উপ সম্পাদকীয়

ভিক্ষা বৃত্তিতে শিশু, কর্মক্ষম নারী ও পুরুষ

পিযুষ চক্রবর্তী প্রকাশিত হয়েছে: ১১-০২-২০১৯ ইং ০২:০৫:০৭ | সংবাদটি ১৬৬ বার পঠিত

ভিক্ষা মানব জাতির জন্য অভিশাপ স্বরূপ। ভিক্ষা ব্যক্তিকে শারীরিক মানসিক ও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করে মানবিক মুল্যবোধকে ম্লান করে দেয়। কথায় আছে “ভিক্ষুককে ভিক্ষা দাও” ভিক্ষুক বেশে দরবেশ/ নারায়ণ আসতে পারে। প্রকৃত ভিক্ষুককে ভিক্ষা দেওয়া মানবিক দায়িত্ব। মানুষ মানুষের জন্য। মানুষের মধ্যে দয়া ,মায়া, মমত্ববোধ, মুল্যবোধ, সম্প্রীতি, এগুলো ঐশ্বরিক দান। মানবিক গুণ ছাড়া প্রকৃত মানুষ হওয়া যায় না। মানুষের দয়া/ মায়ার সুযোগ নিয়ে ইদানিং অপ্রকৃত ভিক্ষুক বা পেশাদার এমনকি বাণিজ্যিক ভিক্ষুক বলা যায় যাদের পদচারণা সিলেট নগরীর জনবহুল স্থানগুলোতে লক্ষ্যনীয়। কখনো কখনো এরা পথচারী ও ব্যবসায়ীদের সাথে বিরক্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করে। ভিক্ষুকদের মধ্যে শিশু বাচ্চা থেকে শুরু করে কিশোর, যুবক, প্রৌঢ়, বৃদ্ধ রয়েছে। সিলেট নগরীর কীনব্রিজ, সুরমা মার্কেট, কোর্ট পয়েন্ট, জিন্দাবাজার পয়েন্ট, আম্বরখানা পয়েন্ট, মদিনা মার্কেট , দরগাহ গেইট, এয়ারপোর্ট, টিলাগড় পয়েন্ট, মেডিকেল রোড, রেলওয়ে স্টেশন, বাস টার্মিনাল, স্কুল কলেজ সহ জনবহুল রেষ্টুরেন্টগুলোর সামনে এমনকি বড় বড় মার্কেটের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে রয়েছে ভিক্ষুকদের পদচারণা ও বিভিন্ন কৌশলে ভিক্ষে চাওয়ার প্রবণতা। পেশা মনোভাবাপন্ন ও সহজ উপায়ে উপার্জন করার কৌশলী ভিক্ষুকদের জন্য শারীরিক ও মানসিকভাবে কর্মক্ষমতায় অক্ষম এবং ভিক্ষা উপযোগী ব্যক্তি ভিক্ষা থেকে প্রায়শই বঞ্চিত হয় এবং ধমকের শিকার হয়। এর জন্য অপ্রকৃত ভিক্ষুক ও না বুঝে অর্থদম্ভে ভিক্ষা দানকারী ব্যক্তিরাই দায়ী। বিশেষ করে প্রবাসী/ অভিবাসী চোখে পড়লেই এগিয়ে যায় শিশু, নারীসহ বয়স্ক পুরুষ ভিক্ষুক তাদের সাথে এমন আচরণ করতে দেখা যায় যে তারা স্থান ত্যাগ করতে পারলেই বাঁচে। গাড়িতে করে এক জায়গা আরেক জায়গায় চলাচলের সময় পেশাদার ভিক্ষুকরা দৌড়ে গাড়ির সাথে সাথে। কখন জানি গাড়ির নিচে চাপা পড়ে এমন কান্ডজ্ঞানটিও হারিয়ে ফেলে। এছাড়া সম্ভ্রান্ত পরিবারের যুবক যুবতী ও নারীদেরকে দেখলেই পেশাদার ভিক্ষুকরা কখনো গাঁয়ে ধরে বিরক্ত করে ভিক্ষা আদায় করে। আবার কখনো বা পায়ে ধরে বসে। এতে লজ্জায় পড়ে হলেও টাকা দিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করতে চায়। একালের ভিক্ষুকরা দু টাকা পাঁচ টাকায় সন্তুষ্ট নয়। কমপক্ষে দশ টাকা না দিলে তারা পিঁছু ছাড়ে না। এরা মূলত পেশাদার ভিক্ষুক। এদের কিছু না কিছু দান করলে এই দান প্রকৃত সার্থকতা বহন করবে না। তাই দেখে শুনে ভিক্ষার উপযোগী ভিক্ষুককে ভিক্ষা দিন। পেশাদার ভিক্ষুককে ভিক্ষা দিয়ে ভিক্ষাবৃত্তিতে আগ্রহ ও প্রবণতা বাড়ানো থেকে বিরত থাকুন। সম্প্রতি সন্ধ্যার দিকে জিন্দাবাজার পয়েন্টের বাটা দোকানের কোণে তিনটি শিশুকে লক্ষ্য করা যায় তাদের সামনে একটি বাটি যেটিতে মানুষ ভিক্ষাস্বরূপ টাকা দেয়। এমন সময় লক্ষ্য করা যায় একজন দশ টাকা দিচ্ছেন। সাথে সাথেই জানতে চাইলে তিনি জানান আমি ইউসুফ আলী বাড়ি ফেঞ্চুগঞ্জের পুরান বাজার এলাকায়। ইউসুফ আলী মধ্যবয়সী একজন ব্যবসায়ী। তিনি বলেন আমি দশটি টাকা শিশু বাচ্চাটিকে দিলাম। সে (আকলিমা) কিছু একটা খাবে। সাথে সাথেই আরেকজন যুবক কামরুল ইসলাম নামের বাড়ির গোলাপগঞ্জের উত্তর গোয়াসপুর। সেও বললো একই কথা, ভিক্ষুক বাচ্চাটি কিছু একটা খাবে। সে আরো বলে আমি মাঝে মধ্যে ভিক্ষুকদেরকে দশ টাকা পাঁচ টাকা করে দেই। এসময় একজন হিন্দু মহিলা (৫৫) বাচ্চাদেরকে বলেন, তোমাদের মা - বাবা নেই। কোন উত্তর দেয় না ভিক্ষুক বাচ্চারা। পরক্ষণে জানতে চাইলে বড় বাচ্চাটি (১২) উত্তরে বললো: তার নাম ইব্রাহীম। শোয়া অবস্থায় তার বোনটির নাম আকলিমা। অন্য শিশুটির নাম বলে নাই। এ থেকেই বুঝা যায় এরা নাম প্রকাশে অনিচ্ছা প্রকাশ করে এবং ছবি তুলার সময় মুখ ঘুরিয়ে নিতে চায়। এরা পেশাদার ভিক্ষুক। দান এবং আবেগের মূল্যায়ন তাদের নিকট তুচ্ছ। টাকা উপার্জনই তাদের কাছে মুখ্য। শিশুরা স্কুলে যাবে। মা বাবার দায়িত্ব স্কুলে পাঠানো। কায়িক পরিশ্রম করে রিক্সা ঠেলা বেয়ে এমনকি বাসা বাড়িতে ঝিঁয়ের কাজ করেও অনেকেই বাচ্চাদের বেড়ে ওঠা ও স্কুলে পাঠানোর মত মহৎ কাজটি করছে। অপ্রকৃত ভিক্ষুককে ভিক্ষা দান থেকে বিরত থাকুন এবং শিশু ও কর্মক্ষম ব্যক্তিরা ভিক্ষা থেকে দূরে থাকুন। শিশুদের দিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি নয়। আজকের শিশুরা আগামীদিনের দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ।
লেখক : কলামিস্ট।

