স্বাস্থ্য কুশল

এইচআইভি সংক্রমণ ছোঁয়াচে নয়

সৈয়দ আছলাম হোসেন প্রকাশিত হয়েছে: ০৪-০২-২০১৯ ইং ০০:৪২:১৩ | সংবাদটি ৯৯ বার পঠিত

এইডস! এইচআইভি এক ধরণের ভাইরাস। এই ভাইরাসের আক্রমণে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। পহেলা ডিসেম্বর, বিশ্ব এইডস দিবেস। ১৯৮৮ সালের এই দিনটি থেকে প্রতিবছর পালন করা হচ্ছে দিবসটি। ২০১৮ সালে বিশ্ব এইডস দিবসের ৩০ বছর পূর্তি হয়। দিবসটি পালনের উদ্দেশ্য প্রচারের মাধ্যমে এইচআইভি সংক্রমণের ফলে সৃষ্ট এইডস সম্পর্কে গোটা বিশ্বে সচেতনতা সৃষ্টি করা। এই ভয়াবহ সংক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে না পারলে একজন এইডস রোগী খুব সহজেই যে কোনও সংক্রামণ রোগে আক্রান্ত হতে পারেন যা শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যু ঘটাতে পারে।
বিশ্বে ১৯৮১ সাল থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে এইডসে আড়াই কোটির বেশি লোক মৃত্যুবরণ করে। সারা পৃথিবীতে এইডস আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন কোটির বেশি। এইডস (অ্যাকোযার্ড ইমিউনো ডেফিয়েন্সি সিনড্রোম) হচ্ছে এইচআইভি নামক ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট এক ব্যধি। পৃথিবীর ইতিহাসে এই রোগ এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ভয়াবহ মহামারি হিসেবে বিবেচিত। এইডস আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর হার কমাতে বিজ্ঞানীদের চেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে। এই নিয়ে গবেষণার মাধ্যমে এর সফল পথ দিন দিন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে। তবে বিশ্ব এইডস দিবসের মূল লক্ষ্য জনসচেতনতা সৃষ্টি। ২০১৮ সালে এই দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘আপনার অবস্থা জানুন’ প্রত্যেকে যার যার অবস্থা সম্পর্কে অবগত হলে এইচআইভি সংক্রমণ, বৈষম্য ও এইডস সম্পর্কিত মৃত্যু শূণ্যের কোঠায় নামিয়ে আনার লক্ষ্যে এগিয়ে চলা সহজ হবে। তাই আমরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে এই বিষয়ে জানতে হবে ও নিজে সতর্ক থাকার পাশাপাশি অন্যকে সতর্ক রাখতে হবে।
এইচআইভি কোনো রকম লক্ষণ প্রকাশ ছাড়াই ৫ থেকে ১০ বছর এমনকি ১৫ বছর পর্যন্ত মানুষের শরীরে নিরবে অবস্থান করতে পারে। বর্তমানে বাংলাদেশে সরকারি হিসেবে ষোল কোটি মানুষের মধ্যে এইচআইভি বহন করছে দুই হাজার পাঁচশত তেত্রিশ জন। বাংলাদেশে এর সংক্রমণের হার কমলেও বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন এটি ধীরে ধীরে চুপিসারে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এর কবল থেকে বাঁচতে হলে আমরা জানতে হবে এইচআইভি ও এইডস যেভাবে ছড়ায়।
এইচআইভিতে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তগ্রহণ করলে ও তার ব্যবহৃত ইনজেকশনের সিরিঞ্জ বা সুঁই ব্যবহার করলে। এইচআইভিতে আক্রান্ত গর্ভবতী মায়ের শিশুরও আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা গর্ভধারণের শেষ দিকে বা প্রসবের সময় হতে পারে। তবে জিডোভূডিন ওষুধ ব্যবহার করে এই সম্ভাবনা কিছুটা কম করা যায় এবং তা করলে মায়ের দুধও বাচ্ছাকে দেওয়া যেতে পারে। (কারণ মায়ের দুধ না পেলে দরিদ্র পরিবারে জন্মানো বাচ্ছার মৃত্যুর আশঙ্কা আরও বেশি)। এইচআইভিতে আক্রান্ত কারও সঙ্গে অরক্ষিত যৌন সম্পর্ক করলে।
এইচআইভি ও এইডস যেভাবে ছড়ায় না : আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে ওঠাবসা করলে বা তাকে স্পর্শ করলে। আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত থালাবাসন, গ্লাস, প্লেট, বিছানা, বালিশ ইত্যাদি ব্যবহার করলে। আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে এক বিছানায় ঘুমালে। মশা মাছি কামড়ালে। আক্রান্ত ব্যক্তি যে পায়খানা বা ল্যাট্রিন ব্যবহার করে সেটি ব্যবহার করলে।
এইচআইভি সংক্রমণের সঙ্গে সঙ্গেই কিন্তু এইডস হয় না। কিন্তু একবার সংক্রমিত হয়ে এইচআইভি শরীরে ঢুকলে তাকে পুরোপুরি দূর করা এখন পর্যন্ত সম্ভব হয়নি, তাই এইচআইভির সংক্রমণ হলে এইডস প্রায় অনিবার্য। তবে বিনা চিকিৎসায় এইডস পর্যায়ে পৌঁছাতে যদি লাগে গড়ে দশ বছর তবে চিকিৎসার দ্বারা তাকে আরও কিছু বছর পিছিয়ে দেয়া সম্ভব। কিন্তু ‘হার্ট’ (এইচএএআরটি) নামে এইডস এর যে কম্বিনেশন ঔষধ দিয়ে চিকিৎসাপদ্ধতি রয়েছে তা অত্যন্ত ব্যয় বহুল। তাই এ থেকে নিরাপদ থাকার জন্য আমরা প্রয়োজনীয় প্রদক্ষেপ মেনে চলতে হবে।
এইচআইভি থেকে রক্ষা পেতে হলে আমরা অবশ্যই জানতে হবে এইচআইভি ও এইডস প্রতিরোধে যা করতে হবে। যৌন সম্পর্কের ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের প্রতি বিশ্বস্থ থাকা এবং ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলতে হবে। এইচআইভি প্রতিষেধক টিকা এখনও আবিস্কৃত হয়নি। ভাইরাসটি নিরাময় না হলেও এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। সব বয়সের সব ধরণের মানুষই এইচআইভি আক্রান্ত হতে পারেন। এই জাতীয় রোগীর তথ্য গোপন রাখা উচিৎ। আমরা জানতে হবে শরীরজাত অধিকাংশ তরল ক্ষরণে এইচআইভি নিঃসরণ হয়, তবে ¯েœহপদার্থের আবরণ থাকায় এইচআইভি অত্যান্ত ভঙ্গুর। তাই এইচআইভি শরীরের বাইরে বেশিক্ষণ বাঁচে না। এই কারণে সরাসরি রক্ত বা যৌন নিঃসরণ শরীরে প্রবেশ না করলে এইচআইভি সংক্রমণের আশঙ্কা খুব কম। শুধুমাত্র স্পর্শ, এক সাথে খাওয়া, এমনকি একই জামাকাপড় পরা বা মশার কামড় কখনও এইচআইভি ছড়ায় না। যেহেতু এই রোগের প্রাথমিকভাবে কোনো লক্ষণ ধরা পড়ে না তাই সন্দেহ হলেই আমরা রোগীকে সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে পাঠিয়ে সেবা গ্রহণ করার জন্য পরামর্শ দেয়া উচিত। তাই আমরা স্পষ্ট জানতে হবে এইচআইভি সংক্রমণ ছোঁয়াচে নয়।

