ইতিহাস ও ঐতিহ্য

বাংলার জন্য প্রাণ দিলেন যারা

মো. জহিরুল আলম শাহীন প্রকাশিত হয়েছে: ২৭-০২-২০১৯ ইং ০১:০৭:১০ | সংবাদটি ১৪৬ বার পঠিত

একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালি জাতির জন্য একটি অবিস্মরণীয় দিন। এই দিন বাংলা মায়ের দামাল ছেলেরা মায়ের ভাষা বাংলায় কথা বলার অধিকারকে প্রতিষ্ঠিত করতে নিজেদের জীবনকে বিলিয়ে দিয়েছিলেন। তাদের বুকের তাজা রক্তের বিনিময়ে বাঙালি জাতি পেয়েছে রাষ্ট্র ভাষা বাংলা। তাই এই দিনটি জাতি শহিদ দিবস হিসেবে শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করে। ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ফ্রান্সের প্যারিসে ইউনেস্কোর সাধারণ পরিষদ ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। যা বাঙালি জাতির জন্য বিরাট গৌরবের বিষয়। বর্তমানে বিশ্বের ১৮৮ টি দেশে এ দিবসটি পালিত হয়ে থাকে।
১৯৪৭ সালের পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হওয়ার পরপরই বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্র ভাষা করার দাবি ওঠে। ১৯৪৮ সালের ১৯ মার্চ পাকিস্তানের গর্ভনর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ প্রথম ঢাকায় আসেন। তিনি ২১ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এক জনসভায় ঘোষণা করেন Urdu and only Urdu will be the state language of pakistan এর প্রতিবাদে ২৬ মার্চ ঢাকায় ছাত্র ধর্মঘট পালিত হয়। ১৯৪৮ সালে ১১ সেপ্টেম্বর জিন্নাহর মৃত্যুর পর ১৮ নভেম্বর ঢাকায় আসেন প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান। ১৯৫০ সালে গণপরিষদে ভাষণ দিতে গিয়ে বলেন, উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষা। এর প্রতিবাদে ঢেউ ওঠে ঢাকার রাজপথে। ১৯৫২ সালের ২৬ জানুয়ারি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দীন ঘোষণা করেন উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা। এর প্রতিবাদে ৩০ জানুয়ারি প্রতিপাদ দিবস পালিত হয়। শুরু হয় বৃহত্তম আন্দোলন। ছাত্র জনতার প্রতিবাদ মিছিলে মুখোরিত হয়ে ওঠে ঢাকার অলিগলি। ছাত্র জনতার অবস্থা বেগতি দেখে পাকিস্তান সরকার ২০ ফেব্রুয়ারি ঢাকার আশপাশে সভা সেমিনার নিষিদ্ধ ঘোষণা করে ১৪৪ ধারা জারি করে। পাকিস্তান সরকারের লেলিয়ে দেওয়া পুলিশ বাহিনী মিছিলের ওপর গুলি চালায়। এতে বাংলা মায়ের দামাল ছেলেদের বুকের তাজা রক্তে রাজপথ রঞ্জিত হয়। মায়ের মুখের ভাষা বাংলাকে প্রতিষ্ঠিত করতে অনেক শহিদ হন। উল্লেখ্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের তরুণ শিক্ষক অধ্যাপক জনাব আবুল কাসেম ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর পর নতুন রাষ্ট্রের সাংস্কৃতিক ভিত্তি জোরদার করার লক্ষ্যে ঐ বছরের ১ সেপ্টেম্বর তমদ্দুন মজলিস নামের একটি সাংস্কৃতিক সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। ঐ সংগঠনের পক্ষ থেকে ১৯৪৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু শীর্ষক একখানি পুস্তিকা প্রকাশিত হয়। ঐ পুস্তিকায় তিনটি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়। একটি অধ্যাপক কাসেম সাহেবের এবং অপর দুইটি প্রবন্ধের লেখক ছিলেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. কাজী মোতাহার হোসেন এবং বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও সাংবাদিক আবুল মনসুর আহমদ। এই পুস্তিকা প্রকাশের মাধ্যমে বিশেষ করে ভাষা আন্দোলনের সূচনা শুরু হয়। ইতিহাসের পাতায় ভাষার জন্য যারা শহিদ হয়েছে তাদের সম্পর্কে যতোটুকু জানা গেছে তাদের পরিচয় তুলে ধরা হলো :
ভাষা শহিদ রফিক উদ্দিন আহমদ : ১৯২৬ সালের ৩০ অক্টোবর মানিকগঞ্জ জেলার সিঙ্গাইর থানার পাড়িলগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম আব্দুল লতিফ, মায়ের নাম রাফিজা খানম। ভাষা আন্দোলনের সময় তিনি মানিকগঞ্জের দেবেন্দ্র কলেজের বাণিজ্য বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তিনিই ভাষা আন্দোলনের প্রথম শহিদ ব্যক্তি। বর্তমানে তার নামানুসারে তার গ্রামের নামকরণ করা হয়েছে রফিক নগর। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ছাত্র জনতার বিক্ষোভে অংশ গ্রহণের জন্য ঢাকার রমনায় অন্যদের সাথে মিলিত হন। পাকিস্তান সরকারের লেলিয়ে দেওয়া পুলিশ বাহিনীর বেদম লাঠি চার্জ ও কাদুনী গ্যাসের কারণে ছাত্ররা বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্রাবাসে আশ্রয় নেয়। এ সময় পুলিশ বাহিনীর ছোড়া একটি গুলি রফিক উদ্দিনের মাথায় লাগে এবং খুলি উড়ে যায়। সাথে সাথে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং মারা যান। পাকিস্তান সরকার জনরোষের ভয়ে তার লাশ লুকিয়ে ফেলে রাত ৩টার সময় সামরিক বাহিনীর প্রহরায় প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট ওবায়দুল্লাহর উপস্থিতিতে আজিমপুর মসজিদের ইমাম হাফেজ আব্দুল গফুর তার নামাযে জানাযা পড়ান। অত্যন্ত সংগোপনে আজিমপুর গোরস্তানে তাকে দাফন করা হয়। এ জন্য তার কবরের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তার নিজ গ্রাম রফিক নগরে এক বিঘা জমির ওপরে গড়ে ওঠেছে শহিদ রফিক আহমেদ গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর। উল্লেখ্য এই এক বিঘা জায়গাটি দান করেন লে. কর্নেল (অব.) মজিবুল ইসলাম (পাশা)। জাদুঘরটি উদ্বোধন করেন অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, বাংলা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং উদ্যোগ গ্রহণ করেন, তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের স্থানীয় সরকার, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন উপদেষ্টা আনোয়ারুল ইকবাল। বেসরকারি সংস্থা প্রশিকা শহিদ রফিক জাদুঘর স্থাপন করে ভাষা শহিদ রফিকের নিজ বাস ভবনে। রফিকের বেশ কিছু দুর্লভ ছবি রয়েছে এখানে। তাছাড়া বাংলা একাডেমি, বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র এবং প্রশিকা সহ বিভিন্ন সংগঠন থেকে দেওয়া ১০ হাজারের মতো বই রয়েছে এ জাদুঘরে। উল্লেখ্য যে ভাষা শহিদ রফিক উদ্দিন আহমেদ অবিবাহিত ছিলেন।
ভাষা শহিদ আবুল বরকত : ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের অমর শহিদ আবুল বরকত ১৯২৭ সালের ১৬ জুন বর্তমানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার ভারতপুর থানার বাবলা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তার বাবার নাম মৌলভী শামসুদ্দীন, মাতার নাম হাসিনা খাতুন। ১৯৪৫ সালে বরকত তালেবপুর হাইস্কুল হতে এসএসসি পাশ করে বহরম পুর কৃষ্ণলাল কলেজে ভর্তি হন। ১৯৪৭ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে ১৯৪৮ সালে ঢাকায় চলে আসেন এবং পুরানা পল্টনের বিষ্ণপ্রিয়া ভবনে মামার সাথে বাস করতে থাকেন। ১৯৪৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগে অনার্সে ভর্তি হন। ১৯৫১ সালে অনার্স পরীক্ষায় দ্বিতীয় শ্রেণিতে চতুর্থ স্থান লাভ করে উত্তীর্ণ হন। ২১ ফেব্রুয়ারির দিন ছাত্র জনতার সাথে তিনি সোচ্চার ছিলেন। মিছিলে পুলিশের লাঠি চার্জ ও কাদুনে গ্যাসের কবল থেকে বাঁচার জন্যতিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাসের ১২ নং শেডের বারান্দায় আশ্রয় নিয়েছিলেন। এখান থেকে পুলিশের অত্যাচারের প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। দুপুর ২টার দিকে হঠাৎ পুলিশের ছোড়া একটি রাইফেলের গুলির আঘাতে আবুল বরকত মাটিতে লুঠিয়ে পড়েন। কয়েকজন ছাত্র তার অচেতন দেহ ঢাকা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে ডাক্তাররা তাকে অপারেশন করেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস রাত ৮টা ১৫ মিনিটের সময় তিনি মারা যান। ১৯৬৩ নালে বরকতের বাবা মারা যান। ১৯৬৪ সালে তার মা হাসিনা খাতুন বাংলাদেশে চলে আসেন। বাংলাদেশের গাজীপুরের চান্দনা গ্রামে বসবাস শুরু করেন। ১৯৮১ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ঢাকা গাজীপুর সড়কের উত্তর পাশে চান্দনা গ্রাম সংলগ্ন নলজানি মৌজায় হাসিনা খাতুনের নামে ২ বিঘা জমি দান করেন। ১৯৮২ সালের ২১ এপ্রিল হাসিনা খাতুন মারা যান। ২০০০ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার শহিদ আবুল বরকতকে একুশে পদকে ভূষিত করেন। ২০০৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি পশ্চিম বঙ্গ সরকার মুর্শিদাবাদের বাবলা গ্রামে বরকতের বাড়িতে শহিদ আবুল বরকত কেন্দ্র নামে একটি ভবন উদ্বোধন করেন। বাংলাদেশ সরকার ২০০৮ সালে চান্দনা গ্রামে বরকত স্মৃতি পাঠাগার ও জাদুঘর নির্মাণ করেছেন। বরকতের নামে গাজিপুর স্টেডিয়ামের নামকরণ করা হয়েছে শহিদ বরকত স্টেডিয়াম। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলের নামকরণ করা হয়েছে ‘সালাম বরকত’ হল। ২০০৮ সালে বরকতের নামানুসারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি জাদুঘর প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। যার নাম দেওয়া হয়েছে ভাষা শহিদ বরকত লাইব্রেরি এবং জাদুঘর। আজিমপুর মসজিদের ইমাম হাফেজ আব্দুল গফুর তার জানাযার নামাজ পড়ান। তার মামা আব্দুল মালেক কবরের জায়গা কিনার এবং কাফনের কাপড়ের টাকা বহন করেন। রাত ১০টায় তাকে আজিমপুর গোরস্তানে দাফন করা হয়।
ভাষা শহিদ শফিউর রহমান : ভাষা শহিদ শফিউর রহমান ১৯১৮ সালের ২৪ জানুয়ারি বর্তমান ভারতের পশ্চিম বঙ্গের হুগলি জেলার কোন্নাগার গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মৌলভী মাহবুবুর রহমান। তিনি কলকাতা গভর্নমেন্ট কমার্শিয়াল কলেজ থেকে বাণিজ্য বিভাগে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন। ভারত পাকিস্তান দেশ ভাগ হওয়ার পর শফিউর রহমান সদ্য বিবাহিত স্ত্রী আকিলা বেগমকে নিয়ে ঢাকায় আসেন। ঢাকায় তিনি হাইকোর্টের কেরানির চাকুরি শুরু করেন। ২২ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় ঢাকার নবাবপুর রোডে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্র ভাষা করার দাবিতে বিক্ষোভরত জনতার ওপর পুলিশ গুলি চালায়। এ সময় একটি গুলি শফিউরের পেটের দিকে লেগে বের হয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়। কর্তব্যরত ডাক্তার মেজর এলিংসন তাকে অপারেশন করেন। গুলিতে তার কলিজা ছিঁড়ে গিয়েছিল। সন্ধ্যা ৭টায় তিনি মারা যান। আজিমপুর গোরস্তানে তাকে দাফন করা হয়। ১৯৫২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি তার মৃত্যুর ৩ মাস পর তার একটি পুত্র সন্তান জন্ম গ্রহণ করে। তার নাম রাখা হয় সফিকুর রহমান। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ২০০০ সালে শহিদ শফিউর রহমানকে মরণোত্তর একুশে পদক প্রদান করে।
ভাষা শহিদ আব্দুস সালাম : মায়ের ভাষা বাংলাকে প্রতিষ্ঠিত করতে যারা নিজের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছেন তাদের মধ্যে আব্দুস সালাম একজন। তিনি ফেনি জেলার দাগনভূঞা উপজেলার লক্ষণপুর গ্রামে ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মুহাম্মদ ফাজিল মিয়া, মায়ের নাম দৌলতুন্নেসা। তিনি পাশের গ্রামের রারামান্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৫ম শ্রেণি এবং দাগনভূঞা করিম উল্লাহপুর উচ্চ বিদ্যালয় হতে ৮ম শ্রেণি পাশ করে কামাল আতার্তুক উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হন। সংসারে অভাব অনটনের কারণে তিনি আর লেখা পড়া চালিয়ে যেতে পারেননি। তিনি ঢাকায় এসে ৮৫ নম্বর দিলকুশাস্থ ডাইরেক্ট রেট অব ইন্ডাষ্ট্রিজে পিয়নের চাকুরি নেন। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি যখন ঢাকা শহর জনতার কণ্ঠে রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই এ শ্লোগানে মুখরিত তখন পাকিস্তানি হানাদার পুলিশ বাহিনী মিছিলের ওপর গুলি চালায়। এসময় ঢাকা মেডিকেল কলেজের নিকট বিকাল ৩টায় গুলিবিদ্ধ হন। তখন থাকে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দীর্ঘ দেড়মাস গুলিবিদ্ধ যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে অবশেষে ৭ এপ্রিল ১৯৫২ইং তারিখে বেলা ১১টায় মারা যান। পাষন্ড পুলিশ বাহিনী সরকারি ব্যবস্থাপনায় অত্যন্ত গোপনে তাকে আজিমপুর গোরস্তানে সমাহিত করেন। এজন্য তার কবরের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তার নিজ গ্রামের নাম পরিবর্তন করে সালাম নগর করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার ২০০০ সালে শহিদ আব্দুস সালামকে মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত করেন। ফেনির একমাত্র স্টেডিয়ামটি শহিদ সালামের নামে নামকরণ করা হয়েছে। জেলা স্থানীয় সরকার বিভাগের মাধ্যমে ভাষা শহিদ সালামের স্মৃতি রক্ষার জন্য তার গ্রামের বাড়ি সংলগ্ন স্থানে ৭০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ভাষা শহিদ সালাম স্মৃতি গ্রন্থাগার ও জাদুঘর নির্মাণ করা হলেও সেখানে মানুষের সমাগম ঘটে না। গ্রন্থাগারটি সব সময় তালাবদ্ধ ও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে। পাশ দিয়ে বয়ে গেছে সিলোনিয়া নদী। নদীর ভাঙনে বর্তমানে গ্রন্থাগারটি নদীর বুকে বিলিন হয়ে যেতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
ভাষা শহিদ আব্দুল জব্বার : রাষ্ট্রীয় ভাষা বাংলার দাবিতে যারা নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়েছিলেন তাদের মধ্যে আব্দুল জব্বার অন্যতম। তিনি ১৩২৬ বাংলার ২৬ আশ্বিন ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার পাঁচুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম হাসেম আলী শেখ, মায়ের নাম সাফিয়া খাতুন। প্রাথমিক শিক্ষালাভের পর তিনি আর লেখাপড়া করতে পারেননি। ১৮ বছর বয়সে তিনি পাকিস্তান ন্যাশনাল গার্ডে (পিএনজি) আনসারের চাকরি গ্রহণ করেন এবং পাকিস্তানের রাওয়াল পিন্ডিতে চলে যান। স্বাধীন চেতনার বাঙালি হওয়ায় তিনি পাকিস্তানীদের সাথে মিশতে পারেননি। তাই চাকুরি ছেড়ে ১৯৫০ সালে নিজগ্রামে চলে আসেন। ১৯৫২ সালে তিনি তার অসুস্থ শাশুড়িকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন এবং শাশুড়ির সেবাযতেœর জন্য তিনি হাসপাতালেই থাকতেন। ২১ ফেব্রুয়ারির দিন তিনি ছাত্র জনতার মিছিলে অংশ নেন। এক পর্যায়ে পুলিশের গুলিতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। ছাত্ররা তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। রাত ৮টার দিকে তিনি মারা যান। পরে পুলিশ বাহিনী অত্যন্ত গোপনে আজিমপুর গোরস্তানে তাকে দাফন করে। কিন্তু কবরের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন মূখ্য সচিব এম এ সামাদ আজিমপুর গোরস্তানে শহিদ জব্বারের কবরটি সনাক্ত করেন। পরে আব্দুল জব্বারের ছোট ভাই এ এইচ এম আসাদ কবরটি চিহ্নিত করেন এবং পারিবারিক উদ্যোগে কবরটি পাকা করা হয়। বাংলাদেশ সরকার ২০০০ সালে ভাষা শহিদ আব্দুল জব্বার কে মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত করেন। ২০০৭ সালে তার স্মৃতির উদ্দেশ্যে তার গ্রামের নাম বদল করে রাখা হয় জব্বার নগর। ২০০৮ সালে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে পাঁচুয়া গ্রামে শহিদ আব্দুল জব্বারের নামে স্মৃতি পাঠাগার ও জাদুঘর নির্মাণ করেন।
অহি উল্লাহ : ভাষা আন্দোলনে সবচেয়ে কম বয়সের শহিদ ব্যক্তি অহি উল্লাহ। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ৮ বছর। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় অহি উল্লাহ তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। ২২ ফেব্রুয়ারি ঢাকার নবাবপুর রোডে ২১ ফেব্রুয়ারি হত্যা ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে এবং রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে বিশাল মিছিল চলছিল। এ মিছিল খোশহল রেস্টুরেন্টের সামনে আসা মাত্র পুলিশ গুলি চালায়। এতে কিশোর অহি উল্লাহর মাথায় গুলি লেগে মাথার খুলি উড়ে যায়। তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। পুলিশ তার লাশ গুম করে ফেলে। তাই তাকে কোথায় কবর দেওয়া হয়েছে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
আব্দুল আওয়াল : ভাষা শহিদ আব্দুল আওয়াল ঢাকা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম মাহবুবুর রহমান। তিনি পেশায় ছিলেন একজন রিকশা চালক। ২২ ফেব্রুয়ারি শহিদদের গায়েবানা জানাযার পর ছাত্র জনতা এক বিরাট শোক মিছিল বের করে। এ মিছিলে তিনি যোগ দিয়েছিলেন। মিছিলটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলের সামনের রাস্তা অতিক্রমের সময় তৎকালীন সামরিক বাহিনীর একটি ট্রাক মিছিলের ওপর তুলে দেয়। এতে ট্রাক চাপায় আব্দুল আওয়াল শাহাদত বরণ করেন।


আমেরিকা আবিস্কার ও রেড ইন্ডিয়ান
প্রফেসর মো. আজিজুর রহমান লসকর
প্রাচীনকালে অনেক মানুষ মনে করতেন পৃথিবী চ্যাপ্টা। কিন্তু অভিযাত্রী ক্রিস্টোফার কলাম্বাস নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করতেন যে পৃথিবী গোলাকার এবং তার ধারণায় ছিল জাহাজ নিয়ে পশ্চিম দিকে আটলান্টিক পাড়ি দিতে পারলে অবশ্যই এশিয়ার পূর্ব উপকূলে পৌঁছা যাবে। তার অজানা ছিল পশ্চিম দিকে ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা নামে দু’টি মহাদেশ রয়েছে। এশিয়ার পূর্ব উপকূল তথা চীনে পৌঁছার ব্যাপারে কলাম্বাসের আত্মবিশ্বাস এত দৃঢ় ছিলো যে তিনি স্পেনের রাজা ফার্ডিনান্ড ও রাণী ইসাবেলার কাছ থেকে চীনের তদানীন্তন গ্র্যান্ড খান এর নিকট পত্র লিখিয়ে নিয়েছিলেন। এমনকি সাথে নিয়েছিলেন একজন দোভাষী।
৩ আগস্ট ১৪৯২ খ্রিস্টাব্দে ক্রিস্টোফার কলাম্বাস স্পেন থেকে পশ্চিম দিকে প্রথম জাহাজ ভাসালেন। দশ সপ্তাহ পর ১২ অক্টোবর ১৪৯২ খ্রিস্টাব্দ তিনি পশ্চিম ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জের একটিতে পৌঁছেন। তখন কলাম্বাসের ধারণায় ছিল এটি এশিয়ার দক্ষিণ পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত কোন একটি দ্বীপ। তিনি এ অঞ্চলের নাম দিয়েছিলেন ইন্ডিজ এবং এ অঞ্

শেয়ার করুন

Developed by: Sparkle IT