শেষের পাতা

আকাশে সাদা বকের ভেলা

আহমাদ সেলিম প্রকাশিত হয়েছে: ১১-০২-২০১৯ ইং ০৩:১৬:২৪ | সংবাদটি ২০৭ বার পঠিত

দোয়েল, ফিঙে, ময়না, টিয়া-এরকম কিছু পাখি অতি পরিচিত। ছোটবেলা পাঠ্য পুস্তকের পাতা উল্টাতে উল্টাতে তাদের সাথে পরিচয় ঘটে যায়। তেমনই এক অতি পরিচিত পাখি বক। বাংলা সাহিত্যেও নান্দনিক এই পাখিটি গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে জীবনানন্দ দাশের কবিতায় আমরা খুঁজে পাই বাংলার ধবল বককে। তবে, শহরের আকাশের চেয়ে গ্রামে সচরাচর এই পাখির দেখা মিলে। খোলা হাওর, জলাশয় কিংবা ঘন বাঁশবনে অনেকটা নি:শব্দে এই পাখি দল বেঁধে বসে থাকে, সময় কাটায়। সন্ধ্যায় নীড়ে ফিরার সময় হলে একইভাবে আকাশে দলবেঁধে যেতে দেখা যায়। মাঘের শেষে এসে দক্ষিণ সুরমা কিংবা ফেঞ্চুগঞ্জ সড়কের দুইপাশে বড় হাওর, কৃষি জমি কিংবা জলাশয়ে ঝাঁকে ঝাঁকে এখন দেখা মিলছে এই পাখির। দূর আকাশ থেকে ক্লান্তি নিয়ে দল বেঁধে যখন সবুজ ধানের ক্ষেতে এসে বসে তখন অপূর্ব এক শুভ্রতা ছড়িয়ে দেয় প্রকৃতিতে।
দক্ষিণ সুরমা কিংবা ফেঞ্চুগঞ্জ ছাড়া সিলেটের অধিকাংশ হাওরগুলোতে বছরের বারো মাসই কম বেশি বকের ডানার ঝাঁপটানোর শব্দ পাওয়া যায়। মিঠা পানির জলাশয় ও উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাসকারী একটি জলচর পাখি বক। ট্রেন কিংবা বাসে সিলেটে প্রবেশের সময় হাওরে শুভ্র¯িœগ্ধ সাদা বকের সারি দেখে মুগ্ধ হন পর্যটকরা। বকের মধ্যে রয়েছে নানা আকৃতি। অনেক বকের গলা লম্বা, আবার কারোটা একটু ছোট হয়। কোনটা সাদা ধবধবে, আবার কোনটার গায়ে আছে ধূসর রঙের ডোরাকাটা দাগ। অনেকে বক দেখতে শহরতলীর আশপাশ এলাকার হাওরে গিয়ে বকের সারি দেখতে ভিড় করছেন। অনেকে বকের সারি দেখে স্বস্তির নি:শ্বাস ফেলেন। সাদা রঙের এ বকগুলোর প্রিয় খাবার মাছ। মাছ ছাড়াও বক পাখি ঝিনুক, কাঁকড়া, জলজ পোকা খেয়ে বেঁচে থাকে। মাছ না থাকলেও জলের মায়া তারা ভুলতে পারে না। এ কারণেই হয়তো দলবদ্ধভাবে ধানের ক্ষেতে, পুকুর বিল-ঝিলে ঘুরে বেড়ায়। খাল, বিল, পুকুর, হ্রদ, ঝিল, হাওর-বাওর, নদী, সমুদ্র উপকূল ইত্যাদি অঞ্চলেই এদের বসবাস। তিন প্রকার বককে সাধারণত দেখা যায়। কানি বক, ধলপেট বক আর হলদে বক। বকেরা সারাদিন খোলা হাওরে জীবিকার তাগিদে সময় পার করলেও সন্ধ্যার আগেই তারা আশ্রয় নেয় নীড়ে। এক সাথে অনেকগুলো পাখি গাছে রাত কাটায়। খুনসুঁটি আর সারাদিনের গল্প গুজবে তারা মেতে ওঠে। বকের পাজরের চেয়ে ডানা বৃহৎ। আছে হলুদ রঙের ছুরির মতো শক্ত ও সুঁচালো ঠোট। তাদের পিঠ-গলা ও মাথায় কমলা আর সোনালি রঙের মিশ্রণ থাকে। প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় বকের জুড়ি নেই। আমাদের দেশের জলাভূমির ভারসাম্য রক্ষায়ও অবদান রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির বক পাখির। বক পাখি বর্ষার শুরুতে একবারই প্রজনন করে। এরা একসাথে ২ থেকে ৫টি ডিম দেয়। অবশ্য বগলা ডিমের সংখ্যা আরও বেশি। ডিম দেওয়ার সপ্তাহের ভেতর ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয় এবং সপ্তাহের ভেতর এরা উড়তে শেখে। কিন্তু, বর্তমানে বক বিপন্নের পথে। ফাঁদ পেতে অবৈধভাবে বক শিকার, জমিতে কীটনাশক প্রয়োগ, নদী নালা, খাল-বিল ভরাট করে শহরায়ন, বৃক্ষনিধন প্রভৃতি কারণে সিলেটের হাওর বাওরে বকের সংখ্যা দিন দিন কমছে। ‘‘বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন” এর ১৯৭৪ এর ২৬ ধারা মতে, অবৈধভাবে পাখি শিকারের জন্য ২ বছরের সাজার বিধান রয়েছে। কিন্তু, আইন থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন স্থানে নির্বিচারে চলছে বক নিধন। অনেক হোটেল রেস্তোরাঁতে অবাধে বিক্রি হয় বকের মাংস। অনেককে খোলা বাজারে হাতে ঝুলিয়ে বক বিক্রি করতে দেখা যায়।
পৃথিবীতে ৬৫ প্রজাতির বক থাকলেও বাংলাদেশে ১৮ প্রজাতির বক পাওয়া যায়। যার মধ্যে ৫টি বগা (ছোট বগা, মাঝলা বগা, প্রশান্ত শৈল বগা, বড় বগা ও গো বগা) ৯টি বক (ধুপনি বক, দৈত্য বক, ধলপেট বক, লালচে বক, চীনাকানি বক, দেশি কানি বক, কালোমাথা নিশি বক, মালয়ি নিশি বক, ক্ষুদে নিশি বক) এবং ৪টি বগলা (খয়রা বগলা, হলদে বগলা, কালা বগলা, বাঘা বগলা) রয়েছে।
পরিবেশবাদী সংগঠন প্রাধিকারের সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন হায়দার রিফাত জানান, বক পাখি প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় অবদান রাখছে। কিন্তু, বর্তমানে বক বিপন্নের পথে। ফাঁদ পেতে অবৈধভাবে বক শিকার, জমিতে কীটনাশক প্রয়োগ, নদী নালা, খাল-বিল ভরাট করে নগরায়ন, বৃক্ষনিধন প্রভৃতি কারণে সিলেটের হাওর বাওরে বকের সংখ্যা দিন দিন কমছে। বক রক্ষার জন্য প্রয়োজন সবার মধ্যে সচেতনতা। পরিবেশবাদী সংগঠন ভূমিসন্তানের সভাপতি আশরাফুল কবীর বলেন, বক এক সময় সিলেট শহরের বাঁশঝাড়ে দেখা যেতো। তারপর একসময় গাছগাছালি কমে যাওয়ায় বক শহরের ঠিকানা হারিয়ে ফেলে। এখন গ্রামের কিছু মানুষ ফাঁদ পেতে বক শিকার করে বাজারে, হোটেল রেস্তোরাঁয় বিক্রি করে। অথচ এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আইন রয়েছে।
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. সুহেল মিয়া জানান, সবকিছুর সাথে প্রকৃতির একটা গভীর সমন্বয় রয়েছে। প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় নি:সন্দেহে অবদান রাখছে দৃষ্টিনন্দন বক পাখি। তবে আগের মতো প্রাকৃতিক জলাশয় না থাকায় বকপাখি সংখ্যার দিক দিয়ে কমে আসছে। যা আছে সেগুলো রক্ষার জন্য নিজেদের প্রয়োজনে এগিয়ে আসতে হবে। কারণ প্রকৃতিতে বিশৃঙ্খলা ঘটলে তার প্রভাব আমাদের উপর পড়বে।

