উপ সম্পাদকীয় খোলা জানালা

বিদ্যাদেবী বীণাপাণি

সজল চন্দ প্রকাশিত হয়েছে: ১০-০২-২০১৯ ইং ০০:২৩:১৮ | সংবাদটি ৩৭৩ বার পঠিত


বিদ্যাদেবী বীণাপাণি যিনি সরস্বতীনামে সর্বত্র পরিচিত। তিনি জ্ঞান বিজ্ঞান কলা সঙ্গীত বিদ্যার দেবী। ‘সরস্বতী শব্দটি’ ‘সার’ এবং ‘স্ব’ দুটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত। অর্থাৎ যিনি কারো মধ্যে সার জ্ঞান প্রকাশ করেন। আবার সরস্বতী শব্দটি সংস্কৃত সুরত- বতি শব্দ থেকে এসেছে যার অর্থ হচ্ছে জলের আধার।
বৈদিক শাস্ত্রে সরস্বতী দেবীকে বিভিন্ন নামে অভিহিত করা হয় - জ্ঞান বিজ্ঞানের দেবী (ব্রাহ্মণী), বর্ণের দেবী (বর্ণেশ্বরী), বাদ্যগীত এবং বচন. (বাণী এবং বাচী), কবিজিহ্বাগ্রবাসিনী (যিনি কবিগণের জিহ্বায় অবস্থান করেন), বাক্যের অধিষ্ঠাত্রী বলে সরস্বতী দেবীকে বাক্দেবী ও বলা হয়।
এছাড়া আরো অনেক নামে দেবীকে অভিহিত করা হয়। পুষ্পমাল্য শোভিত দেবী চতুর্ভুজা, দেবীর পরনে শুভ্র বস্ত্র যা সাত্ত্বিকতার প্রতীক, হংসবাহিনী দেবী একহাতে তালপাতার লেখ্যপট যা জ্ঞানের প্রতীক, একহাতে জপমালা অপর দুই হাতে বীণা যা বাদন করে সর্বদা ভগবান শ্রীকৃষ্ণের নামগানে তৎপরা। বিদ্যাবধূ জীবনম্ পরং বিজয়তে শ্রীকৃষ্ণ সংকীর্তনম। তিনি শুভবুদ্বিদ্ধর প্রেরণারুপিনী ও জাগরণকারিণী। সরস্বতী দেবীর আর্বিভাব সম্পর্কে শাস্ত্রে বর্ণিত আছে যে, প্রজাপতি ব্রহ্মার শরীর থেকে এক দেবীমূর্তি প্রকাশিত হয়। ব্রহ্মার শরীর থেকে প্রকাশিত হওয়ার পর ব্রহ্মাকে দেবী তাঁর স্থান ও কর্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। ব্রহ্মা প্রতিউত্তরে বলেন : তোমার নাম সরস্বতী, তুমি সকলের জিহ্বায় অবস্থান করো। বিশেষ করে সুশিক্ষিত ব্যাক্তিদের জিহ্বাতে তুমি নৃত্য করো।আর পৃথিবীতে তুমি নদীরুপে প্রকাশিত হও। এ কথা শুনে দেবী ব্রহ্মাকে প্রশ্ন করলেন আপনি যে বলছেন আমি সকলের জিহ্বাতে অবস্থান করব বিশেষ করে সুশিক্ষিত ব্যক্তিদের জিহ্বায় নৃত্য করব আবার নদীরূপে হিমালয়ে প্রবাহিত হতে এর কারণ কি? তখন ব্রহ্মা উত্তরে বললেন, হে দেবী তুমি যখন লোকের জিহ্বাতে অবস্থান করবে তখন লোকের জিহ্বা বাকশক্তি হবে। তাই তোমার আরেক নাম বাকদেবী।আর সুশিক্ষিত লোকের জিহ্বায় অবস্থান করে তুমি সুখী হতে পারবে কারণ তারা সদা সত্যালাপী।
তারপর হিমালয়ে নদীরুপে প্রবাহিত হলে ভগবানের শুদ্ধ ভক্তেরা আমার তটে বসে ভাগবত কথা শ্রবণ কীর্তন করবে আর তোমার জলে স্নান করে পুণ্যতা লাভে পরিশুদ্ধ হবে। তাহলে তোমার প্রকাশ সার্থকতা লাভ করবে। বর্তমান অবধি হিমালয় থেকে বহে যাওয়া সরস্বতী নদী তারই প্রকাশ।
যাহোক বিদ্যা দুই প্রকার যথা পরা বিদ্যা আর অপরা বিদ্যা। পরাবিদ্যা হচ্ছে পারমার্থিক বিদ্যা। যে বিদ্যা ঈশ্বর সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান দান করে থাকে। অপরপক্ষে অপরা বিদ্যা হচ্ছে জড় জাগতিক বিদ্যা। যে বিদ্যা লাভে জড় জাগতিক উন্নতিতে অত্যধিক গুরুত্ব আরোপ করায়, যা পরিশেষে দেয় দুঃখ আর মিথ্যা অহংকার। তাই পরাবিদ্যা জড় আসক্তিকে বিনাশ করে আর অপরা বিদ্যা জড় বিষয়ে আসক্তি বৃদ্ধি করে। সরস্বতী দেবী দুই বিদ্যাই প্রদান করে থাকেন যার যার মনের বাসনানুযায়ী। জীবগণ তাদের নিজ
নিজ রুচি অনুসারে সে বিদ্যা কামনা করে দেবীর আরাধনা করেন। তবে উন্নত বিচার সম্পন্ন ব্যক্তিরা কখনও নশ্বর বিষয়ে মুগ্ধ না হয়ে পরাবিদ্যা অর্থাৎ পারমার্থিক বিদ্যাই চাইবেন। কারণ এ বিদ্যা অবিনশ্বর সবোৎকৃষ্ট ও সর্বমঙ্গল প্রদায়ক। দিগ্বিজয়ী হওয়া প্রকৃত বিদ্যার উদ্দেশ্য নয়। তাই তো শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু বলেছেন, কোন বিদ্যা বিদ্যা মধ্যে সার? রায় কহে, কৃষ্ণভক্তি বিনা বিদ্যা নাহি আর। তাই আমরা সরস্বতী মায়ের কাছে কৃষ্ণভক্তিমূলক পারমার্থিক পরা বিদ্যাই চাইব। যে বিদ্যা আমাদের কলুষিত মনকে করবে পরিশুদ্ধ দূর হবে সব অহংকার।
লেখক : কলামিস্ট।

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • খাদ্য নিরাপত্তায় বিকল্প চিন্তা
  • জন্মাষ্টমী ও ভগবান শ্রীকৃষ্ণ
  • বৃহত্তর সিলেটবাসীর একটি গৌরবগাঁথা
  • পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণ
  • জলবায়ু পরিবর্তনই আসল সমস্যা
  • কিশোর অপরাধ
  • আ.ন.ম শফিকুল হক
  • হোটেল শ্রমিকদের জীবন
  • বিশেষ মর্যাদা বাতিল ও কাশ্মীরের ভবিষ্যত
  • বাংলাদেশে অটিস্টিক স্কুল ও ডে কেয়ার সেন্টার
  • বেদে সম্প্রদায়
  • গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে সুপারিশমালা
  • ত্যাগই ফুল ফুটায় মনের বৃন্দাবনে
  • প্রকৃতির সঙ্গে বিরূপ আচরণ
  • ঈদের ছুটিতেও যারা ছিলেন ব্যস্ত
  • সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের বর্ষপূর্তি : প্রাপ্তি ও প্রত্যাশা
  • আইনজীবী মনির উদ্দিন আহমদ
  • শিশুদের জীবন গঠনে সময়ানুবর্তিতা
  • শাহী ঈদগাহর ছায়াবীথিতলে
  • কিশোর-কিশোরীদের হালচাল
  • Developed by: Sparkle IT