শেয়ার করুন
স্বাস্থ্য কুশল এর আরো সংবাদ
  • পিত্তথলীর ভেষজ চিকিৎসা
  • ফুটপাতের শরবত আর চাটনি : সংকটে জনস্বাস্থ্য
  • স্মৃতিশক্তি সমস্যা : করণীয়
  • যক্ষ্মা নির্মূলের এই তো সময়
  • মলদ্বারের রোগে পেটের সমস্যা
  • ব্যথার ওষুধ খাবেন সাবধানে
  • অতিরিক্ত ওজন ও স্থুলদেহী প্রসঙ্গ
  • স্বাস্থ্য রক্ষায় খতনা
  • আপনিই সুস্থ রাখতে পারেন আপনার কিডনি
  • এ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে সতর্কতা
  • মুখের আলসার ও টুথপেস্টের রসায়ন
  • গলার স্বর বসে গেলে
  • মেছতার আধুনিক চিকিৎসা ডাঃ দিদারুল আহসান
  • স্ক্রিনে দীর্ঘসময় শিশুর মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলে
  • প্রকৃতির মহৌষধ মধু
  • তাফসিরুল কুরআন
  • প্রসব পরবর্তী থায়রয়েড গ্রন্থির প্রদাহ
  • শ্বাসকষ্ট কোনো রোগ নয়!
  • নাক দিয়ে পানি পড়া
  • শীতে বয়স্কদের সমস্যা
  • Developed by: Sparkle IT