সম্পাদকীয় বিদ্যা ভালো-মন্দ বিবেচনার শক্তি যোগায়, বেহেশতের পথকে আলোকিত করে। -আল হাদিস

সিলেট নগরীর বায়ু দূষণ

প্রকাশিত হয়েছে: ১১-০২-২০১৯ ইং ০১:৪৯:৪১ | সংবাদটি ৫০ বার পঠিত

বায়ু দূষণ এখন যে কোন ছোট বড় শহরের জন্য আতংকের বিষয়। শুধু তাই নয়, সমস্যাটি শহর-নগরের গন্ডি পেরিয়ে পৌঁছে গেছে মফস্বলেও। দেশের অন্যান্য নগরীর মতো সিলেটেও বেড়ে চলেছে বায়ু দূষণের মাত্রা। সেই সঙ্গে বিস্তৃতি ঘটছে বায়ু দূষণজনিত নানা রোগব্যাধি। বায়ুতে অতিমাত্রায় কার্বন ডাই অক্সাইড, সালফার ডাই অক্সাইড এবং ভাসমান ধূলিকণাই নানা রোগব্যাধির বিস্তার ঘটাচ্ছে। অপরিকল্পিত নগরায়ন, পুরনো মোটর গাড়ির অতিমাত্রায় ব্যবহার, যেখানে সেখানে স্থাপিত ইটভাটা, স্টোন ক্রাশিং মেশিন থেকে নির্গত ক্ষতিকর পদার্থ এবং গ্যাস ও তেল শোধনাগার থেকে সৃষ্ট উপজাতক ক্ষতিকর উপাদানের সৃষ্টি করছে। এতে শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত রোগ, মাথাব্যথা এবং চর্মরোগের মতো নানা রোগের বিস্তার ঘটছে।
সিলেট একটি ব্যস্ত নগরীর নাম। মহানগরীতে উন্নীত হওয়ার পর থেকে বাড়ছে নগরীর ব্যস্ততা। সম্প্রসারিত হচ্ছে নগরীর পরিধি। সেই সঙ্গে বাড়ছে জনসংখ্যা, রাস্তাঘাট। সম্প্রসারিত হচ্ছে আবাসিক এলাকা। বৃদ্ধি পাচ্ছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিল্পকারখানা, বিপণী ভবন। তার সঙ্গে বৃদ্ধি পাচ্ছে পরিবেশগত নানা সমস্যাও। বায়ু দূষণ তেমনি একটি সমস্যা। নগরীর আম্বরখানা, জিন্দাবাজার, শিবগঞ্জ, উপশহর, রিকাবীবাজার, বন্দরবাজার এবং তাঁতীপাড়া এলাকায় বায়ু দূষণের মাত্রা বেশি। ব্যস্ততম জিন্দাবাজারের বাতাসে কার্বন ডাই অক্সাইডের সর্বাধিক ঘনত্ব ৫৫০ পিপিএম। পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে বর্তমানে কার্বন ডাই অক্সাইডের গড় উপস্থিতি ৩৫০ পিপিএম। সেই তুলনায় সিলেট নগরীর জিন্দাবাজারের কার্বন ডাই অক্সাইডের ঘনত্ব দু’শ পিপিএম বেশি। এই উচ্চ ঘনত্বের কার্বন ডাই অক্সাইড ভূমিকা রাখে তাপমাত্রার পরিবর্তনে। এছাড়া, নগরীর বায়ুতে সালফার ডাই অক্সাইডের মাত্রা সর্বোচ্চ নয়শ’ ৪০ মাইক্রোগ্রাম পার মিটার কিউব। এটাও স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি। পরিবেশ অধিদপ্তরের স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী বায়ুতে সালফার ডাই অক্সাইডের সহনশীল মাত্রা হচ্ছে একশ মাইক্রোগ্রাম পার মিটার কিউব। আর সিলেট নগরীতে সালফার ডাইঅক্সাইডের উপস্থিতি হচ্ছে সহনশীল মাত্রার চেয়ে আটশ’ ৪০ মাইক্রোগ্রাম বেশি। এছাড়া, নগরীর বায়ুতে ভাসমান ধূলিকণার উপস্থিতি বাড়ছে মারাত্মকভাবে।
বায়ু দূষণের শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ। নানা অসুখ বিসুখে ভুগছেন নগরবাসী। চিকিৎসকদের মতে, বায়ু দূষণের কারণে অনেক দূরারোগ্য ব্যাধির জন্ম হতে পারে মানবদেহে। বায়ু দূষণের প্রধান কারণগুলো হচ্ছে- অপরিকল্পিত নগরায়ন, পুরনো গাড়ি, ইটের ভাটা, স্টোন ক্রাশিং, বিভিন্ন ধরনের যানবাহন ও কালো ধোঁয়া ইত্যাদি। যেখানে সেখানে ইটের ভাটা স্থাপনের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী পুরনো গাড়ি রাস্তায় বের করা নিষেধ। কিন্তু এইসব নির্দেশনা মানছে না কেউই। রাস্তাঘাটে অহরহ খুঁড়াখুঁড়ির কারণে বাতাসে ধূলিকণার মাত্রা বাড়ছে। অর্থাৎ সর্বত্র সরকারি আইন অমান্য করায় পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। সুতরাং এই সংক্রান্ত আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

 

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT