রোহে লাভ-ক্ষতি দু’টাই হতে পারে। ভেবে-চিন্তে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। স্মরণ রাখতে হবে, তুমি এখন দুই সন্তানের মা। যদি এখানে বিদ্রোহে হীতে বিপরীত হয় তবে দাঁড়িয়ে থাকার মতো শক্তি তোমার আছে কি না ভাবতে হবে। নতুবা সব তছনছ হয়ে যাবে রনি। আমার তো মনে হয় ‘যে মাঝি জানে জলের ধর্ম / তার ভয় নেই-ক্ষয় নেই।/ যে স্ত্রী জানে স্বামীর ধর্ম / তারও ভয় নেই ক্ষয় নেই।’ তুমি দাঁড়িয়ে থাক, অবশ্যই সে আসলেও আসতে পারে তোমার কাছে ফিরে। রনি বাঁকা হাসি দিয়ে জানতে চায়, তখন সে এসে কী হবে, আমি যখন আমার যৌবন হারিয়ে ফেলবো। আমি বললাম, তুমি আসক্তি থেকে প্রেমে এসে গেলে দেখবে প্রাপ্তিতে সুখ নয়, সকল সুখ বিচ্ছেদে। রনি, বিশ্বাস করো, বিচ্ছেদই আসল প্রেম।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT