মহিলা সমাজ

আজব প্রেম

শেখ রিমঝিম দোলা প্রকাশিত হয়েছে: ০৫-০২-২০১৯ ইং ০১:৩৬:০২ | সংবাদটি ৩৮ বার পঠিত

ভালোলাগা ভালোবাসা সকলের জন্যই সমান। ভালোলাগা ভালোবাসা আছে বলেই পৃথিবী এখনো সুন্দর নিয়মে চলছে, কেননা ইহা সর্বজনীন। উক্ত ভালোলাগা ভালোবাসা থেকেই প্রেম প্রণয়ের আবির্ভাব। পাশাপাশি চলাফেরা এবং দেখতে দেখতে ভালোবাসার শুরু হয়। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই এই ভালোবাসার খুব প্রয়োজন। প্রতিটি প্রাণী ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ। ভালোবাসার আয়তন ব্যাপক, যার পরিমাপ এবং পরিমাণ কোনোটা হয় না। এবার পড়–ন অসমাপ্ত ভালোবাসার গল্প।
শাফি এবং রিয়া এদের দু’জনের বাড়ি একই জেলার দুই গ্রামে অবস্থিত। তখন তারা দু’জনেই স্টুডেন্ট। শাফি বেশ জনপ্রিয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, অর্থনীতিতে অনার্স ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। রিয়া স্কুল শিক্ষার্থী, দশম শ্রেণি, বিজ্ঞান শাখার ছাত্রি।
এদের দু’জনের দেখা হয় তাদের কোন এক আত্মীয়ের বিয়েতে। সেখান থেকে ভালোলাগা, যা ধীরে ধীরে প্রেমে রূপ নেয় এবং ছয় মাসে শোকে ম্লান হয়ে যায়। তারা দু’জন দেখতে অনেক সুন্দর এবং রুচিসম্মত ছিলো। রিয়া মিষ্টি মেয়ে কিন্তু শাফি একটু রাগি, তবে তারা খুব ভালো ছিলো। তাদের যোগাযোগ হতো সেল ফোনে। প্রতিদিনই কথা হতো। ইতোমধ্যে দু’জনের পরীক্ষার সময় ঘনিয়ে আসে। রিয়ার মধ্যে শুরু হয় ব্যাপক পরিবর্তন। বিশেষ করে ওর মাথা ব্যথা প্রচন্ড আকার ধারণ করে। কখনো কখনো অজ্ঞান হয়ে যেতো। প্রথমদিকে ওর পরিবার ভেবে নেয় স্বাভাবিক ব্যথা। অবস্থার অবনতি দেখে উনারা রিয়াকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান। সঠিকভাবে কোনো ডাক্তার রিয়ার রোগ নির্ণয় করতে পারছিলেন না। ওর অবস্থা দিন দিন আরো খারাপ হতে থাকে। ডাক্তারদের নিয়ম অনুযায়ী চিকিৎসা চলছিল, সেই একই অবস্থা, উন্নতির লক্ষণ নেই। নামকরা বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছে নেয়া হয় রিয়াকে। বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়। সেখান থেকে সব নেগেটিভ রেজাল্ট দেওয়া হয়। সব ডাক্তাররা বলে দেয়, এই রোগ তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। এতোসব জানার পরেও শাফি রিয়াকে ছেড়ে চলে যায়নি। সে রিয়াকে সাহস দিত, দেখে নিও তুমি, সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু চাইলেই তো আর সব ঠিক হয় না। রিয়ার বেলায় সেটাই হয়েছিলো। শাফি স্টুডেন্ট হিসেবে বেশ চমৎকার, সব মিলিয়ে দেশের বাইরে পড়ালেখার জন্য স্কলারশিপ পেয়ে যায়। উক্ত সংবাদ সে রিয়াকে জানায়। রিয়া শাফিকে বলে দেয়; তুমি যেওনা, আমি তোমাকে ছাড়া থাকতে পারব না, মরে যাব তো প্লিজ তুমি যেওনা। শাফি ভেবেছিল রিয়া হয়তো আবেগে এসব বলছে, তাই বিভিন্নভাবে বোঝাতে থাকে। রিয়াও নাছোড়বান্দা, বারবার একই কথা শুনিয়েছে। ওর আবদার, কান্না, অসুস্থতা সব মিলিয়ে শাফি নির্ধারণ করে নেয় বিদেশে যাবে