সম্পাদকীয়

যদি সর্বোচ্চ আসন পেতে চাও, তবে সর্বনি¤œ স্থান থেকে শুরু করো।- ডেল কার্নেগি।

প্রকাশিত হয়েছে: ০৮-০২-২০১৯ ইং ০০:২৯:৫৮ | সংবাদটি ১৯৪ বার পঠিত

শিশু অধিকার নিয়ে বলাবলি হয় অনেক কিছুই। কিন্তু এই বিষয়ে দিনে দিনে মানুষের অসচেতনতাই বাড়ছে। জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত শিশু অধিকার সনদে অনুস্বাক্ষরকারী দেশগুলোর অন্যতম হচ্ছে বাংলাদেশ। সে হিসেবে সরকার এই সনদের শর্তাবলী মেনে নিতে বাধ্য। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। এখানে শিশু অধিকার লংঘিত হচ্ছে নানাভাবে। খেয়ে পরে লেখাপড়া শিখে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার সুযোগ পাচ্ছে না অনেক শিশু। বরং তারা নানা ধরনের পেশায় শ্রম দিতে বাধ্য হচ্ছে। সরকার বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা চালু করলেও শতভাগ শিশুকে বিদ্যালয়ে নিয়ে আসা সম্ভব হয়নি। দেশে পাঁচ থেকে ১৪ বছরের সাত শতাংশ শিশুই বিদ্যালয়ে যায় না। তাছাড়া, পাচারের শিকার হচ্ছে অনেক শিশু। সব মিলিয়ে শিশু অধিকার লংঘিত হচ্ছে অহরহ।
বিশ্বের সব শিশুর অধিকার সুরক্ষার প্রয়োজনে ১৯৮৯ সালের ২০-এ নভেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে শিশু অধিকার সনদ গৃহীত হয়। ১৯৯০ সালের সেপ্টেম্বরে এটি আন্তর্জাতিক আইনের একটি অংশে পরিণত হয়। জাতিসংঘের একশ ৯৩টি দেশের মধ্যে একশ ৯১টি দেশই এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। বিশেষ চারটি মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে এই সনদে রয়েছে ৫৪টি ধারা। এর মধ্যে ৪১টি ধারায় শিশু অধিকারের কথা সরাসরি বলা হয়েছে। বাকি ১৩টি ধারায় অধিকারগুলো কীভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে তা বলা হয়েছে। অনুস্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে শিশু অধিকার সনদ বাস্তবায়ন বিষয়ক প্রতিবেদন জাতিসংঘ শিশু অধিকার কমিটির কাছে পাঠাতে হয় প্রতি পাঁচ বছর অন্তর। কিন্তু এই সনদ বাস্তবায়নে সরকার এখন পর্যন্ত সফল হয়নি। অর্থাৎ শিশুদের পরিস্থিতির অগ্রগতি নেই বললেই চলে। জাতিসংঘে প্রেরিত নিয়মিত প্রতিবেদনগুলোতেই সেই ব্যর্থতার চিত্র ফোটে ওঠেছে। যেমন-দেশের অনেক শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে-রোগব্যাধি তাদের নিত্যসঙ্গী, বহু শিশু নির্যাতনের শিকার হচ্ছে, বাড়ছে বাল্য বিবাহ ও শিশুশ্রম।
শিশু অধিকার সনদের আলোকে শিশুদের সার্বিক অবস্থার উন্নতিতে এগিয়ে আসতে হবে সরকারকে। শিশুশ্রম নিরসনের পাশাপাশি তাদের লেখাপড়া নিশ্চিত করতে হবে। খেলাধুলা, সঙ্গীত, আবৃত্তি ইত্যাদি মননশীল কর্মকান্ডে শিশুদের সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ দিতে হবে। বিশেষ করে সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের শিশু একাডেমিসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান পরিচালিত কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত করতে হবে। শিশুদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত না হলে তাদের মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্থ হয়। তারা সমাজের মূল ¯্রােতধারায় মিশতে পারে না। শিশুদের সব অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারসহ সব মানুষের সচেতনতা জরুরি।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT