ইতিহাস ও ঐতিহ্য

মুদ্রায় ভাষা আন্দোলনের চেতনা

হামিদ বিশ্বাস প্রকাশিত হয়েছে: ২০-০২-২০১৯ ইং ০০:৩৬:২৯ | সংবাদটি ২৩৫ বার পঠিত



প্রতিটি দেশের মুদ্রায়ই সে দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, আন্দোলন সংগ্রাম, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যসহ গর্বের বিষয়গুলো ফুটিয়ে তোলা হয়। বাংলাদেশের মুদ্রায় এর ব্যতিক্রম হয়নি। বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে আরও সমৃদ্ধ হয়েছে। বাংলাদেশের মুদ্রায় দেশের প্রথম স্বাধিকার আন্দোলন বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের চেতনা অত্যন্ত যতেœর সঙ্গে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
ব্যাংক নোট, স্মারক মুদ্রা ও স্মারক ফোল্ডারে শহীদ মিনার ও ভাষা সৈনিকদের প্রতিকৃতি ব্যবহার করে সেই ঐতিহাসিক আন্দোলনের গৌরব গাথা এ প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা হয়েছে।
২১ শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্মৃতিকে স্মরণ করতে বাংলাদেশ ব্যাংক এখন পর্যন্ত পৃথক দুটি স্মারক নোট, একটি স্মারক ফোল্ডার, ২ টাকা ও ১০০০ টাকার নোটে ভাষা আন্দোলনের বিভিন্ন স্মৃতিচিহ্ন প্রকাশ করেছে।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ২০০০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ২০ টাকা মূল্যমানের একটি স্মারক মুদ্রা বাজারে ছাড়ে বাংলাদেশ ব্যাংক। ১০ গ্রাম ওজনের ২২ ক্যারেট মানের স্বর্ণের ওই মুদ্রার দাম ৫০ হাজার টাকা। এর সামনে রয়েছে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের নকশা, শহীদ মিনারের মূল স্তম্ভের ওপরে রয়েছে শান্তির প্রতিক পায়রা। এখানে লেখা আছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, নিচে লেখা ২১শে ফেব্রুয়ারি। এর অপর পিঠে রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের লগো। ইংরেজিতে লেখা আছে ‘ইন্টারন্যাশনাল মাদার ল্যাগুয়েজ ডে’, নিচে লেখা ‘টুয়েন্টি টাকা’। দুটি মুদ্রার একটি বক্সের দাম এক লাখ টাকা। তবে স্বর্ণের দাম ওঠানামার সঙ্গে এর দামও পরিবর্তিত হয়।
এরপর ভাষা আন্দোলনের ৬০ বছর পূর্তি উপলক্ষে একটি স্মারক নোট প্রকাশ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০১২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি এটি প্রকাশ করা হয়। এর মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৬০ টাকা। এর এক পাশে আছে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের ছবি এবং অন্য পাশে রয়েছে ৫ জন ভাষা শহীদের প্রতিকৃতি। এছাড়াও আছে ফাগুনের প্রতিক হিসেবে শিমুল ফুলের ছবি। একটি নোটের দাম ৬০ টাকা। ভাষা আন্দোলনের ৬০ বছর পূর্তি স্মারক নোটের ফোল্ডার বের করে বাংলাদেশ ব্যাংক-যার দাম রাখা হয় ১৪০ টাকা। একটি ফোল্ডারসহ এর দাম ২০০ টাকা। তবে এই স্মারক মুদ্রা ও স্মারক নোট বিনিময়যোগ্য নয়।
এর বাইরে বাংলাদেশ ব্যাংক ২ টাকা ও ১০০০ টাকার নোটের মধ্যে ভাষা আন্দোলনের বিভিন্ন স্মৃতি ব্যবহার করেছে। এর মধ্যে ২ টাকার নোটের দুই দফায় শহীদ মিনারের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। ১৯৮৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর বাজারে ছাড়া ২ টাকার নোটের এক পাশে শহীদ মিনারের আঁকা ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। ২০১১ সালের ৯ আগস্ট বাজারে ছাড়া ২ টাকার নোটের মধ্যেও শহীদ মিনারের আঁকা ছবি ব্যবহার করা হয়েছে।
২০০৮ সালের ২৭ অক্টোবর প্রথম এক হাজার টাকার নোট বাজারে ছাড়া হয়। এই নোটের সামনের অংশে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের জলছাপের ছবি ব্যবহার করা হয়। ২ টাকা ও এক হাজার টাকার নোট বিনিময়যোগ্য। বাজারে বর্তমানে এসব নোট চালু আছে।
এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা জাদুঘরে এসব মুদ্রা সংরক্ষিত রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, স্থান ও ঘটনাগুলোকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব কারেন্সি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ থেকে বিভিন্ন সময়ে স্মারক মুদ্রা, নোট ও ফোল্ডার দেশীয় ও বিদেশীয়ভাবে মুদ্রণ করা হয়, যা বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিসসহ ব্যাংকের অন্যান্য শাখা অফিসের ক্যাশ বিভাগের নির্দিষ্ট কাউন্টার ও বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখা থেকে সর্বসাধারণের নিকট নগদ টাকায় বিক্রি করা হয়। এসব স্মারক মুদ্রা ও নোট কোনোভাবে বিনিময়যোগ্য নয়।
এছাড়াও বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রীয় ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা বাংলাদেশে বেড়াতে এলে তাদের এসব মুদ্রা উপহার হিসেবে দেয়া হয়। দেশের সংগ্রামী ঐতিহ্যকে বিদেশিদের কাছে তুলে ধরার জন্যই এসব উপহার দেয়া হয়। এছাড়া বিভিন্ন দেশের দূতাবাসগুলোতেও এসব মুদ্রা পাঠানো হয়েছে সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসীদের কাছে বিক্রি করার জন্য। অনেক ক্ষেত্রে এগুলো সংশ্লিষ্ট দেশের সরকার বা রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের উপহার হিসেবে দেয়া হয়। এসব মুদ্রা দেশের ভিন্ন উপলক্ষে উপহার দেয়ার বিষয়টিকেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, স্মারক মুদ্রা বা নোট দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাক্ষী। এগুলোর মাধ্যমে একটি সময় ও অতীতকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা সম্ভব হয়। সে কারণে এসব মুদ্রা কিনে নিজের কাছে রাখলে সেগুলো ইতিহাসের অংশ হয়ে যায়। এতে যারা এগুলো রাখেন তারা এবং তাদের পরবর্তী প্রজন্ম গর্ববোধ করতে পারে।

 

শেয়ার করুন
ইতিহাস ও ঐতিহ্য এর আরো সংবাদ
  • বাঙালির ইতিহাসে দুঃখের দিন
  • ঐতিহ্যবাহী নকশিকাঁথা
  • সাংবাদিকদের কল্যাণে সিলেট প্রেসক্লাব
  • প্রাকৃতিক মমিতে নির্মমতার ইতিহাস
  • গৌড়-বঙ্গে মুসলিম বিজয় ও সুফি-সাধকদের কথা
  • ঐতিহ্যের তাঁত শিল্প
  • সিলেট প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠাকাল নিয়ে ভাবনা
  • খাপড়া ওয়ার্ড ট্রাজেডি
  • জাদুঘরে হরফের ফোয়ারা
  • ইতিহাস গড়া সাত শক্তিমান
  • ভেজাল খাবার প্রতিরোধের ইতিহাস
  • বর্ষাযাপন : শহর বনাম গ্রামগঞ্জ
  • বর্ষা এলো বর্ষা
  • পার্বত্য সংকটের মূল্যায়ন
  • নবীদের স্মৃতিচিহ্নে ধন্য যে জাদুঘর
  • দর্শনীয় স্থান ও পর্যটন কেন্দ্র
  • ঐতিহ্যে অম্লান গোবিন্দগঞ্জ বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়
  • বিলুপ্তির পথে গরীবের ‘শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত’ মাটির ঘর
  • হারিয়ে যাচ্ছে হিজল গাছ
  • তালের পাখা প্রাণের সখা
  • Developed by: Sparkle IT