না। রিয়া খুব খুশি হয়, কিন্তু ওর অসুস্থতার অবস্থা অপরিবর্তিত। মাথার যন্ত্রণায় তেমন কিছুই করতে পারত না। সে ডক্টর, ট্রিটমেন্ট, শাফি, পরিবার, পৃথিবী সবকিছুকে পেছনে ফেলে মৃত্যুর দিকে ধাবিত হয়। এক সকালে রিয়ার পরিবার তার বিছানায় পরে থাকা নিথর দেহ শনাক্ত করে। সবাই খুব কাঁদতে থাকে। বিদায় যেহেতু কখনো সুখের নয়, শাফিও কষ্টে পাগলের মতো কাঁদতে থাকে। শাফি রিয়াটাকে প্রচন্ড ভালোবাসত, ওর সব অবস্থা জানার পরেও সে সরে যায়নি। সে উন্মাদের মত হয়ে যায়। বন্ধুরা খুব বোঝাতে থাকে ‘দোস্ত বিদেশ চলে যা, কিছুটা হলেও রিয়াকে ভুলে থাকতে পারবি।’ অনেক বোঝানোর পর সে নির্ধারণ করে নেয় বিদেশ চলে যাবে, কেননা যার জন্যে থাকবে সে তো আর বেঁচে নেই। সে তার বাবা মায়ের কথাও আর ফেলতে পারেনি। সকলের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে নতুন দেশে পাড়ি জমায়। শুরু হয় নতুন জীবন আর পড়ালেখা। আজব ছেলে এই শাফি, যে কিনা এখনো রিয়াকে ভালোবাসে। এখন সে মাস্টার্স শেষ করে জনপ্রিয় কোম্পানীতে দায়িত্বপ্রাপ্ত চাকুরি করছে। একবারের জন্যেও রিয়াকে ভুলে যায়নি। প্রতিদিনই মেয়েটার জন্য চোখের পানি ঝড়ায়। সে বলে; আমি মৃতের মতো বেঁচে আছি, কি লাভ এভাবে বেঁচে থাকার।
ইন্টারনেটের সুবাদে ফেসবুকের মাধ্যমে সোনালীর সাথে তার পরিচয়। সোনালী মেয়েটা ভালো, যাক বিশ্বাস করা যায়। যে মেয়েটা কখনো প্রত্যুত্তর করে না। সব দিক বিবেচনা করে শাফি সোনালীকে সব জানায়। রিয়ার অনেক বৈশিষ্ট সোনালীর মাঝে বিদ্যমান এবং চোখ দু’টো হুবহু রিয়ার মতো। শাফিকে সে যথাসাধ্য শান্ত¦না দিতো। শাফি বলে, আমি বাঁচতে চাই, কি করব জানি না। মাঝে মাঝে মরে যেতে ইচ্ছে করে। সোনালী একান্ত ভালো বন্ধুর মতো পাশে থেকে এখনো অনুপ্রেরণা দিয়ে চলেছে; কেনো নয়, অবশ্যই বাঁচতে হবে। কেননা যা ঘটেছে সবটা স্বাভাবিক ঘটনা, এতে তোমার কোনো হাত নেই। সোনালীকে শাফির ভালো লেগে যায়, ভালোবাসার প্রস্তাব দেয়। কিন্তু সোনালী সব বুঝিয়ে না বলে দেয়। কারণ শাফির পরিবার অনেক ধনী। পক্ষান্তরে সোনালীর পরিবার নি¤œ মধ্যবিত্ত। সোনালী এ বিষয়ে তাকে সব বলেছে। শাফি সেটা মানতে রাজি নয়। উচ্চবিত্ত হলে অনেকেরই আলাদা একটা অহংবোধ এবং ভাব থাকে। শাফির বেলায়ও কিছুটা আছে, যেমনÑ ব্যক্তিত্ব বোধটা একটু বেশি আর সাথে রাগ। সে যখন তখন রাগ করে সোনালীর সাথে। মাঝে মাঝে সোনালীকে বকে, ধমকও দেয়। কিন্তু সোনালী কখনো মন খারাপ করে না। এখনো ভালো বন্ধুর মতো অনুপ্রেরণা দিয়ে যাচ্ছে। কেননা সে নিজেও শাফিকে খুব ভালোবাসে। কিন্তু কখনোই শাফিকে সেটা বুঝতে দেয় না। সে তার মতো দিন অতিবাহিত করে চলেছে। বর্তমানে সে নিজেকে যোগ্য হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা চালাচ্ছে। যদি সব মিলিয়ে সে শাফির যোগ্য হয় তবে নিজে থেকেই শাফিকে ভালোবাসার নয়, সরাসরি তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেবে। আজব দুনিয়া, আজব প্রেম! ভেবে ভেবে আমি অবাক হই। ভালোবাসার জয় হোক।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT