ধর্ম ও জীবন

আজব গাছ বাওবাব

সাঈদ চৌধুরী প্রকাশিত হয়েছে: ১৫-০২-২০১৯ ইং ০১:৩৯:২১ | সংবাদটি ১৩৫ বার পঠিত

 এক আজব গাছ বাওবাব। এদের গোঁড়া হয় ড্রামের মত গোল আর বেশ মোটাও। সাত-আট মিটার গোঁড়ার বেড়। তবে উচ্চতা খুব বেশি নয়, দশ-বার মিটার। বাওবাব গাছের ফল খুব মজার। দেখতে লাউ’র মতো। বানরের খুব প্রিয় ফল।
মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময় থেকে এই গাছগুলো ঠাঁয় দাঁড়িয়ে আছে, হাজার বছরের ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে। জানালেন দোকান কর্মচারী পাকিস্তানি বংশদ্ভুত সোলাইমান খান। তার কথায় সায় দিয়ে অপর কর্মচারী নোয়াখালির মিজান বললেন, বাওবাব বৃক্ষকে আমাদের লোকেরা বলে বোতল গাছ। একেকটি গাছের লক্ষ লিটার পানি ধারণ ক্ষমতা রয়েছে।
অতি প্রাচীন কাল থেকে মরুভূমির মানুষের কাছে এটি খুবই প্রয়োজনীয়। অধিক তাপমাত্রায় মরুভূমি প্রায় পানি শুন্য হয়ে পড়ে। তখন কিছু বৃক্ষ আর ক্যাকটাস পানি সংরক্ষণ করে তার মধ্যে বাওবাব অন্যতম। এর বাকল দিয়ে তৈরী হয় রশি ও কাপড়ের সুতা। গাছের ফল ও পাতার চাটনি বেশ মজাদার। পাতা থেকে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ তৈরি করা হয়। মরু ঝড়ে মানুষ এই গাছের গোঁড়ায় গর্তের মত জায়গায় আশ্রয় নিয়ে থাকে। বাওবাব গাছের নিচের অংশ গোলাকার। উপরের দিকে কিছু শাখা প্রশাখা রয়েছে।
স্থানীয় মানুষের ধারণা, বাওবাব গাছ পৃথিবীর প্রথম ডাঙ্গার গাছ। এরপর আসে তাল, নারিকেল ও পাম। পাম গাছগুলো যখন সরু কা- নিয়ে তরতর করে লম্বা হয়, তখন বাওবাব পাম গাছের মতো লম্বা হওয়ার জন্য বনস্পতির কাছে আকুতি জানায়। শিমুল গাছ যখন লাল ফুলের শোভা ছড়ায় তখন বাওবাব গাছ চায় তার ডালেও যেন ওরকম ফুল ফোটে। মিষ্টি জাতীয় ফল ডুমুর দেখে বাওবাব চায় তারও ডুমুরের মতো ফল হোক। এত ইচ্ছার কথা শুনে বনস্পতি ওটাকে ছুড়ে ফেলে এবং সেই থেকে নাকি উল্টো হয়ে জন্মাচ্ছে বাওবাব! বেশ মজা করে বললো, আব্দুল্লাহ আবু জাহের।
এরই মাঝে দেখা গেলো কয়েকটা বানর দল বেঁধে রুটি খাচ্ছে। গাড়ি থামিয়ে কেউ কেউ তাদের খাবার দিচ্ছে। আমরাও এগিয়ে গেলাম। লাফ দিয়ে একটি বানর ড্রাইভারের হাতের বেগটি নিয়ে গেল। এতে রয়েছে তার ড্রাইভিং লাইসেন্স ও আকামা। বেচারা সালিম বেশ অসহায় বোধ করছে। আমরা বানরকে বিস্কুট দিলাম। দোকান থেকে কলা এনে দিলাম। এদিকে ভ্রুক্ষেপ না করে গাছের মগডাল থেকে বাঁদরামি করছে আমাদের সাথে। কোথা থেকে আরেকটি বিশালাকার বানর এসে কি যেন বললো, এমনি বেগটা মাটিতে ছুড়ে কলাগুলো নিয়ে গেল। আমরাও হাফ ছেড়ে বাঁচলাম।