শেয়ার করুন
শেষের পাতা এর আরো সংবাদ
  • জ্বলছে পৃথিবীর ফুসফুস
  • কুকুরের কামড়ে আহত লজ্জাবতী বানর উদ্ধার
  • জগন্নাথপুর- বেগমপুর সড়কে অসহনীয় দুর্ভোগ
  • জগন্নাথপুরের টমটম চালক হত্যাকান্ড উন্মোচিত
  • আমিরাতের মর্গে পড়ে আছে কমলগঞ্জের আজাদের লাশ
  • কমলগঞ্জে দৃষ্টিনন্দন ডরমেটরি লেক
  • বিয়ানীবাজারে মাইক্রোবাস শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষ
  • হবিগঞ্জে দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৩০
  • খাদিমনগর ইউনিয়নে মাছের পোনা অবমুক্ত করলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন এমপি
  • সদ্য প্রয়াত আওয়ামীলীগ নেতা আনম শফিকের বাসায় নাহিদ-কামরান
  • শীঘ্রই কুমারপাড়ায় আরবান হাসপাতাল ও ডায়গনস্টিক সেন্টার চালু হবে --- মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী
  •  সিকৃবিতে সাসটেইনেবল ফিসারিজ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলন ২৫ আগস্ট থেকে
  • সারাদেশে বজ্রপাত ও বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে ১১ জনের মৃত্যু
  •     মৌলভীবাজার-শমশেরনগর ও কমলগঞ্জ সড়কের বেহাল দশা, যান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ
  • ফেঞ্চুগঞ্জে দুটি স’মিলকে জরিমানা
  • আদালত থেকে ডিএনএ টেস্টের নির্দেশ দোয়ারাবাজারে সন্তান জন্মের ৫ বছর পর পিতৃপরিচয় নিয়ে তুলকালাম
  •     শ্রীমঙ্গলে সড়কের বেহাল দশা চলছে ‘দায়সারা’ সংস্কার
  • শাবিতে শোক দিবস উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভা
  • বাজারে নিয়ন্ত্রণ নেই ব্যবসায়ীদের কাঁচা চামড়া রপ্তানীর দাবি
  • ওসমানী মেডিকেলে অবসরপ্রাপ্ত
  • Developed by: Sparkle IT