শেয়ার করুন
উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • খাদ্য নিরাপত্তায় বিকল্প চিন্তা
  • জন্মাষ্টমী ও ভগবান শ্রীকৃষ্ণ
  • বৃহত্তর সিলেটবাসীর একটি গৌরবগাঁথা
  • পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণ
  • জলবায়ু পরিবর্তনই আসল সমস্যা
  • কিশোর অপরাধ
  • আ.ন.ম শফিকুল হক
  • হোটেল শ্রমিকদের জীবন
  • বিশেষ মর্যাদা বাতিল ও কাশ্মীরের ভবিষ্যত
  • বাংলাদেশে অটিস্টিক স্কুল ও ডে কেয়ার সেন্টার
  • বেদে সম্প্রদায়
  • গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে সুপারিশমালা
  • ত্যাগই ফুল ফুটায় মনের বৃন্দাবনে
  • প্রকৃতির সঙ্গে বিরূপ আচরণ
  • ঈদের ছুটিতেও যারা ছিলেন ব্যস্ত
  • সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের বর্ষপূর্তি : প্রাপ্তি ও প্রত্যাশা
  • আইনজীবী মনির উদ্দিন আহমদ
  • শিশুদের জীবন গঠনে সময়ানুবর্তিতা
  • শাহী ঈদগাহর ছায়াবীথিতলে
  • কিশোর-কিশোরীদের হালচাল
  • Developed by: Sparkle IT