আব্দুল্লাহ খুবই সৌখিন এবং বেশ খাবার প্রিয় মানুষ। বাবা আবু জাহের আবহার গোত্র প্রধান। অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী ও শিক্ষিত পরিবার। অন্যান্য বেদুইনদের চেয়ে কিছুটা আলাদা প্রকৃতির। আরবীয় সংস্কৃতির সবই তার মাঝে বিদ্যমান। সেই সাথে আধুনিক দুনিয়ার তথ্য প্রযুক্তির সাথেও নিজেকে আপ-টু-ডেট রাখার প্রয়াস লক্ষণীয়।
আব্দুল্লাহ বললো, সাঈদ চৌধুরী আর পারছিনা। ভীষণ ক্ষিদে পেয়েছে। কালক্ষেপণ না করে আমরা ঢুকে পড়ি বড় সামিয়ানা টানানো রেস্তোরাঁয়। আরবীয় নকশার বর্ণিল সব কার্পেট আর ম্যাট। কোনায় কোনায় জ্বলছে রঙিন কাঁচের লণ্ঠন। এই সাজসজ্জা তাদের শত বছরের ঐতিহ্য।
আরবের মানুষদের প্রিয় খাবার জয়তুন, পনির আর হালুয়া। কালো রঙের জয়তুন অনেকটা আমাদের জলপাইয়ের মত। আব্দুল্লাহ অনেক খাবারের অর্ডার দিল।
তাহরিদ তথা পাতলা রুটির ওপর ঝোলসহ মাংস আর এলাচি মাখানো কিজা নামের এক ধরনের সেঁকা রুটি ও গার্লিক চিকেন। সাথে আল ফাহাম। আল ফাহাম বড় থালায় বিশেষ ধরনের রান্না করা ভাতের মধ্যে ঝলসানো মুরগি।
মিষ্টির মধ্যে কাজু বাদাম ও সুজি মিশ্রিত বাসবুসা কেক, মাখন ও পনির দিয়ে তৈরি কাতায়েফ, পনির দিয়ে তৈরি কুনাফা, দুধের পুডিং জাতীয় মায়ামোল, বামিয়েহ ও মুহালবিয়া। বাসবুসা হালুয়া দেখতে আমাদের দেশের সমুচার মতো। ত্রিকোনাকার ওপরের আস্তরণটি তৈরি হয় ময়দা দিয়ে। ভেতরে এলাচি, পেস্তা বাদাম, জাফরান গুঁড়া, গোলাপ পানি আর চিনির মিশ্রণ।
কঞ্জুস মনে করে কিনা ভেবে তাকে বারণ করতে পারিনি। অপচয়ের বিষয়টি মনকে ভাবিত করছিল। হঠাৎ দু’জন লোক প্রবেশ করলেন এই রেস্তোরাঁয়। দেখে মনে হল স্বদেশী। তাফাদ্দাল বলে তাদের স্বাগত জানালাম। ইসরাফ থেকে বাঁচার একটা সুরাহা পেয়ে গেলাম। চট্টগ্রাম নিবাসী আব্দুস সালাম তার বন্ধু আবুল কালামকে পর্যটন নগরি আবহা দেখাতে নিয়ে গিয়েছিলেন। এখন ফিরিয়ে দেবার জন্য মদীনার পথযাত্রী।
কালাম সাউদী আরবে নতুন এসেছেন। হাড় থেকে নরম মাংস ছাড়িয়ে নিয়ে এক এক লোকমা খাবার মুখে দেয়ার পর মুগ্ধতায় ফর্সা হয়ে ওঠে তার চেহারা। বাহারি খাবারের বৈচিত্রে মুগ্ধ ও পরিতৃপ্ত হয়ে সিলেটি আতিথেয়তার ভূয়সী প্রশংসা করলেন। জবাবে বললাম, আমাদের সংস্কৃতি হলেও এটা আরবীয় আভিজাত্যও বটে।

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT